গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ১১
মামুন অনেক কষ্টে নিজে কে ঠিক করে নিলো। যে করেই হোক তানহা কে তার ভুলে যেতেই হবে। তেলে আর জলে মিশ খায় না। কোন রকম নিজেই নিজে কে সামলে নিলো মামুন। পরেরদিন তানহা মিতু কে দিয়ে মামুন কে ডেকে নিলো।
মামুনঃ জ্বী ম্যাম বলেন কি করতে হবে।
তানহাঃ তেমন কিছু না আজকে তো রাতেই সবাই রওনা দিবো। তাই আমি চাই আপনি সারাদিন আজকে আমাদের দুজনের সাথে থাকবেন।
মামুনঃ ঠিক আছে থাকবো।
তানহাঃ তাহলে গিয়ে রেডি হয়ে আসুন আমরা এক জায়গা যাবো।
মামুন কোন না বলে সোজা তার রুমে চলে গেলো। মিতুও পিছনে গেলো মামুনের। মিতু তো খুব রাগ হয়ে আছে কেমন করে মামুন এখনও স্বাভাবিক আছে আর তানহার কথা শুনতেছে।
মিতুঃ আপনি কি মানুষ নাকি পাথর। কেমন করে আবারো আপনি তানহার কথা শুনতেছেন?
মামুনঃ কিছু করার নেই মিস মিতু, যেহেতু তার অফিসে চাকরি করি সেহেতু তো তার কথা শোনা লাগবে।
মিতুঃ আপনার মত আমি এবং আরো অনেকে চাকরি করে। তাদের কে না বলে আপনাকে কেনো বলল?
মামুনঃ হয়তো আমাকে দেখাতে চায় আমার চেয়ে হাজার গুণ ভালো কাউকে পেয়েছে। এটাও জানি আমাকে জেলাস করাতে চায় সে।
মিতুঃ তাহলে কেনো রাজি হলেন তাকে তো না করতে পারতেন আপনি?
মামুনঃ এতদিন যখন তার কথা শুনেছি অত্যাচার সহ্য করেছি। সেখানে তো আর মাত্র দুটি মাস বাকি।
মিতুঃ আর দুটি মাস বাকি মানে( অবাক হয়ে)
মামুনঃ ও কিছু না দু মাস পর তো আমাকে এত কাজ বা কথা শুনাতে পারবে না সেটাই আর কি। তাছাড়া বিয়ে হয়ে গেলে তখন তার হবু স্বামী মাসুম হয়তো বা অফিস দেখাশুনা করবে তখন তো আর আমাকে এত কাজ দিবেও না চাপও দিবে না।( মিথ্যা বলে কথা ঘুরালো)
মিতুঃ তা অবশ্য ঠিক বলেছেন আপনি কি আর করার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সহ্য করেন।( মিতু যেতে ধরলো)
মামুনঃ মিতু একটু শুনবেন
মিতুঃ হ্যাঁ বলেন কি বলবেন( খুব আগ্রহ নিয়ে)
মামুনঃ আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিবেন আপনাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। দেখবেন আপনি আমার চেয়ে ভালো কাউকে পাবেন।
মিতুঃ কি যে বলেন না আপনি আমার কাছে কেনো মাফ চাইতে হবে আপনার। আপনি তো কোন দোষ করেন নাই। তাছাড়া আমি না জেনে না বুজে না শুনে আপনাকে একতরফা ভালো বেসেছিলি। আর হয়তো বা আমার কারনে আপনার সাথে তানহার মিল টা হলো না।
মামুনঃ প্লিজ নিজে কে দোষী মনে করবেন না। আর আপনার মত এমন একজন কলিগ সবার নসীবে থাকে না। আপনি সত্যি অনেক ভালো একজন মেয়ে অনেক ভালো মনের মানুষ।
মিতুঃ হুমম ঠিক আছে আমি তাহলে আসি।
মিতু চলে গেলো, মামুন রেডি হয়ে নিলো। নিচে এসে দেখে তানহা আর মাসুম গাড়িতে বসে আছে। মামুন এগিয়ে গেলো গাড়ির কাছে।
