Mr. Devil
Part: 02,03,04
Writer: Aruhi Khan
Part: 02
রশ্নি: আমি গেলাম বায়
সাহিদ রহমান (রশ্নির মামা): আরেহ নাস্তা টা তো করে যা
রশ্নি: না মামা,, এমনিই অনেক লেট হয়ে গিয়েছে এখন না বের হলে আরো লেইট হবে
মামা: কিন্তু,,,,
তাদের কথা ভেদ করে নাইমা রহমান(রশ্নির মামী) বলে উঠলেন
…
মামী: খেয়েনে খেয়েনে এতদিন তো আমাদের ঘরে বসেই খেয়ে এসেছিস আর কয়েকটা দিনও নাহয় খেয়েইনে
মামা: নাইমা তুমি আবারও শুরু করলে? আর এসব কি যা তা বলছো কয়েকটা দিন মানে কি?
মামী: আমার বান্ধবী নীলিমার ছেলে সামনে মাসে বিদেশ থেকে আসছে আর আমি ভেবে রেখেছি রশ্নিকে ওর সাথেই বিয়ে দিয়ে দিব আর নীলিমার ছেলে নাকি বিয়ের পর তার বউকে সাথে করে বিদেশে নিয়ে যাবে
ভালোই হবে অপদটা একেবারেই বিদেয় হবে
মামা: তুমি এসব কি বলছো? তুমি কি রশ্নি আর নাহিদের বিয়ের কথা ভুলে গেছো?
মামী: শুনো আমি কোনই মতেই এই অলক্ষুণি মেয়েটিকে আমার ছেলের ঘাড়ে চাপতে দিব না বুঝেছো?
মামা: তোমার সাথে এসব ফালতু বেপার নিয়ে কথা বলে না আর নিজের সময় নষ্ঠ করতে ভালো লাগে না
সবার আড়ালে রশ্নি নিজের চোখের কোনে জমে থাকা জলটা মুছে “আসছি” বলে বেরিয়ে পড়ল
মামা: তোমার জন্য মেয়েটা নাস্তাটাও করে যেতে পারলো না
মামী: ওহ প্লিজ ড্রামা টা এবার অন্তত অফ করো
বলেই নাইমা রহমান নিজের রুমে গিয়ে জোরে দরজা বন্ধ করে দিলেন
নাইমা রহমানের যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সাহিদ রহমান নিজের হাতের খাবারের প্লেইটটাকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিলেন
সাহিদ রহমান: খুব ডানা গজিয়েছে না তোর? ডানা যে কিভাবে ছাঁটতে হয় তা খুব ভালো করে জানা আছে আমার
বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন সাহিদ রহমান
…
স্কুটিতে সেই কবে থেকে বসে আছে কিন্তু জ্যাম যেন ছুটছেই না
রশ্নি: উফ এই ঢাকা শহরে যে কেন এত জ্যাম থাকে কে জানে
আর তোমাকেও বলি সূর্য মামা
নিজের ব্রাইটনেস টা একটু কমাও
নাহলে যে তোমার রশ্নির জন্য এই রশ্নি আজ গোলেই যাবে
রশ্নি এমন আরো অনেক আজব আজব বকবক করেই চলেছে কিন্তু দুটো চোখ যে তাকে সেই কখন থেকে এক ধ্যানে দেখেই চলেছে সে দিকে তার কোনো খেয়ালই নেই
…
নিশা, নেহা হাত ধরে বাড়িতে ঢুকছে আর সবাইকে ডাকছে, চোখে মুখে তার খুশির ঝলক স্পষ্ট ফুটে উঠেছে
নিশা: মা, বাবা, রাফি তোমরা সবাই কোথায়
তাড়াতাড়ি এসো
দেখো আমাদের বাসায় কে এসেছে
নিশার ডাকাডাকি শুনে সবাই তাদের বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরে চলে আসলো
অনিমা বেগম: কি হয়েছে বউ মা,,,,
অনিমা বেগমের চোখ গিয়ে পড়লো নিশার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেহার উপর
অনিমা বেগম নিশার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো
অনিমা বেগম: ওহ এম জি, হোয়াট আ সারপ্রাইজ নেহা
পিছন থেকে রাফি বলে উঠলো হেই নেহু কেমন আছো? কত দিন পর দেখা হলো
পাশ থেকে ইয়ানাফ আহমেদ বললো
