বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ১৪

0
75

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ১৪

মামুন একটু সরে গিয়ে এক জায়গায় বসলো। আসলে এখন মামুন কি করবে আর তার কি করা উচিত। মামুন মাথায় হাত দিয়ে ভাবতেছে। এমন সময় মিতু মামুনের কাছে এগিয়ে গেলো। দুইবার ধাক্কা দেওয়ার পর মামুন হুসে ফিরলো।

মিতুঃ মামুন আমার মনে হয় কি আপনার গিয়ে ম্যাম কে বাঁচানো উচিত।

তানহার আম্মুঃ বাবা মামুন তুমি তো আমার ছেলের মত এভাবে আর বসে থেকো না। তোমার স্যারের কাছে শুনেছি এর আগেও নাকি তুমি তানহা কে রক্ষা করেছো।

তানহার আব্বুঃ মামুন তুমি ছাড়া এখন এই মুহূর্তে কেউ নেই আমার মেয়ে কে ছেলে কে আর জামাই কে রক্ষা করে। আমরা চাইলেও এখন পুলিশ কে জানাতে পারতেছি না। যদি ঘানা তাদের কে মেরে ফেলে।

মামুনঃ আপনি আমাকে ঘানার ঠিকানা দিন।

তানহার আব্বুঃ এই যে( একটা ঠিকানা দিলো) এখানে আছে ঘানা।

মামুনঃ ঠিক আছে আমি যাচ্ছি, আপনারা ঘানার বাবা মা কে নিয়ে কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন।

মিতুঃ আমিও যাবো আপনার, আপনাকে একা যেতে দিবো না।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে চলুন তাহলে।

কেয়াঃ মামুন ভাই আপনার প্রতি বিশ্বাস আগেও ছিলো এখনও আছে। আপনি আমার বান্ধবীর কোন ক্ষতি হতে দিবেন না।

মামুন কাউকে কোন না বলে তানহাদের বাসায় একটা বাইক ছিলো সেটা নিয়ে রওনা হলো সাথে মিতুও ছিলো। তানহার বাবার দেওয়া ঠিকানা মত সেই জায়গায় পৌঁছে গেলো। ঘানা একটা বড় পুরাতন বাড়ির মধ্যে তাদের কে আটকে রেখেছে। মামুন প্রথমে চারদিক টা ভালো করে দেখে নিলো। তারপর ধীরে ধীরে বাড়ির ভিতরে ঢুকে লুকিয়ে পড়লো। মিতুও অবশ্য মামুনের সাথে এসেছে। মামুন ভিতরে ঢুকে দেখে, ঘানা তানহার ভাই কে এবং বোন জামাই কে লাঠি দিয়ে মারতেছে। আর তানহা কে একটু দূরে হাতে পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে শুয়ে রেখেছে।

তানহাঃ ঘানা আমার ভাই কে আর দুলাভাইকে আর মারবি না বলে দিলাম। তোর শত্রুতা আমার সাথে তুই আমাকে মার।

ঘানাঃ আয় হায় আমার চড়ুই পাখি টা বলে কি। তোকে মারবো কেনো, তোকে তো আজকে বিয়ে ছাড়া বাসর করবো আমি। তোর রুপ যৌবন সব ভোগ করবো আমি।

তানহার ভাইঃ ঘানা আমার বোন কে আর একটা বাজে কথা বললে তোকে এখানে মেরে ফেলবো।

ঘানাঃ ওরে বাবা খুব ভয় পেয়ে গেছি আমি সে নাকি আমাকে মারবে( হা হা হা) এই তোরা চেয়ে চেয়ে কি দেখিস মার সালাদের কে।( মারতে লাগলো)

তানহাঃ ঘানা দয়া করে আর মেরো মরে যাবে ওরা। তোমার কি চাই বলো সব দিবো আমরা।(কেঁদে)

ঘানাঃ সেটা তো তোর বাবা কে মানে আমার খালু কে বলেছি কিন্তু সে তো আর শুনলো না। তাই এবার অন্য পথ বেঁচে নিতে হবে আমার।

তানহাঃ কি চাই তোর বল আমাকে আমি দিবো সব কাউকে বলা লাগবে না।

ঘানাঃ আমার তো তোকে চাই আগে তারপর তোর বাবার সব সম্পত্তি চাই।

তানহাঃ ঠিক আছে সব কিছু দিবো আমি তোকে। আমার হাতের বাঁধন খুলে পায়ের বাঁধন খুলে। আর দলিল নিয়ে আয়।

