অদ্ভুত_মেয়ে (season 2) Part- 3

0
3868

অদ্ভুত_মেয়ে (season 2)
Part- 3
Writer: #Nur_Nafisa
.
.
হঠাৎ পেছন থেকে ইমরান ভাইয়া বলে উঠলো…
ইমরান- নাফিসা, ফুপা কি লবণের ফ্যাক্টরি দিয়েছে?
(ইমরানের কথা শুনে নাফিসা ব্রু কুচকে পেছনে তাকালো। ইমরানের ১হাতে জুসের গ্লাস আর অন্য হাতে মোবাইল। মোবাইল পকেটে রেখে নাফিসার দিকে যেতে যেতে বললো..)
ইমরান- ফুপার ফ্যাক্টরি না থাকলে তো জুসে এতো লবণ অন্তত নাফিসা দিবে না!
নাফিসা- হিহিহিহি….. জানো তো চিনির দাম বেশি, তাই পরিবর্তক দ্রব্য হিসেবে লবণের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছি!
ইমরান- আচ্ছা! এতো টেস্টি রেসিপির স্বাদ যে বানিয়েছে সে একটু না নিলে কেমন হয়!
(কথাটা বলতে বলতে ইমরান আচমকা নাফিসাকে এক হাতে ঝাপটে ধরে জোর করে তার মুখে জুস ঢেলে দিলো! নাফিসা “ওয়াক!” শব্দ করে জুস মুখ থেকে মেঝেতে ফেলে দিলো। ইমরান নাফিসার হাত থেকে নাফিসার মোবাইল নিয়ে একসাথে দুজনের কয়েকটি সেলফি তুলে নিলো। সেলফি গুলো ছিলো এমন, যেখানে ইমরান হাসছে আর নাফিসার মুখ বিকৃত!! তারপর ইমরানকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে রেগে তাকালো আর মুখ মুছতে লাগলো নাফিসা। ইমরান হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।)
নাফিসা- ইমরাইন্নার বাচ্চা…..!
.
(বেশ কয়েকবার কুলি করেও লবনাক্ত স্বাদ সরাতে পারছে না নাফিসা। মামামামীদের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে, নাফিসা খাবার টেবিলে এসে বসলো।)
নাফিসা- মা, ক্ষুধা লাগছে আমার। খাবার দাও….
– সবাইকে ডেকে এনে একসাথে বস।
নাফিসা- পারবো না কাউকে ডাকতে। যার যার পেটে টান পড়বে সে এমনিতেই আসবে।
ইমা- এমন বিহেভ করছিস কেন? কি হয়েছে?
(নাফিসা কোন উত্তর দিলো না। শান্তা গেলো সবাইকে ডেকে আনতে। সাঈদের রুমে থাকা সবাই এলো। ইমরান জুসের জগ এনে টেবিলে রাখলো। ইমরানকে দেখে নাফিসার রাগ আরো বাড়তে লাগলো অন্যদিকে ইমরানের মুখে শয়তানি হাসি! আর বাকি যারা জুস খেয়েছে কারো মুখে হাসি, কারো মুখ ব্যাঙাচি!)
হিয়া- ছি! আপু, এটা কিভাবে করতে পারলা! আমার তো বমি বমি লাগতাছে!
নাফিসা- (রেগে) বমি করলে ঘর থেকে বের হয়ে যা, টেবিলে কি করছ!
ইমা- কি হয়েছে? সবার অবস্থা এমন কেন?
ইমরান- জগ থেকে একটু জুস খাও, সব উত্তর পেয়ে যাবে ।
রেহান- নাগো আপু, খাইয়ো না….. জুসে লবণের কারখানা। ডায়রিয়া ছুটে যাবে।
ইমা- হাহাহা…. তাহলে এই ব্যাপার! জুস তো নাফিসা বানিয়েছে! কিন্তু নাফিসার রাগের কারণ কি?
শান্তা- হাহাহা….. ভুলে মনে হয় নিজেই খেয়ে নিয়েছে!
( কথা শুনে সবাই হাহাহোহো করে হাসলো। ইমরান নাফিসার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। আর নাফিসার প্রচুর রাগ হচ্ছে, তবুও রাগ কন্ট্রোল করে খাওয়াতে মনযোগ দিলো।সবারই খাওয়াদাওয়া শেষ। নাফিসা মাহিকে কোলে নিয়ে সাঈদের রুমের দিকে যাচ্ছিলো, দরজার কাছে যেতেই দেখলো ইমরান ইমার সাথে কথা বলছে… )
ইমরান- আপু, নাফিসা কি মন থেকে মানছে সম্পর্ক টা? নাকি ফ্যামিলি ডিসিশনে বাধ্য হয়ে মেনে নিচ্ছে?
