গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ১৩
রিক্সা যখন মামুনের কাছে আসবে ঠিক সেই সময় একটা কালো রঙের কার এসে মামুনের সামনে দাঁড়ালো। মামুন তো প্রথমে ভয় পেয়ে গেছিলো। পরে যখন দেখলো গাড়ি থেকে তানহা নামতেছে তখন তার ভয় কেটে গেলো। মামুন রিক্সা চালক কে সাইডে থাকতে বলল। মিতুও মামুনের কাছে এগিয়ে গেলো।
তানহাঃ পিরিতি তো ভালোই জমে গেছে। একসাথে রিক্সায় করে যাবেন তাই না।
মিতুঃ হ্যাঁ যাবো তো এতে কি আপনার কোন সমস্যা( কিছুটা রেগে)
তানহাঃ আরে না না সমস্যা হবে কেনো, আমি মনে হয় আপনাদের কাছে এসে সমস্যায় ফেলে দিলাম।( কিছুটা কটু করে বলল)
মিতুঃ জ্বি না ম্যাম কোন সমস্যা নেই আমাদের।
তানহাঃ ও হ্যাঁ যে কারনে গাড়ি থামালাম, এই যে মামুন সাহেব আমার বিয়ে কার্ড নেন। তখন আসলে ইচ্ছে করে দেই নাই আপনাকে। কারন টা হলো আপনারা একসাথে হলে তখন দিবো।( মামুন গ্রহণ করলো)
মিতুঃ আমরা একসাথে হলে মানে কথাটা ঠিক বুঝলাম না ম্যাম।
তানহাঃ আপনারা প্রেম করেন, তাই ভাবলাম দুজন একসাথে থাকলে দিবো।
মিতুঃ আমরা প্রেম করি মানে কি বলতে চাচ্ছেন।
তানহাঃ কি আর বলবো, কারো মত আমি নিমোক হারাম হারাম না। আর কারো মত বেঈমান না, তাই আপনাদের কে স্বাগতম জানাতে এসেছি।
মিতুঃ ম্যাম আপনি যা ভাবতেছেন( মামুন থামিয়ে দিলো)
মামুনঃ আপনাকেও বিয়ে মোবারক ম্যাম। দাম্পত্য জীবন আপনারও সুখের হোক।
তানহাঃ দয়া করে আপনি আমাকে দোয়া দিবেন না। আপনার মত মানুষের দোয়া পেলে হয়তো আমার বিয়েটাও ভেঙ্গে যেতে পারে।
মিতুঃ ম্যাম আপনি কিন্তু মামুন কে অপমান করে কথা বলতেছেন।
তানহাঃ তোমার তো জ্বলবে, তুমি তো মামুনের নতুন প্রেমিকা। জীবনেও সুখ খুঁজে পাবি না ছোটলোক, আমাকে ঠকিয়ে কাঁদিয়ে জীবনেও সুখ পাবি না।
মিতুঃ বাজে কথা বলবেন না ম্যাম। তাহলে ভুলে যাবো আপনি আমার অফিসের বস।
তানহাঃ চুপ করো বেয়াদব, কি করবে আমার। কিছুই করতে পারবেন না আমার বুঝলেন। আর হ্যাঁ মিস মিতু সাবধানে থাকবেন যার সাথে আছেন সে ততটাও সুবিধার না।
মিতুঃ কে সুবিধার কে অসুবিধার সেটা আমি ভালো করেই জানি। আর যাকে বেঈমান ঠকবাজ ছোটলোক বলতেছেন। সে কিন্তু আপনার সাথে এর কিছুই( বলতে দিলো না মামুন)
মামুনঃ আপনি বিয়ের কার্ড দিয়েছেন আমি গ্রহণ করেছি। আর যদি কোন বলার থাকে বলতে পারেন।
মিতুঃ ওনি কি বলবে, সব আমি বলতেছি সব সত্যি আজকে তার জানা উচিত।
মামুনঃ চুপ করবেন মিস মিতু। আপনি কোন কিছু বলবেন না।
তানহাঃ দেন দেন বলতে দেন আপনারা দুজন তো এখন এক হয়ে গেছেন।
মামুনঃ আর কোন বলার না থাকলে আমরা এবার যেতে পারি?
