বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ১৫

0
86

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ১৫

মামুনের চোখের কোণেও জল, হয়তো মামুন পারতো মিতু কে আপন করে নিতে। যেখানে তানহা অন্য কাউকে বিয়ে করে নিতেছে। রাস্তায় নানা রকম চিন্তা করতে করতে গ্রামে পৌঁছে গেলো। বাস থেকে নেমে সেলাই করা হাতে তো আর ব্যাগ নেওয়া যায় না। তাই নেমেই একজন ভ্যান চালক কে ডেকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাড়ি পৌঁছে মামুন তার বাবা মা ডাকতে লাগলো। সবাই যে যার ঘর থেকে বাহিরে এসে দেখে মামুন এসেছে। আর মামুনের চেহারা আর হাতের অবস্থা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেলো।

মামুনের মাঃ বাবা মামুন এসব কি করে হয়েছে তোর।

মামুনঃ ওই রাস্তায় আর কি ছিনতাই কারি ধরেছিলো, তার সাথে একটু মারামারি করতে গিয়ে এরকম হয়েছে। চিন্তা করো না মা কয়েক দিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

মামুনের বাবাঃ তাই বলে ছিনতাইকারীর সাথে মারামারি করবি তুই।

মামুনঃ এখন কি বাহিরে রেখে এসব জিজ্ঞেস করবে বাবা। ছোট ব্যাগ গুলো নিয়ে ভিতরে যা তুই।

মামুনের কথা মত তার ছোট ভাই ভ্যান থেকে ব্যাগ নিয়ে ভিতরে গেলো। মামুনের বাবা ভ্যান চালক কে ভাড়া দিয়ে বিদায় দিলো। তারপর মামুনের মা মামুন কে নিয়ে বারান্দায় বসলো।

মামুনের মাঃ দেখেছিস কি হয়েছে তোর মুখের, সব খানে কাটা গেছে। আর হাতের তালুতে তো মনে হয় সেলাই পরেছে তোর।

মামুনঃ এত চিন্তা করতে হবে না মা। ডাক্তার ঔষুধ লিখে দিয়েছে আর একটা ক্রিম দিয়েছে এসব কাটা দাগ চলে যাবে।

মামুনের বাবাঃ মামুনের মা খালি ছেলের সাথে কথাই বলবে নাকি। যাও পানি নিয়ে এসে মুখটা ধুয়ে দাও তো আগে।

মামুনের মা মামুনের বাবার কথা মত বালতিতে পানি এনে ভালো করে মুখ ধুয়ে দিলো। তার আগে অবশ্য মামুনের ছোট বোন মামুন কে ব্রাশ করিয়ে দিলো। নিজের বাড়িতে থাকার সুখটাই আলাদা। কারন এখানে সবাই স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসে। মামুনের ব্রাশ মুখ ধোয়া হয়ে গেলে তার মা বোন নাস্তা নিয়ে আসলো।

মামুনের বোনঃ বড় ভাইয়া হা কর আমি তোকে খাইয়ে দেই।

মামুনঃ বিয়ের পর বাড়ি থেকে চলে যাবি বলে খাইয়ে দিবি আজ।

মামুনের বোনঃ আমাকে তারিয়ে দিলে বুঝি তোরা দুই ভাই সুখে থাকবি( কেঁদে দিলো)

মামুনঃ এই যে পাগলি বোনটা আবার কাঁদে, তোকে তারিয়ে দেওয়ার কারো সার্ধ আছে নাকি। আমি তো কথার কথা বললাম আর কি।

মামুনের ভাইঃ আরে ভাইয়া তুইও না। আরে কাঁদতে দে না বিয়ের দিন কাঁদার প্রাকটিস টা হয়ে যাক না।

মামুনের বোনঃ দেখি আমি কাঁদবো না কার কি বলার আছে বলুক। যেদিন থেকে থাকবো না সেদিন থেকে তোরা দুজন বুঝবি।

মামুনঃ তুই আসলে একটা পাগলি ছোট তো মজা করতেছে। দে এবার খাইয়ে দে দেখি কতদিন বাড়ির খাবার খাই না।