তানহার ভাইঃ বোন তুই এটা করিস, ও আমাদের কিছুই করতে পারবে না। একটা বার শুধু ছাড়া পাই তার পর দেখ ওর কি করি আমি।

ঘানাঃ আগে নিজে বাঁচতে পারিস কি না সেটা ভাব পরে আমাকে নিয়ে ভাবিস। এই যা কাজী কে ডেনে নিয়ে আয় আর দলিল নিয়ে আয়।

ঘানার লোকঃ বস সব রেডি আছে, কাজীকেও ধরে আনা হয়েছে। এই যে বস দলিল আর এই যে কাজী

ঘানাঃ যা এবার তোর ভাবির সব বাঁধন খুলে দিলে। আজকে আমি বিয়ে করবো এই চড়ুই পাখি কে।

ঘানার কথা মত ঘানার লোক গিয়ে তানহার হাতের পায়ের বাঁধন খুলে দিলো। শোয়া থেকে তানহা এবার উঠে দাঁড়ালো। ঘানা হাসতে হাসতে দলিল নিয়ে গেলো তানহার কাছে। তানহা কে দলিল দেওয়া মাত্র তানহা দলিল ছিঁড়ে ফেললো। আর ঘানা কে ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় দিলো আর ঘানার মুখে থু ছিটিয়ে দিলো। সেখানে পরে থাকা একটা রড দিয়ে ঘানা এবং তার লোকদের মারতে লাগলো তানহা। সবাই কে মারতে মারতে কোন একটা পর্যায়ে তানহা ঘানার লোকের হাতে আটকা পড়লো।

ঘানাঃ ভেবে ছিলাম বিয়ে করে বৈধ ধর্ষণ করে তোর সব অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে তোকে তালাক দিবো। কিন্তু না এটা আর করবো না, এখন সবার সামনে তোর ভাই তোর দুলাভাইয়ের সামনে তোকে নষ্ট করবো। এরপর আমার সব লোকেরা তোকে ছিড়ে ছিড়ে খাবে।

তানহার ভাইঃ ঘানা খবরদার এমন টা করবি না ছেড়ে দে আমার বোন কে। যা করার আমার সাথে কর তুই।

ঘানাঃ তোরা চোখ খুলে রেখে সব কিছু নিজ চোখে দেখতে থাক।

ঘানা গিয়ে তানহা কে ধরে বিছানায় শুয়ে দিয়ে জোড় করতে লাগলো। তানহার কাপড় ছিড়ে ফেলল, তানহা বার বার বলতেছে ভাইয়া বাঁচাও। তানহার ভাই বোন জামাই বার বার বলতেছে তানহা কে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ঘানা কারো কথা না শুনে তানহার সাথে জোড় করতে লাগলো। এসব দেখে আর মামুন ঠিক থাকতে পারলো। মামুন সিস্টেমে যেখানে ঘানা কে আক্রমণ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু তানহার কারনে সেটা করতে পারে নাই। তাই মামুন কোন দিকে না দেখে ভিতরে ঢুকেই ঘানাকে তানহার উপর থেকে তুলে মারা শুরু করে দিলো। মামুন একা মানুষ ঘানার এত গুলো লোকের সাথে পেরে উঠতেছে না। তবুও লড়াই করে যাচ্ছে, মামুন নিজের শার্ট খুলে তানহা কে পরিয়ে দিতে গিয়ে ঘানার লোকের কাছে আটকা পরে গেলো।

ঘানাঃ খুব মেরেছিস তুই আমাকে, সেদিন অফিসেও মেরেছিস আজ এখানেও মারলি। তোর কারনে আমার সুখ গুলো হাত ছাড়া হয়ে গেছে তোকে তো ছাড়বো না আমি।

মামুনঃ তোকে তো আজকে মেরেই ফেলবো আমি( নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছে)

ঘানাঃ তোরা ভালো করে ধর সালা কে। আজকে এটা কে এমন শিক্ষা দিবো মরণ পর্যন্ত যাতে মনে থাকে।

