রোমান্টিক ডাক্তার,পার্ট: ৪,৫
লেখিকা: সুলতানা তমা
তিশা: তমা কোথায় গেলি
আমি: আসছি।
জানিনা কতোক্ষণ ধরে দুজন ফোনের দুপ্রান্তে নিশ্চুপ হয়ে একজন আরেক জনের নিঃশ্বাস শুনছিলাম। তিশা ডাক দেওয়াতে তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দিয়ে রুমের দিকে এগুলাম।
তিশা বিছানার উপর বসে ফোন টিপছে।
আমি: ডাকছিলি কেন
তিশা: তোর ফোন কোথায়
আমি: আমার হাতেই তো
তিশা: কাব্য’র সাথে কথা হয়েছে
আমি: হুম
তিশা: বাব্বাহ্ আমার অজান্তে এতো কিছু
আমি: তিশা তেলে আর জলে মিশ খায় না কখনো
তিশা: মানে
আমি: মানেটা খুব সহজ কাব্য’র সাথে আমাকে মানায় না।
তিশা: কেন তোর কোনদিকে কমতি আছে। আর তুই না সবসময় বলিস তোর আব্বু আম্মুর পর আমিই তোকে বোনের মতো সঠিক শিক্ষা দিয়েছি, নিজেকে অযোগ্য মনে করাটা তো আমার শিক্ষায় পরে না।
আমি: তিশা আমি নিজেকে অযোগ্য মনে করছি না বুঝার চেষ্টা কর…
তিশা: অযোগ্য মনে করছিস নাতো কি, কাব্য’র সাথে তোকে মানাবে না কেন।
আমি: তিশা বুঝার চেষ্টা কর
তিশা: তুই ভালো করে বুঝ আর হ্যাঁ কখনো নিজেকে অযোগ্য মনে করবি না। মনে রাখিস প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই কিছুনা কিছু গুণ থাকে।
আমি: দ্যাত
তিশা: চলে যাচ্ছিস কেন।
তিশার কথার উত্তর না দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। খুব রাগ হচ্ছে, কাব্য নাহয় না বুঝে পাগলামি করছে কিন্তু তিশা কেন বুঝতে চাইছে না কাব্য আর আমাকে যে মানায় না। কাব্য দেখতে যেমন স্মার্ট তেমনি আবার ডাক্তার আর আমি, কি আছে আমার…? এসএসসি দেওয়ার পর আব্বু আম্মু মারা গেলেন পড়ালেখা বাদ হয়ে গেলো, কতো স্বপ্ন দেখতাম এই দুবছরে সব স্বপ্ন একে একে কবর দিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া আমি দেখতে কালো কাব্য’র সাথে কোনো ভাবেই মানাবে না।
নিশ্চুপ হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। প্রতিটা মুহূর্তে মনে হচ্ছে কাব্য ভুল করছে। পরক্ষণেই মনে হলো কাব্য নাহয় ভুল করছে কিন্তু আমি কি করছি, আমিও তো ভুল করছি। কাব্য’র কথা ভাবছি, ওর হাসিগুলো মনে করে নিজের অজান্তেই হাসছি কেন করছি এমন…? কাব্য মোহে আটকে আছে দুদিন গেলে মোহ কেটে যাবে তারপর আমি…? তখন তো আমায় কাঁদতে হবে। ফোন বেজে উঠলো, আবারো অচেনা নাম্বার। কিসের টানে যেন একটু তাড়াতাড়িই রিসিভ করলাম। কিন্তু এখন আর চেনা কন্ঠ ভেসে আসেনি একটা অপরিচিত কন্ঠ ভেসে আসলো।
–তিলোত্তমা বলছেন
আমি: হ্যাঁ আপনি কে
–তানভীর
আমি: কে তানভ…
তানভীর: আসলে আমার সাথে আপনার বিয়ের কথা চলছে (বাহ্ মামি তো দেখছি এক পা দু পা নয় একেবারে দশ পা এগিয়ে আছে, ছেলেকে আমার নাম্বারও দিয়ে দিলো)
তানভীর: কিছু বলছেন না যে
আমি: এমনি
তানভীর: আপনি দেখতে যেমন মিষ্টি তেমনি আপনার কন্ঠ…
আমি: আমাকে দেখলেন কোথায়
তানভীর: আপনার পিক দেখেছি আর নিজের অজান্তেই প্রথম দেখায় আপনার প্রেমে পড়ে গেছি (উফফ আবার সেই প্রথম দেখা। প্রথম দেখায় ভালোবাসার চৌদ্দ গোষ্ঠী কিলাই)
তানভীর: আপনার মনে হয় আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগছে না
আমি: আসলে তা নয় (উফফ কিভাবে বুঝাই সত্যি ভালো লাগছে না)
তানভীর: আগে তো পিক দেখেছি তিনদিন পর দেখা হবে সামনাসামনি, হয়তো আবারো আপনার প্রেমে পরবো। রাখছি এখন।
আমি: হুম ঠিক আছে।
মামি আবারো ওদের আসার জন্য তারিখ দিয়ে দিলো, অবশ্য এখন মামির দোষ নেই আমি নিজেই তো বলছিলাম দুদিন পর যেন আসতে বলে।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার আকাশ দেখছি। নিজেকে বড্ড একা লাগছে। আচ্ছা আব্বু আম্মুর কাছে থাকলে কি আমার নিজেকে এমন একা মনে হতো…?