মামুনের ছোট বোন মামুন কে খাইয়ে দিতে লাগলো। মাঝে মাঝে ছোট ভাইটাও মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে খাচ্ছে। মানে ছোট বোন যখন মামুন কে খাইয়ে দিবে সেই সময় ছোট ভাইটা হা করে খেয়ে নেয়। তারা খেতেও থাকে আর আনন্দ করতেও থাকে। এসব দৃশ্য দেখে মামুনের বাবা মায়ের চোখে আনন্দের পানি আসে। খাওয়া শেষ হলে মামুনকে ওর বোন ঘরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মামুনের বাবা ঘরে আসে।

মামুনের বাবাঃ মামুন আর তো দুদিন পর তোর বোনের বিয়ে। তাই বলছিলাম কি তুই তো আমার সাথে এই অসুস্থ শরীর নিয়ে যেতে পারবি না। তাই তোর ছোট ভাইকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছি।

মামুনঃ হ্যাঁ বাবা তাই করো আমি তো যেতে পারলে কোন ধরতেও পারবো না। আর হ্যাঁ বাবা ওদের কে কি বিয়ের কেনাকাটা করে দিয়েছো।

মামুনের বাবাঃ হ্যাঁ টাকা দিয়ে দিছি তোর মামি আর তোর মামা মিলে ওদের জামাই ছেলে মেয়ে কে বিয়ের মার্কেট করে দিবে।

মামুনঃ আর জামাই কে কি বিয়ের কাপড় কিনে দাওনি?

মামুনের বাবাঃ হ্যাঁ তোর ছোট ভাই নিজে থেকে তার পছন্দ মত কিনে দিয়েছে।

মামুনঃ আর কেউ বাকি নেই তো নাকি।

মামুনের বাবাঃ না বাবা কেউ বাকি নেই। আর তোর বোনের জন্য গহনা শাড়ি কসমেটিকস হিল স্যান্ডেল সব কিছু তোর মামি দুদিন আগে কিনে দিয়ে গেছে।

মামুনঃ তাহলে ঠিক আছে ওসবের আর চিন্তা রইলো না। বাবা সবাইকে কে কি দাওয়াত করেছো?

মামুনের বাবাঃ সেসব তোকে চিন্তা করতে আর হবে না। সবাইকে দাওয়াত করা শেষ হয়েছে। তুই বরং বিশ্রাম কর আমি আর তোর ভাই বাজারে যাই, সাথে তোর খালুও থাকতেছে আর তোর ছোট মামাও ওইদিন দিয়ে আসবে।

মামুনঃ টেনশন মুক্ত হলাম এখন সব আয়োজন করো তাহলে। আমি বিশ্রাম করি অনেক বড় পথ জার্নি করেছি।

মামুনের বাবা বের হয়ে বাজারে গেলো। যেহেতু মেয়ের বিয়ে তাই গরু ছাগল মুরগি মাছ ডিম চাল মসলা তরি তরকারি সব কিনতে হবে। আর একা মানুষের পক্ষে একা করা সম্ভব নয় তাই মামুনের খালু আর ছোট মামাও সাথে থাকলো। মামুন চোখ বন্ধ করতেই চোখে ঘুম চলে আসলো। শেষ বিকালে মামুনের মায়ের ডাকে মামুনের ঘুম ভাঙ্গে।

মামুনঃ আর একটু ডাকলে না কেনো মা কতটা দেরি হয়ে গেলো( মোবাইলে ঘড়ি দেখে)

মামুনের মাঃ অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছিস তাছাড়া তোর শরীরটাও দুর্বল তাই ডাকি নাই।

মামুনঃ বাবা এসেছে বাড়ি মা।

মামুনের মাঃ আসতে আরো একটু দেরি হবে। উঠে বাহিরে আয় মুখটা ধুয়ে তোকে খাইয়ে দেই। সেই সকালে এসে নাস্তা করেছিস।

মামুনও বিছানা থেকে বাহিরে আসলো। মামুনের মা ভালো করে চোখে মুখে পানি দিয়ে ধুয়ে দিলো। গামছা দিয়ে মুখটা মুছে দিয়ে চেয়ারে বসিয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দিলো মামুনের মা।

