দূরত্ব part:4

0
3819

দূরত্ব
part:4
#writer : Maliha Islam Tafsi (jeba)

প্রীতি আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নি। আমি জানি তোমার এই মূহুর্তে খুব কষ্ট হচ্ছে। কত স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা সারাজীবন একসাথে থাকার। সবসময় ভাবতাম বিয়ের পর তোমাকে খুব খুশিতে রাখব একটু ও কষ্ট পেতে দিব না কিন্তু আমি যে তোমাকে সবচেয়ে বড় কষ্ট দিয়ে ফেললাম প্রীতি । সবসময় বলতাম তোমাকে যেন আমি বউ বলে ডাকি । আমি আজ থেকে আর তোমাকে বউ বলে ডাকতে পারব না প্রীতি । আজ থেকে তুমি আমার ভাবি। জানি খুব কষ্ট হচ্ছে তোমার আজকের রাত টা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তোমার। তোমার মনে আছে প্রীতি তুমি বলেছিলে যে বাসর রাতে তুমি আমাকে বুকে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখবে আর আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলব এই বউ তুমি কি লজ্জা পাচ্ছ? রাহাত ভাই তোমাকে খুব ভালোবাসে প্রীতি সময়ের সাথে সাথে তাকে মেনে নিতে পারবে তুমি। সে খুব খুব সুখী রাখবে তোমায়।
এই প্রীতি জানো খুব কষ্ট হচ্ছে আমার ।আমার এই বুকটা আজকে খুব শূন্য শূন্য লাগছে। কষ্টে বুক টা ফেটে যাচ্ছে আমার কিন্তু তুমি একদিন ঠিকি বুঝবে কেন তোমার রোহান এমন করেছিল । জান আমার তুমি প্রীতি খুব শূন্য লাগছে আজ তোমাকে ছাড়া । জানি তুমি মেনে নিতে পারবে না কিন্তু তোমার মেনে নিতেই হবে রাহাত ভাই কে মানুষটা খুব ভালোবাসে তোমায়। মাফ করে দিও আমাকে তিন বছর পর আজ সিগারেট আবার আমার সাথী হলো তুমি নেই তো জীবনে তাই।তুমি জানো আজ খুব দূরত্ব তোমার আর আমার মাঝে।খুব ভালোবাসি তোমায় খুব বলে কান্না করতে থাকল রোহান। এতক্ষণ রোহান আর প্রীতির একসাথে তোলা অনেক গুলো ছবি একটা বক্স থেকে বের করে ছবির দিকে তাকিয়ে কান্না করতে করতে কথাগুলো বলল রোহান।



প্লিজ আপনি আমার কাছে আসবেন না চেঁচিয়ে কথাটা বলল প্রীতি । প্রীতির কথা শুনে ঐখানেই থমকে দাঁড়িয়ে গেল রাহাত।

-কি বলছো তুমি? (রাহাত)
-কি বলতে চাচ্ছি আপনি বুঝতে পারছেন না?
-না কি বলছো তুমি এইসব?
-দেখুন আমি আপনাকে ক্লিয়ার ভাবে আপনি আমার কাছে আসার একদম চেষ্টা করবেন না।
-কিন্তু কেন?আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি তোমার স্বামী । আর আজকের আমাদের ফুল সজ্জা ।

-আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি না। প্লিজ আপনি কাছে আসবেন না।
– তুমি তাহলে আমাকে বিয়ে করেছ কেন প্রীতি?
-প্লিজ আপনি দূরে থাকবেন। আমার এতো কথার উত্তর দিতে ইচ্ছে করছে না।

– তুমি আমার আর তোমার মাঝে দূরত্ব চাইছ?

