বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ০৮

0
82

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ০৮

মামুন দোকান থেকে ফিরে এসে দেখে তানহা ঘাসের উপর বসে কাঁন্না করতেছে। মামুন তো অবাক হয়ে গেলো হঠাৎ তানহা কেনো কাঁন্না করতেছে মামুন তো সময়ের মধ্যে এসে গেছে তাহলে ওর আবার কি হলো। মামুন আর দাঁড়িয়ে না থেকে তানহার কাছে এগিয়ে গেলো

মামুনঃ কি ব্যপার তানহা তুমি হঠাৎ করে কাঁন্না করতেছো কেনো?

তানহাঃ আসলে আসলে আসলে

মামুনঃ আরে বাবা আসলে আসলে কি? সমস্যা কি সেটা তো বলবে নাকি।

তানহাঃ ওই ছেলে গুলো আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। অনেক বাজে বাজে ইঙ্গিত করেছে খারাপ কথা বলেছে( তানহা মাথা তুলে দেখে মামুন নেই)

তানহা যখন বলেছি ওই ছেলে গুলো তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। ঠিক তখনই মামুন গিয়ে ছেলে গুলো কে মারা শুরু করে দিয়েছি। মামুনের বন্ধু গুলো যখন দেখলো মামুনের সাথে মারামারি লেগেছে তখন তারাও গিয়ে শুরু করলো মারা। মার খেতে খেতে ছেলে গুলো পালিয়ে গেলো। তানহা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো মামুনের দিকে। মামুনের বন্ধু গুলো মামুন কে জিজ্ঞেস করতেছে

সৌরভঃ মামুন ওরা কি করেছিলো তোর সাথে রে।

মামুনঃ আর বলিস না তানহার সাথে ওরা নাকি খারাপ ব্যবহার করেছে।

মাধবঃ দোস্ত আগে বললি না কেনো সালাদের কে আরো মারতাম। কত বড় সাহস আমাদের ডিপার্টমেন্টের মেয়েদের সাথে এমন কাজ করে।

সৌরভঃ আচ্ছা এবার চল তানহার কাছে যাই।

তারা সবাই আবারো তানহার কাছে চলে আসলো। এবার আর তানহার চোখে পানি নাই, মুখে হাসি আছে তার। এবার তানহার বন্ধু বান্ধবী গুলোও আসলো তানহার কাছে।

মাধবঃ এর পর যদি এরকম কোন কিছু করার চেষ্টা করে সাথে সাথে আমাদের কে জানিয়ে দিবে।

তানহাঃ আচ্ছা দাদা বলে দিবো।

সৌরভঃ ওরা আসলে এরকম একা কোন মেয়ে দেখলে টিচ করতে ছাড়ে না। ওদের ব্যপার টা প্রশাসনিক বিভাগ কে জানাতে হবে। এভাবে ক্যাম্পাসে তারা এরকম কাজ করে এগুলো মেনে নেওয়ার মত না।

কেয়াঃ কি রে তানহা কি হয়েছে কিছুই তো বুঝলাম না( তানহার বেষ্টু)

তানহাঃ আসলে কিছু ছেলে যাদের কে আমি চিনি না তারা আমাকে একা পেয়ে কত বাজে কথা আর বাজে ইঙ্গিত করতেছিলো।

কেয়াঃ এক্ষুনি তোর ভাই কে ফোন করে সব জানিয়ে দে। এরপর বুঝবে কার সাথে তারা খারাপ ব্যবহার করেছে।

মামুনঃ বুঝলাম না তানহার ভাই মানে।

কেয়াঃ ভাইয়া তানহার ভাই তো বড় মাপের নেতা আর বড় বিজনেস ম্যান। ওনার অনেক ক্ষমতা আছে, নিমিষেই ওই ছেলে গুলো কে শেষ করতে তার সময় লাগবে না।

মামুনঃ কিন্তু আমি তো জানতাম তানহা ঠিক আমার মতই মদ্য বিত্ত পরিবারের মেয়ে।

কেয়াঃ আপনি ভুল জানেন ভাইয়া। আমাদের মত তানহাও বড় ঘরের সন্তান। কিন্তু তানহার মাঝে কোন অহংকার নেই। তানহা পড়াশোনায় একটু পায় বলেই এই ভার্সিটিতে দিছে। না হলে ইংল্যান্ড কানাডায় পড়াশোনা করতো। তানহার আপুও তো কানাডায় পড়াশোনা করে।