দূর থেকে আযানের শব্দ ভেসে আসছে শুনে নামাজ পড়তে রুমে চলে আসলাম।
নামাজ পড়ে জায়নামাজেই বসে আছি মন যেন খুব করে আল্লাহ্ কে একটা কথাই বলতে চাইছে “আমার জন্য যা ভালো তাই করো, আমাকে সঠিক পথ দেখাও আল্লাহ্)
মামি: তমা নামাজ শেষ হয়েছে কথা ছিল
আমি: হ্যাঁ এসো (মামি এসে আমার পাশে বসলেন, আজ মামিকে অন্যরকম লাগছে)
মামি: ওদেরকে আসতে বলেছি তুই আবার রাগ করবি নাতো
আমি: (নিশ্চুপ)
মামি: মানছি তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি কিন্তু তুই তো আমার মেয়ের মতো তাই আমি চাই তোর ভালো জায়গায় বিয়ে হউক।
আমি: তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো (কি আর বলার আছে আমার, বিয়ে করবো না বললেই তো মামি আবার শুরু করবে)
মামির দেওয়া লাল পাড়ের সাদা শাড়িটা পরনে, কানে ছোট ছোট লাল রঙের দুইটা দোল, চোখে গাড়ো করে কাজল টানা, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, চুলগুলো খোঁপা করা। আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছি, আজ মামির পছন্দে সেজেছি কারণ আজ আমাকে দেখতে আসবে। মধ্যে যে কিভাবে তিনটা দিন কেটে গেলো বুঝতেই পারিনি। সেদিন সকালে ফোন কেটে দেওয়ার পর কাব্য আর আমাকে ফোন করেনি। অবশ্য না করারই তো কথা, মোহ কেটে গেছে হয়তো।
মামি: তমা তোর হলো
আমি: হ্যাঁ মামি এইতো শেষ।
জানালার কাছে দাঁড়িয়ে মামির জন্য অপেক্ষা করছি, হয়তো এখনি এসে ডাক দিবে মেহমানদের সামনে যাওয়ার জন্য। তিশা রেগে আছে কারণ আমি মামির কথাতে রাজি হয়েছি। তিশা, আন্টি বা আঙ্কেল কেউ আসেনি আজ আমার কাছে। সবাই আমার উপর রেগে আছে কিন্তু কেউ এইটা বুঝছে না যে আমি মামির কথা না শুনলে আবার অশান্তি হবে, মামি আমার সাথে খারাপ আচরণ করবে। তাছাড়া মামি আর তিশাদের ঘাড়ে চেপে আর কতোদিন থাকবো বিয়ে হয়ে গেলেই ভালো।
মামি: তমা
আমি: হ্যাঁ মামি
মামি: বাহ্ লাল পাড়ের সাদা শাড়িতে তো তোকে খুব সুন্দর লাগছে
আমি: শ্যামলা মেয়েদের কারো চোখে সুন্দর লাগে না গো মামি যেটুকু লাগে সেটা হলো ক্ষণিকের জন্য মোহ
মামি: উহু দেখিস ওরা তোকে দেখে খুব পছন্দ করবে
আমি: (খুব কষ্টে মুখে একটু হাসি আনার চেষ্টা করলাম)
মামি: কিছুক্ষণ পরই ওরা তোকে দেখতে চাইবে আমি এসে নিয়ে যাবো লক্ষী মেয়ের মতো থাকবি বুঝেছিস
আমি: হু।
মামি চলে গেলেন আবারো জানালার বাইরে চোখ রাখলাম। আকাশ দেখছি আর দুবছর আগের কথা ভাবছি। আম্মু আব্বু মারা যাওয়ার পর মামা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন আর সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল মামির অত্যাচার। প্রথম প্রথম এসব শুনে শুধু কাঁদতাম একটা সময় নিজেকে খুব একা মনে হয়। সিদ্ধান্ত নেই এসব যন্ত্রণার চেয়ে আত্মহত্যা করা অনেক ভালো। হ্যাঁ সেদিন মাথার উপরে থাকা পাখাটায় ওড়নাও বেধে ফেলেছিলাম কিন্তু আত্মহত্যা করা হয়নি। বার বার একটা কথাই মাথায় আসছিল “আত্মহত্যা মহা পাপ” কষ্ট তো আর চিরস্থায়ী থাকবে না কষ্টের পরই তো সুখ আসে। ফোন বেজে উঠলো, হাতে নিয়ে দেখি তিশা।
আমি: হুম বল
তিশা: তুই কি সত্যি বিয়েটা করছিস
আমি: বিয়ে করছি মানে আজ তো শুধু দেখতে আসছে
তিশা: যদি বিয়ে ঠিক হয়ে যায়
আমি: তুই কি রাজি না
তিশা: না
