বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ০৯

0
78

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ০৯

এভাবে তাদের দুজনের ভার্সিটির জীবন যেতে লাগলো। মামুন আর তানহার প্রেমের কথা কেয়া আর মামুনের বন্ধুরা জানে। তো হঠাৎ একদিন তানহা যেনে যায় মামুন টাকার সংকটে আছে। তাই তানহা নিজের বাসা থেকে টাকা নিয়ে এসে মামুন কে দেয়।

মামুনঃ এভাবে আর কতদিন তুমি আমাকে সাহায্য করবে তানহা!( মন খারাপ করে)

তানহাঃ এটা সাহায্য বলতেছো কেনো? এটা আমার ভালোবাসা। আমি চাই না আমার ভালোবাসার মানুষ টা কষ্টে থাকুক। বিয়ের পর আমাকে না হয় ধীরে ধীরে পরিশোধ করে দিও( জরিয়ে ধরলো)

মামুনঃ তোমাকে নিয়ে আমার ধারনা ভুল ছিলো, কিন্তু বাস্তবে তুমি দেখিয়ে দিলে সব গার্লফ্রেন্ড এক হয় না।

তানহাঃ তুমিও আমাকে এত এত ভালোবাসা দিয়েছো সেখানে তুমিও প্রমাণ করেছো সব ছেলেরা এক হয় না।

মামুনঃ সময় যত যাচ্ছে মনের ভিতরে ততই ভয় বেড়ে যাচ্ছে।

তানহাঃ ভয় কেনো হচ্ছে শুনি?

মামুনঃ যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি যদি তোমাকে না পাই।

তানহাঃ এই আমি তোমার ছাড়া আর কারো হবো না। একমাত্র মৃত্যু আমাদের আলাদা করতে পারে। আমি তো তোমাকে ছাড়া চলতে ভাবতে পারি না মামুন। আমার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে শুধুই তুমি মামুন।

মামুনঃ আমার জীবন জুড়ে তুমিই তানহা। আমিও যে তোমাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি।

তানহাঃ আচ্ছা এক জায়গায় যাবো চলো আমার সাথে।

তানহা মামুনের হাত টেনে ধরে একটা বড় শপিং মলে নিয়ে গেলো। তানহা সব নিজে পছন্দ করে মামুনের জন্য দুটো দুটো করে সব নিলো। মামুন শত না না করার পরও তানহা মামুনের কোন কথাই শুনলো না। কেনাকাটা হলে মামুন কে নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরলো খাওয়া করলো। তারপর মামুন কে ম্যাচের সামনে নামিয়ে দিলো আর ব্যাগ গুলো দিলো।

মামুনঃ এত করে মানা করার পরও কেন তুমি আমার জন্য এত সব নিতে গেলে?

তানহাঃ আমি জানি এখন তোমার হাতের অবস্থা ভালো না। আর তোমার সব শার্ট প্যান্ট পুরাতন হয়ে গেছে।

মামুনঃ তাই বলে টাকাও দিলে এত সব কিছু কিনে দেওয়াও লাগে?

তানহাঃ বিয়ের পর কোন কিছুই তো আর আমি দিতে পারবো না। বিয়ের পর না হয় তুমি আমাকে এমন করে সব কিছু দিও।

মামুনঃ সত্যি তুমি একটা পাগলি( হেসে)

তানহাঃ আমি খালি পাগলি না, তোমার প্রেমের পাগলি তোমার জন্য পাগলি তোমাকে পাবার জন্য পাগলি আমি।😁😁

মামুনঃ হুম জানি তো আমি এই পাগলিটার জন্য হাজার বছর বাঁচতে মন চায়। পাগলিটা যে সব রকম পরিস্থিতিতে আমার পাশে আছে আমার সব দিক খেয়াল রাখতেছে কেয়ার করতেছে।

তানহাঃ বড়লোকের মেয়ে হয়ে কি লাভ। এত টাকা পয়সা থেকে কি লাভ যদি আমার মনের মানুষের কাজেই আসতে না পারি আমি।