তানহাঃ চুপ করবি তুই শুধু বলেই যাচ্ছিস। ভাইয়া কাউকে কোন বলতে হবে না। আপনারা যে মার মেরেছেন এরপর আর তারা কোন বলবে না। আর কেয়া ভাইয়া বা আব্বু কে জানাবি না, তাহলে কিন্তু আপুর কাছে পাঠয়ে দিবে। আমি দেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না।

কেয়াঃ ঠিক আছে কাউকে কোন বলবো না। তুই কি এখন যাবি নাকি আরো কিছুক্ষণ থাকবি।

তানহাঃ মামুন ভাইয়ার সাথে একটু কাজ আছে আমার তুই যা আমি পরে যাবো।

সৌরভঃ আচ্ছা দোস্ত তোরা থাক আমরা তাহলে যাই।

তানহার বন্ধু বান্ধবী এবং মামুনের বন্ধু গুলো চলে গেলো। সেখানে শুধু তানহা আর মামুন থাকলো। মামুন এবার নিজেই ঘাসে বসে পড়লো তার পাশে তানহাও বসলো।

মামুনঃ কি যেনো বলবে বলেছিলে এখন বলো।

তানহাঃ আসলে সামনে তো পরীক্ষা আছে আর কেয়ার মুখে তো শুনলেন আমি একটু কম পারি। তাই বলছিলাম কি আমাকে যদি একটু পড়াতেন তাহলে খুব ভালো হতো।

মামুনঃ আমি নিজেই তো টিউশন পরি তোমাকে কি পড়াবো বলো তো।

তানহাঃ আপনি কি এই এক দেড় বছরের মধ্যে সব ভুলে গেছেন নাকি। তাছাড়া সৌরভ ভাই আর মাধব দাদার কাছে শুনেছি আপনি পড়াশোনায় খুব ভালো।

মামুনঃ আমার কাছে না পরে তো কারো কাছে টিউশন পড়তে পারো।

তানহাঃ পরি তো কিন্তু তার কাছ থেকে কিছুই বুঝতে আর শিখতে পারি নাই। এমনিতেই সেই স্যার আবার মাসে ১০ দিন পড়ায়। আপনাকে তো প্রতিদিন ভার্সিটিতে পাই যদি প্রতিদিন একটু একটু সময় দিয়ে পড়াতেন ভালো হতো আমার জন্য।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে প্রতিদিন ক্লাস শেষ করার পর এখানেই অপেক্ষা করিও।

তানহাঃ ভাইয়া অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

কেউ আবার বলিয়েন না প্রেমিকা প্রেমিক কে কেনো ভাইয়া বলে অন্য কিছু তো বলতে পারতো। আমি বলবো সিনিয়র ভাই বোন কে ভাই আপু বলেই জুনিয়রা ডাকে আর আপনি করেই বলে ক্লিয়ার।
মামুন উঠে চলে গেলো, তানহাও তার বাসার দিকে চলে গেলো। এভাবে প্রতিদিন মামুন তানহা কে সময় দিয়ে পড়ায়। দিন দিন তানহাও ভালো পড়াশোনা পারে। এতে করে মামুন আর তানহার সম্পর্ক টা খুব গভীর হতে লাগলো। বলা চলে দুজনে কাছাকাছি থাকতে থাকতে দুজনের প্রেমে পড়ে গেছে কেউ কাউকে বলতে পারতেছে না। দয়া করে আপনারা জানিয়ে দেন😁। একদিন মামুন খুব টাকার সংকটে পরে গেলো

মামুনঃ বাবা এ মাসে তো টাকা পাঠালে না আরো কি দেরি হবে নাকি?

মামুনের বাবাঃ মামুন এ মাসে মনে হয় টাকা দিতে পারবো না। জমির ফসলও তুলতে পারি নাই, তোর ভাই বোনের পিছনে জমানো টাকা গুলো ঢেলেছি। আর জমি বন্দক রাখবো সেই লোকের কাছেও নাকি টাকা নাই।

মামুনঃ বাবা এভাবে আর কত জমি বন্দক রাখবে। এই জন্য বলেছিলাম শহরে না পরি। তোমার সাথে কৃষি কাজে সাহায্য করি আর ভাই বোন গুলো কে পড়াশোনা করাই।

মামুনের বাবাঃ স্বপ্ন তোকে নিয়ে দেখেছি আমি জমি আজ নাই কালকে ঠিকই আমার হবে। তোকে দিয়ে কৃষি করার ইচ্ছে থাকলে পড়াশোনা করাতাম না।

