বস আমার এক্স লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া পর্বঃ ০৭

0
78

গল্পের নামঃ #বস আমার এক্স
লেখকঃ মোঃ শামীম মিয়া
পর্বঃ ০৭

পরের দিন যে যার মত সমুদ্র দেখতে বেড়িয়ে গেলো। কেউ বা সমুদ্রের জলে ডোবে ভাসে আবার কেউ সেলফি তুলে কেউ বা টিকটিক ভিডিও বানায় কেউ বা লাইভ ভিডিও করতেছে। কেউ বা ছাতার নিচে বসার যে চেয়ার গুলো আছে সেখানে শুয়ে ডাব খাচ্ছে কেউ বা আবার নিজের জীবনসঙ্গিনীর সাথে মজা করতে। সবার থেকে দূরে মামুন বালির উপরে বসে আছে। মিতু একটু এগিয়ে গেলো তানহার দিকে, মুখে মুচকি হাসি থাকলেও মুখটা তার লজ্জায় লাল হয়ে আছে।

মিতুঃ ম্যাম একা একা সমুদ্রের জলে যে আপনার কেউ আসে নাই।

তানহাঃ আমার আবার কে আসবে( একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে)

মিতুঃ অফিসের সবাই তো কাউকে না কাউকে নিয়ে এসেছে আপনি যে একা আসলেন?

তানহাঃ কেনো আপনিও তো একা এসেছেন আপনার কি তাতে কোন সমস্যা হচ্ছে।

মিতুঃ কি যে বলেন না ম্যাম আমি আবার কোথায় একা আসলাম।( লজ্জা পেলো বলতে)

তানহাঃ আপনি তো একাই এসেছেন আর এত লজ্জা পাচ্ছেন কেনো?

মিতুঃ আমি তো একা আসি নাই আমার সাথে তো মামুনও এসেছে( এতক্ষণে আসল কথাটা বলল)

তানহাঃ তা মামুন সাহেব কি আপনাকে ভালোবাসার কথা বলেছে?

মিতুঃ আপনি বলেন নাই ম্যাম!

তানহাঃ হ্যাঁ বলেছি কিন্তু মামুন সাহেব না করে দিয়েছে।

মিতুঃ আমি জানি আপনি বললে সে হ্যাঁ বলবে না আমি বললে ঠিকই সে রাজি হবে( মুখে ওড়না দিয়ে আঙুল পেচিয়ে বলল)

তানহাঃ আচ্ছা আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিজে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। কি বেহায়া মেয়েরে বাবা আমার কথা বিশ্বাস করে না( এই কথাটা মনে মনে বলল)

মিতুঃ ম্যাম তাহলে যাই গিয়ে বলি এই সময় মামুন একা আছে আপনি গোসল করতে থাকেন( হি হি করে হেসে দৌড়ে উঠলো জল থেকে)

তানহা মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখতেছে। মিতু তো মামুনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মামুন একা একা বসে সমুদ্রের জলের ঢেউ উপভোগ করতেছে। হঠাৎ দেখলো মিতু তার কাছে বসে আছে আর মুচকি মুচকি হাসতেছে।

মামুনঃ কি ব্যাপার এভাবে হাসতেছেন যে আর আপনি আসলেন কখন?

মিতুঃ আমি মাত্র এসেছি, মনে আনন্দের ঢেউ হচ্ছে দেখে হাসতেছি।

মামুনঃ আচ্ছা হাসেন সমস্যা নেই, কিন্তু আপনি আমার কাছে এলেন যে।

মিতুঃ তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো বলে এখানে আসলাম। তাছাড়া আশেপাশে তেমন কেউ নেই তাই ভাবলাম মনের কথাটা বলেই দেই।

মামুনঃ তা কি এমন মনের কথা বলেন তো শুনি।

মিতুঃ আসলে আমি কোন কথা চেপিয়ে বলতে পারি না। যা বলার সোজাসাপ্টা বলে দেই মনের ভিতরে কথা রাখতে পারি না।

মামুনঃ হুমম সব বুঝলাম এবার তো বলেন কি বলবেন।

মিতুঃ আসলে তোমাকে আমি খুব পছন্দ করি এমন কি অনেক আগে থেকে তোমাকে ভালোবাসি আমি। আই লাভ ইউ মামুন আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আমাকে কি তোমার জীবন সঙ্গী বানাবে?