তানহাঃ আপনার কি কোন কাণ্ডজ্ঞান নাই নাকি! কতক্ষণ হলো গিয়েছেন আর সেই আপনি কি না এতক্ষণে এলেন।
মামুনঃ আসলে ম্যাম আমি একটু ফ্রেশ হলাম তো তাই দেরি হলো। সরি ম্যাম আর দেরি করবো না।
তানহাঃ এরকম সরি জীবনে আর কতবার বলবেন আমাকে শুনি। আপনি যে একটা অপদার্থ সেটা কি জানেন আপনি( রেগে)
মাসুমঃ আহা তানহা বাদ দাও না কেনো ওনাকে এভাবে বলতেছো তুমি। আপনি বরং গাড়িতে উঠে বসুন তো দেরি হচ্ছে।
মামুন আর কোন না বলে গাড়িতে উঠলো। মাসুম গাড়ি ড্রাইভ করতেছে আর তানহা তার পাশের সীটে বসেছে। মামুন পিছনের সীটে বসে আছে। তানহা মাঝে মাঝে মাসুমের সাথে কথা বলতেছে আর হট্ট হাসি হাসতেছে।
তানহাঃ আমরা কিন্তু বিয়ের পর হানিমুনে সুইজারল্যান্ডে যাবো কি বলো তুমি।
মাসুমঃ হ্যাঁ বিয়ে টা আগে হোক তারপর দেখা যাবে কোথায় যাওয়া যায়।
তানহাঃ আমাদের দুজনের কি টাকা পয়সার অভাব আছে নাকি। আমরা কি কারো মত ছোটলোক নাকি, আমরা আরো অনেক দেশ যেতে পারি।( মামুন কে শুনিয়ে বলতেছে)
মাসুমঃ তা তো যাওয়া যায় ওটা কোন সমস্যা হলো নাকি।
তানহাঃ জানো মাসুম অনেক ছোটলোক আছে যাদের কে সত্যি ভালোবাসা দিলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আসলে কথায় আছে না ছোটলোক কি আর বিরিয়ানির মজা বুঝে।( মামুন কে বলল(
মাসুমঃ তানহা তোমার এই কথাটা বুঝলাম না আমি?
তানহাঃ না বোঝার কি আছে, ছোটলোকের ঠিকানা পায়ের কাছে তাদের কে বুকে ঠাই দিতে নেই। আর আমরা কি কারো মত ঠকবাজ বেঈমান নাকি।
মাসুমঃ কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলতেছো তুমি তানহা আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারতেছি না।
তানহাঃ এখানে না বুঝার কি আছে, প্রেম করলে বিয়ে করলে সবাইকে জানিয়ে করা উচিত। লুকিয়ে প্রেম করার কি আছে, কাউকে বলে তাকে ভালোবাসি না আবার কাউকে বলে হ্যাঁ তোমাকে ভালোবাসি। আচ্ছা মাসুম তুমি বলো তো ভালোবাসা কি খারাপ কিছু?
মাসুমঃ ভালোবাসা কেনো খারাপ হতে যাবে। ভালোবাসা তাকেই যায়, যখন একজন আর একজনকে নিজের চেয়ে পছন্দ করে তাকে নিয়ে ভাবে।
তানহাঃ দেখলে তো তুমি বুঝলে কিন্তু ছোটলোক ঠকবাজ বেঈমান টা কোনদিন বুঝে নাই।
মাসুমঃ কাকে কি বলতেছো তুমি তানহা? তোমার কথার কিছু বুঝলাম না।
তানহাঃ তুমিও না কিছুই বুঝো না। যাকে বলার তাকে বলেছি সে বুঝলেই হবে। তোমার মত ভালো কাউকে ছেড়ে আমি না পঁচা শামুকে পা কেটে ফেলতে চেয়েছিলাম।
মাসুমঃ হয়েছে আমরা এসে গেছি এবার গাড়ি থেকে নামো।
তানহা গাড়ি থেকে নেমে গেলো মাসুম মামুন দুজনে নামলো। তারা একটা শপিং কমপ্লেক্সে এসেছে। তানহা এতক্ষণ যে কথা গুলো বলল সব মামুন কে বলেছে আর মামুন যাতে শুনতে পারে তাই জোড়ে জোড়ে বলেছিলো।