মামুনঃ হয়েছে আর বলতে হবে না এবার বাসায় যাও আজ অনেক দেরি করে ফেলেছো তুমি।

তানহাঃ আচ্ছা যাচ্ছি কালকে আবার দেখা হচ্ছে।

তানহা চলে গেলো মামুন তানহার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মামুন ভাবতেও পারে নাই তানহা তাকে এতটা পাগলের মত ভালোবাসবে। মামুন ম্যাচে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বাড়িতে ফোন করে সবার সাথে কথা বলে নিলো। তানহার সাথে মামুনের জীবন টা ভালো ভাবেই পার হতে লাগলো। তাদের ভালোবাসায় কখনও কোনদিন রাগ অভিমান চাহিদা চাওয়া পাওয়া সন্দেহ বিচ্ছেদ ছিলো না। কিন্তু কথায় আছে না শকুনের চোখ পড়তে কতক্ষণ। তেমনি তাদের সম্পর্কের কথা সেদিনের সেই মার খাওয়া ছেলে গুলো জেনে যায়। তো একদিন তানহা মামুনের পছন্দের খাবার বিরিয়ানি নিজ হাতে রান্না করে নিয়ে আসে।

মামুনঃ তুমিও না এত পাগলামি করো না উফ। কোনদিন টাকা দিতেছো শপিং করে দিতেছো রান্না করে নিয়ে আসতেছো। এসব কি প্রতিদিন ভালো লাগে।

তানহাঃ শোন দেহটা শুধু তোমার সেটার ভিতরে থাকা আত্মা টা আমার। সুতরাং আমার মন যা চাইবে তাই করবো তোমার কোন হুকুম চলবে না।

মামুনঃ আরে বাছ বলে কি দেহ আমার আত্মা তার।

তানহাঃ ঠিকই তো বলেছি, মানুষ দুজন কিন্তু আমাদের আত্মা তো এক। এতে কোন সন্দেহ আছে তোমার।

মামুনঃ সন্দেহ থাকবে কেনো আমার পাগলি। তুমি তো আমার সব কিছু তুমি কখনও ভুল বলো নাকি।

তানহাঃ এবার কথা না বলে হা করো নিজ হাতে আজকে খাইয়ে দিবো। এতদিন তো রান্না করে এনেছি নিজে নিজে খেয়েছো।

মামুনঃ এই যে হা করলাম( মামুন বড় করে মুখ মেলে ধরলো)

তানহা নিজ হাতে পরম যত্নে মামুন কে খাইয়ে দিতে লাগলো। মামুনও আনন্দ সহকারে খেতে লাগলো। সব কিছু মামুনের কাছে স্বপ্নের মত লাগে। ভাবতেও পারে না তার জীবনের এত সুন্দর মুহূর্ত আছে। মামুন খাচ্ছে আর তানহা মামুনের খাওয়া দেখতেছে। মনে হচ্ছে বিয়ে করা বউ তার স্বামী কে খাইয়ে দিতেছে। খাওয়া শেষ হলে তানহা তার ওড়না দিয়ে মামুনের মুখ মুছে দিলো। খাওয়া শেষ হবার পর মামুন বলতেছে

মামুনঃ পেঠ ভরে তো খেলাম কিন্তু আজকে আরো একটা জিনিস খেতে মন চাচ্ছে।

তানহাঃ কি জিনিস খেতে চাও বলো।

মামুনঃ আজকে বাড়তি হিসাবে মিষ্টি খেতে চাই।

তানহাঃ ঠিক আছে চলো মিষ্টির দোকানে যাই।

মামুনঃ ওই মিষ্টি সেই মিষ্টি না( নিজের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো)

তানহাঃ ছি কি অসভ্য এসব কিছু বিয়ের পর হবে বিয়ের আগে এসব হবে না।

মামুনঃ আজকেই শুধু আর কখনও চাইবো না প্লিজ প্লিজ তানহা না করো না।

তানহাঃ বললাম না যা হবার বিয়ের পর হবে বিয়ের আগে কিছুই হবে না।

মামুন মন খারাপ করে থাকলো, তানহা সেখান থেকে উঠে চলে গেলো। মামুন মনে মনে ভাবতেছে তানহা কে সে কষ্ট দিয়ে ফেলল। মামুনের খুব খারাপ লাগতেছে এই কথা টা তার না বললেও হতো। হঠাৎ দেখলো কিছুক্ষণ পর তানহা এসে মামুনের হাত ধরে টেনে নিয়ে ফাঁকা একটা রুমে ঢুকে দর্জা লাগিয়ে দিয়ে চার ঠোঁট এক করে নিলো। আচমকা এমন হওয়াতে মামুন অবাক হলো। মামুনও তানহার কিসের রেসপন্স দিতে লাগলো। টাকা ৯ মিনিট দুজন দুজনের ঠোঁটে ঢুবে দিলো।

