অদ্ভুত_মেয়ে (season – 2) Part: 1

0
6087

অদ্ভুত_মেয়ে (season – 2)
Part: 1
Writer: #Nur_Nafisa
.
.
৩ বছর পর…..
.
নাফিসা- সকাল থেকেই দেখছি মা রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছে। কেউ আসবে নাকি বাসায়! শান্তা আপুর বাসা থেকে সবাই আসবে নাকি! দূর! এতো ভাবছি কেন! মাকে জিজ্ঞেস করলেই তো উত্তর পেয়ে যাবো।
ওহহো….! আপনাদের তো বলতে ভুলেই গিয়েছি, শান্তা আপুর বিয়ে হয়ে গেছে আরো ২.৫ বছর আগেই। জানেন কি কার সাথে? হিহিহিহি…. মাহিন স্যার এর সাথে। না, লাভ মেরিজ না, এরেঞ্জ মেরিজ ই। ভার্সিটি প্রোগ্রামে স্যার এর মা আপুকে দেখে পছন্দ করেছিলো। আর স্যারও আপু সম্পর্কে ভালো জানে। ব্যাস, পারিবারিক ভাবে হয়ে গেলো বিয়েটা। তাদের একটা ৫ মাস বয়সের মেয়েও আছে। গুল্টুমুল্টু বাবুটার নাম সিনথিয়া মাহি। যদিও মাহিন ভাইয়ার সাপোর্টে শান্তা আপুর অনার্স, মাস্টার্স কমপ্লিট তবুও আপু এখন পাক্কা গৃহিণী!
যাইহোক, চলুন মায়ের কাছে জেনে নেই কে আসছে আজ আমাদের বাসায়….
– মা এতো রান্নাবান্নার আয়োজন কেন? কে আসবে আমাদের বাসায়?
মা- মেহমান আসবে।
নাফিসা- সেটা তো বুঝতেই পারছি, মেহমান কারা?
মা- এলেই তো দেখবি, এতো ঘাটাঘাটি করার কি আছে!
নাফিসা- বললেই তো হয়, তুমি এতো ঘুরাচ্ছো কেন? তাছাড়া আমি ভার্সিটি যাবো তাহলে দেখবো কিভাবে!
মা- (রেগে) শুক্রবার আবার ভার্সিটি যাস কবে থেকে!
নাফিসা- ওফ্ফ! আজ শুক্রবার, আমি তো ভুলেই গেছি!
মা- ঘরটা ভালোভাবে গুছিয়ে রাখ, তোকে দেখতে মেহমান আসবে।
নাফিসা- আমিতো চরমভাবে শকড! এই কথা তাহলে! বিয়ের বয়স হয়ে গেছে বুঝি আমার! আর কোনো প্রশ্ন না করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ওফ্ফ! এই প্রথম আমাকে বিয়ের জন্য দেখতে আসবে! আহা, কেমন কেমন যেন লাগছে! আগে থেকেই তো ভেবে রেখেছি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যখন মেহমান আসবে হয় তাদের ১২টা না হয় ১৪টা বাজিয়ে ছাড়বো। বিয়ে তো একবারই হয়, একটু মজা না করলে কি হয় বলুন….! হিহিহিহি লেটস এনজয় বেবিস…..
ভাবতে ভাবতে ড্রয়িং রুমে হাটছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার সামনে এসে নিজের কোমড়ে হাত রেখে রেগেমেগে একটা ভুত দাঁড়িয়ে আছে। যার নাম সাঈদ! একটুও ভয় পাচ্ছি না এই ভুতকে। কিন্তু রেগেমেগে লাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণটাই তো খুঁজে পাচ্ছি না!
– কিরে, এভাবে আমার সামনে দাড়িয়ে আছিস কেন?
সাঈদ- অন্ধ হয়ে গেছো! চোখে কি এতো বড় গাড়িটা দেখতে পারছো না?
নাফিসা- আশেপাশে ফ্লোরে খুঁজে কোনো গাড়ি পেলাম না। হঠাৎ মনে হলো গাড়িটা আমার পায়ের নিচে, হ্যাঁ মাঝারি আকৃতির রিমোট কন্ট্রোল রোবট গাড়িটা আমার পায়ের নিচেই। আমি দু পা সমানভাবে রেখে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে আছি। দ্রুত নেমে গেলাম গাড়ি থেকে। পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম গাড়িটা একদিকে ঢাল হয়ে গেছে। উপরের দিকটা চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। আমার ভাড়ে কি চাকা পাঞ্চার হয়ে গেলো নাকি! না, এটা তো ভেঙে গেছে, একটা চাকা টুকরো হয়ে দুভাগ হয়ে পড়ে আছে। গাড়িটা মাহিন ভাইয়া বানিজ্য মেলা থেকে কিনে দিয়েছিলো। আমার তো হাসি পাচ্ছে খুব! কিন্তু এখন হাসলে যে এলাহি কান্ড ঘটবে! কি করা যায়!!!
উল্টো আমি রেগে, এক লাথি দিয়ে দরজার কাছে পাঠিয়ে দিলাম গাড়িটাকে। চিৎকার করে বলতে লাগলাম…..