মামুনঃ হুমম সব বুঝলাম এখন আচ্ছা আপনার এই কথার উত্তর কালকে দিবো কেমন। দয়া করে আজকে আর জোড় করবেন না। সবাই আনন্দ করতেছে আপনিও করেন।

মিতুঃ আমার এত তারাহুরো নেই যখন মন চায় তখন বলে দিও। আমি কিন্তু কালকের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

বলেই মিতু লজ্জা মুখে হাসতে হাসতে চলে গেলো। দূর থেকে মামুন আর মিতুর কোন কথা শুনতে না পারলেও। মিতুর হাসি দেখে এটা অবশ্য তানহা বুঝে গেলো নিশ্চয়ই মামুন হ্যাঁ বলেছে। তানহার খুব রাগ হলো বাসে বলল কি আর এখন করলো কি। তাই তানহা রেগেমেগে মামুনের কাছে গিয়ে কোন না বলে ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় মারলো।

মামুনঃ আমি আবার কি করলাম কি কারনে মারলেন আমাকে( গালে হাত দিয়ে)

তানহাঃ নিজেকে খুব পাকা খেলোয়াড় মনে করিস তুই না। আমাকে বাসে বললি এক কথা আর এখানে বলতেছিস আর এক কথা।( রেগে)

মামুনঃ আপনার কথার আগা মাথা কিছুই তো বুঝতে পারতেছি না।

তানহাঃ না বোঝার মত তো কথা নয়। বাসে বললি মিতু কে ভালোবাসিস না আর এখন কি করলি তুই। সব বুঝি আমি উপরেরও খাবি তলেরও কুড়াবি।

মামুনঃ আমি মিতু কে কিছুই বলি নাই আমাকে কেনো ভুল বুঝতেছেন আপনি।

তানহাঃ কিছু না বললে কেউ নিশ্চয়ই এভাবে লজ্জা পেয়ে হাসতে হাসতে যায় না। তুই যদি হ্যাঁ বলিস অবশ্যই খুশি হবে হাসবে আর তুই যদি না বলিস অবশ্যই মন খারাপ করে চলে যাবে। তাহলে মিতু কেনো এভাবে গেলো।

মামুনঃ ম্যাম সবাই এখানে আনন্দ করতে এসেছি তাই তার মনে ব্যথা দিতে চাইনি বলে আমি বলেছি( আর বলতে দিলো না)

তানহাঃ বলেছিস তুই মিতু কে ভালোবাসিস তাই তো। তোকে আমার চেনা আছে, অনেক আশা করে এখানে এসেছিলাম তোকে আবারো কাছে টেনে নিবো বুকে টেনে নিবো কিন্তু তুই সেটা হতে দিলি না আবারো প্রমান করে দিলি তুই ঠকাতে জানিস এর চেয়ে ভালো কিছু তুই পারিস না।( খুব রেগে কাঁদো কাঁদো ভাবে)

মামুনঃ প্লিজ তানহা আমাকে ভুল বুঝ না আমার কথা টা শোন আগে। আমিও তোমাকে ভালো( আবারো বলতে পারলো না)

তানহাঃ চুপ কর বেঈমান আমাকে কোন সাহসে তুমি করে বলিস ছোটলোকের বাচ্চা। আর আমাকে কোন যোগ্যতায় ভালোবকসি কথাটা বলতে চাস। তোর মত এমন হাজারো কর্মচারী আছে আমার তাদের সবাই কে কি ভালোবাসবো নাকি আমি।( খুব রেগে)

মামুনঃ তানহা তোমার যা মন চায় বলো কোন সমস্যা নাই। আগে তো আসল কথাটা শুনবে নাকি, ভালো একাই তুমি বাসো নাই আমিও বেসে( ঠাস ঠাস করে আরো দুটো দিলো)

তানহাঃ ছোটলোকের বাচ্চা চুপ কর আর একবার যদি তুমি করে বলেছিস তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো। আর তোকে আমি ভালোবাসাবো এটা তুই কোন স্বপ্নে ভেবেছিস ছোটলোক কোথাকার। আমার সম্পত্তি দেখে তোর এখন ভালোবাসা বের হচ্ছে( কলার ধরে বলল)