মামুনঃ যদি জানতাম কিস করলে এত মজা লাগে তাহলে প্রথম যেদিন আমার জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলে সেদিনই চাইতাম কিস।

তানহাঃ আর কখনও পাবে না মিষ্টার এটাই শেষ বাকি সব হবে বিয়ের পরে।

মামুনঃ আমি তো মনে করেছিলাম তুমি রাগ করে চলে গেছো কিন্তু তুমি আবার এসে এটা করবে ভাবতে পারি নাই।

তানহাঃ তোমার জন্য সব করতে পারি আমি। ওই জায়গায় অনেকে ছিলো তাই তো উঠে দেখলাম কোথায় নিয়ে এসে তোমার মিষ্টি খাওয়া ইচ্ছে টা পূরণ করে দিতে পারি আমি।

মামুনঃ আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এরকম মিষ্টি কি প্রতিদিন পাওয়া যায় না।

তানহাঃ না মিষ্টার এটা ট্রেইলার মাত্র বাকি ছবি বিয়ের পরে হবে বুঝলেন।

মামুনঃ হুমম বুঝেছি বর্তমান বাংলা সিনেমা ঈদ ছাড়া হলে মুক্তি পাবে না। বিয়ে ছাড়া এমন মিষ্টি আর জুটবে না( মজা করে মন খারাপ করলো)

তানহাঃ মজা করা বাদ দাও যা বলেছি তাই ঠিক এবার চলো কেউ এসে গেলে সমস্যা হবে আবার।

তানহা নিজের কাপড় ঠিক করে নিয়ে আগে আগে বের হয়ে গেলো। মামুনও পরে বের হয়ে গেলো। তানহা বাসায় চলে গেলো মামুনও ম্যাচে চলে গেলো। মামুন বিছানায় শুয়ে আজকের কথা বার বার ভাবতেছে আর নিজে নিজে হাসতেছে। মামুন নিজেও বুঝতে পারতেছে না আজ সে কি পেলো। মামুনের আনন্দ দেখে কে, ঠিক এই মুহূর্তে মামুনের ফোনে কল আসলো তানহার।

মামুনঃ তুমিও কি আমার মত আজকের ঘটনা ভাবতেছো নাকি মেরি জান।

তানহাঃ চুপ ( কাঁন্না করতেছে খালি)

মামুনঃ কি হয়েছে তানহা এভাবে কাঁন্না করতেছো কেনো তুমি। কি হয়েছে আমাকে বলো প্লিজ এভাবে চুপ করে থেকে কাঁন্না করো না। দয়া করে বলো কি হয়েছে টেনশন হচ্ছে খু্ব এখন আমার।

তানহাঃ বাড়িতে সবাই জেনে গেছে তোমার আমার সম্পর্কের কথা। আমার কাজ করতেছে না কি করবো এখন( কেঁদে)

মামুনঃ কে জানালো তোমার বাসায় আমাদের কথা।

তানহাঃ কে আবার যাদের কে তুমি মেরে ছিলে তারা এসে ভাইয়া কে জানিয়ে দিয়েছে। এখন ভাইয়া আমাকে জোড় করে হলেও অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে আপুর কাছে পাঠিয়ে দিবে। তারপর নাকি তিন ভাইবোনকে আব্বুর সব সম্পত্তি ভাগ করে দিবে ভাইয়া। যে যার মত করে ব্যবসা করবো কিন্তু সব কিছু পরিচালনা করবে আব্বু।( কেঁদে)

মামুনঃ আমি ওই সালাদের কে আজ মেরে ফেলবো।

তানহাঃ তুমিও কোথাও যাবে না। ভাইয়া তোমাকে চিনে তাই ওরা নাকি তোমার ছবি তুলে ভাইয়া কে দিবে। আর ভাইয়া নাকি তোমাকে দেখতে পারলেই তার লোক দিয়ে মেরে ফেলবে।

মামুনঃ তাহলে এখন উপায় কি তানহা আমার মাথায় তো কিছুই আসতেছে না।

তানহাঃ তার আগে বলো তুমি আমাকে চাও কি না? আর আমি যা বলবো তা মানবে কি না?

