লেডি_ডন
পার্টঃ৭,৮
লেখিকাঃ গাজি স্নিগ্ধা হোসেন
৭
আজ বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে রুহি চাকরি ছেড়ে চলে গেছে,আদির তাতে অনেক খারাপ লেগেছে কিন্তু খারাপের চেয়ে আদির রাগই বেশি হয়ছে। তার জেদের কাছে খারাপ লাগাটা হার মেনেছে,তাই সে রুহিকে আটকানোর চেস্টা করে নি,চলে যাওয়ার পর একবারো রুহির খোঁজও নেয় নি।
যেহেতু আদির বাবা আদিকে সব দায়িত্ব বোঝিয়ে দিয়েছেন আর আদিও যেহতু তার বাবা মা কে কথা দিয়েছে, তাই সে অফিস ছাড়তে পাড়ে নি। আদির বাবা আদির উপ সব সব দায়িত্ব দিয়ে আদির মা কে নিয়ে দেশের বাইরে বেড়াতে গেছেন।
কিন্তু এদিকে রুহির বাড়িতে ঘটল এক দুর্ঘটনা রুহির বাবা হঠাৎ করেই স্টোক করেছে।
(না না এর মধ্যে আদির কোন হাত নাই আদি)
রুহি আর তার পরিবার সবাই মিলে তাকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে।
ডাক্তার বলেছে ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে অনেক টাকা প্রোয়োজন। রুহির পরিবারে রুহির বাবাই একমাত্র উপার্জনকারী।কি হবে এখন?
বাধ্য হয়েই রুহি আদির অফিসে গেল যদিও যে আদির কাছে যায়নি গিয়েছিল আদির বাবার কাছে কিন্তু তিনি দেশে না থাকায় আদির কাছে যেতে হয়েছে।
রুহিঃ আসতে পাড়ি?
আদিঃ বিরক্ত হয়ে বলল yes come in.
রুহিঃ আসলে স্যার আমার বাবা খুব অসুস্থ তাকে বাঁচানোর জন্য বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন…
আদিঃ অন্য দিকে তাকিয়ে বলল তো আমি কি করতে পাড়ি?
রুহিঃ বাবা তো এই অফিসেই কাজ করতেন…
আদিঃতার জন্য কি তাকে বেতন দেওয়া হয়নি?এটা কোন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি না।
রুহিঃ দয়া করুন স্যার….আপনি সাহার্য্য না করলে বাবা কে বাঁচাতে পাড়ব না।
আদিঃ আমার এত অপ্রয়োজনিয় টাকা নাই যে শুধু শুধু দান করতে যাব।
রুহিঃ দান করতে হবে না স্যার,আমাকে চাকরি দিন, আমি কাজ করে সব শোধ করে দিব।
আদিঃ চাকরি কি মগের মুল্লক নাকি যে তোমার যখন ইচ্ছা হবে ছেড়ে দিবে আবার যখন ইচ্ছা চাকরিতে ডুকে যাবে। চাকরিটা ত তুমি নিজেই ছেড়েছিলে তাই না?
রুহিঃ আর এমন হবে না স্যার,বিশ্বাস করুন আপনি যা করতে বলবেন তাই করব, তবুও আমাকে কিছু টাকা দিন।
আদিঃ হা হা উচ্চ স্বরে হেসে বলল তোকে করবো বিশ্বাস?অসম্ভব…..
যদি কাগজে কলমে লিখে দিস আগামি এক বছর তুই আমার কথা মত চলিবি তবেই টাকা দিব।
রুহিঃঠিক আছে স্যার আমি তাতে রাজি।
আদিঃ বোঝে বলছো?
রুহিঃ আমার কপালে দুঃখ আছে জানি কিন্ত আমার টাকা দরকার তাই রাজি হতেই হবে (মনে মনে)
আদিঃরাজি না থাকলে সময় নস্ট না করে যেতে পারো
রুহিঃ আমি রাজি স্যার।
আদিঃ গুড তাহলে কাল অফিসে চলে আসো। আর আংকেল কোন হসপিটালে আছে বলে যাও চিকিৎসা সহ আগামি একবছর তাদের ভাল থাকার দায়িত্ব আমি নিলাম।টাকা সময় মত পৌছে যাবে।
রুহিঃ আমার আজকেই টাকা লাগবে।
আদিঃ তুমি হসপিটালে পৌছার আগেই টাকা পৌছে যাবে।তুমি এখন আসতে পাড়ো।আর একটা কথা কাল অফিসে আসার সময় সবাই কে বলে এসো কাল থেকে তুমি আর রাতে বাসায় ফিরবে না।
রুহিঃ তার মানে কি?চোখ বড় বড় করে রুহি বলল, ছি আপনি এত নিচ?