ইমা- আমি তো কথা বললাম তার সাথে। ওর কথাতে এমন কিছু প্রকাশ পায় নি যে ও নিজ থেকে মানছে না!
(নাফিসা সেখান থেকে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো)
নাফিসা- আশ্চর্য! আমাকে কি সবার কাছে গিয়ে বলতে হবে যে আমি বিয়েতে রাজি! যত্তসব! তুই কিছু বলতো মাহি…
(হঠাৎ হিমেল চিৎকার করে উঠলো। শব্দটা নাফিসার রুম থেকে এসেছে। নাফিসা রুমের কাছাকাছি থাকায় দ্রুত সেখানে চলে গেলো। পরিস্থিতি দেখে নাফিসা খুব জোরে হাসতে লাগলো। হিমেল হাত পা ছড়িয়ে চিতপটাং হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ইফাজ আর রিয়াদ । কিছুক্ষণ আগে ইমরান নাফিসার মুখে জুস ঢেলে দিলে নাফিসা তা ফ্লোরে ফেলেছে। আর হিমেল বেচারা দৌড়াতে গিয়ে পিছলে পড়েছে! নাফিসা হাসতে হাসতে বসে পড়লো। মাহি কোলে থাকায় হিমেলকে তুলতেও পারছে না! তবুও একহাতে চেষ্টা করছে। ইমা, ইমরান পাশের রুম থেকে দ্রুত এলো। দেখলো নাফিসা হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ছে পাশে দাড়িয়ে ইফাজ আর রিয়াদ ও হাসছে! ইমরান হিমেলকে টেনে তুললো। ইমা হিমেলকে কোলে নিয়ে শান্ত করতে লাগলো।)
ইমা- এই মেয়ে, পাগলের মতো হাসছিস কেন? আর এখানে পানি এলো কিভাবে?
ইমরান- নাফিসা জুস ফেলেছে।
(নাফিসার হাসি যেন থামছেই না! ইমরান নাফিসার কাছ থেকে মাহিকে কোলে নিয়ে নিলো।)
ইমরান- আসলেই একটা পাগল। উঠ….
নাফিসা- ভাইয়া, মেয়েরা পাগল হয় না। পাগলী হয়…. হাহাহাহা….
(এবার ইমা এবং ইমরানও হেসে ফেললো। ইমরান একহাতে মাহিকে কোলে নিয়ে অপর হাত নাফিসার দিকে বাড়িয়ে দিলো উঠার জন্য। নাফিসা ইমরানের হাত ধরে উঠে দাড়ালো। হাসতে হাসতে শাড়ি ঝেড়ে ঠিক করে নিলো।)
নাফিসা- আপু আর কতোক্ষন শাড়ি পড়ে থাকবো? চেঞ্জ করে ফেলি…
ইমা- ছাদে যাবো ছবি তুলতে, পরে চেঞ্জ করিস।
(কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে ছাদে গেলো। যার যার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সবাই ছবি তুললো। ছবি তোলার কি স্টাইল এক এক জনের। সিঙ্গেল পিক, কাপল পিক, ফ্যামিলি পিক। আর সাঈদ, রেহানের জ্যাকসন স্টাইল পিক তো আছেই! ইমরানের ক্যামেরা ফুল ফিল!!! সন্ধ্যার পর সবাই যার যার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। মাহিন স্যার, শান্তা, আর ইফাজকে নিয়ে ইমা আছে শুধু নাফিসাদের বাসায়। হিমা হিয়াও থাকতে চেয়েছিলো কিন্তু তাদের দেখাদেখি বাকি পিচ্ছিরাও থাকার আবদার করে, তাদের স্কুল খোলা থাকায় মামামামী কাউকেই রেখে যায়নি। একপ্রকার হৈহুল্লোড় করে সারাটাদিন কাটলো। অবশেষে রাতে ইমা আপুর সাথে গল্প করতে করতে আর ইফাজের সাথে দুষ্টুমি করে ঘুমিয়ে পড়লো নাফিসা।)
.