ঘানার লোক গুলো মামুন কে শক্ত করে ধরলো। মোটা লোহার রড দিয়ে ঘানা মামুন কে মেরেই যাচ্ছে। রড দিয়ে মারা হলে হাত দিয়ে নাকে মুখে ঘুষি মারতেছে। মিতু ভেবে পাচ্ছে না এখন তার কি করা উচিত।

তানহাঃ দোহাই লাগে তোমার ঘানা। মামুন কে দয়া করে ছেড়ে দাও। আমার সাথে যা করার করো মামুন কে মেরো না।( কেঁদে)

ঘানাঃ এই সালার কারনে আমি জেলে গেছি এই সালাকে আগে সাইজ করে নেই তারপর তোকে ভোগ করবো। এই সালাও যেনো চেয়ে চেয়ে খালি দেখে কোন করতে পারে না।। এই বাহিরে কিছু লোক গিয়ে দেখ আর কেউ এসেছে কি না

ঘানার কথা শুনে কয়েকজন বাহিরে গিয়ে দেখলো দেখতে। ঘানা মামুন কে মারতে লাগলো। মামুন কে ইচ্ছে মত মনের আয়েশে মারতেছে ঘানা। মিতু এবার আর চুপ থাকতে পারলো না। কারন মামুনের নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়তেছে। মিতু হঠাৎ এসে বলতেছে পুলিশ এসেছে পুলিশ এসেছে। সবাই ভয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। মামুনও ছাড়া পেলো এই সুযোগে মিতুও তানহার ভাই বোন জামাইয়ের বাঁধন খুলে দিলো। শুরু হলো চরম মারা মারি। তানহার ভাই ছাড়া পেয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে তার লোকদের খবর দেওয়ার সাথে সাথে তারা চলে আসলো। কারন এত গুলো লোকের সাথে তিনজন কিছুই না। তানহার ভাইয়ের লোকেরাও এসে শুরু করে দিলো। ঘানা একটা ছুরি দিয়ে তানহা কে মারতে গেলে মামুন দুহাতের তালু দিয়ে আটকায়। মামুনের দুহাতের তালু কেটে রক্ত বের হতে থাকে। সেই মুহুর্তে তানহার আব্বু আম্মু ঘানার বাবা মা আর পুলিশ নিয়ে আসে। তানহা দৌড়ে তার বাবার কাছে যায়।

মিতুঃ এ দেখি অনেক টা কেটে গেছে আপনার। হাত দেখি রক্ত ঝড়তেছে তো খুব( শাড়ির আঁচল ছিড়ে বেঁধে দিলো)

মামুনঃ আরে তেমন কিছু হয়নি তো এমনি সব ঠিক হবে। এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নাই তো।

মিতুঃ বেশি বুঝেন আপনি দেখেছেন কত রক্ত মাটিতে পড়েছে( কেঁদে)

মামুনঃ আরে বাবা কাঁদার কি হলো আমি তো ঠিক আছি নাকি।

তানহার আব্বুঃ দেখেছেন ঘানার মা আপনার ছেলের কাহিনী। পুলিশ অফিসার একে নিয়ে যান এর মুখ আমরা দেখতে চাই না।

পুলিশঃ এবার আর বের হতে পারবে না। আগের বার তো জামিনে বের হয়েছিলো এবার সে পথও বন্ধ করে দিতেছি আমি।

ঘানার মাঃ এমন ছেলে পেঠে ধরেছি ভাবতেও অবাক লাগে আমার। স্যার নিয়ে যান এই জানোয়ার কে, আজ থেকে ঘানা আমার কাছে মৃত।

ঘানাঃ মা কি বলো তুমি এসব। প্লিজ মা আমাকে বাঁচাও আমি জেলে যেতে চাই না।

তানহার আব্বুঃ জামাই তোমরা তিনজন চলে যাও। কিছুক্ষণের মধ্যে তানহা কে হলুদ দিতে মাসুমের পরিবারের লোক আসবে। আমরা যাচ্ছি একটু পর বাসায় সব রেডি আছে। তানহা কে নামিয়ে দিয়ে দুজনে ডাক্তারের কাছে যেও।

পুলিশ ঘানা কে ধরে নিয়ে গেলো। তানহার ভাই তানহা তার বোন জামাই তিনজন আগেই চলে গেলো। কারন আজকে তো তানহার হলুদ। ঘানার বাবা মা বার বার তানহার বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। তাদের কেও চলে যেতে বলল তানহার বাবা মা। এবার তানহার বাবা মা দুজনে মামুন আর মিতুর কাছে আসলো।