আদি রুহির গালে ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে বলল আমাকে এত খারাপ ভাবার সাহস হয় কি করে?
আমার যদি খারাপ ইচ্ছা থাকত,তাহলে তোকে এত টাকা দিয়ে কিনতাম না।এর চেয়ে অনেক কম টাকায় তোর চেয়ে সুন্দরী call girl পাওয়া যায় বোঝলি।
তোকে আমি ঘিন্না করি আর তার কারন টা তুই জানিস। কাল থেকে তর জীবন টা নরক হয়ে যাবে সেই শর্তেই তুই টাকা নিয়ে যাচ্ছিস কথাটা মাথায় রাখিস।
রুহি মাথা নিচু করে বলল কিন্তু বাড়িতে কি বলব?
আদিঃ সেটা আমি বোঝে নিব।
তাহলে ঠিক আছে বলে মাথা নিচু করে রুহি চলে গেল।
,
,
,
কিছুক্ষন পড়,হসপিটালে আদি নিজেই আসল।
নুরা আদিকে দেখেই চিনতে পাড়লো।
নুরাঃ স্যার আপনি…???
আদিঃ হ্যা আংকেল কে দেখতে আসলাম,আন্টি আমায় চিনতে পেড়েছো?
রুহির মাঃ হ্যা বাবা তুমি আদি না? ছোটবেলা কত এসেছো আমাদের বাড়ি।তারপর পড়াশুনার জন্য বিদেশে চলে গেলে তারপর আর দেখা হয় নি।
আদিঃ জ্বি আন্টি গত বছরেই ফিরে এসেছি।
রুহিঃ একটা মানুষের কয়টা রুপ থাকতে পাড়ে? সবার সামনে কত ভাল একজন মানুষ কিন্তু ভিতরে তো একটা অমানুষ।দূর থেকে আদিকে দেখছে আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এগুলা ভাবছে রুহি।
আদিঃ একটা চেক দিল। আন্টি এটা রাখো।
আমি হাসপাতলের সব বিল দিয়ে এসেছি।
রুহির মা আদিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল বাবা তুই আরো বড় হ।
আদিঃআমার জন্য দোয়া করো আন্টি।আর শোনো, বাবা মা দেশে নাই থাকলে অবশ্যই আসত।তারা তোমাদের কথা বার বার জিজ্ঞাস করছিল,যেকোনো দরকারে আমাকে অবশ্যই বলবা।
,
,
,
আমি এখন তাহলে যাই আন্ট,বলে উঠে দাঁড়াল আদি, তারপর আবার বলল আন্টি,মা তো বাসায় না রুহি যদি আমাকে একটু রান্না করে দেয় তুমি কি কিছু মনে করবে।
রুহির মা রুহির দিকে তাকিয়ে বলল রুহি যদি রাজি থাকে তাহলে আমি কিছু মনে করব কেন?
বিষয় রুহির ইচ্ছা না তুমি আমায় বিশ্বাস করো ত?
আচ্ছা বোঝিয়ে বলছি।
আদি আবার রুহির মার সাথে বসল তারপর বলল রুহি তুমি একটু বাইরে যাও আন্টির সাথে আমার কথা আছে…..
রুহিঃ ঢং দেখে বাঁচি না।আমি আপনাদের কথা শুনছি না।
আদিঃ তোমাকে যেতে বলছি না? (ধমক দিয়ে)
রুহি মুখ ভেংচি দিয়ে বাইরে চলে গেল।
আদি রুহির মার সাথে অনেকক্ষন কথা বলে বাইরে আসল।বাইরে রুহির সাথে দেখা হল,
তাহলে কাল দেখা হচ্ছে মিস…..
বলে চলে গেল।
,
,
,
চলবে….!!!
#লেডি_ডন
#পার্টঃ৮
#লেখিকাঃ গাজি স্নিগ্ধা হোসেন
পরদিন সকালে রুহি যথাসময়ে অফিসে চলে এসেছে,
কিন্তু একি আমার ডেস্ক কোথায়? রুহির ডেস্কটা আর আদির রুমে নেই।আদিও এখনো আসে নি।
তাই রুহি গিয়ে লিজার পাশে বসল।
লিজাঃ কি ব্যাপার রুহি তুমি হুট করে চাকরিটা ছেড়ে দিলে কেন?