মামুনঃ বোন শোন ওটা যতই আমাদের মা বাড়ি হোক না কেনো। এখন থেকে ওটা তোর শ্বশুড় বাড়ি। এখন থেকে ওই বাড়ির সবার সাথে ভালো ব্যবহার আর সবার সেবা যত্ন করি। যে কাজ করতে বলবে হাসি মুখে তা করবি। মামা মামি আর তোর স্বামীর সেবা যত্ন ভালো করে করবি। এমন কোন কাজ করবি না যাতে তারা তোর জন্ম পরিচয় কিংবা আমাদের বাবা মা কে খারাপ বলে। আর শোন নামাজ কালাম ঠিক মত আদায় করবি বলে দিলাম।

মামুনের বোনঃ আমাকে এত সব আর বলতে হবে না ভাইয়া। এমন কোন কাজ বা কথা বলবো না যাতে তোমাদের কারো সম্মান নষ্ট হয়ে যায়।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে আসলো। বাড়িতেও অনেক মেহমান আসলো। মামুন বাদে সবাই কাজে লেগে পরেছে। কারো যাতে অসম্মান না হয় সেই দিকটা মামুন খেয়াল রাখতেছে। বর যাত্রী আসলে আগে মৌলবি ডেকে বিয়ে করার পর সবাই খাবার খেলো। তারপর বর পক্ষ কনে কে নিয়ে গেলো। বাড়িটা খালি হয়ে গেলো, সবার মন একটু খারাপ।
যাইহোক এভাবে আরো বেশ কিছুদিন চলে গেলো। মামুন এখন পুরোপুরি সুস্থ তালুর সেলাই খোলা হয়ে গেছে। সেলাই করা জায়গা শুকিয়ে গেছে, মুখের দাগ নেই। মামুন ঘরের ভিতরে মোবাইলে কিছু কোম্পানির লোকের সাথে কথা বলতছে আছে এমন সময় মামুনের বাবা মা ঘরে আসলো।

মামুনঃ মা বাবা আমাকে কি কোন বলবে তোমরা।

মামুনের মাঃ মেয়েটার বিয়ে হওয়ার পর বাড়িটা ফাকা হয়ে গেছে। আর আমরাও চাই এবার তুই বিয়েটা করে নে।

মামুনঃ আমি তো বাবা কে সব বলে দিয়েছি।

মামুনের বাবাঃ হ্যাঁ তোর দোকান তো রেডি আছে তুই চাইলে দোকানে এখন মালামাল তুলতে পারিস। যে যে কোম্পানির মাল নিয়ে শো-রুম দিবি সেটা শুরু কর।

মামুনঃ ডেকোরেশন তো হয়ে গেছে এখন মালামাল গুলো আসা বাকি। সেই জন্য তো মোবাইলে কথা বললাম। পরশুর মধ্যে দোকানে সব চলে আসবে বাবা। আর একটু পর আমি দোকানে যাবো বাকি সব কিছু ঠিক করতে আর দোকান পরিষ্কার করতে হবে তো।

মামুনের মাঃ তাহলে তো আর সমস্যা থাকলো না। তোকে এখনও বলি তোর কি পছন্দের কেউ আছে? যদি থাকে বলতে পারিস আমাদের কে আমাদের কোন না নেই।

মামুনঃ তোমাদের পছন্দ করা মেয়ে কে বিয়ে করবো মা। আমার কোন পছন্দের কেউ নেই মা।

মামুনের বাবাঃ ওই যে পাশের সালাম ভাইয়ের মেয়ে সুমাইয়ার সাথে তোর বিয়ের আলাপ চলতেছে। এখন তোর মতামতের অপেক্ষায় আছি।

মামুনঃ ওই সুমাইয়া যে একবার আমাদের গাছের পেয়ারা পারতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলো।

মামুনের মাঃ হ্যাঁ ওই সুমাইয়ার সাথে তোর বিয়ের কথা চলছে।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে তোমাদের পছন্দ আমার পছন্দ। এতে আমার কোন না নেই তোমরা কথা বলো।