মামুনঃ বুঝতে পারি নাই ম্যাম আসলে আমার ধারনা ভুল। আমি মনে করেছি আপনিও হয়তো আমাকে চান। কারন আপনার আচরণ আপনার দেওয়া গিফট বাসে আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুমানো। মিস মিতু কে সাথে দেখলে জেলাস হওয়া। আসলে আমি সরি ম্যাম এরকম ভুল আর হবে না এই ছোটলোকের বাচ্চা জীবনেও আপনার নাম মুখে নিবে না আর তুমি করে বলা কিংবা ভালোবাসার কথা কিছুই বলবে না। আমাকে অনেক মেহেরবানি দেখিয়েছেন এর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ছোটলোকের বাচ্চা কে চাকরি দিয়ে কাজ করিয়ে খুব বড় উপকার করেছেন( কলার ছাড়িয়ে নিয়ে কেঁদে কেঁদে সেখান থেকে চলে গেলো)

তানহাঃ ভাবতেও পারি নাই মামুন তুমি আবারো আমার সাথে বেইমানী করবে। কত আশা করেছিলাম তোমাকে নিয়ে সেই তুমি আবারো আমাকে ভুল প্রমাণ করালে। তোমার জন্য এই তানহা কি করে নাই একটা বারও কি তোমার মনে পরে না। মনে পরলেও কি আর না পরলেই কি কারো উপকার কি স্বীকার করার মত মন আছে তোমার। তোমার শিরায় শিরায় তো বেইমানী আর ঠকানো ভরা( মাটিতে হাটু গেড়ে বসে কেঁদে মনে মনে বলল)

মামুনঃ তানহা তোমাকে আজকে সব সত্যি টা জানাতে চেয়েছিলাম। তাই তো সবার থেকে দূরে বসেছিলাম কখন তুমি আসবে আর কখন তোমাকে সত্যি টা বলবো। কিন্তু দেখো তানহা কি পোড়া কপাল আমার মুখে সত্যি টা আসলেও তা প্রকাশ করতে পারলাম না। হ্যাঁ ভালো নাই বা বাসো সত্যি টা শুনো সত্যি টা শোনার পর যদি এভাবে অপমান করে বলতে কথা গুলো তাও মেনে নিতাম। কিন্তু কোন সত্যি কোন ঘটনা না শুনেই মুখে যা আসলো তাই বললে। আগে তো এরকম ছিলে না তুমি। আর কারো কোন ভয় নেই আর দুটো মাস মাত্র এরপর সবাইকে মুক্ত করে চলে যাবো। যত পারো অপমান করে নিও যত পারো আঘাত করে নিও আমি আর কোন বাঁধা দিবো না আর তো মাত্র দুটো মাস( কেঁদে কেঁদে যেতে বলল মনে মনে সব)

মামুন কাঁদতে কাঁদতে চোখে পানি মুচতে মুচতে হোটেলে নিজের রুমে চলে গেলো। তানহা তখনও সেখানে হাটু গেড়ে বসে কেঁদেই যাচ্ছে। ইশ একটুর জন্য দুটো মানুষ আপন হতে পারলো না। সত্যি তো এটাই মেয়ে হোক বা ছেলে নিজের মনের মানুষের সাথে অন্য কাউকে কেউ কখনও সহ্য করতে পারে না। মামুন রুমে ঢুকার আগে ম্যানেজার কে বলে গেলো তাকে যেনো কেউ ডিস্টার্ব না করে তার রুমে খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
রুমে ঢুকেই মামুন তানহা আর তার অতিতে ফিরে গেলো।

অতিত

মামুনের বাবাঃ কি হলো মামুন এখনও বের হসনি একটু পর তো বাস ছেড়ে দিবে।

মামুনঃ বাবা এই তো হয়ে গেছে আমি রেডি।

মামুনের মাঃ বাবা মামুন শহরে যাচ্ছিস পড়াশোনা করার জন্য নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস ঠিকমত খাওয়া করিস। আর সময় করে আমাদের কে ফোন দিস( মায়ের মন কাঁদবেই)

মামুনঃ মা চিন্তা করো না তোমাদের সকলের আশা পূরণ করে তবেই বাড়ি ফিরবো। আর আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না নিজেদের শরীরের দিকে নজর দিও। আমার জন্য দোয়া করিও মা( মাকে জরিয়ে নিলো)

মামুনের মাঃ সন্তানের জন্য মা বাবার দোয়া সব সময় থাকে বাবা( কপালে চুমু দিলো)