মামুনঃ তোমাকে আমি চাই তানহা আর তুমি যা বলবে তাই শুনবো আমি। তোমাকে পাওয়ার জন্য সব করতে পারি আমি।

তানহাঃ আমরা কালকেই বিয়ে করবো। আমি একটা ঠিকানা দিতেছি( ঠিকানা দিলো) এই জায়গায় সকাল সকাল চলে আসবে। বিয়ে করার পর আমি তোমার সাথে তোমাদের বাড়ি যাবো নয়তো বা আলাদা কোন জায়গায় চলে যাবো। টাকা পয়সার চিন্তা করতে হবে না তোমাকে সব কিছু আমি নিয়ে যাবো। এতে করে আমাদের দুজনের আরামে সারাজীবন চলে যাবে।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে আমি সময় মত চলে আসবো।

তানহা ফোন কেটে দিয়ে ব্যাগে তার কাপড় ভরতে লাগলো। আলাদা একটা ব্যাগে টাকা আর গহনা ভরতে লাগলো। তানহা চায় না মামুন কোন কষ্ট করুক আর কষ্টের কারনে পরবর্তীতে তারা আলাদা হোক। তানহা রাতেই জানালা খুলে রশি বেঁধে নিচে নেমে পড়লো। তারপর সোজা কেয়ার বাসায় উঠলো আর কেয়া কে সব জানালো। পরেরদিন তানহা ঠিকানা মত চলে এসেছে এখন শুধু মামুনের আশা বাকি। মামুনও তানহার দেওয়া ঠিকানা মত প্রায় এসে গেছে সেই মুহূর্তে তার বাড়ি থেকে ফোন এসেছে।

মামুনঃ বাবা হঠাৎ ফোন করলে যে?

মামুনের বোনঃ ভাইয়া বাবা মা দুজনে অ্যাকসিডেন্ট করেছে। মায়ের অবস্থা বেশি ভালো না, তুই যত দ্রুত সম্ভব চলে আয়। আমরা দু ভাই বোন কিছুই বুঝতে পারতেছি না। মনে হয় মাকে বাঁচানো যাবে না আর বাবার অবস্থাও ভালো না।( কেঁদে)

মামুনঃ ( শহরে আসার আগে তার বাবা যা বলেছিলো সব মনে পড়ে গেলো) আমি এক্ষুনি আসতেছি তোরা দুজন বাবা মায়ের সাথে থাক ডাক্তার কি বলে তা শোন। কোন চিন্তা করিস না কাঁদিস না আসতেছি( কাঁদতে লাগলো)

মামুন আর তানহার কাছে না গিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলো। তানহা অপেক্ষা করতে করতে শেষে ফোন বের করে মামুন কে ফোন দিলো কিন্তু মামুন ফোন রিসিভ করতেছে না। শেষে মামুন ফোন বন্ধ করে রেখে দেয়। আজকে বাবা মা ভাই বোন কে বাঁচাতে নিজের জীবনটাই বিসর্জ্জন দিলো মামুন। পুরা ৭ দিন ৭ রাত তানহা মামুনের আশায় সেই জায়গায় ছিলো যদি মামুন আসে তাকে নিতে। এমন ভাবে ছিলো কেউ চিনতেও পারে নাই এমন কি তার ভাই তার ভাইয়ের লোক গুলোও খুঁজতে বেরিয়েও তার কাছে গিয়েও চিনতে পারে নাই। কারন তানহা বোরকা পড়ে ছিলো দেখতে বয়স্ক মহিলার মত লাগতেছিলো। উপায় না পেয়ে তানহা ওই অবস্থায় মামুনের ম্যাচে যায় খোঁজ নেয়। কেউ তার খোঁজ দিতে পারে না। মামুন এসেই তার ভাই বোনের কাছে যায়

মামুনের ভাইঃ ভাইয়া ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেছে মা বাবা কে। ডাক্তার বলেছে রক্ত লাগবে অনেক আর বার বার টাকার কথা বলতেছে।( কেঁদে)

মামুনঃ তোরা থাক আমি টাকার ব্যবস্থা করতেছি!

মামুন বাড়ি এসে জমির কাগজ পত্র নিয়ে এলাকার যারা জমি বন্দক নেয় আর কেনে তাদের কাছে গিয়ে বাকি সব জমি বন্দক রাখে। টাকা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে টাকা জমা করে। এই এক মাস মামুন খুব দৌড়ের উপরে ছিলো ঠিকমত খেতেও পারে নাই। মামুনের মাথায় একমাসে একবারো তানহার কথা মনে পরে নাই। একমাস বাদ তার বাবা সুস্থ হলেও তার মা অসুস্থ থেকে যায়। বেঁচে থাকলেও মরার মত বেঁচে থাকতে হবে। তবে ডাক্তার বলেছে ভালো চিকিৎসা আর নিয়মিত ঔষুধ খেলে মামুনের মা সুস্থ হবে। আরো একমাস পর মামুনের মা কে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এখন মোটামুটি সুস্থ আছে তবে আপাতো চলতে পারবে না।