মামুনঃ কৃষি না করাও বাজারে বড় দোকান দিয়ে না হয় কোন কিছুর শো-রুম দিতাম।

মামুনের বাবাঃ আগে পড়াশোনা শেষ কর তারপর যা মন চায় করিস। পরের মাসে একেবারে দু মাসের টাকা দিয়ে দিবো। বুঝিস তো বয়স হচ্ছে একা একা সব কাজ করাও কঠিন তাই সমস্যা হয়। তোকেও যেমন শিক্ষিত করতেছি তোর ভাই বোন গুলোকেও শিক্ষিত করবো তুই শুধু পাশে থাকিস।

মামুনঃ ঠিক আছে বাবা। শরীরের যত্ন নিও আর সবার দিকে খেয়াল রাখিও বাবা। আমি আমার চেষ্টা মত পড়াশোনা করে যাবো। শিক্ষিত হয়ে তোমার স্বপ্ন পূরণ করবো আমি।

মামুনের বাবাঃ তোর কথা শুনে মনটা ভরে গেলো বাবা। খাওয়া ঠিক মত করিস শরীরের যত্ন নিস আর পড়াশোনা ভালো করে করিস।

মামুনঃ ঠিক আছে বাবা আজকে তাহলে রাখি পরে আবার কথা হবে। মাকে আবার এসব জানিও না মন খারাপ করবে।

মামুন ফোন রেখে দিলো, যেভাবে হোক এই মাস টা তার চলতে হবে। মামুনের এভাবে দিনের পর দিন যেতে লাগলো। তো একদিন মামুন তানহা কে পড়াচ্ছে তো তানহা শুধু মামুনের দিকে তাকিয়ে দেখতেছে। এই বিষয় টা মামুন বার বার লক্ষ্য করতেছে।

মামুনঃ তানহা পড়া না পরে আমার দিকে এভাবে কেনো বার বার দেখতেছো।

তানহাঃ না এমনি তার আগে আপনার সম্পর্কে একটু জানতে চাই।

মামুনঃ আমার সম্পর্কে তো সব জানো আর কি জানতে চাও?

তানহাঃ আপনারা পরিবারে কতজন মানে কে কে আছে আর আপনাদের আয়ের উৎস কি। আর একটা কথা আপনার কি কোন গার্লফ্রেন্ড আছে?

মামুনঃ আমার পরিবারে পাঁচ জন মা বাবা একটা ছোট ভাই আর একটা বোন। সবাই গ্রামে থাকে আর আয়ের উৎস কৃষি আমাদের নিজেদের চাষের জমি আছে অনেক। আমার কোন গার্লফ্রেন্ড থাকলে তো জানতে পারতে।

তানহাঃ আপনাকে অনেকদিন থেকে একটা কথা বলতে চাই কিন্তু বলা হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজকেই বলবো।

মামুনঃ তাহলে বলে ফেলো সমস্যা নেই।

তানহাঃ আপনার সাথে প্রথম যেদিন দেখা হয় কথা হয়। তখন মনে হয়েছিলো খুব খারাপ একজন ছেলে আপনি। পরে যখন সবার কাছে আপনার সম্পর্কে শুনলাম। আপনার সঙ্গে মিশলাম তখন ধারনা পাল্টে গেলো। এরপর আমাকে পড়ানো টুকিটাকি বিষয় খেয়াল রাখা কেউ কিছু বললে আমাকে তার সাথে মারামারি করা। আমাকে সব সময় আগলে রাখা এবং শেষে আপনার সাথে মিশতে মিশতে একটা অন্য রকম অবস্থা হওয়া।( বলেই থামলো)

মামুনঃ অন্য অবস্থা মানে আর থামলে কেনো( ভ্রু কুঁচকে)

তানহাঃ এতদিন মিশতে মিশতে আপনাকে আমার পছন্দ হয়ে গেছে এমন কি আপনাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি আমি। সত্যি বলছি আপনাকে আমি ভিশন ভালোবাসি এটাও জানি আপনিও আমাকে ভালোবাসেন। সাথে এটাও জানি আপনি কখনও নিজের মুখে বলবেন না।

মামুনঃ তোমার সব কথাই ঠিক আছে কিন্তু আমার পক্ষে তোমার সাথে রিলেশনশিপে যাওয়া সম্ভব না।

তানহাঃ কেনো সম্ভব না, আমি কি দেখতে খারাপ নাকি বদমেজাজি অহংকারী।

মামুনঃ তুমি অনেক ভালো একটা মেয়ে কিন্তু আমার পক্ষে সম্ভব না। এরপর আর এই কথা গুলো আমাকে বলিও না। আমি আজকে গেলাম আজ আর পড়াবো না।।

