অদ্ভুত_মেয়ে (season 2) Part- 9

0
2925

অদ্ভুত_মেয়ে (season 2)
Part- 9
Writer: #Nur_Nafisa
.
.
নাফিসা- আগে বলো কে কে যাবে?
( ইমা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে নাফিসা কার ইংগিত করেছে! তাই বললো…)
ইমা- মাহিন যাবে না, ইফাজের আব্বু যাবে না! ইমরান না গেলে এতোসব দরদাম আর শপিং ব্যাগ কে বহন করবে বল!! তাছাড়া ইমরানকে শাস্তিস্বরূপ সকল খরচ বহন করতে হবে, তাই…
নাফিসা- হুহ্! হয়েছে আর বলতে হবে না। বুঝি আমি তোমাদের চালাকি।
(নাফিসা রেডি হতে হতে ইমরান ও চলে এসেছে। বাচ্চাদের কাউকে সাথে নিবে না। শুধু ওরা ৪জন যাবে। ইফাজ আর সাঈদকে এক বক্স আইস্ক্রিম দিয়ে আর এক বক্স সাথে নিয়ে ওরা বেরিয়ে পড়লো। নাফিসার মা শান্তাকেও যেতে নিষেধ করেছিলো বাবুর জন্য। তাও বললো দ্রুত চলে আসবে। এক প্রকার জোর করেই গেলো শান্তা। ইমরান বাসায় এসেছে ঠিকই কিন্তু এর মধ্যে নাফিসা একবারের জন্যও ইমরানের দিকে তাকায়নি। ইমরানও বুঝতে পেরেছে নাফিসা রেগে আছে তার উপর । তাই সে ও কোনো কথা বলেনি। ফাহিম ভাইয়া না আসায় ইমা আপুদের ড্রাইভারসহ গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। ইমরান ড্রাইভারের সাথে সামনে বসেছে। আর পেছনে চার জনের সিট থাকা সত্ত্বেও তারা তিনজন দুজনের সিটেই বসেছে। নাফিসা বরাবর ই জানালার পাশে বসে। আজও তার ব্যাতিক্রম নয়।)
ইমা- মাহিকে বাসায় রেখে এভাবে ঘুরাফেরা তোর ঠিক না শান্তা। মাহির বয়স অনেক কম, এইটুকু বাচ্চা সবসময় মায়ের কাছে থাকবে। আর তুই সারাদিন দূরে থাকছিস!
শান্তা- তারাতাড়ি ফিরেই তো আসবো।
ইমা- আজ না হয় তারাতাড়ি ফিরে আসবি, তুই তো প্রায়ই যেকোনো প্রয়োজনে এখানে সেখানে ঘুরাফেরা করছিস!
নাফিসা- মাহিন ভাইয়া বলে তোমাকে কিছু বলে না।
শান্তা- না, বলে না আবার! আজও বলছিলো শুধু শুধু যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
নাফিসা- এটাই তো! ভাইয়া শুধু বার বার তোমাকে সাবধান করে, বুঝানোর চেষ্টা করে । ভাইয়ার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে ঘুরাফেরা দূরে থাক! ঘর থেকে বের হতে পারতে কিনা সন্দেহ!
শান্তা- হয়েছে, দেখবো আপনি কিভাবে থাকেন! সময় আসবে আপনারও।
( নাফিসা আর কিছু বললো না। চুপ হয়ে গেল। এই মেয়েকে বুঝানো দায়! তার চেয়ে চুপ থাকা ভালো।)
ইমরান- দোষ তো তোমাদেরও। তোমরা না গেলেই তো শান্তা যায় না। কয়েকমাস ঘুরাঘুরি বন্ধ রাখতে পারো না!