– ঘরের ভেতরে কি গাড়ি চালানোর রাস্তা বসিয়েছি? গাড়ি চালাতে হলে রাস্তায় যা…. ড্রাইভার ও তো ঠিক না, মানুষের পায়ের নিচে এনে গাড়ি রাখে। যা দূর হো এখান থেকে….
শুরু হয়ে গেলো সাঈদের কান্না, কান্না করতে করতে কিচেনে মায়ের কাছে চলে গেলো। এবার আমার কি হবে! বাবা ও তো বাসায় নেই, এখন মায়ের হাত থেকে আমাকে বাচাবে কে! আমি পালাই, কোথায় যাবো! ছাদই এখন আমার জন্য নিরাপদ, মা রান্না রেখে সেখানে আসবে না। ছাদে যাওয়ার জন্য মেইন দরজা খুলতেই দেখি শান্তা আপু এই মাত্র কলিং বেল বাজাতো…
শান্তা- বাবাহ! বেল বাজানোর আগেই দরজা খুলে গেলো! অপেক্ষায় ছিলি নাকি আমার জন্য!
নাফিসা- হুহ! বয়েই গেছে আমার! তাছাড়া সকাল সকাল ব্যাগ নিয়ে তুমি এখানে কেন? বাবু কোথায়? ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করে চলে এসেছো নাকি!
পেছন থেকে ভাইয়া জবাব দিলো,
– হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো। কিন্তু আমরাও কম কিসে, বাবা মেয়ে রেডি হয়ে পিছু পিছু চলে এলাম। হাহাহোহো….
নাফিসা- আসসালামু আলাইকুম স্যার, থুক্কু, ভাইয়া। (এই বিষয় টা আমি কিছুতেই ঠিক করতে পারি না! ভার্সিটিতে থাকলে ভাইয়া বলে ফেলি আর বাসায় এলে স্যার! সব উল্টাপাল্টা হয়ে যায়!)
মাহিন- হাহাহা…. ওয়ালাইকুম আসসালাম। ভালো আছো তো? ভালো না থাকলেও কিন্তু আজ ভালো থাকতে হবে।
নাফিসা- সে দেখা যাবে। আমি কিন্তু সত্যিই ভেবেছিলাম আপু রাগ করে চলে এসেছে, হিহিহি…. ভেতরে আসুন।
শান্তা- তুই দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকলে ভেতরে আসবো কিভাবে?
নাফিসা- আহ! চেচাও কেন, সরছি তো।
আপু ভাইয়া ভেতরে এলে আমি ভাইয়ার কাছ থেকে মাহি কে কোলে নিলাম….
নাফিসা- আপু, ভাইয়া কিন্তু খুব চালাক। ভারি ব্যাগটা তোমাকে বহন করতে দিয়েছে আর, আর স্বল্প ওজনের টুনটুনি কে ভাইয়া নিয়েছে।
মাহিন- হাহাহা….
শান্তা- তা জানা আছে আমার। কিন্তু এসব কি! ভাঙা গাড়ি এখানে কেন?
নাফিসা- তোমাদের রিসিভ করতেই তো পাঠালাম, উঠে পড়ো। হিহিহিহি……
মা এলো কিচেন থেকে, হাতে খুন্তি। হয়তো আমাকে তাড়া করার জন্য হিহিহিহি…. সাথে সাঈদ, বেচারার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে। আমার কি! আমি তো আর ইচ্ছে করে করিনি, ড্রাইভার এর দোষ। ভাইয়া মা কে সালাম দিলো, মা জবাব দিয়ে আমার কাছে এলো বাবুর উদ্দেশ্যে।
নাফিসা- মা, তুমি রান্না করছো এখন বাবুকে নিতে পারবে না।
মা- নিবো না।
মা মাহির কপালে চুমু দিয়ে আবার কিচেনে চলে গেলো। এদিকে সাঈদ কান্না করতে করতে আপুর কাছে আমার নামে ঝুড়িভর্তি নালিশ জমা করলো। আপু শান্তনা দিলো আরেকটা গাড়ি কিনে দিবে। আশ্চর্য! ক্লাস টেন এ পড়ে, এখনো ছোট বাচ্চার মতো কান্না করে। মাহিন ভাইয়া সাঈদ কে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো। আপু বোরকা হিজাব খুলে মায়ের সাথে কিচেনে চলে গেলো আর আমি মাহি কে নিয়ে ড্রয়িং রুমে টিভি অন করে বসে আছি।
আপুর ফোন বেজে চলেছে…
আমি আপুকে ডেকে বললাম, তারপর আপু এসে ফোন রিসিভ করলো। কথার স্টাইল দেখে বুঝে গেলাম ইমা আপুর সাথে কথা বলছে। কথা শেষ করলে আমি আপুকে প্রশ্ন করলাম,
– আপু, ইমা আপুও আসবে নাকি?
শান্তা- হ্যাঁ।
নাফিসা- ওয়াও! নানু বাড়ির সবাইকে ইনভাইট করলেও পারতো অনেকদিন পর সব ভাইবোনরা একসাথে হতাম।
শান্তা- আচ্ছা, তোর বিয়েতে করবো।
নাফিসা- হুহ!
