আমার_মনপাখি পর্ব – ১২

0
2996

আমার_মনপাখি পর্ব – ১২
#পলি_আনান

–ছিহ ছিহ ছিহ,,তোকে দেখতে পুরো শেওড়া গাছের পেত্নির মতো লাগছে।কি লাগিয়েছিস ঠোঁটে এগুলো লাল চকচক করছে।চোখের উপর কি দিয়েছিস লাল,হলুদ। চোখের পাপড়ি এত বড় হলো কেমনে।কি দিয়েছিস পুরো মুখে এগুলো গোল্ডেন রঙের চকচক করছে।ছিহ তোকে আজ অনুষ্ঠানে নেয়া হবে না।(কপাল কুচকে আহাদ)

আহাদের কথায় রেগে যায় রাইফা।আহাদের একটু সামনে এগিয়ে এসে বলে,
–আমার যা ইচ্ছা আমি তা লাগাবো তাতে আপনার কি।খবরদার আমাকে নিয়ে কিছু বলবেন না।সে আধিকার আমি আপনাকে দি নাই।(চোখ গরম করে)
অধিকার বোধ কথাটি আর রাইফার এমন আচরণ আহাদের মাথা গরম হয়ে যায়।আহাদ রাইফার দুই হাত পেছন থেকে মুচড়ে ধরে।হঠাৎ আহাদের এমন আচরণে ভয় পেয়ে যায় রাইফা।সে ভাবেনি আহাদ আগের মতো এখনো তার সাথে ঝগড়া করবে।এই কয়েক দিন আহাদ তো স্বাভাবিক আচরন করেছে।কিন্তু আজ আবার তাকে আগের সেই জেদি আহাদ রুপে পাবে ভাবতে পারে নি রাইফা।হাতের অসয্য ব্যাথা আর আহাদের প্রতি জেদে তার চোখ থেকে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।নিজের জেদকে একপশে সরিয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে রাইফা দাতে দাত চেপে আহাদ কে বলে,
— আহাদ ভাই আমাকে ছেড়ে দিন আমার লাগছে।
— লাগছে লাগুক। আমার সাথে এমন করে কথা বলার সাহস তুই কই পেলি।আর জদি এমন সাহস দেখি তোর তবে পুরো হাতটাই ভেঙ্গে দেব।মাইন্ড ইট।
আহাদ রাইফাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে নিজের চুল টানতে টানতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।

রাইফার হাতে থাকা কাচের চুড়ি গুলো ভেঙ্গে গেছে।চুল এলোমেলো হয়ে গেছে।মুখের পুরো সাজ নষ্ট হয়ে গেছে। রাইফা হাতের থাকা বাকি চুড়ি গুলো খুলে নিচে আছাড় মারে আর দাতে দাত চেপে বলে,
–কে বলেছিল ওই বেয়াদব লোকটাকে আমার রুমে ডুকতে।রাইসাকে খুজবি তো খোঁজ না আমার রুমে রাইসাকে খুজতে এসেছিস কেন।আমার ২ ঘন্টা ধরে করা মেকাপ সব নষ্ট করে দিলি।দাড়া আমিও রাইফা মির্জা এমন সাজ দিবনা পুরো বিয়ে বাড়ির ছেলেদের চোখ থাকবে আমার দিকে।(বাকা হাসি দিয়ে)
???
এদিকে আহাদ চুল টানতে টানতে শিহাবের কাছে গিয়ে বসে।শিহাব বুঝতে পারে আহাদ কোন ব্যাপার নিয়ে রেগে আছে,
–আহাদ কি হয়েছে।রেগে আছিস কেন।
–রাগবো না তো কি করবো ওই মেয়ে আমাকে অধিকার বোধ দেখাতে এসেছে।
–আরে কিসের অধিকার বুঝিয়ে বল তো।
আহাদ শিহাবকে পুরো ব্যাপার টা বলে।শিহাব হাসতে হাসতে বলে,
–সব দোষতো তোর তুই জানিস না মেয়েদের মেকাপ নিয়ে কিচ্ছু বলা যায় না। তুই কিনা ওকে পেত্নি বলেছিস(হাসতে হাসতে)
শিহাবের হাসির মাঝে শাড়ি ঠিক করতে করতে এগিয়ে এলো রাইসা আর সামাদ।
–ভাইয়া চলো, আপু কই আমার তো শেষ আপু এখনো আসছে না কেন।
–তোমার আপু তো আটা নিয়ে বসেছে গিয়ে ডেকে আনো।
শিহাব রাইফার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে হলুদ কমলা, হালকা লাল মিশ্রিত শাড়িটি তাকে বেশ মানিয়েছে।কানে ঝুমকো, দু হাতে রেশমি চুড়ি শাড়িটাকে হাতের দিকটায় ছেড়ে দিয়েছে।কপালে লাল টিপ।গলায় মালা।তাকে ভিষন মায়াবতী লাগছে।শিহাব রাইসার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
–যদি পারতাম এখনি তোমাকে আমার ঘরে তুলে নিতাম।

