বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ১৬

0
92

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ১৬

মামুন যখন তানহা কে নিয়ে ভাবতেছিলো। তখন হঠাৎ বোরকা পড়া একটা মেয়ে চলে আসে। তার মুখটাও ঢাকা ছিলো আর চেনার কোন উপায় ছিলো না। মামুন প্রথমে মনে করেছিলো হয়তো কোন কিনতে এসেছে। কিন্তু মামুনের ধারনা ভুল প্রমাণ করে মেয়েটা যখন তার বোরকায় ঢাকা মুখ টা বের করলো মামুন তখন চমকে গেলো। আরে এ তো সুমাইয়া হঠাৎ সে কেনো এখানে এসেছে।

সুমাইয়াঃ কি আমাকে দেখে চমকে গেলি দেখছি। আচ্ছা তুই কি নিজে বাড়ি থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিছিলি নাকি?

মামুনঃ না আমি পাঠাই নাই কিন্তু আমাকে তুই করে বলার কারন কি?

সুমাইয়াঃ ভুলে যাস না ছোট থেকেই কিন্তু তোকে আমি তুই করে ডাকি বুঝলি। আর তুই তো আমার থেকে বয়সে বেশি বড় না কমজোর ২ বছর বড়।

মামুনঃ কিন্তু আমাদের তো বিয়ে হবে তাই না। তাহলে এখন তুই তুই করে বললে মানুষ কি বলবে?

সুমাইয়াঃ আগে বিয়ে হোক তারপরের টা তারপর দেখা যাবে।

মামুনঃ আচ্ছা বুঝলাম কিন্তু তুই হঠাৎ আমার শো-রুমে কেনো এসেছিস।

সুমাইয়াঃ তোর সাথে আমার একটু কথা ছিলো, কিন্তু এখন বলতে পারতেছি না। আমি কয়েকদিনের জন্য নানা বাড়ি যাচ্ছি এসে তোকে সব বলবো। তাই ভাবলাম যাওয়ার আগে দেখা করে আর কথাটা জানিয়ে যাই। যাতে পরে এসে না শুনি আমার কথা শোনার তোর সময় নেই।

মামুনঃ আচ্ছা সমস্যা নেই তোর যখন মন চায় তখন এসে বলিস। আর তোকে আমি খুব ভালো করে চিনি তুই কি জিনিস। তোর কথা না শুনবে এমন কি কেউ গ্রামে আছে নাকি।

সুমাইয়াঃ এই তো তাহলে আমাকে ভুলিস নাই আমি কেমন।

মামুনঃ তোর মত ডেঞ্জারাস মেয়ে এই গ্রামে আর একটাও নেই। তোর শক্তি আর বুদ্ধির কাছে ছেলেরাও হার মানে তা জানি।

সুমাইয়াঃ হইছে আর আমার প্রসংশা করা বাদ দে এবার আমি গেলাম বুঝলি।

সুমাইয়া এমন একটা মেয়ে, যে ছেলেদের চেয়েও বড়ই সাহসী। কারন তার সাথে কেউ অন্যায় করলে সাজা সাথে সাথে দেয় সে। কারো গাছের ফল খেতে মন চাইলে যদি কেউ না দেয় রাতেই তার গাছের ফল শেষ। নদীতে মাছ ধরা বাপের সাথে চাষ করা। বাড়ির কাজ মারামারি করা সব কিছুতেই পটু এই সুমাইয়া। আচরণ ছেলেদর মত হওয়ায় এখানেই মামুনের একটা ভয়। সুমাইয়া চলে যাওয়ার পর মামুনের বাবা মামুনের কাছে আসে।

মামুনের বাবাঃ কি রে বাবা খেতে যাবি না এভাবে দোকান করলে হবে নাকি তোর।

মামুনঃ এই তো বাবা যাবো এখন খেতে, তুমি খেয়ে এসেছো তো।

মামুনের বাবাঃ হ্যাঁ খেয়ে এসেছি, তুই যা আমি দোকানে আছি। তারাতারি আসিস আমাকে আবার তোর বোনের বাড়িতে যেতে হবে।

মামুনঃ হঠাৎ বোনের বাড়িতে যাবে কেনো( থেমে গেলো)

মামুনের বাবাঃ কতদিন থেকে মেয়েটা বাড়ি আসে না। তাই ওকে নিয়ে আসতে যাবো আর তোর মাও কয়েকদিন থেকে বলতেছে।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসতেছি তারাতারি। আর দোকানের ছেলেটা কে বলে যাচ্ছি কিছু মিষ্টি কিনে দেওয়ার জন্য।