রুহিঃ তেমন কিছু না এমনি ছেড়ে দিছিলাম।
লিজাঃ অহ আচ্ছা ব্যাক্তিগত বিষয় হলে বরং থাক।
রুহি কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ বলে উঠল লিজা অফিসে সময় কাটানোর জন্য আসে তাইবলে আপনাকেও সময় কাটানোর জন্য চাকরিটা দেওয়া হয় নি।
রুহি পিছনে তাকিয়ে দেখে মিঃ আদিত্য চৌধুরী দাঁড়িয়ে,
রুহিঃ সরি স্যার আর এমন হবে না।
আদি আর কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেল।রুহিও তার পিছন পিছন আদির রুমে গেল।
রুহিঃ স্যার এখানে তো ডেস্ক নেই, আমি কোথায় বসব?
আদিঃ কি বল্লে তুমি ডেস্ক? কোন পর্যন্ত জানি পড়াশুনা করছো তুমি?
রুহিঃ জেনে বোঝে প্রশ্ন করছেন কেন?
আদিঃ তুমি ডেস্কের কথা বল্লে তাই তোমার জায়গাটা মনে করিয়ে দিলাম।
রুহিঃ মানে? বোঝলা না…
আদিঃ বোঝিয়ে দিচ্ছি,তোমার কোন সার্টিফিকেট আছে? নেই তো তাই না? তুমি এই অফিসের পিয়ন হওয়ার যোগ্য এর বেশি কিছুনা।
রুহি বোঝেছি কি বোঝাতে চেয়েছেন আচ্ছা আমি একটা টুল নিয়ে পিওয়নের রুমে যাচ্ছি। বলে রুহি ঘোরতে গেল আদি পিছন থেকে বলে উঠল
আদিঃ তোমার লজ্জা বলতে কিছু নেই তাই না?
রুহিঃ কিসব বলেন।কেন থাকবে না অবশ্যই আছে
আদিঃ মনে তো হচ্ছে না,এতদিন পিএ ছিলে এখন পিয়ন হয়ে গেছো তোমার লজ্জা করছে না? আমি ত ভাবছিলাম লজ্জায় মাটিতে মিশে যাবে। তা না তুমি খুশিতে পিয়ন রুমে চলে যাচ্ছো।লোকে কি বলবে?
রুহিঃ ওরা আমাকে ভাল কবে বলছিল? এখন আর কি বলবে যা বলার বলতে থাকুক আমার কিছু যায় আসে না।আপনি থাকুন আমি যাই।
যেতে যেতে আবার ফিরে এসে রুহি আদির একদম কাছে গিয়ে বলতে লাগল,কি বলুন তো পোস্ট টা আমার জন্য ভালই হইছে টাকা ত পিএ এর মতই পাব। কিন্ত পিএ এর মত এত কাজ করতে হবে না বলেই ফিক করে হেসে এক দৌড়ে রুমের বাইরে চলে গেল রুহি।
আদিঃ এই মেয়েকে আমি কি শাস্তি দিব এই তো আমার চেয়ে এক কাঠি উপড়ে।
কিছুক্ষন পর আদি সিসি টিভির মনিটরে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল, একি….??? এই মেয়ে কি করছে এগুলা সবাইকে চা করে খাওয়াচ্ছে এই ডেস্ক থেকে ওই ডেস্কে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।আদির মাথা গরম হয়ে গেল।
রুহিকে রুমে ডেকে পাঠালো,
আদিঃ এই জন্য রাখছি তোমাকে? (ধমক দিয়ে) কি করছো এসব?
রুহিঃকেন বলুন তো পিয়নের কাজেই তো এইটা।
আদিঃহইছে তোমার আর পিয়ন হতে হবে না এখানে চুপচাপ বসে থাকো।
রুহিঃ চুপচাপ বসে থাকার জন্য টাকা দিবেন?অবাক হওয়ার ভান করে।
আদিঃ উফফ একটু চুপ করবে প্লিজ।
রুহিঃ আচ্ছা আচ্ছা তাহলে ডেস্ক আনার বব্যস্থা করুন।
আদি বাধ্য হয়েই ডেস্ক আনিয়ে দিল কারন, আদি চায় না রুহি অফিসের ছেলে স্টাফদের সাথে কথা বলুক।
রুহিঃ হি হি হি তোমার মত উগান্ডাকে কিভাবে সাইজ করতে হয় রুহি ভাল করেই জানে ( মনে মনে)
,
,
,
লাঞ্চের সময় হতেই রুহি আদির পাশে এসে হাজির।
আদিঃ কি ব্যাপার আমি কি তোমাকে ডেকেছি?