রাইসা, রাইফাকে ডাকার আগেই রাইফা সিড়ি দিয়ে নামতে থাকে।রাইসা রাইফাকে দেখে বলে,
–ওই তো আপু আসছে।
রাইফাকে দেখেই আহাদের মাথা গরম হয়ে যায়।তার পুরো শরীর জ্বলতে থাকে।যেন কেউ উওপ্ত লাভা ঢেলে দিয়েছে।তার ইচ্ছে করছে কসে দুইটা চড় রাইফার গালে বসিয়ে দিতে।
রাইফা সিড়ি দিয়ে নেমে রাইসাকে বলে
–এমন বলদের মতো তাকিয়ে আছিস কেন।
–আপু তুমি দেড়ি করলে কেন।
–আমার ইচ্ছা চল দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।আব্বু আম্মু,ছোট বাবা,মামনি তারা তো চলে গেছে চল এবার আমরা যাব।শিহাব, ভাইয়া চলেন সামাদ চল।
আহাদ রাইফার দিকে তাকিয়ে আছে উওপ্ত দৃষ্টিতে।রাইফার গায়ে হলুদ আর কমলা মিশ্রনে শাড়ি পড়া। শাড়ি টা সে এমন ভাবে পড়েছে তার পেট কোমড়ের খানিকটা অংশ দেখা যাচ্ছে। কানে ঝুমকো, দুহাতে চুড়ি।গলায় মালা।কপালে টিপ।ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক।
???
আহাদ, শিহাব,সামাদ,রাইফা, রাইসা গাড়িতে বসে আছে কারো মুখে কোন কথা নেই।আহাদ ড্রাইভিং করছে।শিহাব সমনে থাকা মিররে রাইসাকে দেখছে। রাইসা,রাইফা ফোন নিয়ে ব্যাস্ত। রাইফার ফোনে একটা মেসেজ আসে সেই অচেনা নাম্বার থেকে।রাইফা মেসেজটি ওপেন করে পড়তে থাকে।
–তুমি আমার কথা বারবার কেন অমান্য করো মনপাখিপ।তোমার এই সাজ থাকবে শুধু আমার জন্য কিন্তু তুমি এই সাজে বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছ। এর পরিনাম কিন্তু ভালো হবে না মনপাখি।
মেসেজটি পড়ে রাইফার মাথা আরো গরম হয়েযায়।একেতো আহাদের এমন আচরণ তার উপর এই লোকটার হুমকি।সে রাগের মাথায় রিপ্লাই দেয়
–আমার জীবন,আমার ইচ্ছা, আমার খুশি তাতে আপনার কি।আমি যেভাবেই চলি না কেন।আর আমাকে কোন মেসেজ দিবেন না।
মেসেজটি দিয়েই নাম্বারটি ব্লক করে দেয় রাইফা।