মামুনের মুখে না উত্তর শুনে তানহা সেখানেই কাঁন্না করা শুরু করে দিয়েছে। তানহার বিশ্বাস ছিলো মামুন রাজি হবে কিন্তু হলো তার উল্টো। তানহা বড় আশা করেছিলো মামুন তার প্রস্তাবে রাজি হবে। তানহা যে মামুন কে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। তানহা এতা একা বসে কাঁন্না করতেছে দেখে কেয়া তানহার কাছে এগিয়ে আসলো।

কেয়াঃ আমি আগেই বলেছিলাম মামুন ভাই রাজি হবে না। তোকে আগেই বলেছি মামুন ভাই অন্যদের মত না। এর আগেও কত মেয়ে মামুন ভাই কে পত্র প্রপোজ করেছে তবুও সে রাজি হয়নি।

তানহাঃ আমি সত্যি মামুন কে অনেক ভালোবাসি কেয়া। প্লিজ তুই কিছু একটা কর, মামুন কে যে আমার লাগবেই।

কেয়াঃ তোর সব দিক ঠিক আছে কিন্তু তোর জেদ টা অনেক বেশি।

তানহাঃ তুই কি বুঝিস না মামুন কে কতটা ভালোবাসি আমি। তোকে তো সব আগেই জানিয়েছি, মামুন এত ভালো দেখেই তো তাকে ভালোবাসি পছন্দ করি বার বার তার কাছে আসি।

কেয়াঃ আজকে তো আর কোন করা বা বলা সম্ভব না কালকে দেখি। আজকে প্লিজ আর কাঁন্না করিস না, আর তোর বাসায় জানলে কি হবে ভেবে দেখেছি। আমি কালকে তোর হয়ে মামুন ভাইয়ার সাথে কথা বলবো এখন প্লিজ চল।

কেয়ার কথা মত চোখে জল মুছে তানহা বসা থেকে উঠলো। কেয়া সারা পথ তানহা কে বুঝিয়ে তার বাসা নিয়ে গেছে। এমন কি তানহা অনেক রাত অব্দি কেয়া কে ফোন করে কাঁন্না করেছে। পুরা দিন রাত কোন কিছু মুখে তুলে নাই তানহা। সকাল হতে দেরি তানহা ভার্সিটিতে আসতে দেরি করলো না। অনেক সময় পর কেয়া তার বন্ধু বান্ধবী আসলো। তারপরও পর মামুন ওন বন্ধু সবাই আসলো। তানহা কেয়া কে ধাক্কা দিয়ে ওদের কাছে পাঠিয়ে দিলো।

কেয়াঃ মামুন ভাই আপনার সাথে একটু কথা ছিলো প্লিজ যদি শুনতেন।

মামুনঃ আচ্ছা দ্রুত বলো একটু পরে ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।

কেয়াঃ মামুন ভাই কালকে তো তানহা আপনাকে বলেছে ভালোবাসার কথা। সেই কথাটা আমিও বলতে এসেছি। প্লিজ ভাইয়া আজকে আর না করবেন না।

মামুনঃ কেয়া এটা কোন সিনেমা নয়। একজন কে চাইলাম আর তাকে পেয়ে গেলাম। তানহার পরিবার কত বড় আর আমরা হলাম মদ্র বিত্ত। তাদের সাথে কি আমার যায় তুমি বলো।

কেয়াঃ আপনার কথাটা ঠিক আছে কিন্তু তানহা তো ওরকম মেয়ে না। জানেন ভাইয়া কালকে আপনি না করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সে কাঁন্না করে যাচ্ছে। কালকে থেকে এ পর্যন্ত কোন খাওয়া করে নাই, দেখেন একদিনে চেহারা কি করেছে( মামুন দেখলো)

মামুনঃ আচ্ছা তানহা কে ডেকে নিয়ে আসো আমি বুঝিয়ে বলতেছি( কেয়া তানহা কে আনতে গেলো)

মাধবঃ দোস্ত তানহা কিন্তু সত্যি খুব ভালো মেয়ে তাকে তুই আর না বলিস না।

সৌরভঃ তানহার মত মেয়ে এ যুগে পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার মামুন। তুই বরং রাজি হয়ে যা আজ না হয় কাল তো প্রেম করবি।

মামুনঃ তোরা বুঝতে পারতেছিস না। এই সম্পর্কের শেষ টা কখনও ভালো হবে না রে।( এর মাঝে তানহা চলে আসলো)

কেয়াঃ ভাইয়া আপনারা কথা বলুন দুজনে আমরা সবাই বরং এখন ক্লাসে যাই। আপনাদের বিষয় টা আপনারা ঠিক করে নেন।( সবাই চলে গেলো)

মামুনঃ তানহা আমি না বলেছি বলে তুমি কাঁন্না করবে খাওয়া বন্ধ করবে। এগুলো কেমন পাগলামি শুনি তুমি কি বুঝো না নিজের ভালো।

তানহাঃ এত কথা শুনতে চাই না আগে বলেন আমাকে ভালোবাসেন কি না?(কেঁদে একটু রেগে)

মামুনঃ প্লিজ ঠান্ডা হও এখানে বসো( দুজনে বসলো) দেখো তানহা তুমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছো আর আমি চাষির ঘরে জন্ম নিয়েছি। তুমি বলো এই সম্পর্ক কি কেউ মেনে নিবে?

