অদ্ভুত_মেয়ে (season 2) Part- 8

0
2881

অদ্ভুত_মেয়ে (season 2)
Part- 8
Writer: #Nur_Nafisa
.
.
(প্রায় ১সপ্তাহ পর ইমরান বাসায় ফিরেছে। বিয়ের ১০দিন আগে শান্তা এসেছে নাফিসার বাসায়।)
শান্তা- নাফিসা, দ্রুত তৈরি হয়ে নে। দিন থাকতেই বেরিয়ে পড়ি। বাবুকে রেখে সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা যাবে না।
নাফিসা- কেন! কোথায় যাবো?
শান্তা- পার্লারে।
নাফিসা- পার্লারে কেন? আমি কিন্তু ব্রু প্লাগ করবো না।
শান্তা- ব্রু প্লাগ আমিও করতে দিবো না। নাক ফুটাবি।
নাফিসা- কিইইইইই! যাবো না আমি। তুমিই যাও।
শান্তা- আমার নাক ফুটানো আছে। ঢং করবি না একদম। তারাতারি কর।
নাফিসা- আমি যাবো না, যাবো না, যাবো না!
শান্তা- নাফিসা! মাইর খাবি এখন! নাক না ফুটালে নাকফুল পড়বি কিভাবে!
নাফিসা- লাগবে না আমার নাকফুল পড়া।
(নাফিসা মাহিকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে গেলো। শান্তা আপু মায়ের কাছে বললে মা এসে কতোক্ষন বুঝালেও রাজি হলো না। এরপর মা কতোক্ষন বকাবকি করলো তবুও রাজি করাতে পারলো না। নাফিসা তাদের কথায় কোন রেসপন্স না করে মাহিকে রেখে ছাদে চলে গেলো। রাতে ইমা আপু কল করলো শান্তার কাছে। লাউড স্পিকার রেখে শান্তা ফোন রিসিভ করলো।)
শান্তা- আসসালামু আলাইকুম, আপু।
ইমা- ওয়ালাইকুম আসসালাম। বাসায় ফিরেছিস?
শান্তা- কোথাও যাইনি, বাসায় ফিরবো কিভাবে!
ইমা- কেন? তোকে না বললাম নাফিসাকে নিয়ে পার্লারে যেতে!
শান্তা- দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বলতে বলতে ক্লান্ত। রাজি করাতে পারলাম না! ভয় পায়, কান ফুটো করার কথা তোমার মনে নেই! কান্না করে বাড়ি মাথায় তুলেছে আর এক কান ফুটো করার ২দিন পর আর একটা ফুটো করেছে!
ইমা- হাহাহা….. কোথায় ভীতুর ডিম! ফোন দে তার কাছে।
শান্তা- এখানেই আছে, শুনতে পাচ্ছে সবই। বলো….
ইমা- নাফিসা, পার্লারে গেলি না কেন? নাক ফুটাবি না?
নাফিসা- না।
ইমা- তাহলে নাকফুল পড়বি কিভাবে?
নাফিসা- পড়বো না।
ইমা- এই বোকা মেয়ে, বিয়ের আগে না পড়লেও বিয়ের পর নাকফুল পড়তে হয়।
নাফিসা- আচ্ছা! কোন গ্রন্থ, শাস্ত্রে লেখা আছে, যে বিয়ের পর নাকফুল পড়তে হবে? দেখাও আমাকে! এতো কুসংস্কারে বিশ্বাসী কেন তোমরা!
ইমা- কোন শাস্ত্রের কথা বলছি না আমি, এতে বিবাহিতা নারীর সৌন্দর্য ফুটে উঠে।
নাফিসা- আচ্ছা! শাড়িতে ও তো বিবাহিতা নারীর সৌন্দর্য ফুটে উঠে। তাহলে শাড়ি পড় না কেন তোমরা !
ইমা- আল্লাহ! চাপাবাজ মেয়ে একটা! কথায় পারা যায় না! নাকফুটালে কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে শুনি!