মামুনের বাবাঃ আসার সময় তোর মা যা যা দেয় নিয়ে আসিস খালি হাতে যাওয়া ঠিক হবে না।

মামুন ওর বাবার কথা সব শুনে বাড়ি খেতে গেলো। খাওয়া শেষ করে মামুন ওর মায়ের কাছ থেকে সব নিলো। এসে তার বাবা দিলো, মামুনের বাবা তার বোনের শ্বশুর বাড়ি গেলো। মামুন আবারো তার শো-রুমে বসলো। রাতে মামুন বাড়িতে ফিরে দেখে তার বোন চলে এসেছে। রাতে সবাই একসাথে খাওয়া করলো।

মামুনের বোনঃ ভাইয়া একটা কথা বলবো রাগ করবি না তো।

মামুনঃ আচ্ছা বল রাগ করবো কেনো।

মামুনের বোনঃ আসলে ভাইয়া আমার কলেজে যেতে তো সমস্যা হয়। তাই বলছিলাম যদি একটা মোটরসাইকেল কিনে দিতে আমার স্বামী কে।

মামুনঃ আচ্ছা ওকে কাল সকালে আসতে বল, ওর পছন্দ মত বাইক কিনে দিবো।

মামুনের মাঃ বাবা মামুন তুইও তো বাইক পছন্দ করিস কিনতেও চেয়েছিস তুই কি নিবি না।

মামুনঃ মা আল্লাহ দিলে এখন তো আর আমাদের সমস্যা নেই। চাষি জমি আছে আমি বাবা ছোট মিলে চাষ করতেছি। শো-রুম দিছি ব্যবসা ভালো চলতেছে এতে টেনশনের কি আছে। ওকেও কিনে দিবো আর আমিও নিবো ভয়ের কিছু নেই মা। আল্লাহর রহমতে হাতে এখন ভালোই টাকা আছে।

মামুনের মাঃ তুই এত কিছু করলি বাবা আমাদের সবার জন্য। চাকরির সব টাকা দিতি, বোনের বিয়ের খরচ একাই বহন করলি। দু ভাই বোন কে পড়াশোনার খচর সংসার সব কিছু করলি।

মামুনঃ মা এমন করে কেনো বলতেছো বাবা আমার জন্য তো নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছিলো। আর ওরা আমার ছোট ভাইবোন এতটুকু তো করতেই পারি।

মামুনের বাবাঃ হয়েছে আর কথা বলার দরকার নেই এখন যে যার ঘরে গিয়ে ঘুমাও। আর মা তুই জামাই কে সকালে আসতে বলিস কেমন।

মামুনের বোনঃ ঠিক আছে বাবা আমি এক্ষুনি জানিয়ে দিতেছি।

পরেরদিন মামুন তার বোন জামাই কে নিয়ে বাইকের শো-রুমে গেলো। সেখানে পছন্দ মত একটা বাইক তার বোন জামাই কিনলো। পরে মামুনও পছন্দ মত একটা বাইক নিলো। তারা দুজনে বাড়ি আসলো, মামুনের বাবা বাইক দুটো দেখে খুশি হলো। যাইহোক এভাবে দিনের পর দিন যেতে লাগলো। মামুন সেদিন বাড়িতেই ছিলো হঠাৎ বাহিরে থেকে একটা মেয়ের আওয়াজ আসলো। সবাই ঘরের বাহিরে এসে দেখে একটা অচেনা মেয়ে, কিন্তু মামুন মেয়েটা কে চিনতে পারলো। এ আর কেউ নয় বরং তানহা ব্যাগ হাতে নিয়ে বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে।

মামুনের মাঃ তুমি কে মা আর কাকে চাও তুমি?

তানহাঃ আমি মামুনের কাছে এসেছি।

মামুনের মাঃ মামুন এই মেয়েটা কে তোর কাছে এসেছে নাকি( মামুন কে বলল)

মামুনঃ মা এনি হলেন আমার কোম্পানির বস তার অফিসে আমি এতদিন চাকরি করেছি।

মামুনের মাঃ সেটা আগে বলবি না আসো মা ভিতরে আসো। মামুন ব্যাগ টা নে, কতক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছে।

মামুনের তো তানহা কে দেখে রাগ চরমে উঠে গেছে তবুও নিজে কে ঠান্ডা রেখে মায়ের কথা মত ব্যাগ টা নিলো। মামুনের মা তানহা কে নিয়ে বাড়ির ভিতরে গেলো। তানহা কে একটা চেয়ারে বসতে দিলো।