তানহাঃ ও হ্যাঁ দাঁড়ান, আর ১০ দিন পর তো গায়ে হলুদ। তাই আশা করবো সেদিন আপনারা দুজন এসে হলুদ লাগিয়ে দিয়েন।
মামুনঃ বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ যাবো। এবার তাহলে আমরা যাই।
মামুন ইচ্ছে করে মিতুর কোমড় ধরে রিক্সার কাছে নিয়ে গেলো। এই দৃশ্য দেখে তানহার তো পুরা বিশ্বাস হলো তাদের মাঝে প্রেমের বাহিরেও খারাপ সম্পর্ক আছে। হঠাৎ মামুন মিতুর কমড়ে হাত দেওয়ায় মিতু কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো। তারপর সে রিক্সায় উঠে বসলো, মামুনও মিতুর সাথে বসলো। তানহা এসব দৃশ্য দাঁড়িয়ে থেকে দেখলো। রিক্সা চলতেছে কিন্তু মিতুর রাগ কমতেছে না। বিষয় টা মামুন বুঝতে পেরে
মামুনঃ এভাবে রাগ করে আছেন কেনো। বাদ দেন না এখন ওসব।
মিতুঃ কেনো বাদ দিবো? আপনি কেনো আমাকে সত্যি টা বলতে দিলেন না( রেগে)
মামুনঃ এখন যদি হাজারো সত্যি বলেন সে বিশ্বাস করবে না। অহেতুক তাকে বলে কেনো আপনি তার রাগ শুনবেন।
মিতুঃ তাই বলে তানহা অপমান করবে আর আপনি সব মুখ বুঝে সহ্য করে যাবেন।
মামুনঃ এখন এসব অভ্যাস হয়ে গেছে। আর যে আমার হবে না তাকে নিয়ে আর ভাবতে চাই না। সে কি বললো না বলল সেটা আর মাথায় রাখতে চাই না।
মিতুঃ তার কারনে তো ঠিকই সিগারেট টানেন।
মামুনঃ কে বলেছে তার কারনে টানি। আমি আমার নিজের সুখের জন্য টানি।
মিতুঃ সব জানি সব বুঝি আমি আপনি কার জন্য টানেন আর কার জন্য না টানেন সিগারেট।
মামুনঃ প্লিজ একটু রাগ কমান একটু ঠান্ডা হন তো। সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে আমি সময়ের অপেক্ষায় আছি।
মিতুঃ থাকেন সময়ের অপেক্ষায় আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিয়ে দেখেন তানহার( খুব রেগে)
মামুনঃ সেইটা আমি হতে দিচ্ছি না বুঝলেন। আর আমার কারনে আপনাকেও কথা শুনতে হবে না।
মিতু আর কোন না বলে মামুনের দিকে তাকিয়ে আছে। কি করে একটা মানুষ এতটা স্বাভাবিক থাকে। মামুন কোন না বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারদিকে তাকালো। কিছু সময় পর তারা যে যার বাসার কাছে চলে আসলো। প্রতিদিনের মত মামুন ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলে ফোন রাখলো। পরেরদিন অফিসে গিয়ে দেখে তানহার আব্বু এসেছে। তিনিও নিজ মুখে সবাইকে তানহার বিয়ের দাওয়াত দিলো। তানহার আব্বু যখন চলে যাবে ঠিক তখনই মামুন তানহার আব্বুর কাছে গেলো।
তানহার আব্বুঃ কি ব্যপার মামুন কিছু কি বলতে চাও তুমি?