নাফিসা- অনেক ক্ষতি, বলে শেষ করা যাবে না। তাই বলবো না।
ইমা- একটু ও ব্যাথা পাবি না, দেখিস।
নাফিসা- ব্যাথা না লাগলে তোমরা আরও ২/৩ টা ফুটো করে নাও। আমি করবো না না না!
শান্তা- আপু, শুধু শুধু মোবাইলের ব্যালেন্স শেষ করছো! এই মেয়েকে না বলে একটা গাছকে বললেও হয়তো এতোক্ষণে রাজি হয়ে যেতো!
নাফিসা- বলে দেখাও তো, গাছ রাজি হয় কিনা!
শান্তা- চুপ থাক!!
(শান্তা জোরে একটা ধমক দিলে মাহির ঘুম ভেঙে যায়। আর মাহি কান্না করতে থাকে। নাফিসা খিলখিল করে হেসে উঠে।)
শান্তা- আপু, রাখি এখন। মাহি উঠে গেছে। আল্লাহ হাফেজ।
ইমা- আল্লাহ হাফেজ।
(পরদিন নাফিসা ভার্সিটি থেকে ফিরে নামাজ পড়ে লাঞ্চ করে সোফায় বসে কার্টুন দেখছিলো। মা এসে মায়ের মোবাইল দিয়ে গেলো।)
নাফিসা- কে?
মা- ইমরান।
( মা চলে গেলে নাফিসা সালাম দিয়ে কথা বলতে লাগলো)
ইমরান- মোবাইল কই থাকে তোর? কতগুলো কল দিছি?
নাফিসা- মোবাইল…..! অহ, মনে হয় ব্যাগে সাইলেন্ট করা। এতোবার ট্রাই না করে শান্তা আপুর কাছে কল দিলেই পারতে।
ইমরান- শান্তা এখানে?
নাফিসা- হুম, কেন কল করছো এখন সেটা বলো।
ইমরান- বিয়ের ড্রেস কি শাড়ি হবে?
নাফিসা- হুম। হলুদ, বিয়ে, রিসিপশন সব ড্রেস ই শাড়ি।
ইমরান- বিয়ের শাড়ি কি রঙের হবে?
নাফিসা- অবশ্যই লাল রঙের। আর রিসিপশ…
ইমরান- আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ। নাফিসা- এই দাড়াও দাড়াও..
ইমরান- দাড়িয়েই আছি।
নাফিসা- শপিং করতে যাবো কবে?
ইমরান- এতোকিছু ভাবতে হবে না তোকে।
(আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ইমরান কল কেটে দিলো। নাফিসা ভ্রুক্ষেপ না করে কার্টুন দেখতে লাগলো। হটাৎ মনে হলো… ভাইয়া এটা কেন বললো যে আমাকে এতোকিছু ভাবতে হবে না! আমাকে কি শপিং করতে সাথে নিবে না! আর ভাইয়া হটাৎ কল করে ড্রেসের কালার জানতে চাইলো কেন! ভাইয়া এখন কোথায়!!!
এসব ভাবতে ভাবতে নাফিসা আবার মায়ের মোবাইল থেকে ইমরানের নম্বরে ডায়াল করলো।)
ইমরান- আবার কি?
নাফিসা- তুমি এখন কোথায়?
ইমরান- কেন?
নাফিসা- তুমি কি শপিং করতে গেছো?
ইমরান- হুম।
নাফিসা- বিয়ের শপিং?
ইমরান- হুম।
নাফিসা- কিহ! তুমি একা একা শপিং করতে গেছো! আমাকেও সাথে নিলে না!
ইমরান- তুই এসে কি করবি। এই ভীরের মধ্যে শুধু শুধু ঝামেলা!