ইয়ানাফ আহমেদ: আমাদের তো ভুলেই গিয়েছিলে
নেহা: নাথিং লাইক দ্যাট আঙ্কেল, আসলে স্টাডি নিয়ে একটু বিজি ছিলাম তো তাই যোগাযোগ করতে পারিনি এতদিন আপনাদের সাথে
অনিমা বেগম: আচ্ছা এখন এসব কথা বাদ দাও মেয়েটা এতদিন পর বাসায় এসেছে এই তোমরা ওকে বাহিরে দার করিয়ে রেখেছো
ইয়ানাফ আহমেদ: হুম তাইই তো, উই আর রিয়েলি রিয়েলি সরি নেহা
রাফি: হ্যাঁ নেহা তুমি ভিতরে এসো
নেহা গিয়ে সোফায় বসলো
নেহার চোখ দুটো এদিক ওদিক কাওকে খুঁজছে
তখনই অনিমা বেগম বলে উঠলেন
অনিমা বেগম: নেহা তুমি কি খাবে সেটা বলো
নেহা: না আন্টি এখন কিছু খাবো না বাট মিস্টার চার্ম কোথায় তাকে তো দেখছি না
সে নাকি কাল দেশে ফিরেছে তাইই তো আমি আজ চলে আসলা,,,,,
বলতেই জিভে কামড় দিলো নেহা
আর সাথে সাথেই সবাই হেসে দিলো
অনিমা বেগম: হুম ও কালই ফিরেছে কিন্তু আজ থেকেই অফিস জইন করেছে
নেহা: ওহ, তাহলে ও আসবে কখন
অনিমা বেগম: চিন্তা করোনা ও সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসবে
…
রশ্নি খুব তারার সাথে অফিসে প্রবেশ করছে
রশ্নি: উফফ এই মরার জ্যামের জন্য আজও লেইট হলো ধ্যাত ভাল্লাগে না
রশ্নি নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলতে বলতে আসছিল ঠিক তখনই কার সাথে যেন ধাক্কা লেগে মাথায় বাড়ি খেলো
রশ্নি নিজের মাথা ঘষতে ঘষতে লোকটির দিকে না তাকিয়েই বলতে লাগলো
রশ্নি: কে রে এই বিল গেটস এর নাতি
অফিস টা কি তোর বাপের সম্পত্তি নাকি যে চোখ দুটো বাসায় রেখে এসে এখানে ঘুরছিস আর আমাকে ধাক্কা মারছিস
রশ্নির কথা শুনে সামনের লোকটি অগ্নি দৃস্টি নিয়ে রশ্নির দিকে তাকিয়ে আছে
চলবে,
Mr. Devil
Part: 03
Writer: Aruhi khan
রশ্নির কথা শুনে সামনের লোকটি অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে রশ্নির দিকে তাকিয়ে আছে
রশ্নি এতক্ষন খেয়ালই করেনি যে ও কাকে এতক্ষন এতকিছু বলছিল
রশ্নি সামনে তাকিয়ে থাকা বেক্তিটিকে দেখে গলা শুকিয়ে আসছে
রশ্নি কাপাকাপা কণ্ঠে বললো
রশ্নি:- হেহেহে(মিথ্যে হাসির চেষ্টা করে) হেলো হাতি আঙ্কেল
::*- কিপ ইওর মাউথ শাট মিস খান (দাঁতে দাঁত চেপে)
আমি আপনাকে আগেও অনেক বার বলেছি যে আমার নাম হাতি নয় হাতিম, হাতিম সিদ্দিক
রশ্নি: গালতিসে মিসটেক হেহেহে (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)
হাতিম সিদ্দিক:- আর আমাকে কোন এঙ্গেলে আঙ্কেল লাগে? খবরদার যদি নেক্সট টাইম আমার নাম ভুল বলেছেন আর আমাকে আঙ্কেল বলে দেখছেন তো আপনার চাকরিটা আর থাকবে না মনে থাকে যেন(চেচিয়ে)
(এতক্ষন রশ্নি যার সাথে কথা বলছিল সে রশ্নির অফিসের ম্যানেজার হাতিম সিদ্দিক যাকে রশ্নি সব সময় ভুলে হাতি বলে)
হাতিম সিদ্দিক:- তো মিস খান আজ ও আপনি লেইট করে কেন এসেছেন
রশ্নি: না মানে রাস্তায় অনেক জ্যা,,,,,,
হাতিম সিদ্দিক:- জ্যাম ছিল তাই তো
রশ্নি: এক্সিলেন্ট,, সঠিক উত্তর (তালি দিয়ে)
হাতিম সিদ্দিক:- শাট আপ মিস খান (চেচিয়ে)
রশ্নি: ?