-হুম,,,,,আমি আপনার আর আমার মাঝে দূরত্ব চাইছি। আমি সহ্য করতে পারছি না আপনাকে।

কথাটা বলে রাগে প্রীতি পাশে থাকা দুধের গ্লাস টা নিচে ছুড়ে ফেলে দিল।

– প্রীতি কি করছো তুমি তোমার লেগে যাবে তো। দেখো তুমি একদম নড়বা না কাচ ঢুকবে তোমার পায়ে।

কিন্তু প্রীতি পিছিয়ে গেল রাহাত এর সামনে আগানো দেখে আর তার পায়ে কাঁচ ডুকে গেল।

-আহহহহ,,,,
-বলেছিলাম না রাগে কোনো কথাই শুনতে চাও না তুমি ।
-আপনি ধরবেন না আমায়।
– ওকে ধরবো না। চুপ করো এখন অনেক রক্ত বের হচ্ছে তোমার পা থেকে।

কথাটা বলে রাহাত প্রীতি কে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল আর ফাস্ট এইড বক্স এনে এন্টিসেপটিক লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল পায়ে।
প্রীতি আর কোনো কথা না বলে ব্যাথায় ঘুমিয়ে পড়ল। রাহাত প্রীতির পাশে বসে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।

কি মায়া মেয়েটার মুখে,,,,,,তুমি জানো প্রীতি তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি । অনেক স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে নিয়ে আর ভেবেছি কবে তোমাকে বউ বানিয়ে নিজের করে নিতে পারব। কিন্তু নিয়তি কি খারাপ দেখো বউ বানিয়েছি ঠিকি কিন্তু আমি তোমার স্বামী হতে পারি নি। স্বামী তো সেইদিন হবো যেইদিন তুমি নিজে মেনে নিয়ে বলবা যে আমি তোমার স্বামী । আজকের রাত টা যে খুব স্পেশাল ছিল। কিন্তু যেইদিন তুমি চাইবা সেইদিনই তোমার সম্মতিতে তোমাকে নিজের করে নিবো। আর তুমি কেন আমাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারছো না সেই কারণটা ও আমি তোমার কাছ থেকে জানবো কিন্তু জোর করে না তোমার ইচ্ছায়। হোক না খুব দূরত্ব আজ তোমার আর আমার মাঝে কিন্তু খুব ভালোবাসি তোমায় বউ।
(মনে মনে কথা গুলো বলল রাহাত তারপর একটা বালিশ নিয়ে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ল )



সকালের আলো এসে রাহাত এর চোখে পড়ল। সে উঠে দেখল প্রীতি এখনও ঘুমাচ্ছে।রাহাত প্রীতির পাশে বসে আস্তে করে ডাকল প্রীতি কে। রাহাত এর ডাকে আচমকা ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল সে।

-ভয় পেয়ো না। আমি রাহাত। অনেক লেইট হয়ে গেছে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও।



প্রীতি ঘুম থেকে ওঠছে তো তাড়াতাড়ি? রাহাত ভাই নিশ্চয়ই ডেকে উঠিয়ে দিছে। ও তো শাড়ি পরতে পারে না আর রাহাত ভাই কে তো ও কখনও বলবে না শাড়ি পড়িয়ে দিতে এখন ও কে শাড়ি পরতে সাহায্য করবে কে? (বারান্দায় দাঁড়িয়ে মনে মনে কথাগুলো ভাবছে রোহান)

আচ্ছা রোহান শোনো না,,,
বলো,,,
তুমি আমাকে শাড়ি পরিয়ে দিবা আমি না শাড়ি পড়তে পারি না। কারণ আমি চাই বিয়ের পর আমার বর টা আমাকে প্রতিদিন শাড়ি পরিয়ে দিবে। কি দিবা তো বর?
দিবো বউ,আমি তো অলরেডি ইউটিউব থেকে শাড়ি পড়ানো শিখে নিছি যেন বউ টা কে প্রতিদিন পরিয়ে দিতে পারি।
সত্যি???
হুম,,,,সত্যি।
আই লাভ ইউ রোহান,,,,,
আই লাভ ইউ প্রীতি,,,,,

কথাটা ভেবে অজান্তেই মুখে হাসি চলে আসল রোহান এর কিন্তু এই হাসি টা শুধু একটুর জন্য । আবার বুক টা শূন্য শূন্য লাগছে ভেবেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল রোহান এর।

হঠাৎ ও কাঁধে কারো সপর্শ অনুভব করলো। তাকিয়ে দেখল,,,,,,,,,,,,,,,

চলবে?,,,,

(বানান ভুল হলে একটু নিজেরা বুঝে পরে নিবেন প্লিজ ।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here