(নাফিসা চরম পর্যায়ে রেগে গেলো)
নাফিসা- কর তুই শপিং। ইচ্ছে মতো কর। আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবি না।
ইমরান- আচ্ছা।
নাফিসা- একটা শাড়িও আমি পড়বো না। সব তুই পড়ে থাকবি…
ইমরান- আচ্ছা।
(নাফিসা রেগে কল কেটে দিলো। শান্তা নাফিসার জোর গলা শুনে ড্রয়িং রুমে এসে জিজ্ঞেস করলো ” কি হয়েছে? ” নাফিসা কোন উত্তর না দিয়ে মেইন দরজা খুলে বেরিয়ে ছাদে চলে গেলো। মেজাজ প্রচুর খারাপ হচ্ছে। কান্নাও পাচ্ছে খুব। বিয়ের শপিং করতে গেলো কিভাবে তাকে না নিয়ে! করুক শপিং, কোন কিছু ছুয়েও দেখবে না সে! বিকেলের পুরো সময়টা ছাদেই কাটালো। হঠাৎ মনে হলো আসরের নামাজ পড়া হয়নি তাই দ্রুত নেমে এসে নামাজ আদায় করে নিলো। সন্ধ্যার দিকে মা এসে দেখলো নাফিসা জানালার গ্রিল ধরে মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছে।)
মা- কি হয়েছে আবার তোর?
নাফিসা- কি হয়েছে জানতে চাও? তোমার ভাইয়ের ছেলে একা একা বিয়ের শপিং করতে গেছে। শুনেছো এবার! যাও এখন…
মা- তো কি হয়েছে! শপিং তো তারাই করবে। একজন গেলেই হয়!
নাফিসা- হ্যাঁ, নিজের ভাইয়ের ছেলে বলে কথা। পক্ষ তো নিবেই! আমাকে নিয়ে গেলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেত! শাড়ি পড়বো আমি, পছন্দ অন্যের থাকবে কেন! পড়বো না আমি শাড়ি।
(মেয়ের মেজাজ চড়া দেখে মা আর অপেক্ষা করলো না সেখানে। সকালে ইমা আপু নাফিসার ফোনে কল করে নাফিসাকে পায়নি তাই শান্তার ফোনে কল করলো। নাফিসা পাশে থাকায় ফোন রিসিভ করলো…)
নাফিসা- আসসালামু আলাইকুম।
ইমা- ওয়ালাইকুম আসসালাম। তোকেই তো কল করছিলাম। রিসিভ করছিস না কেন?
নাফিসা- সাইলেন্ট করা, দেখতে পাইনি।
ইমা- ভার্সিটি যাবি না আজ। আমি বাসায় আসছি।
নাফিসা- আসো, তাতে ভার্সিটি যেতে পারবো না কেন? দুপুরে তো চলেই আসবো।
ইমা- তোকে নিয়ে কোথাও যাবো। দুপুরের আগেই। আমি কিছুক্ষণের মধ্যে রওনা দিবো।
নাফিসা- কোথায় নিয়ে যাইবা?
ইমা- শপিং করতে।
নাফিসা- আর কষ্ট করতে হবে না। তোমার ভাই কাজ সেরে ফেলছে।
ইমা- জানি, বকাও দিয়েছি। একসাথে অনেকের বকা খাইছে। আর ইমরান সম্পূর্ণ শপিং করেনি। শুধু শাড়ি কিনেছে। এতোটুকুতেই কি শেষ! আরো অনেক বাকি।
নাফিসা- যা ইচ্ছে করো তোমরা। আমাকে কিছু বলবা না। আমি কোথাও যেতে পারবো না।
ইমা- আল্লাহ! নাফিসা তোর সাথে কথা বলে আমি ফোনের সব ব্যালেন্স শেষ করে ফেলছি! সার্ভিস সেন্টারের লোকদের ধনী বানিয়ে ফেলছি! বাকি কথা বাসায় এসে সরাসরি বলবো। আল্লাহ হাফেজ।
(ইমা আপু আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিলো। নাফিসার বুঝতে বাকি নেই সব তাকে মানিয়ে নেয়ার ধান্দা! যা ইচ্ছে করুক। যাবে না সে শপিং এ। কল কাটার সাথে সাথে ইমা আপু মেসেজও সেন্ট করেছে, ” ভার্সিটি যাবি না বলে দিলাম। তাহলে কিন্তু ইফাজের আম্মু অনেক রাগ করবে।”
মেসেজ দেখে নাফিসা হাসলো। সে ও রিপ্লাই করলো, ” এরকম থ্রেড আমাকে দিয়ে কোন লাভ নেই, ফাহিম ভাইয়াকে দিও। ইফাজের আম্মু রাগ করলে আমার কি! আমার বোন তো আর রাগ করবে না!”