হাতিম: এক অজুহাত আর কয়দিন দিবেন
সব সময় লেইট করেন আপনি
আজ অফিসে পার্টি আছে তাই আপনাকে মাফ করে দিলাম নাহলে আজই আপনার চাকরিটা যেতো
রশ্নি: জি সরি
:-হুহ বস যে কি দেখে এসবকে চাকরিতে রাখে
বলতে বলতে সেখান থেকে নিজের ক্যাবিনে চলে গেল হাতিম সিদ্দিক
রশ্নিও ভেংচি কেটে নিজের ক্যাবিনে চলে গেল
…
নেহা রুমে বসে আছে সেই কখন থেকে কিন্তু তার একটুও ভালো লাগছে না মনই টিকছে না কেমন ছটফট ছটফট করছে তার মনটা
তার মন চাচ্ছে যেন ছুটে তার মিস্টার চার্মের কাছে চলে যেতে পারতো
হটাৎ নিশার আগমন:-
নিশা এসে তার ছোট বোনের পাশে বসলো
তার কাঁধে হাত রেখে বললো:-
নিশা: কি হয়েছে নেহা? একা একা ভালো লাগছে না?
নেহা: আপ্পি তুমি তো জানোই আমার এখানে কেন আসা। লন্ডন এর এত নাম করা ভার্সিটিতে পড়ার চান্স পেয়েও আমি এখানের চিপ ভার্সিটিতে পড়তে এসেছি শুধু মাত্র ওর জন্য
নিশা: হুম আমি তো সব জানি তো কি হয়েছে তুই হঠাৎ এসব বলছিস কেন
নেহা: আমি এত কিছু ছেড়ে যার জন্য আসলাম সে কি আমায় বুঝবে? আমার ভালোবাসাটা বুঝবে?
নিশা: বুঝবে না কেন? অবশ্যই বুঝবে। আমার বোনের মধ্যে কি কমতি আছে যে বুঝবে না
আর না বুঝলেও ওকে বুঝতে হবে ও বুঝতে বাধ্য
নেহা তার বোনকে জড়িয়ে ধরলো
নেহা: আপি আমি ওকে সত্যিই অনেক ভালোবাসীরে। ওকে ছাড়া আমি থাকার কথা ভাবতেও পারি না
আমি ওকে চাই আপি শুধু ওকেই চাই
নিশাও তার বোনকে জড়িয়ে ধরলো
নিশা: আমার বোনের কোনো আবদার তার বোন কখনো অপূর্ন রেখেছে হুম? আর এটা তো তোর ভালোবাসা
যে কোনো মূল্যেই হোক না কেন তোর ভালোবাসাকে আমি তোর কাছে এনে দিব বোনটি
এখন কান্না করিস না
নেহা: হুম
নিশা একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে নেহাকে আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
…
রশ্নি নিজের ক্যাবিনে এসে চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লো
রশ্নি: হুহ সব সময় শুধু চাকরি খাওয়ার ভয় দেখায় হাতি কোথাকার
তখনই সেখানে সানার এন্ট্রি
সানা: মে আই কামিন ম্যাডাম
রশ্নি দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে সানা এসেছে
রশ্নি: তোর ভিতরে আসার জন্য আবার আমার পারমিশন লাগবে নাকি ঢং।
এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ভিতরে আয় শাকচুন্নি
সানা রশ্নির কথা শুনে হাসতে হাসতে ভিতরে আসলো
(এতক্ষনে এদের কথা শুনে আপনারা নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে এরা বেস্টু
রশ্নি আর সানা একই স্কুল এবং কলেজে পড়তো আর তারপর একসাথে একই অফিসে চাকরি করে)
সানা: কি হয়েছে জান্টুস? তোকে আজ এত খিটখিটে লাগছে কেন?
