গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
শেষ পর্ব
মামুনের সারাটা দিন শো-রুমে খুব ব্যস্ততা গেছে। অন্য দিনের তুলনায় আজকে একটু বেশি বিক্রি হয়েছে। দোকান বন্ধ করে মামুন বাড়ি গেলো। বাড়ির ভিতরে ঢুকে মামুন অবাহ হয়ে গেলো। কারন বাড়িতে আরো দুজন এসেছে, তারা হলো কেয়া আর মিতু। মামুন ঢুকেই তাদের কে দেখে তাদের কাছে এগিয়ে গেলো।
মামুনঃ আরে কেয়া কি খবর কেমন আছো কখন আসলে? আর মিস মিতু আপনি আসলেন একটা বার জানাবেন না।
কেয়াঃ আমি আর মিতু একসাথে এসেছি। আমরা এসেছি দুপুরের সময়।
মিতুঃ আপনাকে জানালে বুঝি আপনি বিমান পাঠাতেন নিয়ে আসার জন্য।
মামুনঃ বিমান না পাঠাই তবে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে তো আনতে পারতাম।
মিতুঃ আপনাকে আর কষ্ট করা লাগবে না। আপনার সব কষ্ট জ্বালা দূর করার জন্য এতদূর থেকে এসেছি বুঝেছেন।
মামুনের বাবাঃ মামুন যা হাত মুখ ধুয়ে আয় এতক্ষণ তোর অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। এখনও কেউ রাতের খাবার খায়নি। আর শোন কালকে তোর আসতেছে, সকালে উঠে বাজার থেকে মাছ মাংসা শাক সবজি সব নিয়ে আসবি।
মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে যাবো, আর মা সবাই কে খেতে দাও আমি বাইক ঢুকিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আসতেছি।
মামুন বাইক ঘরের ভিতরে রেখে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেতে সবার সাথে বসলো। সবাই খুব হাসি মুখে খাবার খাচ্ছে। কিন্তু আজ কেনো জানি মামুনের বাবা মা ভাইয়ের মুখে অন্য রকম আনন্দ। এটার কারন টা ঠিক মামুন বুঝতে পারলো না। যাইহোক সবাই রাতের খাওয়া শেষ করে যে যার ঘরে গেলো।
পরেরদিন মামুন তার বাবার কথা মত মাছ মাংস শাক সবজি সব কিছু নিয়ে আসলো। সবাই সকালের নাস্তা সেরে নিলো। মিতুর জোড়াজুড়িতে মামুন আজ শো-রুমে গেলো না। মিতু কেয়া মামুন কে ডেকে নিয়ে তানহার ঘরে আসলো।
মামুনঃ হঠাৎ এখানে কেনো নিয়ে আসলেন আমাকে?
মিতুঃ আপনি কেনো তানহা ম্যাম কে মেনে নিতেছেন না?
মামুনঃ আপনি কি সব ভুলে গেছেন নাকি? আমার সাথে সে কি কি করেছে? দেখেন তার মত অহংকারী মেয়ে কে আমি মেনে নিতে পারবো না।
কেয়াঃ ভাইয়া আপনি কাকে অহংকারী মেয়ে বলতেছেন? যে কি না কোন স্বার্থ ছাড়া এতদিন আপনাকে ভালোবেসেছিলো?