তানহার আম্মুঃ তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না বাবা। আজ উপকার করেছো সেটা সারাজীবন আমাদের মনে থাকবে।

তানহার আব্বুঃ তোমার ঋণ আমরা কোনদিন শোধ করতে পারবো না। নিজের জীবন বাজি রেখে আমার সন্তান আর জামাই কে বাচালে তুমি।

মামুনঃ স্যার ম্যাম ধন্যবাদ বা ঋণের কথা বলবেন না। মানুষ হিসাবে তো এটা আমার দায়িত্ব, তাছাড়া স্যার বিপদের সময় কিন্তু আপনি আমাকে চাকরি দিয়েছিলেন। সুতরাং ঋণের কথা বলবেন না এটা সম্মান থেকে করেছি আমি।

তানহার আব্বুঃ সত্যি মামুন তুমি অনেক ভালো একটা ছেলে। যেভাবে আমার মেয়ের অফিস কোম্পানি কে ঘানার মত শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করেছো ঠিক সেই ভাবে আমার পরিবারের মানুষ গুলো কে রক্ষা করলে। আমাদের পরিবারের সম্মানও বাঁচালে তুমি।

মামুনঃ স্যার যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি তার কি ক্ষতি হতে দিতে পারি। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক বিপদে পরবে আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো নাকি।

তানহার আব্বুঃ তোমার হাত থেকে তো রক্ত বেড় হচ্ছে।

তানহার আম্মুঃ তুমি এ্যাম্বুল্যান্স ডাকার ব্যবস্থা করো তানহার আব্বু।

মামুনঃ স্যার ম্যাম আমি ঠিক আছি টেনশন করতে হবে না আমাকে নিয়ে। আমি আর মিস মিতু যেতে পারবো, আপনারা বরং বাসায় যান। বাসায় মনে হয় মেহমান এসে গেছে। আপনাদের সেখানে থাকা টা দরকার।

তানহার আব্বুঃ কিন্তু তোমাকে এভাবে এই অবস্থায় রেখে কেমন করে যাই।

মামুনঃ স্যার ভাবতে হবে না। আমরা এখনি যাচ্ছি ডাক্তারের কাছে আপনারা আগে বাসায় যান। আজ হলুদের দিন আপনাদের সেখানে সবার আগে দরকার। আপনারা আর দেরি করবেন না স্যার।

তানহার আম্মুঃ ঠিক আছে যাচ্ছি আমরা কিন্তু বিয়ের দিন সময় মত এসো কিন্তু বলে দিলাম।

মিতুঃ ও নিয়ে চিন্তা করতে হবে না ম্যাম আমরা সময় মত চলে আসবো।

তানহার আব্বু আম্মু মামুনের কথা মত চলে গেলো। মিতু মামুন কে ধরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। দুই হাতেই সেলাই পরেছে, নামে মুখে গালে টেপ ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। মামুন কে সপ্তাহ খানেক বিশ্রাম নিতে বলেছে।

মিতুঃ এখন কেমন লাগতেছে মামুন সাহেব আপনার?

মামুনঃ হ্যাঁ ঠিক আছি সমস্যা নাই। আর আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি যদি ঠিক সেই সময় উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে আমাদের রক্ষা না করতেন না জানি কি হতো।

মিতুঃ আমার চোখের সামনে আমার ভালো একটা কলিগ মার খাবে আর চেয়ে চেয়ে দেখবো না। আর আমাকে কেনো ধন্যবাদ দিতেছেন, ধন্যবাদ বা শুকরিয়া আল্লাহর কাছে আদায় করুন। বড় ধরনের বিপদ থেকে আল্লাহ আমাদের কে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

মামুনঃ আল্লাহ তো আপনাকে অছিলা করে সেখানে পাঠিয়ে ছিলো। সে জন্য তো আপনারও ধন্যবাদ প্রাপ্ত।

মিতুঃ হয়েছে চুপ করুন তো এত কথা বলতে হবে না। শুনলেন তো ডাক্তার কি বলল এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে।

মামুনঃ সেটাই তো চিন্তার বিষয় মিস মিতু।

মিতুঃ চিন্তার বিষয় কেনো হবে শুনি?