মামুনঃ বাবা তাহলে এবার আমি যাই এখন তো সব ঠিক আছে। আর শোন বাবা বাকি সব জমি বন্দক রেখেছি। আমি শহর থেকে প্রতি মাসে টাকা পাঠিয়ে দিবো। আর মাঝে মাঝে এসে তোমাদের কে দেখে যাবো কোন চিন্তা করো না তোমরা।

মামুনের বাবাঃ আমাদের ভাগ্যে এসব ছিলো বাবা তোর পড়াশোনা শেষ না হতেই এখন তোকে ইনকাম করতে হবে। সাবধানে যাস আর সাবধানে থাকিস।

মামুন সবার থেকে বিদায় নিয়ে আবারো শহরে চলে আসে। এতদিন মামুন ফোন চালায় নাই, ফোন তার বন্ধ ছিলো। শহর এসেই মামুনের তানহার কথা মনে পড়ে যায়। এত ব্যবস্থার মাঝে ওর সাথে কথা হয়নি। তাই মামুন ফোন বের করে তানহা কে কল করে কিন্তু তানহার নাম্বার বন্ধ। এবার কেয়া কে ফোন করে কেয়ার নাম্বারও বন্ধ। ভার্সিটি গিয়ে মামুন ওর বন্ধুদের কাছে যায়।

সৌরভঃ আরে মামুন এতদিন কোথায় ছিলি আর তোর ফোন বন্ধ কেনো। এত ফোন করেছি তোকে তোর তো খবরই পেলাম না।

মাধবঃ আসলে কি হয়েছিলো রে তোর। তানহা কেয়া কতবার যে তোর কথা জিজ্ঞেস করেছে তোকে খুঁজেছে। কিন্তু আমরা কেউ তোর কথা জানাতে পারি নাই।

মামুনঃ আসলে বাড়িতে( সব বলল)

সৌরভঃ এত বড় ঝড় গেলো একবার জানাবি না আমাদের কে?

মাধবঃ আমরা কি তোর বন্ধু না আমাদের বললে কি হতো।

মামুনঃ ওই সময় খুব একা ছিলাম মাথা কাজ করে নাই রে। সরি বন্ধু, এবার বলতো তানহা আর কেয়া কোথায়?

মাধবঃ তোন খোঁজ করার পর তানহা আর কেয়া কে আমরাও দেখি নাই।

মামুনঃ কি বলিস তুই বন্ধু তাহলে গেলো কোথায় ফোনও বন্ধ তাদের।

সৌরভঃ শুনেছে ভার্সিটি থেকে টিসি নিয়ে দুজনে নাকি চলে গেছে। পরে এটাও শুনেছি তার তানহা নাকি তার বোনের কাছে গেছে। তানহার আর একটা বান্ধবীর কাছে এসব শুনেছি।

মামুনঃ সব আমার জন্য হয়েছে আমি আমার ভালোবাসা কে নিজ হাতে হত্যা করেছি( পরে সবটা জানালো)

সৌরভঃ বাদ দে বন্ধু এখন আর কিছু করার নেই তুই তোর পরিবারের কথা ভাব। আমরা দুজনে তোর জন্য কয়েকটা টিউশনের ব্যবস্থা করে দিবো। পড়াশোনা শেষ হলে পরিবার চালাস, আমরা পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে চলে যাবো।

তখন থেকে মামুন টিউশন করে পরিবার চালায়। চাইলেও নিজের শখ ইচ্ছে পুরণ করতে পারে না মামুন। এর ফাঁকেও তানহার নাম্বার ঠিকানার জন্য তার সব বান্ধবীর কাছে গেছে কিন্তু কেউ তার ঠিকানা দিতে পারে নাই। এরপর কোনরকম পড়াশোনা শেষ করে মামুন ভাগ্যক্রমে তানহার বাবার অফিসে চাকরি পায়। তানহার ভাই বোন বিয়ে করে নিজেদের আলাদা আলাদা ভাগের ব্যবসা দেখা শুরু করে। বাকি টুকু ঘটনা তানহার কাছে শুনবো কি বলেন আপনারা। হঠাৎ দর্জায় কারো নক করাতে মামুন অতিত থেকে ফিরে আসলো।

চলবে কি?

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না?🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here