মামুনঃ হ্যা স্বার্থ ছাড়া ভালোবেসেছিলো সেটা ভার্সিটিতে থাকা অবস্থায়।
কেয়াঃ ভাইয়া আপনি সব ভুল জানেন আপনি জানেন না তানহা আপনাকে পাবার জন্য কি কি করেছে।
মামুনঃ দেখো মিতু তার হয়ে আর সাফাই গাইতে হবে না। আপনারা শহরের মানুষ গ্রামে এসেছেন, গ্রাম ঘুরেন দেখেন যতদিন মন চায় থাকেন। কিন্তু দয়া করে আমাকে আর তার কথা বলবেন না।
তানহাঃ মামুন দয়া করে অন্তত একটা বার শেষ বারের মত আমার কথা শুনো। তোমার পায়ের ধরি প্লিজ না করো না( কেঁদে দিছে)
মিতুঃ হ্যাঁ মামুন সাহেব আপনার শোনা উচিত। দয়া করে আপনিও তানহা ম্যামের মত না শুনে ভুল কাজটা করবেন না। ম্যামের কথা শোনার পর যদি মনে হয়, ম্যাম আপনার উপযুক্ত নয় তখন আপনি না করে দিলেও সমস্যা নাই।
মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে বলেন দেখি কি বলবেন সব শুনবো আজ।
মামুন একটা চেয়ার টেনে সেখানে বসলো, মামুনের পাশে কেয়া আর মিতু বসলো। তানহা দাঁড়িয়ে থেকে মামুন কে শুরু থেকে বলতে লাগলো। তানহা সেদিন মামুনের জন্য সেই জায়গায় অপেক্ষা করতেছিলো মামুন কখন আসে৷ কিন্তু মামুন সেখানে সময় মত আসে না তাই তানহা তখন মামুন কে ফোন করে। এক পর্যায়ে মামুনের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তানহা সেখানে না একটা বেঞ্চের উপর বসে পরে আর চিন্তা করে তার ভাই আবার মামুনের কোন ক্ষতি করলো নাকি। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকাল, বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা মামুনের আসার নাম গন্ধ নেই। সন্ধ্যার পর অনেক কষ্টে কেয়া তানহার কাছে আসে।
কেয়াঃ কি রে তানহা তুই এখনও যে এখানে আছিস। মামুন কৈ মামুন কি আসে নাই নাকি? আর আমাকে হঠাৎ ফোন দিলি যে?
তানহাঃ নারে কেয়া মামুন আসে নাই, ওর ফোনও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি খুব টেনশনে আছি রে ভাইয়া আবার জেনে নাই তো? তুই একটু খোঁজ করে দেখ তো মামুন কৈ আছে?
কেয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে সেটা না হয় বুঝলাম তুই বরং আমার সাথে বাসায় চল। তারপর দেখতেছি মামুন কৈ আছে।
তানহাঃ না রে যেতে পারবো না আমি, তোর সাথে যাই যদি মামুন চলে আসে তখন কি করবো আমি? তুই বরং যা আমি এখানে আছি।
কেয়াঃ এখানে থাকবি মানে, রাতে তুই এখানে থাকবি তুই কি পাগল হয়ে গেছিস৷ দেখ রাতটা আমার বাসায় কাটিয়ে সকালে আবার আসিস। একটা মেয়ে এখানে এভাবে থাকা তোর উচিত হবে না।
তানহাঃ আমাকে নিয়ে তোর টেনশন করতে হবে না। আমি সব সামলে নিতে পারবো, আমার চিন্তা বাদ দিয়ে তুই বরং মামুন কে খুঁজে আনার চেষ্টা কর প্লিজ।
কেয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাচ্ছি নিজের দিকে খেয়াল রাখিস। আর কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাস তুই। আমি দেখি মামুনের কোন খোঁজ পাই কি না।
কেয়া বাসা গিয়ে মামুনের বন্ধু সৌরভ আর মাধব কে ফোন করে। তারাও বলে দেয় মামুনের সাথে আজকে তাদের দেখা হয়নি। কেয়া পরে যায় টেনশনে, একদিকে মামুন কোথায় আছে কেউ জানে না অন্য দিকে তানহা একা একা একটা জায়গায় আছে। ঠিক এমন সময় তানহার ভাই কেয়াদের বাসায় আসে।
তানহার ভাইঃ কেয়া তানহা কোথায় তুমি কি সেটা জানো?
কেয়াঃ সকাল থেকে তানহার কোন খোঁজ খবর পাচ্ছি না আমি। কেনো ভাইয়া তানহা কোথায় গেছে?