ইমা- নাহ! আজই শেষ। আমিও আর কখনো শান্তাকে সাপোর্ট করতে যাচ্ছি না। এতে বাচ্চাটার ক্ষতি করে ফেলছি। যেখানে মাহিকে সাথে নিতে পারবি সেখানেই যাবি। অল্প প্রয়োজনে ঘুরাফেরা বন্ধ কর।
( আর কেউ কোন কথা বললো না। গাড়ি ছুটে চলেছে বসুন্ধরা কমপ্লেক্স এর দিকে। নাফিসা বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। হটাৎ চোখ পড়লো গাড়ির বা পাশের আয়নার দিকে। তার সামনের সিটে বসে থাকা ইমরানকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আয়নায়। ইমরান এক হাতের কনুই গাড়ির জানালায় ভর দিয়ে নিজের থুতনি ধরে আছে। আর অন্য হাতে মোবাইল দেখছে। নাফিসা এতোক্ষণে খেয়াল করলো ইমরানকে আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে। চুল কেটেছে বোধহয় দুতিনদিনের মধ্যে! ক্লিন সেভ করা! কেমন যেন ফ্রেশ ফ্রেশ লাগছে! বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাওয়ার আগে যে দেখেছিলো এরপর আর দেখা হয়নি ইমরানের সাথে। আজ দেখতে খুব ভালো লাগছে। একদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো নাফিসা আয়নার দিকে। ইমরান মোবাইল থেকে চোখ সরিয়ে বাইরে তাকাতেই আয়নায় চোখ পড়লো। যার ফলে দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল! নাফিসা তার দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিলো। ইমরান খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে নাফিসা এতোক্ষণ তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। তাই মৃদু হাসলো ইমরান। ফোনটা পকেটে রেখে এবার সেও একমনে আয়নায় নাফিসাকে দেখতে লাগলো। নাফিসা আড়চোখে কয়েকবার আয়নায় তাকিয়ে যখন বুঝতে পারলো ইমরান তাকেই দেখছে তাই মুখটা আপুদের দিকে ঘুরিয়ে নিলো।
শপিং করতে করতে ইমরানের উপর যে রেগে ছিলো তা ভুলেই গেছে নাফিসা ! লাঞ্চ রেস্টুরেন্টে সেরেছে। শপিং শেষে ইমা ও শান্তা নাফিসাকে নিয়ে পার্লারে প্রবেশ করলো। ইমরান বাইরে দাড়িয়ে রইলো।)
নাফিসা- এখানে এলে কেন?
ইমা- কাজ আছে।
নাফিসা- হিহিহিহি ফেসিয়াল টেসিয়াল করবা নাকি!
ইমা- আমি করবো না, নাফিসাকে করাবো।
নাফিসা- আমার লাগবে না। তোমরাই করো..
(ইমা আপু সামনে এগিয়ে পার্লারের মেয়েটির সাথে কথা বলে নাফিসাকে চেয়ারে বসতে বললো)
নাফিসা- আপু আমি কিছু করবো না।
ইমা- কিছু করতে হবে না, তোর বসতে সমস্যা কি!
( নাফিসা চেয়ারে বসে গেল। অন্য একটি মেয়ে হাতে করে কি যেন আনলো আর ইমা আপুকে জিজ্ঞেস করলো, ” নাকফুল এনেছেন? ” নাফিসা মেয়েটির কথা শুনে চোখ বড় বড় করে আপুদের দিকে তাকালো! তার খেয়ালই ছিল না আপুরা কাল জোর করছিলো নাক ফুটো করার জন্য, আর আজ এজন্যই পার্লারে এনেছে ! ইমা আপু মেয়েটির হাতে নাকফুল দিলো। নাফিসা চিৎকার করে চেয়ার থেকে উঠে পড়লো। ইমা আপু টেনে আবার চেয়ারে বসিয়ে দিলো।)
ইমা- নড়াচড়া করবি না একদম। দেখিস একটুও ব্যাথা পাবি না।
নাফিসা- নায়ায়ায়া…., আমি নাক ফুটাবো না! ছাড়ো আমাকে….