মামুনের ভাইঃ ভাইয়া ফিরে আসার সময় আমার জন্য নতুন বই নিয়ে এসো।

মামুনের বোনঃ ভালো ভাবে যাস ভাইয়া আর আমার জন্য নতুন নতুন জামা আনবি কিন্তু।

মামুনঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আর তোমরা দুজন শোন বাবা মায়ের সাথে সব কাজে সাহায্য করবে তাদের কে কোন প্রকার চাপ দিবে না। আর দু ভাই বোন মন দিয়ে পড়াশোনা করবি নিজেদের শরীরের যত্ন নিবি বাবা মায়ের সেবা করবি।

মামুনের বাবাঃ চল চল দেরি হয়ে গেলো বাস ধরতে হবে।

মামুনের বাবা মামুন কে নিয়ে বাস কাউন্টারের দিকে গেলো। রাস্তায় বাবা ছেলের অনেক কথা হলো

মামুনঃ বাবা আমার পড়াশোনার জন্য জমি বন্দক রাখতে গেলে কেনো। আমি তো এখানে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারতাম। আমার পড়াশোনার টাকার জন্য একে একে সব চাষি জমি বন্দক রাখতেছো তুমি।

মামুনের বাবাঃ আমার খুব ইচ্ছে ছিলো পড়াশোনা করবো চাকরি করবো কিন্তু আমি তা পারি নাই। তাই বলে আমার ছেলে পারবে না তা হবে না। তাছাড়া তুই অনেক ভালো ছাত্র তোর সব শিক্ষক বন্ধু এলাকার মানুষ সবাই বলে। তোকে এই গ্রামে এভাবে রাখি কি করে তুই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে ভালো চাকরি করবি নিজের পায়ে দাঁড়াবি এটাই আমি চাই।

মামুনঃ তাই বলে পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি করে দিবে। এখানে কত খরচ হয় তা জানো বাবা তোমার সব জমি যে নষ্ট হয়ে যাবে।

মামুনের বাবাঃ তাই বলে তোকে গ্রামে এভাবে রাখবো নাকি। আর তুই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে সব জমি ফিরিয়ে দিবি আবার। আমি বেঁচে আছি যা করার মন চায় করবি আমি না থাকলে তখন তো এমন আনন্দ করতে পারবি না হাসি খুশিও থাকতে পারবি না। আমি যা পারি নাই তুই তা সব করবি তোর বাবা তোর সাথে সব সময় আছে।

মামুনঃ তাই বলে সব কিছু আমার পিছনে খরচ করবে। আমার একটা ভাই বোন আছে তাদের কে তো দেখতে হবে তাদের কেও তো শিক্ষিত করতে হবে।

মামুনের বাবাঃ তুই আছিস না আমার তোর প্রতি বিশ্বাস আছে তুই কাউকে ঠকাবি না। আমি এটাও নিজে ঠকবি নিজের শখের জিনিস হারাবি তবুও আমাদের কাউকে ঠকতে দিবি না। তোর প্রতি সেসব বিশ্বাস আছে বাবা। আর বাবা শোন এমন কিছু করবি না যাতে মানুষ কষ্ট পায়। নিজে কষ্টে থাকবি তবুও মানুষ কে সুখে রাখবি। তোর যখন যা লাগবে যত টাকা লাগবে আমাকে বলবি।

মামুনঃ দোয়া করো বাবা যাতে সবার মান রক্ষা করতে পারি। তোমাকে মা কে ভাই বোন কে যেনো সব সুখ দিতে পারি দরকার হলে নিজের সুখ নষ্ট করে ফেলবো বাবা।

মামুনের বাবাঃ কারো সাথে ঝগড়া করবি না কোন খারাপ নেশা করবি না। পড়াশোনা চালিয়ে যাবি নিজের অবস্থানের কথা ভুলে যাবি না। নিজে কে শহরের মানুষের মত মনে করবি না। মনে করবি তুই কাঁদা মাটি মাখানো এক বাবার ছেলে।

আরো নানা রকম কথা হলো বাবা ছেলের মাঝে। বাস কাউন্টারে আসলে মামুন কে গাড়িতে তুলে দিলো। জানালা দিয়ে যতদুর পর্যন্ত বাবা কে দেখা যায় মামুন মাথা বের করে দেখলো।
একটা বছর মামুনের খুব ভালো করে কেটে গেলো। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো পরের বছরে হঠাৎ একদিন ভার্সিটিতে মামুনের সাথে অপরিচিত মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগে।