তানহাঃ আপনি আমাদের সাথে সাথে থাকবেন বুঝলেন। এখানে আমরা বিয়ের মার্কেট করবো।
মাসুমঃ আরে তেমন কিছু না তানহা একটু কেনাকাটা করবে আর কি।
মামুন কোন না বলে তাদের সাথে সাথে ভিতরে ঢুকলো। তানহা একটা করে কাপড় দেখতেছে আর মাসুম কে বলতেছে এটা কেমন কোনটা নিবো ইত্যাদি ইত্যাদি। তানহার কেনা হলে সব শপিং ব্যাগ গুলো মামুনের হাতে দিলো। এরপর মাসুমের জন্য কিছু কেনা কাটা করলো। তাদের শপিং করা হলে তারা বাহিরে চলে আসলো।
মাসুমঃ সকালে তো নাস্তাও করি নাই চলো সামনের ওই রেস্টুরেন্টে যাই হালকা কিছু খেয়ে নেই।
তানহাঃ হ্যাঁ ঠিক বলেছো খেতে হবে। এই যে আপনিও আসেন আমাদের সাথে।
মামুনও তাদের পিছনে রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। তানহা আর মাসুম পাশাপাশি বসলো। মাসুম খাবার ওয়ার্ডার করলো ওয়েটার খাবার দিয়ে গেলো।
মাসুমঃ কি হলো আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেনো বসুন আপনিও তো মনে হয় সকালে নাস্তা করেন নাই। আসেন বসেন আমাদের সাথে নাস্তা সেরে নেন।
মামুনঃ না না আমি খেয়ে এসেছি আপনারা খান। ( মিথ্যা বলল)
মাসুমঃ খেয়ে এসেছেন বলে খাবেন না এটা কোন কথা বসুন তো!
তানহাঃ আরে বাবা যখন খেয়ে এসেছে আর খাবে না বলল তখন আর জোড় করো না তো।
মাসুমঃ তাই বলে এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে।
তানহাঃ থাকুক না দাঁড়িয়ে সমস্যা কোথায়। এমনিতেও তোমার শত্রুর অভাব নেই কখন কোন দিক দিয়ে আক্রমণ করে। ওনি এভাবে থাকলে বডিগার্ডের কাজটা হয়ে যাবে।
মাসুমঃ তবুও কেমন হয়ে যাচ্ছে না।
তানহাঃ চুপ করে খাও তো তুমি এত চিন্তা করতে হবে না তাকে নিয়ে। আর আপনি( মামুন কে) একটু এই দিকে সরে আসেন।
মামুন আর কোন না বলে তানহার কথা মত মাসুমের সাইটে গিয়ে দাঁড়ালো। দুজনে হাসতে হাসতে খাবার খাচ্ছে। তানহা মাঝে মাঝে মাসুম কে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে চাইলে মাসুম বার বার না করতেছে।
মাসুমঃ সত্যি খাবার টা কি সেই স্বাদ, মাঝে মাঝে বাহিরে খাওয়াও উচিত কি বলো।
তানহাঃ বিয়ের পর আমার হাতের রান্নাই খেতে হবে। এসব বাহিরের খাবার খাওয়া চলবে না। আর সত্যি বলেছো খাবার টা কিন্তু সেই স্বাদ। ছোটলোকেরা এসবের মজা বুঝবে না।
মাসুমঃ আচ্ছা তানহা কোন কারনে কি তুমি আমাকে ছোটলোক বলতেছো?
তানহাঃ তুমি আমার হবু স্বামী তাছাড়া তুমি কোটিপতি বাবার একমাত্র ছেলে তোমাকে কেনো ছোটলোক বলবো। আমি ছোটলোক কে ছোটলোক বলছি। সবাই কি আর সব কিছুর মর্ম বুঝে?
মাসুমঃ তো এত ঘুরিয়ে বলার কি আছে। সোজা করে তো বলতে পারো তুমি।
তানহাঃ আমি না জাস্ট ছোটলোক ঠকবাজ বেঈমান কে সহ্য করতে পারি না।
মাসুমঃ আচ্ছা তোমাকে কে ঠকালো আর কাকে বেইমান বলতেছো কে বেঈমানী করেছে তোমার সাথে শুনি?