মামুনঃ আর পাঁচদিন পর আমার ছোট বোনের বিয়ে সেখানে আমাকে উপস্থিত থাকতেই হবে যে। এখানে দুদিন থেকে তারপর চলে যাবো বোনের বিয়েতে আপনি একটু ব্যবস্থা করে দেন না।

মিতুঃ আচ্ছা সেটা না হয় করবো, কিন্তু এই অবস্থায় কেমন করে যাবেন।

মামুনঃ আমি যেতে পারবো মিস মিতু আপনি শুধু ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন।

মিতুঃ কিন্তু আর দুদিন পর তো তানহা ম্যামের বিয়ে। তাছাড়া ম্যামের বাবা মা তো সেখানে যেতে বলেছে। অফিসের সবাই যাবে আর আপনি যাবেন না?

মামুনঃ আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি মিস মিতু। তাই তো চলে যাবো, তাছাড়া নিজের চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষ টার বিয়ে দেখতেও পারবো না সহ্য করতেও পারবো না। আর নিজেই তো দেখলেন যাকে বাঁচালাম একটা বার আমার খোঁজও নিলো না সে।

মিতুঃ হ্যাঁ সব দেখেছি সব জানিও আমি। আর আপনি চাকরি ছাড়লেন কবে আর কেনোই বা ছাড়লেন?

মামুনঃ বাড়িতে গিয়ে সংসার দেখবো আর নিজের একটা বড় শো-রুম দিবো গ্রামের বাজারে।

মিতুঃ চলে গেলে আর আসবেন না আপনি?

মামুনঃ না আর আসবো না কখনও। আমাকে একটা কথা দিতে হবে মিস মিতু আপনাকে?

মিতুঃ হ্যাঁ বলেন কি কথা দিতে হবে?

মামুনঃ আমি জানি আপনি এখনও আমাকে ভালোবাসেন আমাকে চান। কিন্তু কি করবো বলেন মনে তো একজনকে জায়গা দিয়েছি। তাই বলছি কি যতদ্রুত সম্ভব বিয়ে করে নিবেন আর পারলে চাকরিটাও ছেড়ে দিবেন। আমার নতুন ফোন নাম্বার আপনাকে দিবো চাইলে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

মিতুঃ আচ্ছা ঠিক আছে বিয়ে করে নিবো দ্রুত। আর আপনি না চাইলেও যোগাযোগ রাখবো। আর হ্যাঁ যে অফিসে আপনি নেই সেখানে আমিও চাকরি করবো না।

মামুনঃ আর হ্যাঁ আমার ঠিকানা আপনাকে শুধু বললাম মরে গেলেও কেউ যেনো আমার ঠিকানা জানে না( ঠিকানা বলল)

মিতুঃ ঠিক আছে কাউকে জানাবো না আপনার ঠিকানা।

মামুনঃ এবার একটু যান গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন আপনি।

মিতুঃ আচ্ছা আচ্ছা যাচ্ছি বলতে হবে না তো আপনাকে আর।

মিতু ডাক্তারের কাছে গেলো। গিয়ে বললো দুদিন পর রুগি কে সে নিয়ে যায়। প্রথমে ডাক্তার রাজি না হলেও মিতুর জোড়াজুড়ি আর বললো মিতু সেবা করবে তখন রাজি হলো। আজ তানহার গায়ে হলুদ দুদিন পর বিয়ে। এই বিয়েতে মামুন এবং লেখক শামীম দুজনের একজনও উপস্থিত থাকতে পারবে না। আসলে নিজের চোখের সামনে কি কেউ কারো প্রমিকার বিয়ে দেখতে পারে। তাছাড়া তানহা তো নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করতেছে। মামুন এবং আমার পক্ষ থেকে তানহার জন্য দোয়া রইলো। যাইহোক দুদিন থাকার পর মামুন মিস মিতুকে সাথে নিয়ে বাসায় গিয়ে সব মিতুকে দিয়ে ব্যাগে ভরে নিয়ে গ্রামের বাসে উঠলো। মিতুর কাছ থেকে বিদায় নিলো, মিতুর চোখে সে কি পানি। হয়তো নিজের এক তরফা ভালোবাসা হারিয়ে ফেলার কান্না এটা। তারপর কি হবে সেটা ভাবছেন অপেক্ষা করেন মামুন কেও বিয়ে দিয়ে দিবো

চলবে কি?

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না!🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here