অপরিচিত মেয়েঃ এই আপনি অন্ধ নাকি চোখে দেখতে পারেন না।

মামুনঃ উফফ সরি আপু আমি আসলে বুঝতে পারি নাই।

অপরিচিত মেয়েঃ আপনাদের মত ছেলেদের ভালো করেই চেনা আছে। যখন কোন সুন্দরী মেয়ে দেখেন অমনি তার গায়ের উপরে গিয়ে পরেন।

মামুনঃ দয়া করে হাসাবেন না নিজেকে সুন্দরী বলে। আপনি যদি সুন্দরী হন তাহলে মডেল নায়িকারা কি পাতিলের নিচের অংশ।

অপরিচিত মেয়েঃ কিইইই এত বড় অপমান আপনাকে তো আমি দেখে নিবো। আজকে আমার ভার্সিটিতে প্রথম দিন তাই কিছু বললাম না।

মামুনঃ এ জীবনে হ্যান্ড সাম ছেলে দেখেন নাই তাই তো সরি বলার পরও গায়ে পরে লাগতে এসেছেন।

অপরিচিত মেয়েঃ পুরাই কালা বান্দর এর থেকেও আপনি হলেন কুমিরের পায়ের মত। ওয়াক থু বমি আসতেছে।

মামুনঃ পাতিলের কালির মত চেহারা যার সে কিনা ওয়াক থু বলে। কি বাজে পোড়া পোড়া গন্ধ আসতেছে ওয়াক ওয়াক বমি আসতেছে আমার।

অপরিচিত মেয়েঃ আপনাকে তো দেখে নিবো আমি সময়ের অপেক্ষা করেন। এই তানহা চৌধুরী কি করতে পারে তা সময় বলে দিবে।

মামুনঃ ইশ নামটার মত যদি চেহারা আর মনটা হতো কতই না ভালো হতো।

অপরিচিত মেয়েটা আর কেউ নয় বরং সে হলো তানহা। তানহা রেগে তার বান্ধবীর কাছে গেলো। মামুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানায় মামুন তার ডিপার্টমেন্টের ভালো ছাত্র। এমন কি তানহার ডিপার্টমেন্ট আর মামুনের ডিপার্টমেন্ট একই। মামুন সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানার পর তানহার ধারনা ভুল প্রমাণিত হলো। ধীরে ধীরে তানহা মামুনের সম্পর্ক ভালো হতে লাগলো। এভাবে তাদের ভার্সিটি জীবন চলতে লাগলো। মামুনের বাবা প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা পাঠায় মামুনের জন্য। কিন্তু অনেক সময়, সময় মত টাকা দিতে পারে না দেরি হয়ে যায়। আর তানহা পড়াশোনায় একটু কাঁচা কিন্তু তানহা চেষ্টা করে যাচ্ছে হচ্ছে না। এর মাঝে তানহার সাথে মামুনের একটা ভালো সুসম্পর্ক হয়।

তানহাঃ এই যে মামুন ভাইয়া একটু শুনবেন।

মামুনঃ হ্যা বলো কি বলবে আমার একটু তারা আছে।

তানহাঃ আচ্ছা ভাইয়া আপনি কাজ সেরে আসুন আমি অপেক্ষা করতেছি।

মামুনঃ আচ্ছা আধা ঘন্টা অপেক্ষা করো আমি বিকাশের দোকানে গিয়ে টাকা তুলে আনবো।

মামুন বিকাশের দোকানে গেলো টাকা তুলতে। কারন তার এ মাসের টাকা তার বাবা একটু দেরিতে পাঠিয়েছে। রুম ভাড়া খাওয়া ভার্সিটির টাকা বই কেনা নিজে টিউশন পরে তার টাকা সব বাকি আছে তাই মামুন দ্রুত গেলো টাকা তোলার জন্য। কিন্তু মামুন যখন ফিরে আসলো তখন দেখে তানহা…….

চলবে কি?

সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করি এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকি। আপনার সন্তান কে কোরআন এবং দ্বীনের শিক্ষা দিন। কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে কেউ গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন না?🙏🙏🙏

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here