মাহিন- নাফিসা, ভার্সিটি যাবে?
নাফিসা- হ্যাঁ
মাহিন- তাহলে রেডি হয়ে আসো, একসাথে যাই।
নাফিসা- আচ্ছা।
মাহিন- মাহিকে আমার কাছে দাও…
(মাহিনের কাছে মাহিকে দিয়ে নাফিসা তার রুমে চলে এলো।)
নাফিসা- ইফাজ কোথায় আপু?
ইমা- সাঈদের সাথে বের হয়েছে রুম থেকে।
নাফিসা- তুমি কি আজ চলে যাবে?
ইমা- হ্যাঁ
নাফিসা- না, শান্তা আপু যতদিন আছে তুমিও ততদিন থাকবে।
ইমা- হাহাহা…. তাহলে শান্তাকেও বলি আজ চলে যেতে!
নাফিসা- বেশি কথা বলো না, মুড খারাপ হয়ে যাবে…
ইমা- আচ্ছা, আজ যাচ্ছি না। তুই ভার্সিটি যাবি?
নাফিসা- হ্যাঁ।
ইমা- তাহলে আমি থেকে কি করবো?
নাফিসা- কেন! শান্তা আপু আর তুমি তোমাদের কথার ফুলঝুরি খুলে বসবা। সাথে মা তো আছেই….
ইমা- হাহাহা… আচ্ছা..
নাফিসা- ফাহিম ভাইয়া কেন চলে গেলো! এখানে থেকেও তো অফিস যেতে পারতো…
ইমা- হ্যাঁ সবাইকে তোদের বাসায় ই রেখে দে
নাফিসা- হিহিহিহি…. না করছে কে থাকতে!
(ইমা আপুর সাথে কথা বলতে বলতে নাফিসা রেডি হয়ে গেল। অত:পর দুবোন একসাথে ড্রয়িং রুমে এলো। )
নাফিসা- মাহিন ভাইয়া আবার কোথায় গেছে!
ইমা- এহেম! ইম্পর্ট্যান্ট কাজে!
নাফিসা- মানে?
ইমা- মানে টা বিয়ের পর বুঝে নিবেন…. হিহিহিহি…
( মাহিন, আর মাহিকে নিয়ে শান্তা একসাথে শান্তার রুম থেকে বেরিয়ে এলো)
নাফিসা- ওহহো! তো ইয়ে হে মোহাব্বতেইন!
শান্তা- মানে?
নাফিসা- এতো মানে মানে করো না তো! ভার্সিটির লেট হয়ে যাচ্ছে…… হিহিহি…. আল্লাহ হাফেজ।
ইমা- হাহাহা, আল্লাহ হাফেজ।
( নাফিসা মাহিন স্যার এর সাথে ভার্সিটি চলে গেলো। দিনার সাথে ক্লাসে দেখা হলো। তাদের ১ বেস্টু নিসা হাসব্যান্ড এর সাথে দেশের বাইরে চলে গেছে। ফোনে যোগাযোগ আছে তাদের মধ্যে। দিনার ও বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো শশুর বাড়িতে নেয়া হয়নি। অনার্স কমপ্লিট হলে তারপর।)
দিনা- নাফিসায়ায়ায়ায়ায়া! তোর হাতে রিং!!!
নাফিসা- তো? কি হয়েছে?
দিনা- তুই তো কোনো জুয়েলারি পরছ না! এনগেজমেন্ট হয়ে যায়নি তো আবার!
নাফিসা- এতো বুঝে যাস কিভাবে!
দিনা- মানে কি! সত্যিই তুই এনগেজড?
নাফিসা- হুম।
দিনা- বিলিভ হচ্ছে না! কি বলছিস! একবার জানাসও নি? কেমনে কি!
নাফিসা- আমি নিজেই জানতাম না, তোকে জানাবো কিভাবে!
দিনা- তুই নিজে একটা পাগল, আমাকেও পাগল বানাবি! কি বলছিস এসব!
নাফিসা- মেয়েরা পাগলী হয়। আর বিশ্বাস না হলে মাহিন স্যারের কাছে যা, সব জেনে যাবি।
দিনা- ওএমজি! তাহলে সত্যিই তুই এনগেজড!
নাফিসা- বার বার এক প্রশ্ন করার মানে হয়!!
দিনা- আচ্ছা, এটা বল ভাইয়াটা কে?