তানহাঃ সে অনেক ঘটনা মাসুম বিয়ের পর সব জানতে পারবে। তবে কেউ একজন খুব চরম ভাবে বেঈমানী করেছে আমার সাথে। বলা চলে আমার জীবনটা নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছে। এমন ভাবে আঘাত করেছে এই আঘাত সবাই সহ্য করতে পারে না।
মাসুমঃ তুমি কারো সাথে প্রেম করতে নাকি?
তানহাঃ হয়তো খুব ভালো বাসতাম তাকে, কিন্তু সে প্রতারণা করেছে। যদি তার প্রতারণা করার ইচ্ছে ছিলো আমার সাথে তখন সে আগে বলতে পারতো।
মাসুমঃ হুম বুঝেছি এত আর বলতে হবে না এবার খাও।
মামুনঃ স্যার ম্যাম আমার মনে হয় এখন গাড়ির কাছে যাওয়া উচিত। না মানে আপনাদের তো খাওয়া শেষ প্রায়।
তানহাঃ এত কথা না বলে চুপচাপ থাকেন না। নাকি আপনার প্রেমিকা আপনাকে ডাকতেছে।
মাসুমঃ তানহা চুপ করো তো তুমি আচ্ছা আপনি যান আমরা আসতেছি।
মামুন আর কোন না বলে সেখান থেকে সোজা গাড়ির কাছে চলে আসলো। মামুনের চোখ দিয়ে আজ বৃষ্টির মত জল গড়িয়ে পড়তেছে। মামুন আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
মামুনঃ তানহা এভাবে অপমান না করে যদি একটা বার সত্যি টা জানতে চাইতে। কেনো সেদিন তোমাকে একা রেখে চলে গেছি। যদি আবারো জানতে চাইতে আমি সেদিন মিতু কে কি বলেছি তাহলে হয়তো এভাবে অপমান করতে পারতে না। হ্যাঁ আমি অপরাধী আমি ঠকবাজ বেঈমান কিন্তু তানহা আমি তখনও তোমাকে ভালোবেসেছি আজো তোমাকে ভালোবাসি। এটা হয়তো তোমাকে কষ্ট দেওয়া সাজা বিধাতা আমাকে দিতেছে। বিশ্বাস করো তানহা অন্য লোকের সাথে তোমাকে দেখে সহ্য করতে পারতেছি না। অন্য লোকের সাথে কথা বলা হাসাহাসি করা এত সব করা আমার মেনে নিতেই কষ্ট হচ্ছে। আমি না হয় দোষ করেছি তাই বলে এভাব কষ্ট দিবে আমাকে তুমি! ( মনে মনে বলল কিছুটা কেঁদে)
তাদের দুজনের খাওয়া হলে তারা গাড়ির কাছে চলে আসলো। এসে দেখে মামুন শপিং ব্যাগ গুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাসুম আবারো গাড়ি চালাতে লাগলো, তানহা সামনের সীটে তার পাশে বসলো। মামুন আবারো আগের মত পিছনের সীটে বসলো। পুরা রাস্তা আবারো নানা রকম কথা বলা আর মামুন কে শুনিয়ে শুনিয়ে অপমান করলো তানহা। গাড়ি থেকে নেমে মামুন তাদের পিছনে পিছনে গিয়ে ব্যাগ গুলো দিয়ে চলে আসলো। এসেই আবারো মিতুর সামনে পড়লো
মিতুঃ এতগুলো ব্যাগ তোমার হাতে দেখলাম, ওগুলো কিসের ব্যাগ।
মামুনঃ ম্যাম আর স্যারের বিয়ের শপিংয়ের ব্যাগ।
মিতুঃ তাদের বিয়ে তাদের পোশাক আপনি কেনো তা বহন করবেন শুনি?
মামুনঃ এ ছাড়া বা আমার কি করার আছে তাছাড়া চাইলেও তো না করার উপায় ছিলো না।
মিতুঃ এখানে পিকনিক করতে এসে আপনাকে দিয়ে চাকরের কাজ করাবে বা খুব ভালো তো। সত্যি কি আপনাকে তানহা ম্যাম ভালোবাসতো? নাকি আমাকে মিথ্যা বলেছিলেন?
