আমার_মনপাখি পর্ব ৫
#পলি_আনান
রাইফা রাগে হনহন করতে করতে বারান্দায় চলে যায়।পাশের বারান্দায় তাকিয়ে দেখে, আহাদ আর শিহাব কি নিয়ে যেন হাসাহাসি করছে।রাইফা রুমে গিয়ে লাইট টা অফ করে দেয়।তারপর বারান্দায় গিয়ে আড়ালে দাঁড়ায়।যানতে চায় শিহাব আর আহাদ কি নিয়ে হাসাহাসি করছে।
???
এদিকে আহাদ আর শিহাব রাইফাকে বোকা বানানো নিয়ে হাসাহাসি করছে।
“দেখলি শিহাব রাইফার মুখটা কিন্তু দেখার মতো ছিল বেচারি কি শক টাই না পেল।
” শক কি তুই কম পেয়েছিস,বলদের মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলি।
“তা অবশ্য ঠিক বলেছিস আমি তো পু,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,এই, এক সেকেন্ড, এক সেকেন্ড নুপুরের আওয়াজ পাচ্ছিস”
“হুম তাই তো, পাশের বেলকনি থেকে মনে চচ্ছে”
“পাশের বেলকনি তো রাইফার,আসার পরে দেখেছি তার পায়ে রুপার নুপুর”
“কি বলছিস ভাই, ভাবির আর তোর রুম পাশাপাশি,কি মিল ভাই।
এই বলে দুজনে আবার হেসে উঠলো।
” আস্তে আস্তে দেখ রাইফা বারান্দায় ”
“হুম তাই তো দেখছি,কিরে ভাই ভাবিতো আবার রুমে চলেগেছে।
” মনে হয় আমাদের দেখে,কিন্তু লাইট অফ করলো কেন মাথায় ডুকছেনা তো”
“আরে দেখ একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে।বুঝতে পারছিস রাইফা লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের কথা শুনছে”
“হুম কিন্তু বেচারি বুঝতে পারছেনা,বাগানের লাইটয় তার ছায়া দেখা যাচ্ছে,”
এই বলে দুজনে আবার অট্ট হাসিতে ফাটে পড়লো।
“কিরে শিহাব তোর বউকে বুঝি ভিষণ মিস করছিস” (অভিনয় করে)
“হেরে ভাই ভিষণ, আমার কলিজা টা কিজে করছে,”
“তো ফোন দে,না”
“হুম দাড়া দিচ্ছি”
শিহাব অভিনয় করে ফোন কানে ধরে
“বেবি কেমন আছ,,,আই মিস ইউ “”
“কি তুমিও আমাকে মিস করছো” (অভিনয় করে)
“আমি ও তোমাকে অন্নেক মিস করছি বেবি”
রাইফার এই সব কথা শুনতে একটুও ভালোলাগছে না,তাই সে আবার রুমে চলে যায়।
এদিকে আহাদ, আর শিহাব দেখলো ছায়াটি সরে গেছে তাই তারা অভিনয় বন্ধ করে রুমে চলে আসে। তারা একে অপরের সাথা এসব নিয়ে হাসাসাসি করছে।
???