তানহার ভাইঃ আমাকে মিথ্যা বলে লাভ নেই কেয়া তুমি ভালো করেই জানো তানহা কোথায় আছে। তোমার মোবাইল টা আমাকে দাও তো আগে( মোবাইল টা ঘেটে দেখলো) যদি ঐ ছেলে কে একবার পাই তো ওর খবর আছে। আর তোমার মোবাইল টা আমি নিয়ে গেলাম।
তানহার ভাই কেয়ার মোবাইল টা নিয়ে গেলো। ভাগ্য ভালো ছোট মোবাইল টা কেয়া হাতে রাখে নাই। তাহলে এতক্ষণে ধরা পরে যেতো সে। কোন রকম রাত টা পার করে কেয়া ভার্সিটিতে গেলো। সেখানে মামুনের রুমমেট কে জিজ্ঞেস করলে বলে মামুন ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নাকি বের হয়ে গেছে। এর বাহিরে আর কেউ কিছু বলতে পারে না। তারপরও কেয়া একের পর এক সবাইকে জিজ্ঞেস করে কেউ কোন বলতে পারে না। কেয়া ভার্সিটি থেকে সোজা তানহার কাছে চলে আসে।
তানহাঃ কি রে কোন খবর পেলি মামুনের?
কেয়াঃ না রে তানহা মামুন ভাইয়ের কোন খবর পেলাম না আমি। এমন কি তোর ভাই আমার বাসায় এসেছিলো। তার কাছ থেকে শুনলাম তিনিও নাকি মামুন কে দেখতে পায় নি। ভার্সিটিতে গেলাম কেউ কোন খবর দিতে পারলো না। মামুন ভাইয়ের রুমমেট কে জিজ্ঞেস করেছি সে বলল মামুন ভাই নাকি ব্যাগ পত্র গুছিয়ে কালকেই বের হয়েছে।
তানহাঃ আমার মন বলতেছে মামুন ভাইয়া আর তার লোকের ভয়ে কোথাও লুকিয়ে আছে। তুই প্লিজ একটু ভালো করে খবর নিস?
কেয়াঃ আচ্ছা এবার তাহলে চল আমার সাথে এভাবে আর থাকিস না।
তানহাঃ না রে যাবো না আমি, মামুন যে কোন সময় চলে আসতে পারে। তুই বরং যা সাবধানে থাকিস, আর খোঁজ খবর জানাস।
কেয়া বাসায় চলে আসে তানহা সেখানেই থাকে। খোঁজ করতে করতে এক সময় তানহার ভাই আর তার লোক তানহার কাছে আসে। কিন্তু তানহা বোরকা পড়া থাকায় চিনতে পারে না। এমন কি কেয়ার বাসার সামনে এখন তানহার ভাইয়ের লোক থাকে। কেয়া কোথায় যায় কি করে সব সময় ফলো করে। এদিকে তানহার মোবাইল চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায়। আরো তিনদিন কেয়া তানহার সাথে দেখা করতে পারে না। পরে কেয়া কোন রকম বোরকা পরে বাসার পিছনের দর্জা দিয়ে বের হয়ে তানহার কাছে আসে। তারপর মামুন বিষয়ে কথা বলে কেয়া চুপসারে চলে যায়। সাতদিনের দিন যখন কেয়া তানহার সাথে দেখা করতে আসবে সেই সময় কেযা তানহার ভাইয়ের কাছে ধরা পরে। তখন কেয়া তানহার ভাইকে নিয়ে এসে দেখে। তানহা যে বেঞ্চে ছিলো সেখানে চারদিক দিয়ে মানুষ তাকে ঘিরে ধরেছে কারন তানহা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। কারন টা হলো সাতটা দিন সাতটা রাত ঘুম নেই ঠিকমত খাওয়া নেই তার কারনে। এরপর তানহাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সুস্থ হলে তানহা আর কেয়া তানহার বড় বোনের কাছে পড়াশোনা করার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামুনঃ সেটা তো আগে ঘটনা গেলো, এরপর যা যা আমার সাথে করেছে সেসব কিছু?
মিতুঃ সব কিছু এবার আমি বলতেছি মামুন সাহেব?
তানহাঃ আমিও বলি আপনিও বাকি গুলো বলে দিয়েন?
