#প্রার্থনায় রবে তুমি
#পর্ব ২৬
#Saji Afroz
-ভাবী! এত সহজে মেয়েটাকে রাজি করিয়ে ফেললে! কাজটা যে এত সহজ হবে আমি ভাবিনি।
আশামনির কথা শুনে শারমিন আক্তার হেসে বললেন, ছেলের ভালোর জন্য এতটুক আমার করতেই হলো। আমার পরিচিত এক ভাইকে দিয়ে সব করিয়েছি। রুজাইনের বাবাকে আমি কিছু জানাইনি।
-সেই ভালো! ভাই জান এমনিতেই প্রেসারে থাকেন, ছেলের এসব কার্যকলাপ শুনলে ভেঙে পড়তেন তিনি।
-এখন যা হচ্ছে তিনি তাই ঘটাতেন। তার সম্পর্কে অবগত আমি। সংসার আমারটা সত্যিই নষ্ট হত। বলতেন, আমি ছেলে মানুষ করতে জানিনি।
-রাগ হওয়ার কথা। বংশের ঠিক নেই, মেয়ে আবার হিন্দু!
-তার চেয়ে বড়ো কথা, ওদের বয়সই বা কত? রুজাইনের সামনে ওর সুন্দর ভবিষ্যৎ! এখুনি মেয়ের চক্করে পড়ে জীবন থামিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। সবই ওদের আবেগ। আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেমেয়েরা৷ ফলস্বরূপ বছর ঘুরতেই হয় ডিভোর্স। আমি সবটা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।
-খুবই ভালো করেছ। তবে ইধা নিজেকে ক’দিন এভাবে রুজাইনের থেকে সরিয়ে রাখবে? সামনাসামনি থেকে এড়িয়ে চলতে পারবে ও?
-সামনাসামনি আর বেশি দিন থাকবে না।
-মানে!
-ইধা চলে যাবে ওর গন্তব্যে। ভুল জায়গায় এসে পড়েছিল ও!
ক’টা দিন পরেই শশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে এসেছে মাইশা। ও বাড়ি থেকেই ইধার কাছে ওর মা এর ফোন নাম্বার চেয়েছিল ও। কিন্তু ইধা দেয়নি। এবং এই বিষয়ে মাইশাকেও কোনো কথা বলতে না করে ও। কিন্তু রুজাইনের সাহায্য ও করবে বলেছে। তাই ইধা যখন ওয়াশরুমে যায় ওর ফোন গোপনে হাতে নেয় মাইশা। মা এর নাম্বারটা নিয়ে ফোন রেখে দেয় ও৷ নাম্বারটা পাঠিয়ে দেয় রুজাইনের কাছে।
রুজাইন দেরী করলো না। সঙ্গে সঙ্গেই ফোনকল দেয় সেই নাম্বারে। রিসিভ হতেই রুজাইন বলল, আসসালামু আলাইকুম!
ওপাশ থেকে বললেন, কে?
-আমি রুজাইন!
-কেন ফোন করেছ আমায়?
রুজাইন বুঝতে পারলো, আসলেই রাগ করে আছেন ইধার মা। রুজাইন শান্তস্বরে বলল, একবার দেখা করতে চাই আপনার সাথে।
-কিন্তু আমি চাই না। যা বলার ইধাকে বলেছি আমি৷ এখন আবার কিসের কথা!
-আন্টি ইধা আপনাকে অনেক শ্রদ্ধা করে। তাই আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে। ওকে এতটা কষ্ট দেবেন না প্লিজ!
-আমি ওকে ধরে রেখেছি? এতই ভালোবাসলে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুক! বেছে নিক তোমাকে!
-ও সেটা পারছে না। ওর দু’জনকেই প্রয়োজন।
-কিন্তু আমাদের জীবনে তোমাকে প্রয়োজন নেই৷ এমনিতেই আমাদের জীবনে ঝামেলার শেষ নেই! মেয়েকে মুসলমান ছেলে বিয়ে করিয়ে সমাজ থেকে আলাদা হতে চাই না।
-ওই সমাজে এমনিতেও আপনাদের কদর নেই। আমি দেখাশোনা করব আপনাদের।
-এখন এই সমাজেই নিজের বাড়ি আছে আমার। সেইটার ভাড়া দিয়েই চলতে হবে। তোমার আশা করলে সেটাও হারাবে। তুমি টাকা কামাই করতে অনেক দেরী। ততদিন কী ভিক্ষা করে চলব?
-আন্টি আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?