রাত একটা, রাইফা নিজের রুমে ঘুমিয়ে আছে, বারান্দার দরজাটা হলকা করে খোলা, পুরো রুম জুরে ডিম লাইটের হালকা আলো।এদিকে অজানা কেউ রাইফার রুমের বারান্দায় প্রবেশ করে।লোকটির গায়ে হুড়ি জ্যাকেট, মুখে মাক্স,পরা।লোকটি দরজাটা হালকা ফাক করে রুমের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করলো।তারপর গুটি গুটি পা ফেলে রুমে প্রবেশ করে। লোকটি রুমের গিয়ে রুমে দরজা বন্ধ করে দেয়।আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে রাইফার সামনে, ঘুমন্ত রাইফার মুখ দেখতে পরীর মতো লাগেছে।চারিদিকে এলোমেলো হয়ে আছে চুলগুলো,লোকটি রাইফার পাশে গিয়ে বসে।লোকটি তৃষ্ণার্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে রাইফার দিকে,যেন অনেক বছরের তৃষ্ণা মিটাচ্ছে।
লোকটি এবার নিজের ঘোর থেকে ফিরে আসে।বালিশের পাশ থেকে রাইফার ফোনটা নিয়ে নেয়।ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখে লক।লোকটি কুইন রাইফা দিলেই লকটি খুলে যায়। লোকটি বাকা হাসি দিয়ে ফোনটি চেক করে, রাইফার ফেসবুক আইডি লগইন করা তাই পুরো ফেসবুকের সব কিছু দেখে নেয়,এসব দেখে তার মাথায় যেন আগুন জ্বলছে,তারপর গ্যালারিতে যায়, গ্যালারিতে ঢুকেই লোকটির চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। অসংখ্য ছেলের সাথে রাইফার ছবি।তারপর একে একে পুরো মোবাইল সব কিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে।রাইফার ফোনের অবস্থা দেখেই লোকটির মাথা গরম হয়ে যায়, নাকে,কানে গরম বাতাস বেরচ্ছে।কপালের উপরের নিলছে রগটি ভেসে উঠেছে।লোকটি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ কিচ্ছুতেই করতে পারচ্ছেনা।রাইফার ঘুমন্ত মুখটির দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললো,
“রাইফা মির্জা তুমি আমার শিকলে এবার বন্ধি হবে, শুধু দেখে যাও সামনের দিনগুলোতে তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে”
লোকটি আবার বারান্দায় চলে যায়,সে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে আবার রুমে ফিরে আসে।
লোকটি গিয়ে রাইফার পাশে শুয়ে পড়লো, ঘুমন্ত রাইফাকে নিজের বুকে সাথে টেনে নিল।রাইফার কোন হেল দোল নেই সে নিজেও কোল বালিশ ভেবে লোকটিকে আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে ধরে।লোকটি অবাক হয়ে যায় রাইফার আচরন দেখে।
“আমি তোমার কথা ভেবে, নিরঘুমে রাত পার করি আর তুমি কিনা, শান্তিতে ঘুমাচ্ছ।আজ থেকে তুমি প্রতি রাতে ঘুমাবে তবে আমার বুকে । এতো বছরের বুকের আগুন এবার মেটানো তো দরকার।(বাকা হাসি দিয়ে মনে মনে)
লোকটি,রাইফার মাথায় হাত বুলিয়ে,দিচ্ছে।একসময় লোকটিও ঘুমিয়ে যায়।
ভোরের আলো ফোটার আগেই লোকটার ঘুম।ভেঙ্গে যায়,রাইফাকে তার বুকথেকে নামিয়ে, দিয়ে রাইফার মুখের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে বলে ” থেকে যেতে চাই তোমার সাথে সারা জীবন কিন্তু সুযোগটা কি দেবে”অবশ্য তুমি না দিলেও সুযোগটা আমি করে নেব পাখি(বাকা হাসি দিয়ে)
???
সকাল নয়টা সূর্যের প্রখর আলো কাচের জানালা ভেদ করে ছেয়ে যায় রাইফার মুখে। বিরক্ত নিয়ে নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে যায় , বারান্দায় গিয়ে এক কোনে থাকা টিয়া পাখিটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়,
” কিরে কেমন আছিস, কালতো তোর খোজ ও নিতে পারলাম না,তুইতো সক্কাল সক্কাল আমার নাম ডেকে বাড়ি উল্টে ফেলিস, আজ তো ডাকলিনা।রাগ করেছিস,, রাগ করিসনা”