আমি: ওকে দেখে যাক আমি মামিকে বলে দিবো ছেলে পছন্দ হয়নি
তিশা: ছেলে দেখতে কাব্য’র মতোই, পছন্দ হয়নি বললেই তোর মামি শুনবে নাকি।
আমি: সেটা আমার উপর ছেড়ে দে, তুই যেখানে রাজি না সেখানে আমি বিয়ে করবো না।
তিশা: কাব্য এসব শুনলে খুব কষ্ট পাবেরে
আমি: কাব্য কাব্য করিস না তো
তিশা: কাব্য’র ফোন অফ সকাল থেকে তাই যা খুশি করতে পারতেছিস
আমি: নাহলে কাব্য কি করতো
তিশা: তোকে এসে তোলে নিয়ে যেত
আমি: শুন তিশা ওর মোহ কেটে গেছে, আগে যে কান্নাকাটি করেছে এসব আবেগ ছিল আর এখন সবকিছু ও বুঝতে পেরেছে তা…
তিশা: তোকে আমার বুঝানোর ক্ষমতা নেই।
ফোন কেটে দিলো, শুধু কাব্য কাব্য করে উফফ ভাল্লাগেনা আর।
মামি: তমা চল মা
আমি: হুম।
মামির সাথে মেহমানদের সামনে আসলাম সত্যি এখন খুব কষ্ট হচ্ছে, কষ্টটা বোধহয় কাব্য’র জন্যই হচ্ছে। দুদিনের জন্য আবেগ দেখাতে এসেছিল আর আমি বোকার মতো ওকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলাম। এখন বোকামির ফল পাচ্ছি, প্রতিটা মুহূর্তে ওর কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছি।
ছেলের মা: আমরা তো আগেই দেখেছি তানভীর আলাদা কথা বলুক পছন্দ হলে আমরা রিং পড়িয়ে যাবো (রিং পড়িয়ে যাবে, কি বলছে এসব। তিশা শুনলে আমাকে আস্ত রাখবে না আর আমিও তো এভাবে হুট করে…)
মামি: তমা ওকে তোর রুমে নিয়ে যা
আমি: হুম।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, পাশে তানভীর।
তানভীর: বলেছিলাম না সামনাসামনি দেখলে হয়তো আবারো আপনার প্রেমে পড়ে যাবো, সত্যি আবারো আপনার প্রেমে পড়ে গেছি আর আপনার নামটাও খুব সুন্দর ‘তিলোত্তমা’ (আসছে আরেকজন আবেগ+মোহ দেখাতে অসহ্য)
তানভীর: আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে আপনার কোনো আপত্তি না থাকলে…
আমি: এভাবে হুট করে আমি বি…
তানভীর: আমি সোজা কথা বলতেই পছন্দ করি, আপনার কি কোনো রিলেশন আছে, আই মিন কাউকে ভালোবাসেন।
আমি: (নিশ্চুপ হয়ে আছি শুধু একটা নামই বার বার মনে পড়ছে ‘কাব্য’ তাহলে কি আমি কাব্য’কে সত্যি ভালোবাসি। কিন্তু কাব্য তো আমাকে ভালোবাসে না দুদিনের মোহে আটকে ছিল ও আর এখন চলেও গেছে)
তানভীর: আর কিছু বলতে হবে না আপনার নিশ্চুপ হয়ে থাকাতেই আমি উত্তর পেয়ে গেছি। (অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে কি উত্তর পেলো তানভীর। আর তিশার কথাই তো সত্যি তানভীর দেখতে কাব্য’র মতোই, কোন অজুহাতে এখন আমি বিয়েটা ভাঙবো। পছন্দ হয়নি বললে মামি শুনবে না, তিশা আমাকে আস্ত রাখবে না আর এই বিয়েটা আমিও করতে চাই না এখন কি করবো)
তানিভীর: কিছু বলবেন নাকি আমি আমার সিদ্ধান্ত সবাইকে গিয়ে জানিয়ে দিবো।
আমি: এই বিয়েটা আমি করতে… (ফোন বেজে উঠলো তিশা ফোন দিয়েছে দেখে তাড়াতাড়ি রিসিভ করলাম)
তিশা: যদি এই বিয়েটা করিস তাহলে আমাকে হারাবি
আমি: তিশা আমার কথা শুন…
তিশা ফোন কেটে দিলো, পিছনে তাকিয়ে দেখি তানভীর নেই। তানভীর আবার গিয়ে ওর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবে নাতো…? কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও…? আমি এই বিয়ে করতে পারবো না। দৌড়ে ড্রয়িংরুমে আসলাম।