-তো আব্বাজান ডেকে কথা বলব? রাখো ফোন। আর ফোন দেওয়ার সাহস আমায় করবে না।
এই বলে ফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয়। তার আচরণে হতভম্ব হয়ে যায় রুজাইন। নিশ্চয় ইধাকেও হুমকি দিয়েছেন তাই ও ঘাবড়ে আছে। তবে রুজাইনও থেমে থাকার পাত্র না। ইধাকে ঠিকই মানিয়ে নেবে ও। ইধা মানলে মা ও আপনাআপনি মেনে যাবে। ওর ভয় কাটাতে হবে। এই ভেবে ইধার বাসার সামনে এসে কলিংবেল বাজায় রুজাইন। এই সময়ে মরিয়ম জান্নাত ও মিলি বাসায় থাকে না জানে ও।
কলিংবেলের শব্দ শুনতেই দরজা খুলে মাইশা। রুজাইনকে দেখে ভেতরে আসতে বলল। ও সোজা ইধার রুমে চলে আসে। ইধা গানে ইয়ারফোন গুজে গান শুনছিল৷ ও রুজাইনকে দেখতে পায় না। রুজাইন এসে এক ঝাটকায় কান থেকে ইয়ারফোনটা নিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। ইধা তৎক্ষনাৎ দাঁড়িয়ে বলল, এসব কোন ধরনের অভদ্রতা?
রুজাইনও প্রায় চ্যাঁচিয়ে বলল, তুমি আমার সঙ্গে যা করছ তা কী সভ্যতা?
-আমি তোমার বাসায় এভাবে হুটহাট গিয়ে চেচামেচি কখনো করি না। তুমিই এসব করো।
-কারণ তুমি আমায় বাধ্য করো।
-কী করলাম আমি?
-আমাকে তো মেরেই ফেলেছ৷ এখন দাফন করা বাকি৷ তবুও বলছ কী করেছ?
-তোমাকে সুস্থভাবেই সামনে দেখছি আমি।
-মনের অসুখ তুমি বুঝবে কিভাবে? ভালো মনেহয় আমি একাই বেসেছি।
-কী বলতে চাচ্ছ?
খানিকক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সামলে নেয় রুজাইন। বড়ো বড়ো কয়েকটা নি:শ্বাস ফেলে বলল-
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমি জানি তুমিও আমাকে ভালোবাসো৷ মা এর ভয়ে ঘাবড়ে আছ। তাই না?
-ভয় না! মা এর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছি।
-আমাকে সেক্রিফাইস করে দেবে এইজন্য? আমার বাসায়ও কেউ মানেনি। আমি লড়াই করিনি বলো?
-ওরা আমায় শর্ত দিয়েছে। রাজি হয়েছি বলেই মেনেছে। আমার মা ও শর্ত দিচ্ছে৷ রাজি হলে মানবে। বলো রাজি হবে তুমি?
রুজাইন প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, কী শর্ত?
-হিন্ধু হতে হবে তোমাকে। পারবে?
ওর কথা শুনে রুজাইন যেন আকাশ থেকে পড়লো। ও বলল, সিরিয়াসলি? এই শর্ত তুমি আমাকে দিচ্ছ?
-তুমিও দিয়েছ আমায়।
-আমি নয়, আমার মা।
-আমিও নয়, আমার মা।
-আমি তোমাকে বাধ্য করিনি। বলেছি মা না মানলে আমরা নিজেদের মতো সবটা গড়ে নেব। চলো তুমি! তোমার ধর্ম ত্যাগের প্রয়োজন নেই।
-সম্ভব না! এটা সম্ভব না।
-কেন?
-আজীবন কষ্ট করে বড়ো হয়েছি। বেকার কাউকে বিয়ে করে আর কষ্ট পেতে চাই না।
রুজাইন অবাক হয়ে বলল, ইধা!
-তা নয়তো কী! যে মা আমাকে সবসময় আগলে রেখেছে তাকে আমি কষ্ট দিতে পারব না। মুসলিম না হলে তোমার মা মানবে না, হিন্দু না হলে আমার মা মানবে না৷ কেউ না মানলে আমরা যাব কোথায়? এতসব কিছু ম্যানেজ করব কিভাবে? আবেগে গা ভাসালে তো হবে না! তুমি নিজেই ভেবে দেখো না!
-আমি শুধু তোমাকে নিয়ে ভাবতে চাই ইধা। কীভাবে আমরা এক হব এটাই আমার একমাত্র ভাবার কারণ!
-কারণ তুমি কষ্টে বড়ো হওনি৷ আমি হয়েছি৷ তাই আমি জানি টাকা না থাকার কষ্টটা কেমন! প্লিজ রুজাইন এসব ছাড়ো। দু’জনেই ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিই। এসব আর ভালো লাগছে না আমার।
-আমাকে ভালো লাগছে না ইধা?
রুজাইনের চোখের দিকে তাকিয়ে ইধা বলল, না!
আর কিছু বলার ইচ্ছে রুজাইনের হলো না। নীরবে চলে আসে নিজের ঘরে।
মাইশা ইধার কাছে এসে বলল, এসব কেন করছিস তুই? আসল ঘটনা কী! বল আমায়?