(ইমা আর শান্তা নাফিসার দুহাত ধরে রাখলো। মেয়েটি মেশিন কাছে আনতেই নাফিসা মেয়েটির পায়ে পাড়া দিয়ে মোচড় দিলো। ও বাবাগো বলে মেয়েটি মেশিন ফেলে দিয়ে পা মালিশ করতে লাগলো। ছিলে গেছে বোধহয়! শান্তা নাফিসাকে ধমক দিলো। তারপর, ইমা ও শান্তা, নাফিসাকে ছেড়ে দিয়ে মেয়েটিকে ধরতে গেলো। এই সুযোগে নাফিসা চেয়ার ছেড়ে উঠে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। বাইরের দিকে ইমরান থাকায় সেদিকে যায়নি! কিন্তু এবার তাকে বাচাবে কে!সারাদিন কি ওয়াশরুমে বসে থাকবে! বের হবে কিভাবে এখান থেকে! আপুরা একটু পর দরজায় ধাক্কাতে শুরু করলো। আর সাথে বকাবকি তো আছেই। কিন্তু নাফিসা বেরিয়ে আসছে না! নাফিসার কাধে ঝুলানো পার্স ছিলো। পার্স থেকে মোবাইল বের করে বড় মামির কাছে কল করে কান্না করতে করতে বললো….)
নাফিসা- মামিইইইই….
মামি- নাফিসা!!কি হয়েছে? কান্না করছিস কেন?
নাফিসা- মামি, তোমার মেয়ে আমাকে মেরে ফেললো। বাচাও…
মামি- কি বলছিস এসব? কে মেরে ফেলছে!
নাফিসা- ইমা আপু আমাকে নাক ফুটানোর জন্য এনেছে। আমি নাক ফুটাবো না, এ্যা….. বিয়েতে নাক ফুটাতেই হয়! কিছু বলো তোমার মেয়েকে…. না হলে আমি ওয়াশরুম থেকে বের হবো না…
মামি- ওয়াশরুম! তোরা না শপিং করতে গেলি?
নাফিসা- হ্যাঁ, পার্লারের ওয়াশরুম।
মামি- কান্না করবি না। নাক ফুটাতে হবে না। ইমার কাছে ফোন দে।
নাফিসা- আরে আমি ওয়াশরুমে!
মামি- ওহ! আচ্ছা আমি ইমাকে কল করছি….
( নাফিসা কল কেটে দিলো। এদিকে পার্লারের মেয়েগুলোও দরজায় নক করছে তাদের অন্যান্য কাস্টোমার ওয়াশরুমে যাবে। মামি ইমাকে কল করে কতোক্ষন বকাবকি করলো নাফিসাকে জোর করে পার্লারে এনেছে বলে। অবশেষে যখন ইমা আপু বললো যে নাক ফুটাতে হবে না, এখন বাসায় চলে যাবে তখন নাফিসা দরজা খুলে বের হলো। আপুরা সহ বাকি সবার মুখে বিরক্তির ছাপ। আপুরা কেউ কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো। নাফিসাও পিছু পিছু বেরিয়ে গেলো। ইমরান সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সবার মুখ আলুর দম হয়ে আছে! নাফিসার নাকও ফুটো করা হয়নি!)
ইমরান- কি হয়েছে তোমাদের? এমন করে আছো কেন?
ইমা- (রেগে হনহন করে এগিয়ে যেতে যেতে) আযব মেয়ে একটা! নারায়ণগঞ্জসহ খবর পাঠিয়ে দিয়েছে, আমি নাকি তাকে মেরে ফেলার জন্য পার্লারে এনেছি! নাক ফুটালে সে মরে যাবে….
ইমরান- হাহাহা….
(সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরেছে তারা। সারাদিনে মাহিন ভাইয়া শান্তাকে কতবার কল করে জিজ্ঞেস করেছে বাসায় ফিরেছে কিনা! তার হিসাব নেই! শান্তা মায়ের কাছে নালিশ জানালো পার্লারের ঘটনা নিয়ে। মা নাফিসাকে বকাঝকা করলো। ইমরান তাদের বাসায় দিয়ে রাতেই নারায়নগঞ্জ চলে গেলো। পরের দিন ইমা আপুরা চলে গেলো। শান্তা থেকে গেলো। বিয়ের আগে আর যেতে দেবে না, মাহিন ভাইয়ার কাছ থেকে সেই পারমিশনও নিয়ে নিয়েছে নাফিসা। বিয়ের ২দিন আগে ইমরান বিয়ের শাড়ি নাফিসার বাসায় দিয়ে গেলো। রাতে যখন শাড়িগুলো নাফিসা দেখলো মাথায় সাথে সাথে রক্ত উঠে গেলো। ইমরানকে এখন আছড়াতে ইচ্ছে করছে নাফিসার….!)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here