আসতে মনে হয় অনেক দেরি হয়ে গেছে, সবাই হাসছে আর মিষ্টি খাচ্ছে। তানভীর এর দিকে তাকালাম ও আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।
মামি: তমা উনারা আজকেই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চান
আমি: মানে
মামি: হ্যাঁ তোকে উনাদের খুব পছন্দ হয়েছে তাই আজকেই…
আমি: কিন্তু আমি আজকে বিয়েটা করতে পারবো না
তানভীর: কেন আপনার সাথে কথা বলে তো মনে হলো আপনি রাজি আছেন
আমি: একবারো কি আপনাকে বলেছি আমি রাজি
তানভীর: তা বলেননি কিন্তু রাজি না এইটাও তো বলেননি
আমি: রাজি না বলতে চাচ্চিলাম তখনি তো ফোন বেজে উঠলো আর আপনি চলে এসে বলে দিলেন আজকেই বিয়ে করতে চান।
তানভীর: আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে শুধু তাই নয় আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাই আজকেই বিয়েটা করতে চেয়েছি।
আমি: কিন্তু আমি…
মামি: তমা হচ্ছেটা কি।
মামি আমাকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসলো।
মামি: তমা এমন করার তো কথা ছিল না
আমি: আজকেই যে বিয়ে হবে এইটাও তো কথা ছিল না। আমি শুধু তোমার ভয়ে রাজি হয়েছিলাম তাই বলে বিয়ে করতে হবে নাকি।
মামি: কেন করতে পারবি না ছেলেটার কোন দিকে কমতি আছে।
আমি: তা বলছি না মামি আমি বিয়েটা করতে পারবো না বুঝার চেষ্টা করো।
মামি: তুই বিয়েটা করবি আর আজকেই করবি তোর মামার দিব্বি। (মামির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি মামাকে দিয়ে দিব্বি দিতে পারলো, এখন আমি কি করবো। মামি আমাকে সবার সামনে নিয়ে আসলো)
মামি: তমা রাজি হয়েছে আসলে ছোট মেয়ে তো তাই…
ছেলের মা: কোন সমস্যা নেই আপনারা বিয়ের আয়োজন করুন সন্ধ্যা নেমে এসেছে তো রাতেই বিয়ে হবে
মামি: ঠিক আছে।
বোবার মতো দাঁড়িয়ে আছি, দুচোখ দিয়ে বৃষ্টির মতো পানি ঝরছে। মামি আমার সাথে এমন করতে পারলো। বিয়ে আটকানোর কোনো রাস্তা নেই মামি দিব্বি দিয়ে দিয়েছে তাও মামার, আজ বুঝি আমার বিয়েটা হয়েই যাবে। কাব্য’র হাসিটা বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছে, আর বোধহয় ওর মিষ্টি হাসিটা কখনো দেখতে পারবো না।
চলবে?
রোমান্টিক ডাক্তার
পার্ট: ৫
লেখিকা: সুলতানা তমা
নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি সবার সামনে। মাঝে মাঝে আড়চোখে সবার দিকে তাকাচ্ছি, তানভীর আর মামির হাসি দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে ইচ্ছে হচ্ছে পালিয়ে যাই কিন্তু মামি তো দিব্বি… হঠাৎ তিশাদের বাসা থেকে চেঁচামেচির শব্দ শুনা গেলো। আন্টি আঙ্কেল চেঁচামেচি করে কি যেন বলছেন কিন্তু তিশার কোনো শব্দ তো শুনা যাচ্ছে না।
মামি: হঠাৎ ওদের বাসায় আবার কি হলো।
আমি: আমি যাচ্ছি।
মামি: এই কোথায় যাচ্ছিস চুপ করে বসে থাক এখানে।
আমি: আরে কি হয়েছে দেখতে হবে তো।
মামি: আমি দেখে এসে বলছি তোকে।
আমি: হুম।
কিযে হলো ভেবে পাচ্ছি না। মামিও আসছে না, যেতেও পারছি না। আমি সবার সামনেই টেনশনে পায়চারী করছি দেখে মেহমানরা সব আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
মামি: তেমন কিছু হয়নি।
আমি: যা হয়েছে সেটাই বলো।
মামি: বলবো কিন্তু তুই যেতে পারবি না।
আমি: ঠিক আছে।
মামি: তিশা বাথরুমে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
আমি: কি…?