নাফিসা- এটা আবার কেমন কথা! ভাইয়া ডেকে আবার জিজ্ঞেস করছিস ভাইয়া কে!
দিনা- দূর! এতো প্যাচাস কেন কথা! তোর জামাই কে?
নাফিসা- বিয়ে হয়নি আমার, শুধু এনগেজমেন্ট হয়েছে। হিহিহিহি….
দিনা- (রেগে পিঠে একটা থাপ্পড় দিয়ে ) নাফিসায়ায়ায়া….
নাফিসা- হিহিহিহি…. বলছি বলছি। আমার হবু বর হচ্ছে ইমরান ভাইয়া।
দিনা- ইমরান ভাইয়া! তোর…
নাফিসা- হ্যাঁ, আমার মামাতো ভাই ইমরান।
দিনা- আল্লাহ! নাফিসা তুই আমাকে আগে জানালি না!
নাফিসা- আশ্চর্য! বললাম না, আমি নিজেই জানতাম না। কাল দুপুরে এনগেজমেন্ট এর সময় জেনেছি আমি। এরপর তোকে জানাবো সে সময়ও পাইনি।
দিনা- নিসা জানে?
নাফিসা- তুই কাছে থেকেই জানতে পারলি না আর নিসা তো বিলেত ই!
দিনা- এক্ষুনি জানাচ্ছি নিসাকে।
নাফিসা- আগে ক্লাসে চল, লেট হয়ে যাচ্ছে। ক্লাস শেষে নিসার সাথে কথা বলবো।
দিনা- আচ্ছা, দোস্ত ট্রিট দিবি বল…. না হলে ইমরান ভাইয়া ফাসবে…..
নাফিসা- ইমরান ভাইয়াকে ফাসাতে পারলে তো ভালোই হবে তোদের জন্য। আমি ট্রিট দিলে আজীবন মনে রাখতে হবে, হিহিহিহি…
(দিনাকে টানতে টানতে নাফিসা ক্লাসে নিয়ে গেলো। লাস্ট ইয়ার, তাই খুব মনযোগ দিয়ে ক্লাস করে এখন। তাই বলে ফানগুলো মিস হয় না! পরপর ৩টা ক্লাস করলো। ৪র্থ ক্লাস বিরতি, লাস্টেরটা হবে কিনা সন্দেহজনক! ভার্সিটির ক্লাস গুলো এমনই! ২/৩ টা ক্লাস করলেই স্টুডেন্ট রা পালানো শুরু করে। কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে ঘাসের উপর বসে নিসাকে ভিডিও কল করলো দিনা ও নাফিসা। বেশ কিছুক্ষণ ৩বেস্টু মিলে দুষ্টুমি করলো। কল কেটে নাফিসা আর দিনা ঝালমুড়ি খেতে খেতে গল্প করছিলো। ঝালমুড়ির খরচটা নাফিসা ই বহন করেছে। হঠাৎ মাহিন স্যার এলো,)
দিনা- স্যার, ঝালমুড়ি খাবেন? আজ নাফিসা বিল দিয়েছে, হিহিহি…
মাহিন- না, খাও তোমরা। নাফিসা এখন বাসায় যাবে নাকি, লাস্ট ক্লাস করে তারপর যাবে ?
নাফিসা- লাস্ট ক্লাস করার জন্যই তো বসে আছি। ভাইয়া আপনি চলে যাচ্ছেন নাকি?
মাহিন- হ্যাঁ, আমার আর ক্লাস নেই। ফাহিম ভাইয়া কল করেছিলো। আজ নন্দন পার্কে ঘুরতে যাবে!
নাফিসা- সত্যি!!! তাহলে আমি আর ক্লাস করবো নাকি! চলুন চলুন, দিনা তুই ও চল মজা হবে অনেক।
মাহিন- হ্যাঁ দিনা, তুমিও চলো।
দিনা- না স্যার , আপনারা যান। আমি বাসায় যাবো।
নাফিসা- আরে আয় তো, আমি আন্টিকে কল করে বলে দিবো।
দিনা- না, আজ ইচ্ছে করছে না। অন্যকোনো দিন যাবো ইনশাআল্লাহ।
নাফিসা- ওকে আল্লাহ হাফেজ।
দিনা- আল্লাহ হাফেজ।
(নাফিসা ঝালমুড়ি খেতে খেতে মাহিন স্যারের সাথে বাসায় চলে এলো।)
.
চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here