মামুনঃ হ্যাঁ স্যার একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই।
তানহার আব্বুঃ হ্যাঁ বলো কি বলবে আমার একটু তারা আছে।
মামুনঃ স্যার অনেক বছর তো আপনাদের এই অফিসে চাকরি করতেছি। এতদিনে তো আমার কাজ দেখেছেন এছাড়া একদিনও ছুটি নেই।
তানহার আব্বুঃ আচ্ছা ছুটি যতদিন লাগে নিতে পারো।
মামুনঃ স্যার ছুটি না, আসলে আমি আর চাকরি করতে চাচ্ছি না। তাই বলছিলাম কি যে সব শর্ত দিয়েছিলেন সেসব শর্ত যদি তুলে নিতেন।
তানহার আব্বুঃ তার আগে বলো কি কারনে চাকরি ছাড়তে চাও? এখানে কি কি চাকরি করতে সমস্যা নাকি বেতন কম বলে মনে হয়। তোমার মত ভালো একটা ছেলে হঠাৎ কেনো চাকরি ছাড়তে চাও।
মামুনঃ আসলে স্যার গ্রামে আমার বাবা এখন একা সংসার সামলাতে পারে না। তাছাড়া আপনি তো জানেন আমার বাবা একজন চাষি। বাবাও আর চায় না চাকরি টা করি, বাবা চায় আমি যেনো গ্রামে যাই। সেখানে আমার জন্য ব্যবসার ব্যবস্থা করেছে। আর আমিও শহরে অনেক বছর থেকে আছি তাই আমিও বাবা মায়ের সাথে বাকিটা সময় পার করে দিতে চাই।
তানহার আব্বুঃ তোমার মত ভালো শিক্ষিত ছেলে গ্রামে চাষ করবে আর ব্যবসা করবে। যাইহোক যখন চাকরি ছাড়তে চাও সমস্যা নাই। আমি ম্যানেজার কে বলে দিতেছি, যখন ছাড়তে মন চায়। রিজাইন লেটার টা ম্যানেজার কে দিয়ে দিও। আর আগামীর জীবনের জন্য শুভেচ্ছা রইলো তোমার জন্য।
তানহার আব্বু ম্যানেজার কে সব বলল। মামুন সব শুনে খুশি হলো, মামুন তানহার আব্বুকে ধন্যবাদ দিলো। মামুন তার কাজে লেগে পড়লো, এভাবে বাকি দিন গুলো যেতে লাগলো। প্রতিদিন তানহা মামুন কে শুনিয়ে শুনিয়ে ফোন কানে দিয়ে মাসুমের সাথে কথা বলে। মামুনের কষ্ট হলেও সব কিছু সামলে নেয়। হলুদের আগের দিন হঠাৎ তানহা মামুন কে ডাক দিলো।
তানহাঃ শুনেন লাঞ্চের পর আপনাকে আমার সাথে একজায়গায় যেতে হবে।
মামুনঃ ঠিক আছে ম্যাম যাবো।
তানহাঃ শুনবেন না কোথায় যেতে বলেছি।
মামুনঃ জিজ্ঞেস করে কোন লাভ আছে ম্যাম। উড়ি হয়ে কেনো জাহাজের খবর করতে যাবো।
তানহাঃ কথার তেজ গেলো না তাহলে এখনও ঠিক আছে জানতে হবে না গেলেই বুঝবেন। যান এখন গিয়ে কাজে লেগে পড়ুন আপনি।
মামুন কাজ না করে ম্যানেজারের ক্যাবিনে গেলো। গিয়ে রিজাইন লেটার জমা দিলো, এবং মামুন তার সমস্ত কাগজ পত্র নিলো। এমন কি তার ঠিকানা সহ সব কিছু নিলো। মামুন তার কোন কিছু রাখলো না, মামুন চায় না সে এখান থেকে চলে যাবার পর তার খবর কেউ করুক। তার খোঁজ কেউ নিক এমনিতেই তার একটুও ভালো লাগতেছে না আর। ম্যানেজারের ক্যাবিন থেকে বের হয়ে এসে মিতুর সামনে পড়লো।
মিতুঃ কালকে তো তানহা ম্যামের হলুদ হচ্ছে এখনও তো সময় আছে প্লিজ আসল সত্যি টা তাকে বলে দেন।
মামুনঃ যে আমার কথা শুনতে চায়নি যে আমাকে বুঝতে চায়নি তাকে আর কোন জানাতে বা বলতে চাই না আমি।
মিতুঃ কষ্ট হচ্ছে না আপনার?
মামুনঃ কষ্ট হলে বা কি করবো আমি বলেন? আমার কষ্ট কি আর কেউ বুঝবে। আমাকে কি আর সে চায় নাকি। হোক না কষ্ট এই কষ্ট টা না হয় জীবনসঙ্গী করে নিবো।
মিতুঃ আপনি এমন কেনো শুনি। এভাবে নিজেকে কষ্ট দিতেছেন সেটা কি ঠিক। একটু নিজেকে গুছিয়ে নেন না।
মামুনঃ ও হ্যাঁ আপনাকে তো একটা খুশির খবর জানাই নাই। আমার বাবা মা আমার জন্য মেয়ে দেখেছে আমারও বিয়ে হচ্ছে। এরপর আর কোন কষ্ট থাকবে না বুঝলেন। যান গিয়ে কাজ করুন আপনি।
মিতু গিয়ে কাজে লেগে পড়লো। মামুনও কাজ করতে লাগলো। লাঞ্চের সময় হলে লাঞ্চ করে মামুন বাহিরে তানহার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। তানহা আসলে মামুন গাড়িতে উঠে বসলো। এরপর তানহা গাড়ি চালাতে লাগলো। তানহা আর মামুন যখন প্রেম করতো তখন তারা অনেক জায়গায় ঘুরেছিল। তানহা সে সব জায়গায় মামুন কে নিয়ে ঘুরতে লাগলো। মামুন তানহার এসব কাহিনি দেখে কিছুটা খটকা খেলো।
মামুনঃ ম্যাম আপনি আমাকে নিয়ে এসব জায়গায় কেনো ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন?