রশ্নি: আর বলিস না এই হাতির বাচ্চা আজকে আবার চাকরি খাওয়ার হুমকি দিয়েছে
সানা: লেইট করে আসলে বলবে না
রশ্নি: তুই কি বললি (রেগে গিয়ে)
সানা: না বলছিলাম যে চাকরি খেয়ে দিবে বললেই হলো নাকি আর চাকরিটা কি ম্যানেজার তোকে দিয়েছে নাকি যে খাবে,, চাকরিটা তো তোকে বস দিয়েছে
রশ্নি: হুম তাহলে আবার (একটু ভাব নিয়ে)
সানা: হুম কিন্তু আমাদের বসটাকে এখনো দেখাই হলো না
রশ্নি: হুম আমার লাকি চার্ম
সানা: হুম কিন্তু আমি বুঝলাম না তুই আর আমি একসাথেই অফিসে কাজ করা শুরু করলাম তাহলে বস তোর আসার এক সপ্তার মধ্যেই তোকেই পিএ এর পদটা দিলো কেন
রশ্নি: হয়তো আমার কাজ বেশি ভালো লেগেছিল তাই (একটু ভাবে নিয়ে)
সানা: এক সপ্তার মধ্যে তুই এমন কি ভালো কাজটাই করছিলি (মজা করে)
রশ্নি: ???
সানা: আচ্ছা আচ্ছা আর রাগ করতে হবে না। আচ্ছা দোস্ত শুন না আমার না অনেক কফিপিপাস পাইছে
রশ্নি: বাহ কি সুন্দর একটা ওয়ার্ড সৃষ্টি করলি “কফিপিপাসা”
সানা: দোস্ত,,,,,,,,
রশ্নি: আচ্ছা দারা আমি ক্যান্টিন থেকে কফি নিয়ে আসতেছি
সানা: ওকে
রশ্নি ক্যান্টিনে চলে গেল কফি আনতে
…
আসতে পারি?
দরজায় নক দিয়ে
অনিমা বেগম: আরেহ বৌমা তোমার আসার জন্য আবার পারমিশন লাগে নাকি
চলে এসো
নিশা মিদ্রু হেসে ভিতরে প্রবেশ করলো
নিশা, অনিমা বেগমের পাশে গিয়ে বসলো
নিশা: মা আপনার সাথে কিছু কথা ছিল
অনিমা বেগম: হ্যাঁ বলো
নিশা: মা আসলে নেহা আমাদের বাসায় মনে এই বাড়িতে থেকে পড়তে চায় কারন ও যে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে সেটা আমাদের বাসা থেকে খুবই কাছে আর আমার বাবার বাড়ি থেকে বেশ দূরে তাই যদি আপনি নেহাকে,,,,,
অনিমা: আরেহ আরেহ বৌমা নেহা তো আমাদের মেয়েরই মতো
ও এই বাড়িতে থেকে পড়তে চায় তা তো বেশ ভালোই
নেহা আজ থেকে এই বাড়িতেই থাকবে যতদিন না ওর পড়ালেখা শেষ হচ্ছে
নিশা, অনিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরলো
নিশা: ধন্যবাদ মা
অনিমা: মোস্ট ওয়েলকাম বৌমা
…
রশ্নি দুই হাতে কফি নিয়ে তার ক্যাবিনের দিকে যাচ্ছে
রশ্নি:- এই এই সবাই সরো সামনে থেকে
তখনই কার উপর যেন দুই হাতের গরম কফির গ্লাস গুলো ধাক্কা লেগে পরে গেল
:-হোয়াট দা হেল
রশ্নি: দেখছো,, সর্বনাশটা হয়েই গেল
আর আপনি কি চোখে দেখেন না নাকি?
আমি তো সর সর বলেই আসতেছিলাম
:- শাট আপ ইউ ব্লাডি চিপ গার্ল
এদের দুইজনের চিল্লাচিল্লি শুনে অফিসের সবার দৃস্টি তাদের দিকে
রশ্নি: হোয়াট আমি চিপ?
আর আপনি কি হ্যা? ইউ চিপেস্ট ডেভিল, মনস্টার, ডাইনোসর (রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে)
:- কি আমার মুখে মুখে তর্ক? তুমি জানো আমি কে?
রশ্নি:- শুনুন আপনি যেই দেশেরই রাজি হন না কেন তাতে আনার কিছু আসে যায় না বুঝলেন হুহ
বলেই রশ্নি সেখান থেকে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেল
চলবে,
Mr. Devil
Part: 04
Writer: Aruhi khan
রশ্নি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিজের ক্যাবিনে চলে আসলো
সানা: কি হলো তোকে এত রাগনিত্ব লাগছে কেন? তুই না কফি আনতে গিয়েছিলি
রশ্নি: আমার না আর ভালো লাগছে না।
সানা: আবার কি হলো
রশ্নি: আজকের দিনটাই খারাপ সকাল থেকে একটার পর একটা ঝামেলা ঘটেই আছে
সানা: বলবি তো কি হয়েছে
তারপর রশ্নি সানাকে সব খুলে বললো
সানা: থাক দোস্ত তুই আর রাগ করিস না
চল বাহিরে গিয়ে ডেকোরেশনের কাজে সবাইকে হেল্প করি
রশ্নি: হু চল
…
অনিমা বেগম: তাহলে আসি বৌমা
নিশা: জি মা, পৌঁছে একটা কল দিয়েন, আর নানুর শরীর কেমন আছে সেটাও জানাবেন
অনিমা: হুম মার যে হঠাৎ কি হলো
নিশা: মা প্লিজ মন খারাপ করবেন না, নানা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন,
অনিমা: হুম তাই যেন হয়, তুমি রাফির খেয়াল রেখো আর নেহা তুমিও নিজের যত্ন নিয়ো
নেহা: আন্টি আপনি এভাবে বলছেন কেন, কিছুদিনের মধ্যেই তো আপনি চলে আসবেন তাই না
অনিমা বেগম: হুম কিন্তু তুমি আজ এতো দিন পর আসলে আর আজই আমার চলে যেতে হচ্ছে
নেহা: কোনো বেপার না আন্টি, আপনি তো চলেই আসবেন
অনিমা: হুম তাহলে এবার আসি
অনিমা বেগম আর ইয়ানাফ আহমেদ বেরিয়ে পড়লেন তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে
ওরা চলে যাওয়ার পর নিশা গেইট লাগিয়ে নেহার কাছে আসলো
নিশা: দেখেছিস এটাকেই বলে লাক বাই চান্স
নেহা: মানে?
নিশা: শুন আমার মাথায় একটা অনেক ভালো প্ল্যান এসেছে
নেহা: কি প্ল্যান?
নিশা: শুন আমি এখন রাফির রুমে গিয়ে ওকে বলবো যে আমি ঘুরতে যেতে চাই তারপর ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়বো
তারপর তোর যা করতে হবে মন দিয়ে শুন
নিশা তার পুরো প্ল্যান তা নেহাকে ভালো মতো বুঝিয়ে দিলো
নেহা: ওয়াও আপি ইটস আ গ্রেট আইডিয়া বাট,,,,,
নিশা: বাট কি?
নেহা: জিজু কি আমাকে বাড়িতে এক রেখে যেতে চাইবে? আমি তো তোদের বাড়ির মেহমান
তাই যদি আমাকে রেখে না যাইতে চায়, তাহলে?
নিশা: সেটা আমি ম্যানেজ করে নেব
নেহা: বাট আরেকটা জিনিষ
নিশা: আবার কি?
নেহা: ও যদি রাজি না হয় আর আমাকে ভুল বুঝে তাহলে তো প্রবলেম আরো বেড়ে যাবে
নিশা: আরেহ কিছু হবে না তুই শুধু আমার কথা মতো চল,, আর তোকে ওভাবে দেখেই তো ও পাগল হয়ে যাবে
নেহা: তাই যেন হয়
…
রশ্নি একটা উঁচু টুলের উপর দাঁড়িয়ে বেলুন লাগাচ্ছিলো দেওয়ালে
রশ্নি: ওই সানু আরো বেলুন দে
সানা:,,,,,,
রশ্নি: কিরে দিছিস না কেন তাড়াতাড়ি দে
সানা:,,,,,,
রশ্নি:দেখ তুই কিন্তু আমার রাগাচ্ছিস,,,,
তখনই রশ্নি হাতে কিছু অনুভব করলো
ও বুঝতে পারলো এটা বেলুন
রশ্নি: কিরে এতক্ষন ধরে যে তোকে ডাকছিলাম কানে যাচ্ছিল না? নাকি তোর কানে কবুতর বাসা বেঁধেছে
রশ্নি এমন হাজারটা বকবক করতে করতে কাজ করছিল আর নিচ থেকে একজন বেলুন দিয়েই যাচ্ছিল
রশ্নির কাজ শেষ হওয়ার পর ও টুল থেকে নামার জন্য সামনের দিকে ঘুরলো কারন ও দেওয়ালের দিকে মুখ করে কাজ করছিল
রশ্নি সামনে ঘুরে দেখে এটা সেই বেক্তিটাই যার উপর ও গরম কফি ফেলেছিল
তাজে দেখেই ও একটা চিৎকার দেয় আর ব্যালেন্স কন্ট্রোল না করতে পেরে পড়ে যায়
রশ্নি: আআআআআআআ,,, আমি শেষ, মইরা গেলাম গো, আমি মনে হয় আর বাইচা নাই, তাহলে কি আমি এখন একটা ভুত ধুর আমি তো মেয়ে তার মানে আমি এখন একটা পেত্নী
আল্লাহগো এই দিন দেখানোর আগে আমি মইরা গেলাম না কেন
কিন্তু আমি তোর মরেই গেছি
চোখে দুই হাত দিয়ে এতক্ষন এসব বলছিল রশ্নি
লোকটি: এই মেয়ে চোখ খুল, আর এসব কি বলছো তুমি
লোকটার কথা শুনে রশ্নি তার একটা চোখ খুললো
ওর মনে হলে ও যেন শূন্যে ভাসছে আর লোকটা তার অনেক কাছে
তারপর আরেকটা চোখ খুললো
কিছুক্ষন এভাবে থাকার পর ও বুঝতে পারলো যে ও লোকটার কোলে আছে
এটা বুঝার পর ও চিল্লাচিল্লি শুরু করে হাত পা চূড়াছুড়ি করা শুরু করলো
রশ্নি: আআআআআআআ আমাকে ছাড়ুন
লোকটা: আচ্ছা,
বলেই লোকটা রশ্নিকে ছেড়ে দিলো আর রশ্নি মেঝেতে পড়ে গেলো
রশ্নি: আআআআআআআ বেথা পাইছি
লোকটা এক হাটু গেড়ে রশ্নির সামনে বসলো
রশ্নি চোখ বড় বড় করে লোকটার দিকে তাকালো
রশ্নি: এই আপনি আমাকে ফেলে দিলেন কেন
লোকটা: আপনিই তো বললেন ছাড়তে তাই ছেড়ে দিলাম
রশ্নি অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে লোকটির দিকে তাকালো
আর লোকটি একটা শয়তানি হাসি দিয়ে রশ্নির মুখের একদম কাছাকাছি এসে ওর মুখের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে রশ্নি কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে বললো:-
:-: এটা আমার মুখে মুখে কথা বলার শাস্তি
বলেই রশ্নি গালের সাথে নিজের গাল ঘেসে সরে আসলো
তারপর নিজের প্যান্টের দুই পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে শীষ বাজাতে বাজাতে সেখান থেকে চলে গেল
আর এদিকে রশ্নি এমন ভাবে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে যেন ভুত দেখেছে
কিছুক্ষন সানা এলো আর রশ্নিকে এই অবস্থায় বসে থাকতে দেখে দৌড়ে তার কাছে গেল
সানা গিয়ে রশ্নিকে টেনে তুলে উঠালো
সানা: কিরে তুই ওখানে এভাবে বসে ছিলি কেন
সানার ধাক্কাতে রশ্নির ধ্যান ফিরে
সানা: কিরে বল
রশ্নি ভেবেছিল সানাকে সব বলে দিবে কিন্তু তার বলতে একটু ইতস্থ বোধ হচ্ছে
রশ্নি: না না কিছু না আসলে টুল থেকে পড়ে গিয়েছিলাম
সানা: কি বলছিস, ব্যথা পাস নি তো
রশ্নি: না না বেশি ব্যথা পাইনি
সানা: তুইও অদ্ভুত, একেক সময় একটু টোকা লাগলেই চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেস আবার আজ এত্তো উঁচু থেকে পরেও নাকি ব্যথা পাস নি,,, আজব
রশ্নি: আচ্ছা এসব কথা বাদ দে চল না আমরা ওদিকটায় যায়
সানা: হু চল
…
রাফি সেই কবে থেকে তাদের বাড়ির বাহিরে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু নিশার যেন বের হওয়ার কোনো নামই নেই
রাফি এবার রাগে চিল্লিয়ে বলতে শুরু করলো
রাফি: তুমি আসবে নাকি আমি একাই চলে যাবো
নিশা: আসছি একটু দাঁড়াও
নিশা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে নামতে বললো
যাওয়ার আগে নেহাকে আবার বলে গেল
নিশা: দেখ যেভাবে বলেছি সেভাবেই করিস
নেহা: হুম
নিশা: আচ্ছা আসি বেস্ট অফ লাক
বলেই নিশা বেরিয়ে পড়লো
নেহা দরজা লাগিয়ে দিয়ে
সোফায় গিয়ে বসলো
আর গভীর ধ্যানে মগ্ন হলো
নেহা: আজ দেখবো তুমি কোথায় পালাও মিস্টার চার্ম
মুচকি হেসে বললো নেহা
চলবে,