মামুনঃ বাদ দেন না ওসব কথা। এখন আর বলে কি কোন লাভ আছে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।
মিতুঃ নিশ্চয়ই আপনাকে অপমানও করেছে তারা তাই না।
মামুনঃ আমাকে কেনো তারা অপমান করবে আপনি পাগল হয়েছেন মনে হয়?
মিতুঃ পাগল আমি হইনি আপনি হয়েছেন। যদি অপমান না করবে তাহলে আপনার চোখ লাল কেনো চোখের কোণে পানি কেনো?
মামুনঃ ও হ্যাঁ চোখে ধুলা পরেছিলো তার জন্য লাল হয়েছে আর চোখ কচলিয়ে ছিলাম তো তার কারনে হয়তো হয়েছে।
মিতুঃ থাক আর মিথ্যা বলতে হবে না। আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে হবে না। যা বুঝার বুঝে গেছি আমি।
মামুনঃ এত কথা বলতে পারবো না সকাল থেকে কিছুই খাইনি আমি এখন একটু খাবো।
মিতুঃ তাহলে আমার ধারনা গুলো সব ঠিক ছিলো। আসেন আমার সাথে সামনের ওই দোকানে গিয়ে দুজনে কিছু খাই।
মামুনঃ আপনি খান নাই এখনও।
মিতুঃ আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। আপনাকে একা রেখে সবার সাথে বসে খেতে মন চায়নি।
মামুনঃ আপনিও না পাগলি একটা আচ্ছা চলুন দেখি ওই দোকানে কিছু পাওয়া যায় কি না।
দুজনে দোকানে গিয়ে ডিম পরোটা খেয়ে নিলো। তারা ১২ টার দিকে সকালের নাস্তা করে নিলো। যেখানে সবাই ১০ টার মধ্যে খেয়েছে সেখানে তারা ১২ টার সময় খেলো। খাওয়া শেষ করে এসে দেখে সবাই যে যার মত করে বেড়াচ্ছে। ঠিক সেই সময় তানহা মামুন আর মিতুর কাছে চলে আসলো।
তানহাঃ বাহ দুজন তো সুপারগ্লুর মত একসাথে থাকেন দেখি তা কোথায় গিয়েছিলেন দুজনে?
মিতুঃ সম্পর্ক ভালো হলে আর নজর ঠিক হলে নিয়ত ঠিক থাকলে সুপারগ্লুর মত থাকা যায়। কোথায় আর যাবো ম্যাম ধনীদের তো সকালের নাস্তা করানোর মত মন নেই তাই গরীবের দপ্তরখানায় গিয়ে দুজনে সকালের নাস্তা টা সেরে নিলাম।
তানহাঃ কথা গুলো কি আপনি আমাকে বললেন নাকি মিস মিতু?
মামুনঃ আরে না ম্যাম আপনাকে কেনো বলবে এমনি বলল আর কি।
তানহাঃ আমি আর মাসুম সমুদ্রের তীরে যাচ্ছি চাইলে আপনারাও যেতে পারেন দুজনে।
মিতুঃ ম্যাডাম আপনি যান সময় হলে আমরাও যাবো কেমন।
তানহা আর কথা না বাড়িয়ে মাসুম সহ সমুদ্রে গেলো। তানহা মাসুমের সাথে অনেক আনন্দ করলো। কিন্তু মাসুম সব সময় তানহার থেকে দূরে দূরে ছিলো। সব কিছু মিতু আর মামুনের চোখের সামনে হলো৷ মামুন এসব নিতে পারতেছে না, তানহা যা শুরু করেছে এসব মামুনের পক্ষে নেওয়া অসম্ভব। যাইহোক কক্সবাজার ভ্রমণ শেষ হলে সবাই আবারো ঢাকায় চলে আসলো। এবার অবশ্য তানহা মাসুমের গাড়িতে করে এসেছে। রাতে রওনা হয়েছে পরেরদিন তারা ঢাকা এসেছে। তাই আজকেও সবার ছুটি, কালকে থেকে আবার অফিস শুরু হবে।
চলবে কি?
সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না?🙏🙏🙏