মামুনের বাবাঃ তা হঠাৎ যে আমার ছেলের কাছে এসেছো মা কোন কি দরকার? আর তুমি ছোট তাই তোমাকে তুমি আর মা বলে ডাকলাম আবার খারাপ ভেবো না।

তানহাঃ না না সমস্যা নেই আপনারা তো আমার বাবা মায়ের বয়সি আপনারা আমাকে তুমি বলে ডাকতে পারেন। আসলে এখানে আপনার কাছে এসেছি আমি।

মামুনের বাবাঃ কিন্তু সে তো আর শহরে যাবে না চাকরিও করবে না। মামুন তো বাজারে বড় শো-রুম দিয়েছে।

মামুনের মাঃ এখন কি এসব কথা বলবে নাকি তুমি। যাও আগে বাজার করে নিয়ে আসো, অনেক দূর থেকে এসেছে আগে খাওয়া করুক তারপর না হয় কথা বলবে

মামুনের বাবাঃ ও হ্যাঁ আমি তো ভুলে গেছি, যাও নাস্তার ব্যবস্থা করো ততক্ষণে আমি বাজার করে নিয়ে আসি।

তানহাঃ না না এত তারাহুরোর কিছু নাই, আপনারা না চাইলেও আমি এখন এখানে থাকবো কিছুদিন।

মামুনের মাঃ সে তোমার যতদিন মন চায় থাকো, তাই বলে কি খালি মুখে থাকবে নাকি। মামুন টিউবওয়েল চেপে পানি দে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হোক।

মামুনের মন না চাইলেও চুপচাপ কোন না বলে তানহা কে নিয়ে টিউবওয়েলে গিয়ে পানি চেপে দিলো। তানহা সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আসলো। ততক্ষণে মামুনের মা তানহার জন্য নাস্তা তৈরী করেছে। তানহা কে খেতে দিলো, তানহাও হাসি মুখে খেতে লাগলো। কিন্তু তানহা কে দেখে অবাক হচ্ছে মামুন। কারন এর আগে তানহা মানে যতদিন মামুন চাকরি করেছে ততদিন তানহা কে মর্ডান ড্রেস পরা দেখেছে হঠাৎ তানহা কবে থেকে শাড়ি পড়া শুরু করলো!

মামুনের মাঃ যা বা তোর ম্যাডাম কে নিয়ে তোর ছোট বোনের ঘরে যা। ঘরটা খালি আছে যতদিন থাকে তোর বোনের ঘরে থাকুক।

মামুনঃ কিন্তু মা ঘরটা কি গোছানো আছে?

মামুনের মাঃ হ্যাঁ আছে সব কিছু গোছানো আছে। ব্যাপ পত্র নিয়ে তোর বোনের ঘরে নিয়ে যা। আপাতো বিশ্রাম করুক পরে কথা বলিস কেমন।

মামুন তানহার ব্যাগ নিয়ে আগে আগে গেলো, তানহা মামুন কে অনুসরণ করলো। মামুন ব্যাগ টা রেখে ঘর টা ভালো করে দেখিয়ে দিলো কোথায় কি আছে আর কোন জিনিস কোথায় রাখবে। তানহা মামুন কিছু বলতে যাবে তার আগেই মামুন ঘর ত্যাগ করে তার শো-রুমে চলে গেলো। তানহা ভাবলো হয়তো মামুন ব্যস্ত আছে তাই চলে গেলো। কিন্তু তানহা তো জানে না সে মামুন কে আঘাত করেছে আর মামুন সেসব ভুলে যায়নি।
একেবারে গভীর রাতে মামুন বাড়ি ফিরে দেখে তানহা খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। মামুনও রাতের খাবার খেয়ে ঘুম দিলো। সকাল বেলা সবাই একসাথে নাস্তা করলো, সেই সময় তানহা বলে উঠলো

তানহাঃ বলছিলাম আন্টি আপনাদের গ্রাম টা একটু ঘুরে দেখতাম।

মামুনের মাঃ সেটা তো ভালো কথা, মামুন তোর ম্যাডাম কে নিয়ে একটু গ্রাম টা ঘুরে দেখা।

তানহাঃ আন্টি আর একটা কথা আমার নাম হলো তানহা। আর আমি আপনাদের কে মা বাবা বলে ডাকবো আর মামুন কে আমাকে ম্যাডাম বলতে হবে না।

মামুনের মাঃ আচ্ছা মা তানহা ঠিক আছে তুমি লক্ষি একটা মেয়ে।

মামুনঃ লক্ষি রাক্ষসী একটা মেয়ে সে( মনে মনে)