একটুপর আবার বললো
“যানিস ওই বাড়িতে আহাদ নামের বদ মেজাজি ছেলেটা এসেছে।ছেলেটা একদম বাজে,ওনার সাথে ওনার বিবাহিত বন্ধু ও আসেছে।তবে ওনার ওই বন্ধুকে দেখতে মনে হয় ভিষণ ভালো।আর উনি বাজে লোক কাল আমার হাতের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে”
পাখিটা এবার রাইফার নাম ধরে ডাক দিল।”ডেকেছিস তবে আমার নাম ধরে,আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি,ওই বাজে লোকটার সামনে আজ আর পড়বোনা”
“কিরে নিজের মতো পাখিটাকেও বলদ তৈরি করছিস নাকি”
পিছন থেকে কারো কথা শুনে পেছনে তাকায় রাইফা, সে দেখে আহাদের বারান্দায় আহাদ দাড়িয়ে আছে পকেটে হাত দিয়ে ”
“কি রে কথা বলছিস না কেন” (ধমক দিয়ে)
“আপনি আমাকে বলদ বলল্লেন কেন,আমাকে দেখতে কি আপনার বলদ মনে হয় আহাদ ভাই” (রাগে)
“তার থেকেও বেশি কিছু মনে হয়,তুই এই পোশাকে বারান্দাহ কেন লজ্জা লাগেনা বাগানের ওপর পাশেই তো রাস্তা। রাস্তা থেকে ছেলেরা তো হা করে তাকিয়ে আছে দেখ।অবশ্য আমিও তাকিয়ে আছি(বাকা হাসি দিয়ে)
রাইফার এবার মাথায় আসে সে ঘুমের গোরে ওরনা ছাড়া এখানে চলে এসেছে।সে টি শার্ট আর প্লাজু পড়েছে।এখন তার নিজেরি লজ্জা লাগছে,লজ্জয় সে মাথা তুলে আহাদের দিকে তাকাতে পারছেনা।।
” কিরে লজ্জা পাচ্ছিস, লজ্জা পাসনা,লজ্জা পেলে তোকে আরো সুন্দর লাগে।নিজেকে কন্ট্রোল করত কষ্ট হয়”
রাইফা ভেবেছে হয়তো আহাদ তাকে অবজ্ঞা করে এইসব বলছে,তাই সে রেগে যায়
“জানেন আহাদ ভাই আপনি ভিষণ অসভ্য,এবং ফালতু একজন মানুষ।”
“হ্যা আমি ফালতু,অসভ্য,তুই সভ্য, তুই এখনো এখানে দাড়িয়ে আছিস রুমে যা ছেলেদের শরীর দেখাতে ভালো লাগে তাই না,সামনে পাই তোর খবর আছে।(ধমক দিয়ে)
” আমি আপনার খবর করবো,ছোট বাবার কাছে আপনার নামে বিচার দিব,ফালতু লোক।
রেগে চলে যায় রাইফা।
“ফালতু হয়েছি তোমার জন্য,অসভ্য হয়েছি তোমার জন্য ,আমার সব কিছুর কারনতো তুমি”(মনে মনে)
???
রাইফা ফ্রেশ হয়ে,একটা লং জামা পড়ে একপাশে ওরনা।এবং আরেক পাশে চুল দিয়ে, হালকা সেজে তৈরি হয়ে নিচে নামে।।নিচে নেমে দেখছে রাইসা নাস্তা করছে।রাইফা নিজের জন্যও নাস্তা নেয় এবং খাওয়া শুরু করে। রাইফাকে দেখে রাইসা প্রশ্ন করে ” কিরে আপু কই যাবি”
“আগে বল তুই কই যাবি”
“কেন কলেজে”
“তো আমি ভার্সিটিতে।আজ যাচ্ছি কেন যানিস, ”
“কেন যাচ্ছ আপু”
“নতুন বিএফ খুজতে যাচ্ছি”
রাইফার কথা শুনে রাইসার কাশি উঠে যায়।রাইসার কাশির মাএা বেশি তাই রাইফা ঘাবড়ে যায়, “কি হয়ে রাইসা পানি খা,,,
রাইসা একটানে পানির নিয়ে পুরো গ্লাস শেষ করে দেয়।
” আপু তোমার এই বাজে স্বভাব কবে যাবে”
“আমার এ বাজে স্বভাব কোন দিন যাবেনা,,(গানের সুর ধরে),
রাইসা চোখ ছোট করে রাইফার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে
” তোমার এ স্বভাব আর বেশি দিন থাকবেনা আপু দেখতে থাকো,আল্লাহ জানে জিজু শুনলে কি হবে আজ।”
“ওই তুই আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাবছিস”
রাইফার হঠৎ প্রশ্নে একটু ঘাবড়ে যায় রাইসা
“ন্না,,, না কিছু না, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি আসি”
রাইসা তাড়াতাড়ি নিজের রুমে চলে যায়।বালিশের পাশ থেকে ফোন নিয়ে আহাদকে ফোন করে,,
“হ্যালো জিজু ,,
” হুম বলো শালিকা, এতো সকাল সকাল,জিজুর কথা মনে পড়লো”
“জিজু একটা বেড নিউজ আছে”
“কি নিউজ,তাড়াতাড়ি বলো”
“আপু আজ ভার্সিটিতে যাচ্ছে কেন যান?”