তানহাঃ কারো মানা লাগবে না আমি মেনে নিলেই হলো।( কেঁদে)

মামুনঃ তুমি আছো আবেগের বসে তানহা। তুমি জীবনেও এমন আলিশান জীবন ছেড়ে আমার মত মদ্র বিত্ত পরিবারে থাকতে পারবে না। তোমার পরিবারের কেউ মেনেও নিবে না।

তানহাঃ আমি আবেগে নেই বাস্তবে সজ্ঞানে আছি। আপনি পাশে থাকলে সব জায়গায় নিজে কে মানিয়ে নিতে পারবো। আর আমি বাসার সব কাজ করতে জানি আমার মা সব কিছু শিখিয়ে দিয়েছে আমাকে। আমি আর আট দশ টা বড়লোক ঘরের মেয়েদের মত নই( কেঁদে)

মামুনঃ তানহা আমি যে তোমাকে পছন্দ করি না তাও কিন্তু ঠিক, আমিও ভালোবাসি তোমাকে। কিন্তু তোমার ভাই বাবা তারা জীবনেও মেনে নিবে না। ধরো এখন যদি সম্পর্কে যাই আমরা আমাদের শেষ টা মধুর হবে না। দুজনের ক্যারিয়ার আছে আমার বাবা মা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। আমার জন্য তারা সব কিছু শেষ করতেছে। আর এমোতো অবস্থায় তোমাকেও পেলাম না পরিবারও শেষ হলো সেটা কি চাও?

তানহাঃ বিশ্বাস করেন আপনাকে ছেড়ে কখনও কোনদিন যাবো। দরকার হলে নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে যাবো। আমার পছন্দ কে আমার বাবা মা ভাই বোন সবাই মেনে নেয়। যদি তারা নাও মানে আপনার হাত ধরে আপনার সাথে চলে যাবো বিশ্বাস করেন! আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণ করুন, আমি কোন চাপ দিবো না। আপনার বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করুন আমি বাঁধা দিবো না। কিন্তু আপনার সাথে সারাজীবন থাকতে চাই এতটুকু( কেঁদে কেঁদে বলে মামুনের পায়ে পড়লো)

মামুনঃ জীবনে অনেক পাগল দেখেছি তোমার মত পাগল দেখি নাই আমি। ঠিক আছে আমি রাজি আমিও তোমাকে ভালোবাসি তানহা। কিন্তু আমার সব রকম পরিস্থিতিতে তোমাকে পাশে চাই সুখে দুঃখে কষ্টে আনন্দে সব সময়। আর আমার ক্যারিয়ার যাতে নষ্ট না হয়, বাবা মায়ের স্বপ্ন যাতে পূরণ করতে পারি।( খুশিতে বসা থেকে উঠে মামুন কে জরিয়ে ধরলো)

তানহাঃ আমি তোমার পাগলি হয়ে থাকতে চাই সারাজীবন। আমি সব সময় সব রকম পরিস্থিতিতে তোমার পাশে থাকবো কথা দিলাম। তোমার ক্যারিয়ার যাতে নষ্ট না হয় তাই করবো আমি। এবং পরিশেষে এত এত ভালোবাসা দিবো তোমার জীবনের ধারনা পাল্টে দিবো আমি। দেখিয়ে দিবো সব বড়লোকের মেয়েরা এক হয় না।( জরিয়ে ধরা অবস্থায় বলল)

মামুন আর তানহার প্রেম জমে ক্ষীর। তানহা সব কিছু দিয়ে মামুন কে সাহায্য করে। মামুনের পড়াশোনার খরচ তানহাই দেয় বলা চলে। তানহা মামুন কে সব সময় আগলে রাখে সব সময়ের জন্য নিজের চোখে চোখে রাখে। কোন মেয়ের আশেপাশে ঘেঁষতে দেয়। মামুনের সাথে থাকতে থাকতে পড়াশোনাটাও তানহার আরো ভালো হতে থাকে। এভাবে তাদের দুটি বছর কেটে যায়, হঠাৎ একদিন যা হলো……..?

চলবে কি?

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না?🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here