মামুনের মাঃ খাওয়া শেষ করে তানহা কে নিয়ে একটু গ্রাম টা ঘুরে দেখা।

মামুনঃ আমাকে তো এখন শো-রুমে যেতে হবে মা।

মামুনের বাবাঃ তোকে আজ আর যেতে হবে না। আমি আর তোন ভাই দুজনে আজ যাবো তাছাড়া শো-রুমে তো ছেলে দুটো আছে।

মামুনের ভাইঃ হ্যাঁ ভাই আমি আর বাবা শো-রুম চালাতে পারবো। আর তাছাড়া ওনি তো আমাদের মেহমান। তোর সাথে ওনার পরিচয় আছে সুতরাং তুই গ্রাম টা দেখা ওনাকে।

মামুনের বাবাঃ বাইকে করে নিয়ে যাস হেটে হেটে আবার নিয়ে যাস না।

মামুন আর কোন বলল না, মন তো চায় না নিয়ে যেতে। যেহেতু তার বাবা মা বলেছে সেহেতু তো আর না করতে পারে না। বাইক বের করে তানহা কে পিছনে তুলল। বাড়ির কাছে দেখে তানহা মামুন কে ধরলো না। একটু দূরে যেতেই তানহা পিছন থেকে দু হাতে মামুন কে জাপ্টে ধরলো। হঠাৎ পিছন থেকে জরিয়ে ধরায় মামুন আতকে উঠলো। একটা ফাঁকা জায়গায় যেয়ে মামুন বাইক দাঁড় করালো।

মামুনঃ বাইক থেকে নামুন আপনি।

তানহাঃ কি হলো বাইক থামিয়ে নামতে বলতেছো কেনো?

মামুনঃ দেখেন ম্যাডাম আপনি বিবাহিত আর আমি পর পুরুষ। আর আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে আমাদের গ্রামের একটা মেয়ের সাথে। কেউ দেখলে আমাকে খারাপ ভাববে।

তানহাঃ তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে মামুন( টলটলে চোখে)

মামুনঃ হ্যা আর কিছুদিন পর বিয়ে হবে আমার। সুতরাং এবার বাইকে উঠলে আমাকে জরিয়ে ধরবেন না।

তানহাঃ আমি বিশ্বাস করি না তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তুমি আমার কাছে মিথ্যা বলতেছো সব।(টলটলে চোখে)

মামুনঃ দেখেন ম্যাডাম আপনাকে মিথ্যা বলে আমার কোন লাভ নেই। আগেও মিথ্যা বলি নাই আপনাকে আর আজকেও বলতেছি না আমি। আপনি বিবাহিত একজন মেয়ে অবিবাহিত ছেলের বাইকে উঠে তাকে জরিয়ে ধরতে পারেন না।

তানহাঃ আমি বিয়ে করি নাই মামুন( কেঁদে) আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি মামুন। বড় আশা করে এসেছি তোমার কাছে। অনেক কষ্টে তোমার ঠিকানা পেয়েছি দয়া করে আমাকে আর দূরে ঠেলে দিও না( মামুন কে ধরতে গেলো)

মামুনঃ বিয়ে করেন নাই মানে( অবাক হয়ে) দেখেন ম্যাডাম যা ছিলো সব ঢাকায় থাকা অবস্থায় ছিলো এখন আপনাকে আমি ভালোবাসি না( ধরতে গেলে সরে গেলো) আর আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, এখন দয়া করে কোন সিনক্রিয়েট করবেন না।

তানহাঃ আচ্ছা চলো তো দেখি কোথায় সেই মেয়ে। আমি জানি তো আমাকে তুমি মিথ্যা কথা বলতেছো।

তানহা যখন মামুনের হবু বউ কে দেখতে চাইলো। ঠিক সেই সময় সুমাইয়া সেদিক দিয়ে আসতেছিলো। এসেই সুমাইয়া মামুনের শার্টের কলার ধরে ফেললো। এটা দেখে তানহা অবাক হয়ে গেলো। কি কারনে মেয়েটা মামুনের শার্টের কলার ধরলো আর মেয়ে টা বা কে?

সুমাইয়াঃ তোকে না বলেছি আমার সাথে দেখা করবি? তোর সাথে বিয়ের বিষয়ে আমার কথা আছে।( কলার ধরে)

মামুনঃ আগে কলার ছাড়, দেখতেছিস না একজন দাঁড়িয়ে আছে। ( কলার ছাড়িয়ে নিলো) এনি হলো আমার বস যখন চাকরি করতাম এনার অফিসে করতাম। এবার তুই এনাকে বলতো তোর আর আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে কি না?