তানহাঃ এই জায়গা গুলো দেখে কি কোন মনে পরে না।
মামুনঃ মনে পরে কি আর না পরে কি। এসব কিছু এখন অতিত আমার কাছে।
তানহাঃ তোমার কাছে তো অতীত মনে হবে মামুন। কারন তোমাকে আমি ভালোবেসেছিলাম, কিন্তু সেই তুমি আমাকে ঠকিয়ে চলে গিয়েছিলে। আবার নতুন করে আরো একজনের সাথে সম্পর্কে জড়ালে।
মামুনঃ ম্যাম কাল আপনার হলুদ আর আজকে কেনো এসব আমাকে বলতেছেন আপনি?
তানহাঃ ভয়ের কিছু নেই, আমি মাসুম কে বিয়ে করে নিতেছি। এখানে নিয়ে এসেছি এই কারনে তোমার মত বেঈমান কে জানাতে বড়লোকের সব মেয়েরা কাউকে ঠকায় না। বড়লোকের মেয়েরাও গরীব কে ভালোবাসতে জানে। যে বেঈমানী করেছো যে দাগা দিয়েছো মনে তা কোনদিনও উঠবে না।
মামুনঃ হ্যাঁ ম্যাম জানি তো আপনার সাথে কত বড় বেঈমানী করেছি। আমি তো ছোটলোক ঠকবাজ বেঈমান সুতরাং আমাকে নতুন করে বলতে হবে না।
তানহাঃ যাইহোক অবশেষে স্বীকার তো করে নিলে নিজের মুখে। আমি যতটা কেঁদেছি আল্লাহ যেনো তার হাজার গুণ তোমাকে আল্লাহ কাঁদায়।
মামুনঃ আমিন, আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করুক।
তানহাঃ এখন যাবো একটু কেনাকাটা করার জন্য। আসলে কিছু জিনিস এখনও কেনার বাকি আছে। মাসুম কাজে ব্যস্ত তাই আপনাকে সাথে নিলাম।।
মামুনঃ ঠিক আছে চলেন সমস্যা নেই।
গাড়ি চালিয়ে একটা জুয়েলারির দোকানে গেলো। সেখান থেকে নিজের পছন্দ মত জুয়েলারি দেখে দেখে কিনতে লাগলো। কেনাকাটা হলে তানহা গাড়ি নিয়ে বাসায় গেলো। হঠাৎ মামুন জুয়েলারি গুলো তানহার হাতে দিতে গিয়ে মামুনের হাত গিয়ে তানহার বুকে লাগে। সেটা মামুন বুঝতে পারে নাই, তানহা রেগে ঠাস ঠাস করে মামুনের গালে থাপ্পড় মারলো। এত জোড়ে মেরেছে ঠোঁট কেঁটে রক্ত ঝড়তেছে।
তানহাঃ এতদিন জানতাম তুই একটা ছোটলোক ঠকবাজ কিন্তু আজ জানলাম তুই একটা চরিত্রহীন।
মামুনঃ ম্যাম ইচ্ছে করে আপনার বুকে হাত দেই নাই হঠাৎ করে হয়ে গেছে।।
তানহাঃ তোর মত ছোটলোকের বাচ্চা কে ভালো করে জানা আছে। ইচ্ছে করে তুই এই কাজটা করেছিস। তুই ইচ্ছে করেছিস যাতে আমাকে ভোগ করতে তোর সুবিধা হয়।
মামুনঃ আপনি আমাকে ভুল বুঝতেছেন। এমন কিছুই না হঠাৎ করে হয়ে গেছে। আমি ইচ্ছে করে এমন করি নাই।
তানহাঃ তোকে পায়ের জুতা খুলে মারা উচিত। আজবাদ কাল আমার বিয়ে, পর পুরুষ হয়ে কেমন করে তুই এটা করলি। আসলে তোর ঘরে মা বোন ( ঠাস ঠাস করে মামুনও দিলো)
মামুনঃ যা বলার আমাকে বলেন আমার মা বোন বাবা নিয়ে আর একটা কথাও বলবেন না( ঠাস ঠাস করে তানহাও দিলো)
তানহাঃ ছোটলোকের বাচ্চা তোর সাহস কি করে আমার গায়ে হাত তোলার৷ একে তো আমার সাথে চরম বেয়াদবি করেছিস তার উপর আমার গায়ে আবার হাত তুলিস। এই মুহূর্তে চলে যা আর হ্যাঁ কালকে সময় মত চলে আসবি। আর যদি না আসিস তোকে জেলে পাঠাতে সময় লাগবে না আমার। তোর চোখের সামনে আর একজন কে বিয়ে করবো আমি।