.
মাহি ঘুমিয়ে পড়লে তাকে শুয়িয়ে দিয়ে আমি গোসল করতে চলে গেলাম। মেহমান নাকি দুপুরে আসবে। তাই আগে বাগে রেডি হতে হবে। গোসল শেষে দেখলাম ইমা আপুও এসে পড়েছে ইফাজকে নিয়ে, ফাহিম ভাইয়া বিকেলে আসবে।
যারা বাসায় ছিলাম,, সবাই হালকা নাস্তা করে করে নিলাম। মেহমান দের জন্য কাচের জগ ভর্তি স্পেশাল অরেঞ্জ ও ম্যাংগো জুস বানিয়ে ফ্রিজে রাখলাম। আর সবাইকে নিষেধ করলাম কেউ যেন না ধরে। অবশ্য মা, ইফাজ আর আপুদের ১গ্লাস করে ম্যাংগো জুস দিয়েছি। ম্যাংগো জুস ঠিকই ছিলো কিন্তু অরেঞ্জ জুসটা জুস না, সেলাইন! হাহাহা… চিনির পরিবর্তে লবণ আর অরেঞ্জ ফ্লেভার। ছেলে মনের মতো হলে অরেঞ্জ জুসটা শুধুমাত্র ছেলের জন্য, আর ছেলে আমার যোগ্য না হলে অরেঞ্জ জুস সব মেহমানদের জন্য! আমার যতটুকু ধারণা ছেলে শিক্ষিত হবে, তা না হলে তো আর মা বাবা মেহমানদের আসতে বলতো না!
.
আমার রুমে আসার পর শান্তা আপু ইমা আপুর কাছে একটা রেড গোল্ডেন মিক্সড শাড়ি দিলো আমাকে পড়ানোর জন্য।
নাফিসা- শাড়ি পড়বো আমি?
ইমা- হ্যাঁ।
নাফিসা- পাগল নাকি! ১ম বার দেখতে আসবে, এখনই শাড়ি পড়তে হবে!
শান্তা- কথা কম বল, যা বলছি তা কর।
দু বোনের জোড়াজুড়িতে শাড়ি ই পড়তে হলো। শাড়িটা খুব সুন্দর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমি এটা কতোক্ষন বহন করতে পারবো, তা আল্লাহ ই ভালো জানেন। আয়নার সামনে নিজেকে ঘুরেফিরে কয়েকবার দেখলাম। বাহ! মানিয়েছে আমাকে!
ইমা- এতোবার আয়না দেখলে আয়না ফেটে যাবে, এদিকে আয় এবার…
নাফিসা- শাড়িটা কার? আমার খুব পছন্দ হয়েছে, যার ই হোক ফেরত পাচ্ছো না বলে দিলাম।
ইমা- দিতে হবে না, এটা তোরই।
নাফিসা- ওহহো!
দুবোন উঠেপড়ে লেগেছে আমাকে সাজাতে। সাজটা মনে হচ্ছে একটু বেশিই গর্জিয়াছ হয়ে যাচ্ছে।
নাফিসা- আপু সাজটা কি বেশি হয়ে যাচ্ছে না! এমন ভাবে সাজাচ্ছো যেন আজ আমার বিয়ে!
ইমা- বিয়ে হলে তো ভালোই হতো! কবে থেকে আশায় আছি নাফিসার বিয়ে খাব….হাহাহা….
নাফিসা- তোমাদের মতিগতি ভালো দেখাচ্ছে না, আজ কি সত্যিই আমার বিয়ে নাকি!
ইমা- আরে না, ১ম দেখাতেই বিয়ে হয়ে যায় নাকি! আর আমরা বিশাল আয়োজন না করেই নাফিসার বিয়ে দিবো নাকি!
শান্তা- চিন্তা করিস না, তোকে বিয়ের সময় পার্সোনা থেকে সাজাবো।
নাফিসা- হুহ! ঢং, তাড়াতাড়ি করো। তোমাদের কাজে আমি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি……
.
চলবে………
(গল্পের সম্পর্কগুলো যাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তারা season 1 পড়ে নিবেন। আশা করি তাহলে আর বুঝতে সমস্যা হবে না।)
(Season 1) লিংক…
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2535824403135285&id=2485115788206147
.
.
[ #অদ্ভুত_মেয়ে season -2 গল্পটার জন্য অনেকের রিকোয়েস্ট জমা ছিলো। অবশেষে আপনারাই জিতে গেলেন। এবার খুশি তো??? তবে আমি কিন্তু হেরে যাইনি। আপনাদের জয়ী করে আমিও জিতে গেছি ?।
আর কপিবাজদের জন্য ছোট একটা নোটিশ….. দয়া করে এসব চোরামি, বাটপারি ছেড়ে দিন। পারলে ভালো কিছু করুন। তাহলে কারো গালিগালাজ, অভিশাপের সম্মুখীন হতে হবে না। একটু পরিশ্রম করুন, দেখবেন নিজের কাছেই ভালো লাগবে।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here