যখন মিতু কে হাসতে হাসতে তানহা যেতে দেখে তখন তানহা মনে করে নিশ্চয়ই মামুন মিতু কে হ্যাঁ বলেছে। তানহার রাগ বেড়ে যায়, কারন অনেক বছর পর মামুন কে সে পেয়েছে। তাই তো সে মামুন কে প্রথমে তার ভালোবাসা প্রকাশ করে নাই। তানহা দেখতে চেয়েছিলো এতদিনে কি মামুন তাকে ভুলে গেছে নাকি মনে রেখেছে। কিন্তু যখন আবার মামুন কে তানহা আপন করে নিবে ঠিক তখনই মিতুর আগমন। তাই তানহা মামুন কে মেরেছে বিয়ে করতে চেয়েছে সাথে রেখে অপমান করেছে। যাতে মামুন রাগে ক্ষোভে জোড় করে হলেও তানহা কে আপন করে নেয়। কিন্তু মামুন এসবের কিছুই করে নাই। আর মেয়ে হয়ে তো তানহা একা একা সব করতে পারে না।
মামুনঃ আমার গায়ে যে হাত তোলা হলো, হলুদের আগের দিন? তারপর যখন আমি তোমাদের বাঁচাতে গিয়ে জখম হলাম?
তানহাঃ সেদিন ইচ্ছে করে গায়ে হাত তুলেছে। যাতে করে তুমি নিজেই আপন করে নাও৷ কিন্তু না সেটা তুমি করলে না। যখন জখম হয়েছো তখন আমার কলিজা ছিড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিলো। কিন্তু কি করবো তখন তো সবাই ছিলো কাউকে বলতেও পারি নাই যে তোমাকেই আমি ভালোবাসি। তখন যদি আবারো আমার ভাই মারতে চায়।
মামুনঃ সেটা না হয় বুঝলাম কৈ আমাকে তো কেউ দেখতে গেলো? কেমন আছি কেমন নাই কোন তো খোঁজ খবর নিলে না?
তানহাঃ বাসা গিয়ে সবাইকে যখন সব জানাতে যাবো ঠিক তখনই মাসুম আর তার বাবা মা আসে। এসে তারা বলে এই বিয়ে হবে না। তখন কি যে খুশি হয়েছিলাম বলে বুঝাতে পারবো না তোমাকে?
মামুনঃ হঠাৎ কেনো মাসুম বিয়ে করতে চাইলেও না সেটা শুনি?
তানহাঃ কারন মাসুম অন্য এক জন কে ভালোবাসে। আমার মত ভয়ে সেও তার পরিবার কে বলতে পারে নাই। নিজেই তো দেখেছো মাসুম যখন আমার সাথে থাকতো কতটা দুরত্ব বজায় রাখতো আর প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতো না।
মামুনঃ এতই যখন ভালোবাসো তাহলে তখন কেনো বলতে পারলে না? বুঝলাম মাসুম বিয়ে ভেঙে দিছে তারপরও কি আমার সাথে দেখা করা যেতো না?
তানহাঃ বিয়ে ভাঙ্গার পর সবাই ভিশন চিন্তায় পরে যায়। তখন আমি তোমার আমার সম্পর্কের কথা বলি। প্রথমে কেউ রাজি ছিলো না, আমিও জেদ করে খাওয়া বন্ধ করি। রুম থেকে বের হই না তারপর তারা রাজি হয়। রাজি হওয়ার পর তোমাকে দেখার জন্য যাই কিন্তু ডাক্তার বলে মিতু তোমাকে নিয়ে গেছে। তখন মিতুর ঠিকানা বের করে খোঁজ করতে থাকি কিন্তু মিতুকেও পাই না। মিতুও চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। তখন আমি পুরাপুরি পাগলের মত হয়ে যাই, দিন নাই রাত নাই যে খুঁজি না। এমন কি তুমি তো নিজেই তোমার সব ডকুমেন্ট নিয়ে নিছো।
মামুনঃ তাহলে এতদিন পর কেমন করে পেলে শুনি?