মামুন কোন না বলে ঠোঁটের রক্ত হাত দিয়ে মুছে তার বাসার দিকে রওনা হলো। সারারাত ঘুমাতে পারে নাই মামুন। কাঁন্না করে আর সিগারেট টেনে পার করে দিয়েছে সে। পরেরদিন মিতুর জোড়াজুড়িতে মামুন তানহার গায়ে হলুদে গেলো। গিয়ে দেখে সেখানে কেয়া এসেছে সাথে তার স্বামীও আছে। মামুন কে দেখে কেয়া তো অবাক
কেয়াঃ কেমন আছেন ভাইয়া এতদিন কোথায় ছিলেন আপনি? আপনাকে কত জায়গায় খুঁজছি আমরা।
মামুনঃ আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো। ছিলো বড় সমস্যা তার কারনে ছিলাম না আমি।
কেয়াঃ তা আজকে হঠাৎ আপনি এখানে যে?
মামুনঃ হ্যাঁ আমি তানহা ম্যামের অফিসে চাকরি করি ওনি দাওয়াত করেছে তাই এসেছি।
কেয়াঃ কিন্তু এখানে তো একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
কেয়ার কথা শেষ না হতেই তানহার আব্বু আম্মু বোন আসলো সেখানে। তানহার আব্বু আম্মু কে দেখে খুব মন খারাপ অবস্থা মনে হলো মামুনের।
মামুনঃ স্যার কি হয়েছে এভাবে মন খারাপ করে আছেন যে কোন কি সমস্যা। আর ম্যাম আপনি কাঁন্না করতেছেন কেনো!
তানহার আব্বুঃ মামুন তানহা কে ঘানা তুলে নিয়ে গিয়েছে। তানহা কে বাঁচানোর জন্য আমার ছেলে আর বড় জামাই গেছে। কিন্তু শয়তান ঘানা তাদের কে বন্দী করেছে। আর আমাকে ফোন করে বলল আমার সম্পত্তির অর্ধেক তাকে লিখে না দিলে সে আমার মেয়ে ছেলে জামাই কে মেরে ফেলবে। এমন কি আমার ছেলে আর জামাই কে তারা বেঁধে খুব মেরেছে তারা সেটা ভিডিও করে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। আর ঘানা তানহার সাথে খারাপ কিছু করতে চাচ্ছে( বলে কেঁদে দিলো)
মামুনঃ কিন্তু ঘানা তো জেলে ছিলো সে আসলো কখন আবার।
তানহার আব্বুঃ জানি না কবে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। কালকে তানহা বাসার ভিতরে ঢুকতে যাবে ঠিক তখন কয়েকজন লোক এসে জোড় করে তুলে নিয়ে যায়। তানহা কে তুলে নেওয়ার পর আমাদের কে ফোন করে ঘানা জানায়। তার ঠিকানা মত আমার ছেলে আর জামাই গেলে তাদের আটকে দেয়। এখনও আমি মাসুম আর তার বাড়ির কাউকে জানাই নাই। তুমি প্লিজ কিছু একটা করো মামুন, এখন আমার ছেলে মেয়ে আর জামাই কে বাঁচাও।
মামুন সব শুনে তো অবাক, কালকে তাহলে মামুন যখন যাচ্ছিল তখন হঠাৎ একটা মাইক্রো বাস থেকে আওয়াজ আসে। তার মানে মামুন বের হওয়ার সাথে সাথে তানহা কে ঘানার লোক ধরে নিয়ে যায়। এখন মামুন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। আসলে কি মামুনের যাওয়া উচিত হবে? যেখানে তানহা অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। আপনারা মতামত দিবেন কেমন।
চলবে কি?
সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না!🙏🙏🙏