ওপর দিকে লোকটি রাইফার মেসেজ পড়ে, মনে মনে বলে,
–ছেলেদের শরীর দেখাতে খুব শখ তাইনা।আমিও দেখি তুমি কিকরে আমার কথার অমান্য হও।(বাকা হাসি দিয়ে)
???
রাইফারা পৌছে যায় খান বাড়িতে। রাইফা গাড়ি থেকে নামতেই সব ছেলেরা তার দিকে তাকিয়ে আছে কেউ কেউ হাই বলছে। রাইফাও আহাদকে দেখে সুযোগ বুঝে হাত নাড়ছে।রাইসা গাড়ি থেকে বের হতেই ছেলেরা রাইসার দিকে তাকিয়ে থাকে আর তা দেখে শিহাব দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে রাইসার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আর রাইফাকে ধমক দিয়ে বলে,
–খবরদার রাইসা আমি তোমাকে আগেই বলে দিচ্ছি কোন ছেলের সাথে কথা বলবেনা।যদি দেখি বলেছো তো আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।মাইড ইট।
বলেই আহাদের সাথে গিয়ে দাঁড়ায়। রাইসা শিহাবের কথার কোন মানেই বুঝে না সে কিংকত্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে।আহাদ আর শিহাবকে দেখে সব মেয়েরা হা হয়ে তাকিয়ে থাকে।আহাদ পড়েছে রাইফার শাড়ির সাথে মেচ করে পাঞ্জাবি।হাতে ব্রন্ডের ওয়াচ।চুল গুলো সিল্কি কিছু চুল সামনে এসে পড়েছে।আর শিহাবের ও একই লুক তব সে রাইসার সাথে মেচ করে পাঞ্জাবি পড়ে।আহাদ সহ সবাই ভেতরে বাড়ির ভেতর ডুকছে।তবে আহাদের মুখে বাকা হাসি।আহাদ শিহাব সবার সাথে পরিচিত হয়ে একপাশে গিয়ে বসে পড়ে ।প্রত্যেক টা মেয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে আবার কেউ হাত নাড়ছে তবে আহাদ ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে তার মনে হচ্ছে ফোনে তার জগতের সবকিছু।ফোনের বাইরের জগতে তার জন্য কিচ্ছু নেই।শিহাব আহাদের কানে ফিসফিস করে বলে,
_কিরে ভাই আমার তো মনে হয় না আমরা আমাদের হবু বউয়ের কাছে ফিরে যেতে পারবো।মেয়েরা যে ভাবে আমাদের গিলে খাচ্ছে।
শিহাবের কথা শুনে আহাদ মুচকি হেসে ফোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
_যে তাকাবে সে তো তাকায় না।অন্য কে তাকালো তা দিয়ে আমাদের কি।
_হুম তা ঠিক ভাই। তবে ভাই আমরা যে রাইফা আর রাইসার সাথে পাঞ্জাবি মেচ করে পড়েছি কই তারাতো তাকালো না।কিন্তু অন্য একটা মেয়ে এসে আমাকে বলে আপনারা গাড়ি থেকে যারা নামলেন তারা কি দম্পতি।
_ তুই কি বলেছিস(ফোনের দিকে তাকিয়ে আহাদ)
_আমি বলেছি কেন বলুনত।মেয়েটা রাইসাকে দেখিয়ে বলে আপনার সাথে ওনার ড্রেস মেচ করা। আবার তোকে আর রাইফাকে দেখিয়ে বলে ওনাদের ও মেচ করা।কিন্তু আপনারা একই গাড়ি থেকে নেমেছেন।কেউ কাউকে পাওা দিচ্ছেনা।মনে হচ্ছে কেউ কাউকে চিনেন না।
আহাদ অবাক হয়ে শিহাবের দিকে তাকায়।
_তারপড় তুই কি বললি শিহাব।(ভ্রু কুচকে)
_যা বলার তাই বলেছি।আমদের বিয়ে ঠিক।যেকোন সময় বিয়ে হয়ে যাবে।আসলে ওরা আলাদা কারন বিয়ে বাড়ি বুঝতেই তো পারচ্ছেন।দেখেছিস ভাই কি সুন্দর মিথ্যা কথা বললাম।কিন্তু কি জানিস মিথ্যা টা বলার সময় কলিজাটা ফেটে গেসে(কান্নার অভিনয় করে)
আহাদ শিহাবের ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে,
_ দেখ আমার শালিকাটা মেয়েদের সাথে কি সুন্দর হেসে হেসে কথা বলছে আর আমার বউটা সব ছেলেদের সাথে কথা বলছে। এ জীবন রেখে লাভকি বল।(মন খারাপ করে)
শিহাব রাইসার দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
???
কিছুক্ষন পর রাইফা এখনো ছেলেদের সাথে কথা বলেই যাচ্ছে।ছোট একটা মেয়ে এসে রাইফার শাড়ীর আঁচল ধরে টান দেয়।রাইফা বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
_ তুমিকি কিছু বলবে ছোট আপু।
_আপুমনি তোমাকে তোমার আম্মু বলতে বলেছে ডানে গেলে ৩ নাম্বার যে ঘরটা আছে ওইটাতে যেতে।
এইকথা বলেই মেয়েটা আর অপেক্ষা না করেই দৌড়ে চলে যায়।
আর রাইফা ৩ নাম্বার ঘরটিতে যাওয়ার জন্য হাটা ধরে।

[[প্রিয় পাঠকরা আপনাদে সাড়া অনেক কম। আপনাদের সাড়া এত কম হলে তবে গল্পটি আর লিখবো না। তাড়াতাড়ি শেষ করে দিব]]

চলবে……….
(ভুলগুলো ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here