মামি: এই কোথায় যাচ্ছিস..?
আমি: মামি আমার হাত ছাড়ো।
মামি: একটু পর তোর বিয়ে কোথায় যাচ্ছিস, ওরা তিশাকে নিয়ে হসপিটালে চলে যাবে তোর যেতে হবে না।
আমি: তিশা অসুস্থ আর আমাকে বিয়ের জন্য তুমি আটকে রাখতে পারবে এইটা ভাবলে কিভাবে।
মামি: তমা একটু পর কিন্তু বিয়ে আমি বলছি যাস না।
আমি: তুমি কেন কারো ক্ষমতা নেই আমাকে আটকে রাখার। তানভীর আমাকে ক্ষমা করবেন আমি এই বিয়েতে রাজি না মামি আমাকে দিব্বি দিয়েছিল তাই রাজি হয়েছিলাম।
মামির হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে দিয়ে দৌড়ে তিশার কাছে চলে আসলাম।
তিশার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত পড়ছে কপালটা একটু কেটে গেছে।
আমি: আন্টি এসব কিভাবে হলো…?
আন্টি: আমাদের সামনেই পায়চারী করছিল আর তোকে বকাবকি করছিল হঠাৎ করে রুমের দিকে চলে গেলো। একটু পর ওর চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাথরুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে আর এই অবস্থা।
আমি: সব আমার জন্য হয়েছে, আমাকে নিয়ে টেনশন করেই ও…
আঙ্কেল: কাঁদছিস কেন আর এখন নিজেকে দোষে কি লাভ হবে, এম্বুলেন্স চলে এসেছে চল হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।
আমি: চলো।
হসপিটালে বসে আছি, তিশাকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে গেছে। খুব ভয় করছে খারাপ কিছু হবে নাতো অনেক রক্ত যে ঝরেছে তিশার মাথা থেকে।
সিস্টার: রক্ত লাগবে।
আমি: আমার আর তিশার রক্তের গ্রুপ এক আমি রক্ত দিবো।
সিস্টার: ঠিক আছে চলুন আমার সাথে।
তাড়াতাড়ি সিস্টারকে ফলো করে হাটতে শুরু করলাম। তিশার কথা ভাবতে ভাবতে হাটছিলাম হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে দেয়ালে গিয়ে পড়লাম।
আমি: ওই চোখে দেখেন না (রাগ দেখিয়ে সামনে তাকাতেই দেখি কাব্য, অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কাব্যও আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে)
আমি: সরি (চলে আসতে চাইলাম কাব্য আমার হাত ধরে টান দিয়ে ওর কাছে নিয়ে গেলো, আমার দুগালে আলতো করে ধরে কপালে ফু দিতে শুরু করলো)
আমি: আরে কপালে ফু দিচ্ছেন কেন (বলতে বলতে কপালে হাত দিলাম অনেকটা জায়গা ফুলে গেছে হাত দিতেই ব্যথা করতে শুরু করলো)
কাব্য: এভাবে আনমনে হয়ে কেউ হাটে যদি খারাপ কিছু হয়ে যেতো।
আমি: আপনি এভাবে হাটছিলেন কেন চোখ নেই দিলেন তো আমার কপালটা ফাটিয়ে।
কাব্য: আসলে কিছু কাগজ দেখতে দেখতে হাটছিলাম আর হুট করে তুমি সামনে এসে পড়লে।
আমি: আপনি আমার সামনে এসেছেন আমি না।
সিস্টার: আপনি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন চলুন তাড়াতাড়ি।
কাব্য: তিলো হসপিটালে এসেছ কেন কি হয়েছে..?
আমি: তিশা অসুস্থ।
তাড়াতাড়ি সিস্টারের সাথে চলে আসলাম।
রক্ত দেওয়ার জন্য বেডে শুতেই কাব্য এসে রুমে ঢুকলো।
কাব্য: কাকে রক্ত দিবে..?