-তখন আমি অন্ধ ছিলাম। আমার মা চোখ খুলে দিয়েছে আমায়।
-ছেলেটাকে এভাবে কষ্ট দিতে বুকে বাঁধছে না তোর?
-ভালো কিছুর জন্য একটু খারাপকে মেনে নিতেই হয়।
এই বলে ইধা ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। মাইশা পড়ে যায় গভীর ভাবনায়৷ ইধা নিশ্চয় ওয়াশরুমে নীরবে চোখে পানি ফেলতে গেছে। কেন এমনটা করছে ও!
ইধা ঠিক তাই করছে। মুখে ওড়না চেপে কাঁদছে ও। ইধা জানতো, মা এর ফোন নাম্বার মাইশা নেবে কোনোভাবে। তাই পুরনো এক বান্ধবীকে সব শিখিয়ে দিয়ে ওর নাম্বার মা এর নামে করে রেখেছিল ও। মূলত ইধার মা এখনো কিছুই জানে না৷ মামাকে কিছু না জানাতে বলেছে ইধা৷ জানলে কী করতেন ইধা জানে না। তবে এখনো তিনি কিছুই জানেন না৷
অনেকটা দিন কেটে যায়। রুজাইন ও ইধার মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। একে অপরের সামনে পড়লেও কথা কেউ বলে না। সেদিনের পর ইধার উপরে বেশ রেগে আছে রুজাইন। অন্য সব কিছু ও মানলেও, টাকার জন্য এই সম্পর্ক থেকে ইধা বেরিয়েছে এটা শুনে রুজাইনেরও রাগ হয়েছে। তাই রুজাইন ক্যারিয়ারের দিকে মন দেবে ঠিক করেছে। ইধা নামের কেউ ওর জীবনে এসেছিল ভুলে যাবে ভেবেছে। মনকে মানিয়েও নিয়েছে।
সত্যিই ভালোবাসা অদ্ভুত! ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেলে মনটা কেমন শক্ত হয়ে যায়! মনকে মানিয়ে নেওয়াও হয়ে যায় সহজ!
ক্লাস শেষে বাড়ি আসে রুজাইন। সিড়ি বেয়ে উঠার সময় দেখা পায় ইধার। সে ও মাইশা উপরে উঠছে। তবে ইধাকে ধরে ধরে উপরে উঠাচ্ছে মাইশা। দেখে মনে হচ্ছে, উপরে উঠার শক্তি যেন ইধার নেই!
একবার জিজ্ঞাসা করবে ভাবলেও নিজের মনকে মানিয়ে নেয় রুজাইন। ওদের দেখেও না দেখার ভান করে নিজের বাসায় প্রবেশ করে রুজাইন। ইধাও বিষয়টা খেয়াল করে৷ ওর শরীরে হঠাৎ করেই দূর্বলতা অনুভব করছে। মনে হচ্ছে এখুনি পড়ে যাবে৷ চারপাশ মনেহচ্ছে ঝাপসা। কেন যে এমনটা লাগছে!
এদিকে রুমে এসে অস্থিরতা অনুভব করছে রুজাইন। ইধাকে ওভাবে দেখে কেন ওর মনটা অস্থির হয়ে উঠলো! তবে কী ও মনের বিরুদ্ধে গিয়ে ওকে ভুলে থাকার অভিনয় করছে মাত্র!
দিনের শেষে রাত শুরু হতেই ইধার জ্বর বাড়তে শুরু হয়। ইধা আগের চেয়ে আরও দূর্বলতা অনুভব করে। এই মুহুর্তে মরিয়ম জান্নাতও বাসায় নেই৷ মিলিকে নিয়ে তিনি খালার বাসায় বেড়াতে গেছেন। ক’দিন ওখানেই থাকবেন জানিয়েছেন। রাত গভীর হওয়ার আগেই ইধাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে বা ডাক্তার এখানে আনতে হবে। মাইশা এটা একা কোনোভাবেই করতে পারবে না। আবারও সাদ্দামও জরুরি প্রয়োজনে চট্রগ্রামের বাইরে আছে। তাই বাধ্য হয়ে রুজাইনকে ফোনকল দেয় মাইশা। রুজাইন ফোন রিসিভ করলে বলল, একটা ডাক্তার নিয়ে আসতে পারবেন ভাইয়া? ইধার না অনেক জ্বর! নাপা দিয়েছিলাম। কমেনি। বরং বেড়ে যাচ্ছে। মেয়েটা উঠতে অবধি পারছে না শোয়া থেকে। একা রেখে বেরুতেও পারছি না। তাই আরকি…
মাইশাকে থামিয়ে রুজাইন বলল, এত ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। ইধার জায়গায় আর কেউ থাকলেও এই কাজটা আমি করতাম। ডাক্তার নিয়ে আসছি আমি।
রুজাইন দেরী করলো না। ডাক্তার আনতে বেরিয়ে পড়লো ও। বাড়ির পাশেই একটা ভালো ডাক্তার বসেন। আপাতত তাকেই নিয়ে আসেন।
ডাক্তার নিয়ে ওর রুমে আসে রুজাইন। ইধাকে এভাবে দেখে বুকটা ধুক করে উঠলো ওর। কী হাল হয়েছে মেয়েটার! চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। মুখটা শুকিয়ে গেছে। নিশ্চুপ হয়ে হাত-পা ছেড়ে শুয়ে আছে!