তানহাঃ হঠাৎ করে কোন এক সময় মিতুর দেখা পাই। তখন মিতু কে আমি তোমার কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু মিতুও বলে সেও জানে না, পরে মিতু তোমার তার সম্পর্কের কথা বলে। তখন আমার খুব সন্দেহ হয় নিশ্চয়ই মিতু জানে।
মিতুঃ তানহা ম্যাম আমার পায়ে ধরে তখন বলতে বাধ্য হই আমি আপনার ঠিকানা বলার জন্য। কি আর বলবো ম্যাম কে দেখলে আপনি তখন নিজেই কাঁন্না করে দিতেন। চেহারার কি বেহাল অবস্থা চোখ মুখ কালো হয়ে গেছিলো। অনেক অনুরোধ করে ম্যাম আমাকে পরে সব জানায় কেনো আপনার সাথে এসব করেছে। তারপর ম্যাম কে বলি আগে নিজে ঠিক হন স্বাভাবিক হন তারপর যাবেন। কারন আপনি তো অত সহজে মেনে নাও নিতে পারেন৷ আবার ম্যাম কে ভুল বুঝতে পারেন?
তানহাঃ তারপর তো তোমার কাছে আসলাম তুমি তো মানবে না বুঝে গেছি তাই ফোন করে মিতু আর কেয়া কে ডেকেছি। এখন যদি মনে হয় আমাকে গ্রহণ করা তোমার সম্ভব নয় তাহলে আমি চলে যাচ্ছি( কেঁদে)
কেয়াঃ ভাইয়া আপনি তানহা কে ভালো করেই জানেন? আপনি যে ভাবে হারিয়ে গেলেন তানহা তো মরে যাবার মত অবস্থা। বিদেশে থাকা অবস্থায় এমন কোন দিন নাই মুহূর্ত নাই আপনার কথা বলতো না। আপনাকে পাগলের মত ভালোবাসে তানহা। দেখেন না এত বছর যোগাযোগ না থাকা স্বত্বেও আপনার প্রতি কেমন বিশ্বাস ছিলো আপনাকে পাবে?
মিতুঃ মামুন সাহেব হয়তো কয়েকমাস আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে ম্যাম। কিন্তু একটা বার খেয়াল করে দেখেন মনে করে দেখেন কি কি করেছে আপনার জন্য। আপনাকে অন্য কারো হতে দিবে না বলে ম্যাম আপনাকে সাথে সাথে রাখতো কাজের চাপ দিতো যাতে অন্য নারীতে না আটকান।
কেয়াঃ ভাইয়া একটা বার ভাবে সাতটা দিন সাতটা রাত আপনার জন্য যে অপেক্ষা করতে পারে এক জায়গায় সে নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নিতে পারে না। সে নিশ্চয়ই আপনার সাথে বেঈমানী করতে পারে না।
মিতুঃ মামুন সাহেব আপনাকে যদি সত্যি ভালো না বাসতো তাহলে কি এত পাগলামি করে আপনার ঠিকানা নিয়ে আপনার কাছে আসে। অফিসের এমন কেউ নেই যাকে তিনি জিজ্ঞেস করেন নাই আপনার কথা।
তানহাঃ সেদিন যদি আমাকে জানাতে তোমার বাবা মা অ্যাকসিডেন্ট করেছে। আমি কি তোমাকে ছেড়ে দিতাম। তখন কি আমার ভালোবাসা মিথ্যা ছিলো তোমার কাছে। একটা বার বললে কি হতো, না নাও সাথে কিন্তু দেশে থেকে তোমাকে তো সব সময় কাছে পেতাম। তোমার সব জেনে শুনে বুঝে তো তোমাকে ভালোবেসেছি। কি করে ভাবলে তোমার বিপদে তোমাকে ছেড়ে যাবো চাপ দিবো? আমাকে এই চিনে ছিলে এই ভালোবেসেছিলে? তুমি ছেলে হয়ে যা করো নাই আমি মেয়ে হয়ে তোমাকে পাবার জন্য সব করেছি( কেঁদে)
তানহা এখনও কাঁন্না করতেছে। মামুন তো নীরবে কেঁদেই যাচ্ছে সে তো সত্যি তানহার সাথে অন্যায় করেছে চাইলে তো জানাতে পারতো সব কিছু। জানালে কি তানহা পর হতো বরং সেই সময় মামুন কে আপন করে পেতো। এমন সময় মামুনের বাবা মা ঘরে ঢুকলো
মামুনের বাবাঃ আমাদের কে এরা এসেই সব বলেছে। আর তানহা কে আমাদের পছন্দ হয়েছে। সুতরাং তোর আর মতামত চাই না আমি।