আমি: কাকে আবার তিশাকে।
কাব্য: তুমি যা শুকনি রক্ত দিলে তোমাকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না হাহাহা।
আমি: তিশার জন্য রক্ত দিতে গিয়ে যদি মরেও যেতে হয় তাও আমি আমার শরীরের সব রক্ত দিয়ে দিবো।
কাব্য: হ্যাঁ মরে যাও তারপর আমিও মরে যাবো, তোমাকে ছাড়া তো আর বেঁচে থাকা সম্ভব না তাই মরে যাওয়াই ভালো।
আমি: (কিছু না বলে ওর দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিলাম। দুদিন সামনে ছিলাম তাই প্রেম দেখিয়েছিল চোখের আড়াল হতেই সব শেষ। আর আজ আবার চোখের সামনে আছি তাই প্রেম দেখাতে শুরু করলো)
কাব্য: সিস্টার আপনি যান আমি রক্ত নিচ্ছি।
সিস্টার: ওকে স্যার। (সিস্টার চলে যেতেই কাব্য এসে আমার হাতে সুচ ফুটিয়ে দিলো)
আমি: উফফ একবার বলে তো সুচ ফুটাবেন আমার ব্যথা লাগে না বুঝি।
কাব্য: সিস্টার ব্যথা দিবে ভেবে আমি আসলাম এতো আস্তে সুচ ফুটালাম তাও ব্যথা ফেলে।
আমি: (নিশ্চুপ)
কাব্য: একটু আগে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছিলে কেন আমি জানি।
আমি: কেন বলুন তো।
কাব্য: এই তিনদিন তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ করিনি তাই অভিমান করেছ।
আমি: অভিমান মানুষ তার উপর করে যাকে সে ভালোবাসে। আমি আপনার উপর অভিমান করতে যাবো কেন।
কাব্য: কারণ তুমি আমাকে ভালোবাস।
আমি: মোটেও না।
কাব্য: ভালোবাস কিনা সেটা তো তোমার চোখই বলে দিচ্ছে। (নিশ্চুপ হয়ে আছি, সত্যি কি আমার চোখ বলে দিচ্ছে যে আমি কাব্য’কে ভালোবাসি। কিন্তু আমি তো কাব্য’কে ভালোবাসি না)
কাব্য: কি এবার ব্যথা পেয়েছ…? (কাব্য’র কথা শুনে হাতের দিকে তাকালাম সূচ খুলে ফেলেছে কিন্তু এখন তো কোনো ব্যথা পাইনি)
সিস্টার: স্যার রক্ত…
কাব্য: কিছু বলছিলে আটকে গেলে কেনো (অন্য একটা সিস্টার এসেছে, কিছু বলতে গিয়ে আমার দিকে চোখ পড়াতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে)
সিস্টার: এতো সিস্টার থাকতে আপনি রক্ত…
কাব্য: সিস্টাররা রক্ত নিলে ওকে ব্যথা দিতো বুঝেছ। এতো কথা বলো না রক্ত নিয়ে যাও আর ওর পেসেন্টকে কোন ডক্টর দেখছে…?
সিস্টার: আদনান স্যার।
কাব্য: ওকে গিয়ে বলো পেসেন্ট আমার বউ এর ফ্রেন্ড আ…
সিস্টার: মানে..?
কাব্য: যাও তো এতো প্রশ্ন ভালো লাগে না। (সিস্টার আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে চলে গেলো)
আমি: কি ব্যাপার ডাক্তারবাবু মনে হচ্ছে সামথিং সামথিং (আমি হাসছি দেখে কাব্য এসে আমার মাথায় দুহাত দিয়ে ধরে ঝাঁকি দিলো)
আমি: উফফ লাগছে।
কাব্য: লাগার জন্যই তো দিয়েছি, আচ্ছা মেয়েটা আমাকে পছন্দ করে বুঝেও তোমার রাগ হচ্ছে না…?
আমি: একটা মানুষকে অন্য কারো পছন্দ হতেই পারে এতে রাগ করার কি আছে।
কাব্য: তারমানে তুমি সত্যি আমাকে ভালোবাস না।
আমি: এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না।
কাব্য: কোথায় যাচ্ছ..?
আমি: তিশার কাছে।
আঙ্কেল আর আন্টির কাছে এসে বসলাম, শরীর খুব দূর্বল লাগছে। জানিনা ওদিকে তিশার কি অবস্থা। হঠাৎ দেখলাম কাব্য তিশার কেবিনে ঢুকছে। আচ্ছা কাব্য তো কক্সবাজার ছিল ওখানের হসপিটালে ছিল তাহলে ও এই হসপিটালে কি করছে…?