দু মিনিট পর ইমা আপুর রিপ্লাই, ” তোর আপু তোকে পিটুনি দিবে।”
আধ ঘন্টা পর ইমা আপু ইফাজকে নিয়ে বাসায় হাজির।)
ইমা- নাফিসা, ২বক্স আইস্ক্রিম এনেছি। স্ট্রবেরি ফ্লেভার নিবি নাকি ম্যাংগো ফ্লেভার?
নাফিসা- কোনো ফ্লেভার লাগবে না আমার। আইস্ক্রিমও তোমরাই খাও, শপিং এ ও তোমরাই যাও।
ইমা- এমন করে না লক্ষি বোন আমার। দ্রুত তৈরি হয়ে নে।
শান্তা- আহ! এমন করে যদি আমাকে কেউ বলতো!
ইমা- হাহাহা….
(এদিকে সাঈদ আর ইফাজ লাফালাফি শুরু করেছে ইমা আপুর কাছ থেকে আইস্ক্রিম নেওয়ার জন্য।)
ইফাজ- আম্মু, আমি স্ট্রবেরি টা..
সাঈদ- আপু তুমি ২টা বক্স কেন আনছো! একটা আমি, আর একটা ইফাজ নিলে তো নাফিসা আপুর জন্য থাকেই না!
ইমা- আহা! কি সুন্দর করে ভাগ করে ফেললো। আপনাদের জন্য আনিনি। নাফিসার জন্য।
সাঈদ- কার জন্য আনছো সেটা বড় কথা না। আইস্ক্রিম এতোক্ষণ এভাবে রাখে না। গলে যাচ্ছে, দাও তো একজন খেলেই হলো।
ইমা- নাফিসা, দ্রুত বল কোনটা নিবি?
নাফিসা- স্ট্রবেরি
ইমা- স্ট্রবেরিতে কিন্তু লেখা আছে নাফিসা এখনই রেডি হতে যাবে।
নাফিসা- তাহলে, ম্যাংগো।
ইমা- ম্যাংগো তে আছে, নাফিসা ৫মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে যাবে শপিং এর জন্য।
নাফিসা- একটাও লাগবে না আমার।
ইমা- একটাও না নিলে আমি আর শান্তা বসুন্ধরা কমপ্লেক্স থেকে আজ শপিং করবো। সম্পূর্ণ খরচ নাফিসা বহন করবে।
নাফিসা- কিইইইইইইইইই!
শান্তা- আহা হা হা…. আমি কোন সুযোগ মিস করতে চাই না! আপু আমি এখনি রেডি হয়ে আসছি। নাফিসা টাকা রেডি কর। হিহিহিহি…
নাফিসা- বসে বসে আল্লাহর নামে জিকির করো। জান্নাতে ঘর পাইবা তবুও নাফিসার কাছ থেকে শপিং এর টাকা পাইবা না।
মা- তোদের এই নমুনা দেখাতে দেখাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। (নাফিসার দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে) যাবি নাকি!
নাফিসা- হুহ! যাচ্ছি… আপু বসুন্ধরা কমপ্লেক্স এ যাইবা?
ইমা- হুম। তারাতাড়ি যা…
নাফিসা- আগে বলো কে কে যাবে?
.
.
চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here