মামুনের বাবাঃ ঠিক আছে তাহলে আমরা কথা এগিয়ে নেই কি বলো মামুনের মা।

মামুন উঠে বাজারে গিয়ে নিজের দোকানের বাকি কাজ গুলো সেরে নিলো। দু তিন দিনের মধ্যে দোকানে মালামাল তোলা শুরু হয়ে গেলো। এভাবে আরো কয়েকদিন চলে গেলো। মামুন এখন শো-রুমে বেশি সময় থাকে। মাঝে মাঝে সেখানে মামুনের ছোট ভাইও থাকে। মামুন গ্রামের দুটো ছেলে রেখেছে একার পক্ষে তো আর শো-রুম চালানো সম্ভব না। শহর থেকে গ্রামে আসার পর এত ব্যবস্থাতার মাঝে সময় কেটেছে একটা বারো তানহা বা মিতুর কথা মনে পরে নাই মামুনের। আজ প্রায় একমাস হয়ে গেলো, মিতুর সাথে যোগাযোগ করতেও পারে নাই। মামুন ফোন বের করে মিতু কে ফোন দিলো।

মিতুঃ আজ একমাস পর তাহলে আপনার মনে পরেছি আমি। তা কি খবর কেমন দিন কাল যাচ্ছে আপনার?

মামুনঃ আসলে ছোট বোনের বিয়ে এদিকে নিজের শো-রুম দেওয়া তার উপর অসুস্থ ছিলাম। এর কারনে আপনার কোন খোঁজ খবর নিতে পারি নাই আমি।

মিতুঃ তাহলে এখন গ্রামে গিয়ে সব ঠিক হয়ে গেছে তো নকি। শো-রুম কেমন চলতেছে আপনার?

মামুনঃ হ্যাঁ এখন আর কোন সমস্যা নেই সব ঠিক আছে। নতুন মানুষ শো-রুম দিলাম চলতেছে কোন রকম আর কি।

মিতুঃ ছোট না বড় শো-রুম দিয়েছেন আপনি?

মামুনঃ বলা চলে বড় করেই দিয়েছি, তিনটে কোম্পানির প্রোডাক্ট আছে শো-রুমে। সাথে মোবাইল ফোনও আছে, টিভি ফ্রিজ রাইস কুকার প্রেসার কুকার গ্যাসের চুলা হিট চুলা গ্যাসের সিলিন্ডার জগ মগ তালা বাসন ক্যাবল চেয়ার টেবিল ঘর সাজানোর জিনিস কমবেশি সব আছে।

মিতুঃ তাহলে তো বেশ বড়ই আছে আপনার শো-রুম। ইশ আগে যদি দিতেন তাহলে আমার বিয়ের আগে সব নিতাম আমি।

মামুনঃ কি বলেন কবে বিয়ে করলেন একটা বার জানানো দরকার ছিলো না কি?

মিতুঃ আসলে আমিও চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর পরিবার কে সময় দিছি ব্যস্ত সময় পার করেছি। হঠাৎ করে আব্বু আম্মু ছেলে দেখলো আর বিয়েটা হয়ে গেলো।

মামুনঃ তা কতদিন হলো বিয়ে করার আপনাদের?

মিতুঃ এই তো সপ্তাহ হবে বিয়ে হওয়ার, তা আপনি কবে বিয়ে করতেছেন?

মামুনঃ মা বাবা মেয়ে পছন্দ করে রেখেছে কিছুদিনের মধ্যে হয়তো হয়ে যাবে। আচ্ছা তানহার কি বিয়ে হয়ে গেছে? আর বিয়েতে তো মনে হয় গিয়েছিলেন?

মিতুঃ আপনি চলে যাওয়ার পরদিন রিজাইন দেই আমি। তাই বিয়েতে যাওয়া হয়নি আমার। হঠাৎ তানহার কথা জিজ্ঞেস করতেছেন যে?

মামুনঃ আসলে নানা ব্যস্ততার মাঝে সব কিছু ভুলে গিয়েছিলাম তো তাই। হঠাৎ আপনার সাথে কথা বলায় মনে হলো আর কি।

মিতুঃ আপনার বাবা মা যখন মেয়ে ঠিক করেছে সুতরাং তানহার কথা ভুলে যাওয়া উচিত আপনার। আর তানহা তো বিয়ে করে হয়তো স্বামী সংসার নিয়ে সুখে আছে।

মামুনঃ সে যদি আমার ভালোবাসা অবহেলা অপমান করে আর একজন কে বিয়ে করে সুখি হতে পারে তাহলে আমি কেনো পারবো না।

মিতুঃ শেষের দুমাস আপনার সাথে যা ব্যবহার করেছে এতে করে কি আপনার মনে এখনও তার জন্য ভালোবাসা আছে মামুন সাহেব।