কাব্য: তিলো তিশার অবস্থা এখন ভালো চিন্তা করার কোনো কারণ নেই চাইলে দেখা করতে পারো।
কাব্য’র কথা শুনে আঙ্কেল আন্টিকে নিয়ে তিশার কাছে আসলাম।
আমাকে দেখে তিশা মুখ ফিরিয়ে নিলো, নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে।
আন্টি: কেমন আছিস মা
তিশা: ভালো
আঙ্কেল: মেয়েটার উপর রেগে থাকিস না এমনি কান্নাকাটি করে যা অবস্থা হয়েছে ওর তার উপর আবার তোকে রক্ত দিয়েছে।
তিশা: কি..? (যাক বাবা তিশার রাগটা বোধহয় কমে গেছে)
আমি: আরে রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না…
তিশা: তাই বলে তুই দিবি এখন যদি তুই অসুস্থ হয়ে পড়িস।
কাব্য: তিলোর ডাক্তারবাবু আছে তো ওকে অসুস্থ হতে দিবে না (এই কাব্যটা যে কি সবার সামনে চলে এসেছে)
তিশা: তোমার খবর আছে তোমার কোনো খুঁজ খবর নেই কেন ফোন বন্ধ করে রেখেছ কেন…?
কাব্য: কি আমার ফোন বন্ধ (তাড়াতাড়ি পকেটে ফোন খুঁজলো কিন্তু পেলো না)
কাব্য: ফোনটা বোধহয় আমার চেম্বারে আছে আর চার্জ নেই মনে হয়।
আঙ্কেল: তিশা এই ডাক্তারকে তুই চিনিস (এইরে সেরেছে তিশা তো এখন সব বলে দিবে)
তিশা: হ্যাঁ আব্বু ওইযে রাজকুমার।
আঙ্কেল: হাহাহা বুঝেছি বুঝেছি।
আমি: ঘোড়ার ডিম বুঝেছ।
তিশা: কাব্য আমি কি বাসায় চলে যেতে পারবো…?
“না অন্তত আজকের রাতটা আপনাকে হসপিটালে রেস্টে থাকতে হবে” (তিশাকে যে ডক্টর দেখছিল তিনি এসে বললেন)
কাব্য: তিলো ও আদনান আমার বন্ধু আর আদনান…
আদনান: বলতে হবে না বুঝে গেছি, উনি তিলোত্তমা আই মিন তোর তিলো।
কাব্য: হুম (বাহ্ ও দেখছি সবাইকে বলে দিয়েছে)
কাব্য: তিলো অনেক রাত হয়ে গেছে তুমি আঙ্কেল আন্টিকে নিয়ে বাসায় চলে যাও সকালে এসো এখানে তো আদনান আছে।
আমি: না আমি যাবো না।
আদনান: কাব্য আমাকে আজ চলে যেতে হবে প্লিজ রাতের ডিউটিটা তুই কর প্লিজ।
কাব্য: ঠিক আছে।
আমি: আঙ্কেল তুমি আন্টিকে নিয়ে বাসায় চলে যাও আমি তিশার কাছে আছি।
আঙ্কেল: ঠিক আছে।
আঙ্কেল আন্টি চলে গেলেন, আমি এসে তিশার পাশে বসলাম।
আমি: তিশা এসব কি করে হলো..?
তিশা: কপালটা কেটেছিলাম ইচ্ছে করে ভেবেছিলাম বাথরুমে গিয়ে চিৎকার দিবো যেন তুই শুনতে পেয়ে চলে আসিস কিন্তু পা পিছলে পড়ে গিয়ে সত্যি এতো ব্যথা পাবো ভাবিনি।
আমি: তুই কি পাগল।
তিশা: কি করবো তোর মামিকে আমার বিশ্বাস হয়না।
আদনান: এভাবে কথা বললে আপনার ক্ষতি হতে পারে আপনাকে বরং ঘুমের ইঞ্জেকশন দিচ্ছি রেস্ট নিন আপনি। (আদনান তিশাকে ইঞ্জেকশন দিয়ে কাব্য’র সাথে একটু কথা বলে চলে গেলো)
কাব্য: তিশা ঘুমিয়ে আছে এখন আর ওর কাছে থাকতে হবে না তুমি আমার সাথে চলো।
আমি: আরে কি হলো..?
কাব্য আমার হাত ধরে টানতে টানতে ওর রুমে নিয়ে আসলো।
রুমে এনেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে সোফায় ফেলে দিলো তারপর দরজা বন্ধ করে দিলো। বুঝতে পারছি না ও এতো রেগে আছে কেন।
কাব্য: আগে তিশার জন্য টেনশনে ছিলে তাই কিছু জিজ্ঞেস করিনি এখন তো তিশা ঠিক আছে তা…
আমি: আমার হাত ছাড়ুন ব্যথা পাচ্ছি।
কাব্য: হাতের ব্যথার চেয়ে বুকের ব্যথা অনেক বেশি যন্ত্রণার বুঝেছ।
আমি: মানে।
কাব্য: তোমার এমন সাঝ দেখেই আমি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম এখন তো তিশার কথায় পুরোপুরি বুঝে গেছি।
আমি: কি বুঝেছেন…?