রুহিঃ নাত আপনি এখন আমার হাতে খেতে চাইবেন আমি জানি তো তাই আগেই চলে আসছি দায়িত্ব বোধের একটা বিষয় আছে না?
আদিঃ উফফ,লাগবে না তোমার খাইয়ে দেওয়া যাও নিজের কাজ করো যতসব।
রুহিঃ হাদারাম জানতাম তো এটা করলেই আর খেতে চাইবি না। বেচে গেছি (মনে মনে)
আদিঃ এই দাঁড়াও দাঁড়াও,তুমি আমার সাথে গেম খেলছো?
রুহিঃ ক ক ক কি বলছেন এসব?
আদিঃ কিছুনা আচ্ছা যাও।
রুহিঃ যাক বাবা একটুর জন্য বেচে গেছি।
কোনরকমে অফিস শেষ রুহি বাড়ি যাওয়ার জন্য বেড়িয়েছে এরি মধ্যে আদি এসে,এখানে কি করছো বাসায় চলো।
রুহিঃ বাসায় মানে?
আদিঃ শর্তের কথা ভুলে গেছেন নাকি ম্যাডাম?
চলো ফা্যিল মেয়ে। (ধমক দিয়ে)
রুহিঃ উগান্ডা জানি কোথাকার।
আদির সাথেই রুহি আদির বাসায় আসলো
অনেক সুন্দর বাড়ি আদির।
সেখানে লিজা,সাওন আর মাহির ও আছে রুহি সবাইকেই চিনে মেলায় সবার সাথেই ওর দেখা হয়েছে। সবগুলাই বদের হাড্ডি লিজা ছাড়া।
লিজা গিয়ে রুহিকে তার রুম দেখিয়ে দিল বেশ সুন্দর একটা রুম।
রুহিঃ বলছিল তো জীবন নাকি নরক বানিয়ে দিবে কিন্তু তেমন কিছুই তো হচ্ছে না।ব্যাপার কি?
কিছুক্ষন পর আদি রুহিকে রুমে ডাকলো।
পায়
রুহিঃজ্বি বলুন….
আদি,মাত্রই শাওয়ার নিয়েছে একটা টাওয়াল হাতে দিয়ে বললো মাথা মুছে দাও।
রুহিঃ শর্তে কি এসবও লিখাও ছিল?
আদিঃ হুম ছিল আমি যা যা চাইব সবি করতে হবে।
রুহিঃতাহলে আর কি আসুন,
আদিঃ আমি আসব কেন তুমি আসো।
রুহি লক্ষি মেয়ের মত আদির মাথা মুছে দিল তারপর আদি রুহিকে নিয়ে নিচে গেল,
আদিঃ রুহি আমাকে খাইয়ে দাও।
লিজা,সাওন,মাহির সবাই মুচকি মুচকি হাসছে
রুহিঃ দিচ্ছি।বলে সত্যি খায়িয়ে দিল,
খাওয়া শেষে সবাই টিভি দেখতে গেল রুহিও গেছে সবাই মিলে স্পোর্টস দেখছিল হুট করে রুহি রিমোট নিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করে দিল।
আদিঃওই কি করছো এগুলা?
রুহিঃ ওমা ৯ টা বেজে গেছে তো
আদিঃ তো কি হয়েছে?
রুহিঃ আমার ফেভারিট কার্টুনের এপিসোড শুরু হয়ে গেছে তো দেখব না?ইনোসেন্ট লোক নিয়ে
আদিঃ কি শুরু হইছে কার্টুন? are you serious রুহি? এত বড় মেয়ে কার্টুন দেখে?
রুহিঃ হুম দেখে প্রতিদিনে দেখে, যতদিন এখানে আছি ততদিনো দেখব সাথে তোমাদের ও দেখতে হবে বলে টিভিতে মন দিল একমনে কার্টুন দেখছে রুহি বোঝাই যাচ্ছে কার্টুন টা তার খুব প্রিয়।
রুহি দেখছে আর হাসতে হাসতে একবার আদির উপড় পড়ছে আবার একবার লিজার উপড় পড়ছে মোট কথা হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
আদি অবাক হয়ে দেখছে রুহিকে, রুহির এই দুস্টামি দেখে আদি যেন রুহির প্রতি আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে….!!!
,
,
,
চলবে….!!!