সুমাইয়াঃ এনি তোর বস হয়, শুনেন আফা মামুনের সাথে আমার বাবা মা বিয়ে ঠিক করেছে।

মামুনঃ শুনলেন তো ম্যাডাম আর নিজের চোখে তো দেখলেন এবার। এবার তো বিশ্বাস হয়েছে নাকি?

তানহাঃ না আমি তবুও বিশ্বাস করি না। আর তুমি এই বিয়ে করতেও পারো না!

মামুনঃ যখন না দেখে না শুনে আমাকে বিশ্বাস করেন নাই, এখন তো প্রমাণ সামনে তাহলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে কেনো?

তানহাঃ কারন তখন হারিয়ে পেয়েছিলাম আর মসে সন্দেহ ছিলো তোমাকে নিয়ে। এত বছর পর যখন পেয়েছি তখন তুমি লাইফে অন্য কারো সাথে জরিয়ে যাওনি তো। কিন্তু তখনও বিশ্বাস ছিলো আমার এখনও আছে। আমি বার বার চেয়েছি জোড় করে হলেও আমাকে তোমার করে নাও। কিন্তু তুমি তা করো নি তুমি তোমার মতই ছিলে।

সুমাইয়াঃ ওহ এইবার তাহলে বুঝেছি আমি। ওই আফা শুনেন মামুনের সাথে আমার বাবা মা বিয়ে ঠিক করেছে এটা ঠিক। কিন্তু আমি মামুন কে বিয়ে করতে পারবো না, কারন আমি ইতিমধ্যে গোপনে একজন কে বিয়ে করেছি তাকে আমি ভালোবাসি। আর মামুন এই কথাটা বলার জন্য আমি তোকে সেদিন দেখা করার কথা বলেছি।

মামুনঃ কি বলতেছিস এইসব, তাহলে বিয়েতে রাজি হলি কেনো তুই?

সুমাইয়ঃ ভয়ে রাজি হয়েছি, তাই তোকে অনুরোধ করতেছি তুই আমার বাড়িতে বলবি তুই আমাকে বিয়ে করবি না। বাকি সব কিছু আমি দেখে নিবো। আর হ্যাঁ তোর ম্যাডাম কিন্তু দেখতে সেই সুন্দর। আমি চললাম এবার তুই বলিস কিন্তু।( সুমাইয়া চলে গেলো)

তানহাঃ এবার তো আর না করতে পারবে না। এবার তো আমাকে আপন করে নিতে তোমার কোন আপত্তি নেই।

মামুনঃ সুমাইয়া না হলে নাই অন্য হাজারো মেয়ে আছে কিন্তু আপনাকে আপন করা তো দূরে থাক। আপনাকে নিয়ে এখন ভাবারও সময় নাই আমার। আমার সাথে কি কি করেছেন আমাকে কতবার মেরেছেন কত অবহেলা করেছেন। এমন কি যখন আপনাদের বাঁচালাম আহত হলাম একজনও দেখতে যান নাই। আমাকে রেখে আর একজন কে বিয়ে করা ছোটলোক ঠকবাজ বেঈমান কত কি বলেছেন। কিছুই ভুলি নাই আমি, আর আমি যে তানহা কে ভার্সিটিতে থাকা অবস্থায় ভালোবেসে ছিলাম সে ছিলো অহংকার মুক্ত শালিন একজন মেয়ে। অনেক নম্র ভদ্র মায়াবী, যে আমাকে কোন স্বার্থ ছাড়া ভালোবেসে ছিলো।

তানহাঃ একবার অন্তত আমার কথা গুলো শুনো তুমি। কেনো এমন করেছি কেনোই বা তোমাকে ওসব বলেছি। দয়া করে আমার কথা গুলো একবার শুনো( কেঁদে)

মামুনঃ এখন বাড়িতে ফিরে যাবো মন চাইলে বাইকে উঠতে পারেন। আর না হলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন।

মামুন বাইক স্ট্যার্ড দিলো তানহা কাঁদতে কাঁদতে বাইকে উঠলো। কেনো একবার কি তানহার কথা গুলো শুনা যেতো না। মামুন বাইক চালিয়ে বাড়িতে তানহা কে নামিয়ে দিয়ে দোকানে গেলো। রাতে যখন মামুন বাড়ি ফিরে আসলো তখন দেখলো আরো দুজন তাদের বাড়িতে এসেছে……..?

চলবে কি?

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না!🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here