“কেন আবার পড়ালেখা করতে” (ভ্রু কুচকে)
“আজ্ঞে না আপনার বউ যাচ্ছে উনার জন্য নিউ বিএফ খুজতে,
” what,!!!!!কি বলছিস”
“হুম ঠিক বলছি, কি ব্যাবস্থা নিবে নাও জলদি”
“ব্যাবস্থা তো নিবই আগে দেখি ও কি করে,
” আচ্ছা আমি এখন রাখছি”
“ভালো থাকিস”
“শিহাব চল বের হবো,আমার হবু বউ এর পিছু পিছু”
“কেন ভাই পিছু নিবি কেন”
রাইসার বলা সব কথা আহাদ শিহাব কে বললো।
“তাহলে চল” (হাসতে হাসতে)
“হুম”
???
ভার্সিটির গেটের সামনে দাডিয়ে আছে রাইফার বান্ধুবি মিম,,সে প্রায় পঁচিশ মিনিট দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু রাইফার কোন খবর নেই।হঠাৎ করে রাইফা এসে মিমকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।”কিরে কি খবর আমার হবু জিজুর, ”
“আগে বল এতো দেরি করলি কেন”
“কই বেশি দেরি হয়েছ”
“চুপ হারামি কথা কম বল,আচ্ছা তুই নাকি তোর লাইফ লাইন কে পেয়েগেছিস।নাম কি যেন বললি শিহাব”
মিমের কথা শুনে রাইফা চুপসে যায়,,সে অপমানিত হবে তাই বললো
“আরে দূর মজা করেছি,আগের দুইটাকে বিদায় করবো বলে”
“এই তোর মতলব কি বলতো,আজ আবার কার কাউকে প্রেমে ফেলবি,
“হুম ঠিক বলেছিস”
“তোর এইসব পাগলামি আর যাবে না তাইনা।তুই গভীর জলের মাছ,তুই এতো প্রেম করিস অথচ কেউ বুঝেনা,,”
“আচ্ছা আগে বল তোর হবুর কি খবর, বিয়ের তারিখ কি ঠিক হয়েছে, ,তোর বিয়েতেও তো কওো প্লান আমার,তোর দেবর দের সাথে প্রেম করবো”
“সামনের সাপ্তায় ওরা আসবে, সেই দিনি তারিখ ঠিক হবে,,আর তুই এতো ফালতু কেন,,,সারাদিন শুধু এই ছেলে তো ওই ছেলে,,আচ্ছা চল এবার আগাই, আমাদের জন্য সবাই দাড়িয়ে আছে”
এতোক্ষন শিহাব আর আহাদ রাইফা আর মিমের সব কথা শুনছিল।
আহাদ শিহাবের ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে,
“বুঝলি শিহাব আমার দলের আরেক জন বাড়লো”
“কে সে ”
” রাইফার বেস্ট ফ্রেন্ড মিম,রাইসার কথা মতে মিম নিজেই রাইসার এইসব কাজ পছন্দ করে না,কিন্তু রাইফা তো রাইফাই”
“তো আমরা ওকে দিয়ে কি করবো” (অবাক হয়ে)
“রাইফার আপডেট পাবো,আর সামনে কিন্তু মিমের বিয়ে,তুই বুঝতে পারচ্ছিস আমি কওো চাপে আছি”
“আরে বাহ,ভালো বুদ্ধি,,, চাপ নিস না,,, আমরা সব ঠিক করে ফেলবো”
“হুম চল এবার আগাই,”
আহাদ আর শিহাব এগিয়ে যায় রাইফার পিছু পিছু,তখনি,,,,
চলবে……..
(দয়া করে ভুলগুলো ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন)