অদ্ভুত_মেয়ে (season 2) Part- 11

0
2724

অদ্ভুত_মেয়ে (season 2)
Part- 11
Writer: #Nur_Nafisa
.
.
শান্তা আপু চলে গেলো, নাফিসা কিছুক্ষণ পর বড় মামির কাছে কল করে বললো বাসায় কাজ না থাকলে ইমরান ভাইয়াকে যেন আজ ঢাকা আসতে বলে। ভাইয়াকে দরকার আছে তাই না আসতে চাইলে জোর করে হলেও যেন পাঠায়। মামিও রাজি হয়ে গেল!
.
নাফিসা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স এনে ইমরানের নম্বরে আবার একটা মেসেজ সেন্ট করলো, ” এ শাড়িতেও সমস্যা আছে, বাসায় আসতে হবে না তোমাকে। সকাল ১০ টার দিকে মোহনা প্লাজার সামনে এসো। ”
নাফিসা সকালে নাস্তা করার পর গোসল করে লং থ্রিপিস আর হিজাব পড়ে তৈরি হয়ে গেলো।হিজাব পড়ার সময় ফোনে একটা মেসেজ এলো। নাফিসা ভেবেছে ইমরান রিপ্লাই দিয়েছে! তাড়াহুড়ো করে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো ইমরানের মেসেজ না, ১০০টাকা রিচার্জ এর মেসেজ। কিন্তু টাকা পাঠালো কে! সে তো বাবাকেও বলে নি টাকা পাঠাতে! আর কেউ তো জানেও না তার ফোনের ব্যালেন্স শেষ! হয়তো কেউ ভুল করে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতোগুলো টাকা ফেরত দিবে কিভাবে! দূর যে পাঠিয়েছে প্রয়োজন হলে সে ই কল করবে। জুতো পড়ার সময় শান্তা আপু রুমে এসে বললো,
শান্তা- সকাল সকাল এতো সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছিস?
নাফিসা- কেন? যাবে তুমি?
শান্তা- না।
নাফিসা- তাহলে আর জানারও প্রয়োজন নেই।
শান্তা- হ্যাঁ যাবো। এবার বল।
নাফিসা- না, তোমাকে নিবো না।
শান্তা- অদ্ভুত মেয়ে!
নাফিসা রুম থেকে বের হয়ে মায়ের কাছে বললো,
নাফিসা- মা আমি বের হচ্ছি, আসতে দেড়ি হবে।
মা- কোথায় যাচ্ছিস?
নাফিসা- যাবো একটু ঘুরতে।
মা- পরশু বিয়ে, বাসায় মেহমান আসবে। তোর এখন ঘুরতে যেতে হবে!
নাফিসা- মেহমান আসবে তো আমি কি করবো!
মা- কার সাথে ঘুরতে যাবি? এতো কিসের ঘুরাঘুরি! বিপদ আপদের হাত নেই। এখন ঘুরতে যেতে হবে না। বাসায় বসে থাক।
নাফিসা- তুমি না করলেও শুনছি না। আর চিন্তা করো না শুধু শুধু। তোমাদের বিশ্বস্ত মানুষের সাথেই যাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।
মা পেছন থেকে নানান প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। নাফিসা সেদিকে কান না দিয়ে বেরিয়ে এলো বাসা থেকে। ১০টার দিকে মোহনা প্লাজার সামনে চলে এলো। তিন-চার মিনিট পর ইমরান কল করলো,
নাফিসা- আসসালামু আলাইকুম।
ইমরান- ওয়ালাইকুম আসসালাম। মোহনা প্লাজার সামনে দাড়িয়ে আছি। কতক্ষণ লাগবে তোর?
নাফিসা- পেট্রোল পাম্প এর দিকে আসো।
ইমরান সামনের দিকে হেটে পেট্রোল পাম্প এর দিকে চলে গেলো। সেখানে এসেও নাফিসাকে দেখতে পেল না। আবার কল করলো,
ইমরান- এসেছি। কোথায় তুই?
নাফিসা- রাজমহল রেস্টুরেন্টের সামনে আসো।
নাফিসা ইচ্ছে করে তাকে ঘুরাচ্ছে তা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে ইমরান। নাফিসার কথা মতো ইমরান ব্যাক করে আবার মোহনা প্লাজার দিকে রাজমহল রেস্টুরেন্টের সামনে এলো। সেখানে নাফিসাকে দেখতে পেয়ে সামনে এগিয়ে গেলো। নাফিসা ইমরানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইমরানের চোখমুখ ও ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে! সে না হয় সারারাত না ঘুমিয়ে কেদেছে তাই তার চোখমুখ ফোলা। কিন্তু ইমরানের চোখমুখ ফোলা কেন! সে ও কি কেদেছে! নাফিসার খুব খারাপ লাগছে এ চেহারাটা দেখে! ইমরান নাফিসাকে বললো,
ইমরান- শাড়ি কোথায়? কি সমস্যা শাড়িতে, বল?
নাফিসা কোন জবাব দিলো না। ইমরানের দিকে তাকিয়েই রইল! অন্যদিন হলে এতোক্ষণ ঘুরানোর ফলে বকা দিতো না হয় দুষ্টুমি করে দু তিনটা ঠুসিও দিতো মাথায়! আর আজ একটুও বিরক্ত হচ্ছে না। এভাবে চুপচাপ তাকিয়ে থাকতে দেখে ইমরান আবার বললো,
ইমরান- শাড়ি কোথায়?
নাফিসা- ভেতরে আসো।
নাফিসা ইমরানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতর চলে গেলো। রেস্টুরেন্টে মানুষ জন কম। এক কোনে খালি টেবিলটায় চেয়ার টেনে বসে পড়লো। ইমরানও পিছু পিছু এসে নাফিসার বিপরীতে চেয়ার টেনে বসলো। নাফিসা তার পার্সটা টেবিলের উপর রাখলো।
নাফিসা- কি খাবে বলো।
ইমরান- আমি এখানে খেতে আসিনি। তুই খা। শাড়িতে কি প্রব্লেম আছে সেটা বল। সমাধান করে বাসায় যাবো। কাজ আছে আমার।
নাফিসা- শাড়িতে কোন সমস্যা নেই।
ইমরান- তাহলে আমাকে আসতে বললি কেন?
নাফিসা- এমনি আসতে বলেছি।
ইমরান- তোর কাজ না থাকতে পারে, কিন্তু আমার আছে। শুধু শুধু সময় নষ্ট করার কোন মানে হয়না। আমি যাচ্ছি…
নাফিসা- চলে গেলে খুব খারাপ কিছু হয়ে যাবে বলে দিলাম। চুপচাপ বসে থাকো।
ইমরান উঠতে নিয়েও উঠলো না। চুপচাপ বসে আছে। ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করলো কি অর্ডার করবে, নাফিসা বলে দিলো একটু পর অর্ডার করবে। ইমরান চুপচাপ বসে টেবিলের দিকে তাকিয়ে ফোনটা টেবিলের উপর রেখে ঘুরাচ্ছে। নাফিসার খুব কষ্টও হচ্ছে আবার রাগও হচ্ছে ইমরানের উপর। কিছুক্ষণ নিরবে থেকে নাফিসা বললো,
নাফিসা- আমার ফোনে টাকা পাঠিয়েছে কে?
ইমরান নিচের দিকে তাকিয়েই জবাব দিলো,
ইমরান- আছে হয়তো কেউ, টাকা পাঠানোর জন্য।
নাফিসা- এমন আঁকাবাঁকা কথা কেন বলো! কাল কতগুলো কল দিয়েছি, রিসিভ করোনি কেন? এতোগুলো মেসেজ করেছি, রিপ্লাই করোনি কেন? বারবার সরি বলছি তাও কোন রিয়েক্ট করছো না কেন! রাগের মাথায় একটু উল্টাপাল্টা বলেছি তাই এতো ভাব দেখাবে! এতোটাই খারাপ আমি, যে আমার সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছো না! এতোটাই কি খারাপ দেখতে যে আমার দিকে একবার তাকাতেও পারছো না!
কথাগুলো বলতে বলতে নাফিসার গলা ধাধিয়ে আসছে। চোখের বাধ ভেঙে একফোঁটা, দুফোঁটা করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ইমরান চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো নাফিসার চোখে পানি। চোখে চোখ রেখেই ইমরান বললো,
ইমরান- এতোকিছু করলি আর আল্লাহর কাছে এই দোয়াটা করলি না আমার মৃত্যুটা যেন বিয়ের আগে আসে।
নাফিসা- ভাইয়া! প্লিজ! আর একটা বারও এ কথাটা বলবা না! এভাবে না বলে, আমাকে খুন করে ফেলো! তা ও সহ্য করে নিব।
নাফিসা দু’হাতে নিজের মুখ ঢেকে কাদতে লাগলো। ইমরান ঘাড় ঘুরিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলো। নাফিসার কান্না সহ্য হচ্ছে না তার। বাইরের দিকে তাকিয়েই বললো,
ইমরান- কাদতে হলে আমার সামনে থেকে যা। না হলে আমি চলে যাবো।
নাফিসা উঠে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেলো। চোখে পানি ছিটিয়ে যাচ্ছে কিন্তু চোখের বৃষ্টি ঝরা বন্ধ হচ্ছে না। এতো পানি আসে কোথা থেকে চোখে! অনেক্ক্ষণ পানি ছিটিয়ে ভেসিনের পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে মুখ মুছে আবার টেবিলে ফিরে এলো। ইমরান এখনো ঘাড় বাকা করে বাইরে তাকিয়ে আছে। নাফিসা চেয়ারে বসে কন্ঠ স্বাভাবিক করে বললো,
নাফিসা- হয়েছে তো এবার। আর কতো এমন করে থাকবা? কি করলে আমার উপর রাগ ছেড়ে স্বাভাবিক হবে, বলো?
ইমরান বড় একটা নিশ্বাস ছেড়ে নাফিসার দিকে তাকালো আর একটু নেড়েচেড়ে বসে দুহাত টেবিলের উপর রেখে বললো,
ইমরান- আমার ক্ষুধা লেগেছে। সকালে নাস্তা করিনি।
নাফিসা বুঝতে পেরেছে ইমরান স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই একটু হেসে বললো,
নাফিসা- কি খাবে অর্ডার করো, আজ আমি বিল দিবো।
ইমরান- টাকা আছে?
নাফিসা- হুম, শর্ট পড়লে ধার দিও। পরে শোধ করে দিবো।
ইমরান- তুই কি খাবি?
নাফিসা- একটা লাচ্চি।
ইমরান- আর?
নাফিসা- আর কিছু না।
ইমরান ওয়েটার কে ডেকে সাত আটটার মতো রেসেপি অর্ডার করলো। ওয়েটার খাবার এনে দিলে নাফিসা দেখে হা করে রইলো। ইমরান এতো খাবার অর্ডার করেছে! বিল দিবে বলেছে তাই সত্যিই তার পার্স পুরো খালি করে ছাড়বে! এতো খাবার একসাথে খাবে কিভাবে! ইমরান নিজের চেয়ার ছেড়ে নাফিসার পাশের চেয়ারে বসলো।
ইমরান- খাওয়া শুরু কর।
নাফিসা- আমি কি বলেছি নাকি খাবো! তুমি খাও। আমি নাস্তা করে এসেছি।
ইমরান- আমিতো খাবোই। তুইও খাবি।
ইমরানের জোরাজোরিতে নাফিসা চিকেন ফ্রাই থেকে একটু খেয়েছে আর আর একটা বার্গার খেয়েছে। এগুলো খাওয়ার পর লাচ্চিটাও পুরো খেতে পারেনি। অর্ধেক লাচ্চিসহ বাকি সব খাবার ইমরান খেয়েছে। খাওয়া শেষে তেরোশো সত্তর টাকা বিল নাফিসাকেই পরিশোধ করতে হয়েছে। বাসা থেকে পনেরোশো টাকা নিয়ে বের হয়েছিলো, তার উপর ভাড়া আবার রেস্টুরেন্ট বিল! যা আছে বাসায় যেতে পারবে কি না সন্দেহ! রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আসতেই নাফিসা বললো আজ সারাদিন ঘুরবে কিন্তু ভ্রমণ খরচ ইমরানকে বহন করতে হবে। ইমরান হাসলো তার কথায় তারপর নাফিসাকে নিয়ে মোহনা প্লাজায় ঢুকলো। দোতলা ও তিনতলার সম্পূর্ণ কমপ্লেক্স ঘুরলো কিন্তু কেউই কিছু কিনলো না। ইমরান নাফিসার উদ্দেশ্যেই এসেছিলো কিন্তু নাফিসা কিছু না কেনায় বেরিয়ে এসে একটা রিকশায় উঠলো। একটা পার্কের সামনে এসে নামলো। খোলামেলা পার্ক অর্থাৎ কোনো গেইট নেই টিকিট কাটতে হয় না! গাছপালা আছে, বসার জন্য সুন্দর জায়গাও আছে। পরিবেশটা খুব ঠান্ডা। দৃঢ় পায়ে দুজনেই সমানতালে হাটছে। এই ভরদুপুরে ঠান্ডা পরিবেশে হাটতে ভালোই লাগছে।
নাফিসা- একশো টাকা পাঠিয়েছো কেন?
ইমরান- কেন?
নাফিসা- আমি ফোনে কারো সাথে বেশি কথা বলি না। আর মেয়াদ থাকে এক মাস! এক মাসে একশো টাকা শেষ হবে না।
ইমরান- শেষ না করতে পারলে শান্তার কাছে দিস, শেষ করে দিবে।
নাফিসা- হিহিহিহি…. তাহলে দুদিনও যাবে না! ওহ! না আজ তো মাহিন ভাইয়া বাসায়ই আসবে তাহলে শান্তা আপুরও কাজে লাগবে না।কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে আমার ব্যালেন্স শেষ?
ইমরান- কন্টাক্ট নম্বরের মেসেজ বাদ দিয়ে মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠালে জানবোই তো!
নাফিসা- হিহিহি….. কাল রাতে ঘুমাও নি?
ইমরান- না।
নাফিসা- চোখ ফোলা কেন?
ইমরান- জানি না।
নাফিসা- কেদেছো তুমি?
ইমরান- ছেলেরা কাদে না।
নাফিসা- কাদে! চাচা মারা যাওয়ার সময় আমি বাবাকে কাদতে দেখেছি।
নাফিসা ইমরানের হাত ধরে দাড় করিয়ে ইমরানের সামনে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
নাফিসা- কেদেছো না তুমি?
ইমরান কিছু না বলে ঘুরে উল্টো দিকে হাটতে লাগলো। নাফিসা তার হাত ধরে হাটতে হাটতে বললো,
নাফিসা- সরি। আর কখনো এসব বলবো না।
ইমরান- নাফিসা স্টপ।
নাফিসা- ভাইয়া,প্লিজ। সরি বলছি তো।
ইমরান- (চেচিয়ে) আমি ভুলতে চাচ্ছি, তুই ভুলতে দিচ্ছিস না কেন?
নাফিসার চোখে পানি ভীড় জমিয়েছে। চোখের পানি মুছে ছোট বাচ্চাদের মতো ইমরানের হাতের আঙুল ধরে সামনে হাটতে হাটতে বললো,
নাফিসা- এখন কোথায় যাবো ঘুরতে?
ইমরান কোন জবাব না দিয়ে নাফিসার হাতটা ধরে সামনে হাটতে লাগলো। পার্ক থেকে বেরিয়ে বাস স্টেশনের দিকে হাটতে লাগলো। নাফিসা হঠাৎ বলে উঠলো,
নাফিসা- ভাইয়া, ফুচকা খাবো।
ইমরান তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফুচকার দোকানে নিয়ে গেলো। ইমরান কিছু বলার আগেই নাফিসা বললো,
নাফিসা- মামা, দুই প্লেট ফুচকা দিন।
ইমরান নাফিসার হাত ছেড়ে দিয়ে চেয়ারে বসে পড়লো। আরেকটা চেয়ার নাফিসার দিকে এগিয়ে দিলো।
নাফিসা- আমি বসবো না। দাঁড়িয়ে খাবো।
ইমরান- দাড়িয়ে দাড়িয়ে কিসের খাওয়া?
নাফিসা- ওফ! তুমি বুঝবে না! রাস্তার ধারে দাড়িয়ে ফুচকা খাওয়ার মজাই আলাদা!
দোকানদার ফুচকা এনে দিলে ইমরানের হাতে এক প্লেট দিয়ে নাফিসা দাঁড়িয়ে খেতে লাগলো। ইমরানও বসা থেকে উঠে নাফিসার মতো দাড়িয়ে খেতে লাগলো। তিনটা ফুচকা খেয়ে বাকিগুলো নাফিসার প্লেটে তুলে দিলো।
নাফিসা- আর খাবে না?
ইমরান- না। রেস্টুরেন্টে যে খাবার খেয়েছি, আজ সারাদিন না খেলেও চলবে।
নাফিসা সবগুলো শেষ করলো। ইমরান টাকা দিয়ে আবার নাফিসার হাত ধরে সামনে হাটতে লাগলো। হঠাৎ করে নাফিসা হাত ছুটিয়ে ইমরানের অপর পাশে গিয়ে ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে পিছু পিছু হাটতে লাগলো। ইমরান অবাক হলো তার কর্মে! সামনে তাকিয়ে দেখলো ছাতা ধরে এক লোক আসছে। ইমরান সন্দেহ করলো এই লোকের জন্য হয়তো এমন করছে। লোকটা তাদের পাশ দিয়ে চলে যেতেই নাফিসা মুখ থেকে ওড়না সরিয়ে ইমরানের সাথে হাটতে লাগলো।
ইমরান- এমন কেন করলি? ওই লোকটাকে দেখে?
নাফিসা- হুম।
ইমরান- কে উনি?
নাফিসা- আমাদের ভার্সিটির আলভী স্যার।
ইমরান- তো এখানে পালানোর কি আছে?
নাফিসা- রহস্য আছে।
ইমরান- কি রহস্য!
নাফিসা- স্যার এখন দেখলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করতো তুমি কে! আমি তোমার সাথে ঘুরছি কেন! তারপর যদি জানতো আমার হবু বর, তাহলে এলাহি কান্ড ঘটতো!
ইমরান- এলাহি কান্ড ঘটতো কেন?
নাফিসা- আরে জানো না! স্যারের ছেলের জন্য আমাকে পছন্দ করেছে। আমাকে ছেলের বউ করে নেয়ার জন্য মাহিন স্যারের কাছে প্রায়ই ভ্যান ভ্যান গ্যান গ্যান করে! এখন যদি জানতো কাল বাদে পরশু আমার বিয়ে, তাহলে তো মাহিন স্যারের সাথে ঝগড়াই লেগে যেত আর না হয় স্যার হার্ট অ্যাটাক করতো!
নাফিসার কথা শুনে ইমরান হা হা হা করে হাসতে লাগলো। নাফিসাও ইমরানের হাসি দেখে হাসলো।
ইমরান- স্যারের ছেলের জন্য! স্যার কে দেখে তো মনে হয় স্যারের নিজেরই বিয়ের বয়স! পয়ত্রিশ বছর হবে কি না সন্দেহ! হা হা হা…
এমনিই ইমরানের ফোন বেজে উঠলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখলো মাহিন ভাইয়া কল করেছে!
ইমরান- এই দেখ! মাহিন ভাইয়ার কথা বলতে বলতে কল করে ফেলেছে!
আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
মাহিন- ওয়ালাইকুম আসসালাম। কোথায় আছো?
ইমরান- ঢাকাতেই আছি।
মাহিন- নাফিসা তোমার সাথে?
ইমরান- হ্যাঁ।
মাহিন- মাইর দাও একটা! ফোন কোথায় ওর! মা, শান্তা কতবার কল দিয়েছে হিসেব আছে! আর ও বলে যাবে না কার সাথে গেছে, এদিকে টেনশনে আছে সবাই!
ইমরান- এই ফোন কোথায় তোর?
নাফিসা- ব্যাগে, মনে হয় সাইলেন্ট করা!
ইমরান- ভাইয়া সাইলেন্ট করা তাই শুনতে পায়নি! আপনি কোথায়?
মাহিন- এইতো কিছুক্ষণ হলো নাফিসাদের বাসায় এসেছি।
ইমরান- ওহ আচ্ছা। নাফিসার ফিরতে দেড়ি হবে। ভাইয়া আলভী নামে আপনাদের ভার্সিটির স্যার আছে?
ইমরানের কথা শুনে নাফিসা হা করে আছে!
মাহিন- হ্যাঁ, কেন?
ইমরান- উনার ছেলে আছে?
মাহিন- হ্যাঁ, সাড়ে তিন বছরের এক ছেলে আছে।
ইমরান- কত! সাড়ে তিন বছর?
মাহিন- হ্যাঁ।
ইমরান- আর কোন ছেলে নেই?
মাহিন- না একটাই ছেলে। পাচ বছরের মতো হবে স্যার বিয়েই করেছে!
ইমরান- আচ্ছা রাখি এখন। আল্লাহ হাফেজ।
মাহিন- আল্লাহ হাফেজ।
নাফিসা মিথ্যে বলে ধরা পড়ে যাওয়ায় দাতে দাত চেপে আগেই এক প্রকার দৌড়ে সামনে চলে গেলো। ইমরান দৌড়ে তাকে ধরেই ফেললো! হাতে জোরে চেপে ধরে হাটতে হাটতে বললো,
ইমরান- আলভী স্যারের ছেলের জন্য পছন্দ করেছিলো না?
নাফিসা- ওফ! ব্যাথা পাচ্ছি!
ইমরান- মিথ্যে বললি কেন?
নাফিসা- মিথ্যে না বললে হাসতে না, হি হি হি….
ইমরান মুচকি হেসে নাফিসাকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে একটা বাসে উঠলো। খালি সিটে পাশাপাশি বসে পড়লো দুজন।

নাফিসা- স্যারের ছেলেটা দেখতে অনেক কিউট! মাঝে মাঝে ভার্সিটি নিয়ে এলে বাবুটার গাল টেনে দেই! হিহিহি…. আর আমার কাছেই বেশি থাকে!
ইমরান- বড় হলে তো পরশু বর সাজিয়ে নিয়ে আসতাম!
নাফিসা- হিহিহিহি…..
ইমরান- বাসায় বলে আসলি না কেন আমার সাথে এসেছিস?
নাফিসা- বলেছি তো মাকে, তোমাদের বিশস্ত মানুষের সাথে ঘুরতে যাচ্ছি! না বুঝলে আমি কি করবো!
ইমরান মৃদু হাসলো! কেউ আর কোন কথা বললো না। নাফিসা ইমরানের কাধে হেলান দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। ইমরান লক্ষ্য করলো নাফিসার চোখে ঘুম নেমে ছোট হয়ে আসছে! হবেই তো, সারারাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে! ধানমণ্ডি পেরিয়ে বাস থেকে নেমে একটা রিকশায় উঠলো। রিকশা থেকে একটা আটতলা ভবনের সামনে নামলো। ইমরান নাফিসাকে নিয়ে লিফটে উঠলো। নাফিসা কিছু বলছে না। শুধু তার সাথে যাচ্ছে। ছয়তলায় এসে একটা কেবিনে ঢুকলো। এ কোথায় নিয়ে এলো ইমরান তাকে! নাফিসা ভাবতেও পারেনি এখানে নিয়ে আসবে ইমরান!
.
( আপনাদের রিকুয়েষ্ট এ আজ #ভালোবাসি_প্রিয় গল্পের পার্ট না দিয়ে #অদ্ভুত_মেয়ে ই দিলাম। কিন্তু অনেকে যে ওটার জন্যও রিকুয়েষ্ট করছে! এখন আমি কি করবো!!!)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here