কাব্য: আজকে তোমাকে দেখতে আসছিল আ…
আমি: হ্যাঁ দেখতে এসেছিল শুধু তাই নয় আজকে আমার বিয়ে ছিল (ঠাস করে আমার গালে থাপ্পড় মেরে দিলো)
কাব্য: আমি তোমাকে ভালোবাসি এইটা জেনেও তুমি রাজি হয়েছিলে কেন…?
আমি: আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই। (কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রেখে নিজেকে শান্ত করলো)
কাব্য: তিলো আমি মানছি এই তিন দিন তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি তাই বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি না এইটা ধরে নিবে আর অন্য জায়গায় বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যাবে…?
আমি: (নিশ্চুপ হয়ে আছি আর একটা কথাও বলবো না, পেয়েছে কি আমাকে এতো জোড়ে থাপ্পড় মেরে দিলো)
কাব্য: সেদিন সকালে তোমাকে ফোনে আমি এতোগুলো কথা বলেছি কিন্তু তুমি একটা কথাও বলোনি তাই ভেবে নিয়েছিলাম ট্রান্সফার হয়ে এখানে চলে আসবো। ট্রান্সফার হয়ে আসবো বললেই তো আসা যায় না, এখানে আদনান ওখানে আমি দুজন অনেক দৌড়াদৌড়ি করে তিন দিনের মধ্যে ট্রান্সফার হয়ে গতকাত রাতে এখানে এসেছি। আমি এতোটাই বিজি ছিলাম যে ফোনে হাত দেয়ার সময় পাইনি তাই তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। সবকিছু তো তোমার জন্য করেছি, তোমার কাছে আসার জন্য করেছি কিন্তু তুমি বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলে।
আমি: (নিশ্চুপ)
কাব্য: কি হলো এখন কথা না বলে শাস্তি দিবে (কি কথা বলবো ভেবে পাচ্ছি না, আমি কি ভেবেছিলাম আর হলো কি। আমি তো ভেবেছিলাম চোখের আড়াল হতেই কাব্য আমাকে ভুলে গেছে কিন্তু ও আমার কাছে আসার জন্য এতো দ্রুত ট্রান্সফার হয়ে এখানে চলে আসলো)
কাব্য: তিলো আমি সত্যি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি বিয়ে করতে চাই তোমাকে। প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না। (আমার দুগালে আলতো করে ধরে কথাগুলো আস্তে আস্তে বললো। কিন্তু আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রেখেছি দেখে আবার রেগে গেলো)
কাব্য: বুঝেছি তুমি এভাবে মুখ খুলবে না (ওর কথা শুনে সামনে তাকালাম ও কি যেন খুঁজছে)
কাব্য: এবার বলো ভালোবাস কিনা নাহলে কিন্তু (ওর কান্ড দেখে তো আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। হাতের শিরার মধ্যে চাকু ধরে রেখেছে)
আমি: একজন ডক্টর হয়ে সুইসাইড করার কথা ভাবছেন।
কাব্য: আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাস কিন্তু মুখে স্বীকার করতে চাইছ না কিন্তু আজ তোমাকে বলতে হবে নাহলে কিন্তু…(এখন কি করবো আমি ও যে পাগল যদি সত্যি সত্যি… না না ও সুইসাইড করলে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না)
কাব্য: বলো নাহলে…
আমি: হ্যাঁ বাসি।
কাব্য: হয়নি সুন্দর করে বলো।
আমি: ভালোবাসি।
কাব্য: এখনো হয়নি কিছু একটা মিসিং (উফফ এতো জ্বালাচ্ছে কেন, কি মিসিং হতে পারে ভেবে পাচ্ছি না। আমি ভাবছি দেখে ও মিটিমিটি হাসছে ইচ্ছে হচ্ছে… হুম বুঝেছি কি মিসিং)
আমি: ভালোবাসি ডাক্তারবাবু।
কাব্য: এইতো হয়ে গেছে। (চাকু রেখে এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো)
কাব্য: আমি কালই তোমার মামির কাছে যাবো বিয়ের কথা বলতে।
আমি: হুম। (যে গালে থাপ্পড় দিয়েছিল সে গালে আলতো করে একটা চুমু দিলো)
কাব্য: জানি অনেক ব্যথা পেয়েছ আসলে অনেক কষ্ট হচ্ছিল তাই… সরি সোনা।
আমি: হুম।
কাব্য: খোঁপা করা চুল আমার একদম ভালো লাগে না।
কাব্য আমার চুলগুলো ছেড়ে দিলো, আমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে খোলা চুলে মুখ গুঁজে দিলো। কাব্য আমার খোলা চুলে নাক ঘসছে আর আমি ভাবছি সত্যি কি আমি কাব্য’কে ভালোবাসি…? কখন যে ওকে নিজের অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝতেই পারলাম না আমি।
চলবে?