মামুনের মাঃ আমাদের জন্য নিজের সবচেয়ে বড় সুখ তুই বিসর্জন দিয়েছিলি। আর আজ আমরা বলতেছি তানহা কে আমরা আমাদের ঘরের বউ বানাতে চাই।
মামুনের বাবাঃ কেয়া মিতু মামুনের মা এখন সবাই ঘর থেকে বের হও ওদের টা ওরা এখন বুঝুক।
সবাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। এখনও তানহা আর মামুন কাঁন্না করতেছে। কারো মুখে কোন কথা নাই, হারানোর ব্যথা টা সবাই বুঝে না। হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়ার সুখ সবাই উপলব্ধি করতে পারে না। মামুন চেয়ার থেকে উঠে তানহা কে জরিয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। তানহাও মামুন কে জরিয়ে ধরে কাঁদে। এই কাঁন্না টা আনন্দের কাঁন্না নিজের ভালোবাসার মানুষ কে আপন করে পাওয়ার কাঁন্না। তানহা মামুন দুজন দুজনের চোখের জল মুছে দেয়। মামুন তানহার গালে মুখে ঠোঁটে চুমু দেয়। পাল্টা তানহাও চুমু দেয় মামুনের সারা মুখে।
মামুনঃ আমাকে ক্ষমা করে দাও তানহা আমি আসলেই বুঝতে পারি নাই। তখনও তোমাকে ভালোবেসেছি হারিয়ে যাওয়ার পরও তোমাকে ভালোবেসেছি। এখনও তোমাকে ঠিক আগের মতই ভালোবাসি( জরিয়ে ধরে)
তানহাঃ আমিও যে নিজের জীবনের থেকেও বেশি তোমাকে চাই। তোমাকে আপন করে নিজের কাছে রাখতে চাই আমি। তোমাকে কেমন করে দেখাই কতটা রক্তক্ষরণ হয়েছে আমার বুকের ভিতরে। পারবো না আমি তোমাকে ছাড়া একা বেঁচে থাকতে।
মামুনঃ আমিও পারবো না একা বেঁচে থাকতে। তুমি যে আমার ভালোবাসার সুখ পাখি৷ তোমাকে ছাড়া কি করে একা থাকবো আমি। তুমিই আমার সব তোমাকে যে আমার খুব প্রয়োজন আমার অগোছালো জীবনে তোমাকে যে আমি।
তানহাঃ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমারি থাকবো আমি মামুন। মৃত্যু ছাড়া আর দুনিয়ার কোন কিছু তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না।
তারপর কি মামুনের বাবা খবর দিয়ে তানহার পরিবার কে গ্রামে আসতে বলে। অনেক ধুমধামে তাদের দুজনের বিয়ে হয়। সকলেই তাদের আনন্দ দেখে খুব খুশি হয়। অবশেষে #বস_আমার_এক্স থেকে ঘরের বউ হয়ে যায় তানহা। তারপর আর কি চান পাঠক পাঠিকা। বাকি গুলো নিজের মন মত সাজিয়ে নেন সুখটা উপলব্ধি করুন। সত্যিকারে কাউকে ভালোবেসে থাকলে তার সাথে সব শেয়ার করুন। দুজন দুজনের কথা শুনুন দুজন দুজন কে মনে প্রাণে ভালোবাসুন। একজন আর একজন কে সম্মান করুন। ভালোবাসায় রাগ অভিমান অভিযোগ বিরহ থাকবেই তাই বলে কখনও কারো হাতটা ছেড়ে দিতে নেই। হয়তো অপর প্রান্তের মানুষ টা আপনার একটা কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করে। আপনাকে আপন করে পাবার জন্য কাঁন্না করে। সুতরাং শয়তানি বাদ দেন শয়তান কে দূরে ঠেলে দিয়ে নিজের মন কি বলে সেটা শুনন? আজকের মত আল্লাহ হাফেজ, সবাই ভালো থাকেন সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য ভালোবাসা সব সময়, ইনশাআল্লাহ নতুন গল্প আসতেছে আপনাদের জন্য।
সমাপ্তি🙈❤️🙈
সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না!🙏🙏🙏