মামুনঃ যাই বলেন না কেনো তাকে ভোলা সম্ভব নয়। হয় তো আমার কিছু ভুলের কারনে তাকে হারিয়ে ফেলেছি। আমার দোষে সে এমন করেছে মিস মিতু, কিন্তু তানহা এমন অহংকারী না তাকে খুব ভালো করে চিনি আমি।

মিতুঃ এখন এসব বলে কি আর কোন লাভ আছে মামুন সাহেব। সে তো আর আপনার নেই এখন অন্য কারো হয়ে গেছে সে।

মামুনঃ হুমম কষ্ট হয় কিন্তু কি করবো বলেন চাইলেও ভুলতে পারতেছি না।

মিতুঃ নতুন বউ আদর ভালোবাসা দিলে এমনি সব ভুলে যাবেন। তানহার কথা মনে করে আপনি আবার আপনার বউকে অবহেলা করিয়েন না বুঝলেন।

মামুনঃ তা একদিন আপনি একদিন আপনার স্বামী সহ আসেন না আমাদের গ্রামে।

মিতুঃ আমার স্বামী যেতে পারবে কি না সেটা বলতে পারতেছি না কিন্তু আমি একদিন যাবো।

মামুনঃ কেনো আপনার স্বামী কেনো আসতে পারবে না?

মিতুঃ আসলে সে প্রবাসী আপাতো বছড় দেড়েক হয়তো তাকে নিয়ে যেতে পারবো না। এখন ছুটিতে এসেছে ২০ দিনের জন্য এর মাঝে বিয়ে আসা নিয়ে ১০ দিন চলে গেছে। আর এখন তার সাথে হানিমুনে আমরা সাজেক এসেছি।

মামুনঃ ওহ বুঝেছি আচ্ছা পরেও নিয়ে আসিয়েন কেমন। আর হানিমুন গেছেন স্বামী কে সময় না দিয়ে কলিগের সাথে কথা বলতেছেন। আপনার স্বামী শুনলে তো আপনাকে খারাপ মনে করবে।

মিতুঃ আমার স্বামী আমার সাথেই আছে। আপনার ব্যপার টা আমার স্বামী কে অনেক আগে জানিয়েছি। অনেক ভালো মানুষ সে, তার মত স্বামী পেয়ে আমি ধন্য।

মামুনঃ তাহলে তাকে ঠকাবেন না এটাই অনুরোধ। আর হ্যাঁ পারলে তাকে বেশি বেশি সময় দিবেন। প্রবাসীরা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা এটা মাথায় রাখবেন। যতদিন দেশে আছে তাকে সময় দিবেন, চলে গেলে তার কথা মত চলবেন। আর পারলে শ্বশুর বাড়িতে থেকে শ্বশুর শ্বাশুড়ির খেদমত করবেন।

মিতুঃ আপনাকে আর বলতে হবে না এবার নিজের ব্যপার টা নিয়ে ভাবুন বুঝলেন? আর হ্যাঁ আমার স্বামীর কাছে অনুমতি নেওয়া আছে সে চলে গেলে সময় করে একদিন আপনার বাড়ি যাবো।

মামুনঃ আচ্ছা সমস্যা নেই আপনাদের দুজনের জন্য দোয়া আর ভালোবাসা রইলো।

মিতুঃ আপনার জন্য আগাম দোয়া আমাদের পক্ষ থেকে রইলো। আচ্ছা আজ তাহলে রাখি ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

মিতু ফোন কেটে দিলো, মামুন ভালো আছে শুনে তার ভালো লাগলো। মিতু তার স্বামীর সাথে হানিমুনের সময় গুলো উপভোগ করতে লাগলো। মামুন ফোন রেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে তানহার কথা ভাবতেছে। কত স্বপ্ন ছিলো তাকে নিয়ে কত আশা করেছিলো তানহা কে ঘরের বউ বানাবে। সে আশা আজ অপূর্ণ হয়ে গেলো। যখন এসব ভাবতেছিলো মামুন ঠিক সেই সময় হঠাৎ তার শো-রুমে বোরকা পড়া একটা মেয়ে আসলো…………………… কথা হলো মেয়েটা কে কমেন্টে জানাবেন অবশ্যই? দেখি কে সঠিক উত্তর টা দিতে পারে।

চলবে কি

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না!🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here