ডাক্তার দেখে বললেন, জ্বরের কারণে দূর্বলতা কাজ করছে ওর।
রুজাইন ব্যস্ত হয়ে বলল, ক্লিনিকে নিতে হবে কী?
ডাক্তার বললেন, আপাতত না! মেডিসিন দিচ্ছি। আজ রাতটা দেখুন। যদি না কমে তবে নেবেন। তবে আশাকরি কমে যাবে।
তিনি মেডিসিন লিখে দেন। ডাক্তারের সঙ্গেই বেরুলো রুজাইন। মেডিসিন নিয়ে আবার ফিরে এল ও।
মাইশাকে বলল, স্যুপ এনেছি৷ আগে এটা দাও৷ ভরা পেটে মেডিসিন নিতে হবে।
রুজাইন যায় না। ও দাঁড়িয়ে থাকে। মাইশা ইধাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে ও খায় না। শোয়া থেকে উঠতেই চায় না।
রুজাইন এসে ইধাকে বসতে সাহায্য করে৷ এরপর মাইশার উদ্দেশ্যে বলল, স্যুপ খাবে না মানে! না খেয়ে কোথায় যায় আমি দেখছি। সবকিছু ওর কথাতে চলতে পারে না।
এতক্ষণ যে রুজাইন এখানে ছিল সেটা টের পায়নি ইধা। প্রায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল ও। এখন চোখের সামনে রুজাইনকে বসা দেখে মুখে এক চিলতে হাসি ফোটে ওর। ওর মুখে হাসি দেখে রুজাইন ভ্রু কুচকে তাকায়। ইধা এখনো তাকিয়েই আছে। রুজাইন স্যুপের চামচটা ওর দিকে এগিয়ে দেয়৷ ইধাও কোনো কথা না বলে মুখে নিয়ে নেয়। রুজাইনের হাতে এক বাটি স্যুপ পুরোটা শেষ করে এবং মেডিসিনও খেয়ে নেয় ও।
রুজাইন ওর আরও কাছে এসে টিস্যু দিয়ে মুখটা মুছে দিয়ে বলল, এইবার ঘুমাও একটু। ভালো লাগবে।
ইধা ভাঙা গলায় বলল, তুমি থাকো না একটু!
একথা শুনে মাইশা হালকা কেশে বলল, থাকুন ভাইয়া। আমি আছি পাশের রুমে।
এই বলে মাইশা চলে যায়। ইধাকে শুতে বললে ও বলল, তোমার কাঁধে মাথা রাখি একটু? আরেকটু কাছে আসো না প্লিজ!
রুজাইন আরও কাছে এসে ইধার মাথাটা নিজের কাঁধে রাখলো। ইধা বলল, জানো তুমি? সবচেয়ে শান্তির মুহুর্ত এটা।
রুজাইন বলল, তাই? কিন্তু তুমি তো আমার কাছে শান্তি পাবে না বলেছ।
-তোমার মাঝেই সব শান্তি। তুমিই আমার সব। তুমি আমার ভালোবাসা।
ইধার মুখের দিকে তাকালো রুজাইন। ওর চোখ জোড়া বন্ধ। মুখে হাসি নিয়ে রুজাইনকে ভালোবাসার প্রকাশ করছে। এইটা দেখে রুজাইনের মুখেও হাসি ফোটে। কারণ ও বুঝতে পারে, জ্বরের ঘোরে সত্যি কথা বলছে ইধা।
রুজাইনের হাত আঁকড়ে ধরে আছে শক্ত করে। মুখে হাসি, ঠোঁটে ভালোবাসার বাণী। নিশ্চয় মিথ্যে নয় এসব! রুজাইনও ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বলল, এত ভালোবাসলে ওমন করেছ কেন?
ইধার সাড়া না পেয়ে ওর দিকে তাকায় রুজাইন। ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটা। রুজাইন ওকে বিছানায় শুইয়ে দেয়। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, আমি জানতাম তুমি আমাকে ভালোবাসো। মা কে কষ্ট দেবে না বলেই ওমন ব্যবহার করেছ আমার সঙ্গে। আমি আবার সবটা ঠিক করে ইধা। করে নেব তোমাকে আমার করে!
.
চলবে