নীলের নীলিমা??( রোমান্টিক ছোট গল্প)

0
5260

নীলের নীলিমা??
লেখনীতেঃ কথা চৌধুরী

—“আই লাভ ইউ❤

আচমকা কারো মুখে এমন কথা শুনে আমি অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম,

—“হোয়াট?”

—“হুম, আই লাভ ইউ❤

কিছুটা রেগে আমি বললাম,

—“দেখুন, আপনার মাথায় ম্যা বি প্রবলেম আছে। তা না হলে চড় খাওয়ার পর কোনো ছেলে, সেই মেয়েকে প্রপোজ করবে না।”

একটু হেসে উনি বললেন,

—“তোমার চড়টা আমার মনকে অগোছালো করে দিয়েছে। আমার অগোছালো মনটাকে গোছানোর জন্য তোমার ভালোবাসা চাই। এখন বলো বিয়ে করবে কবে আমাকে?”

—“দেখুন, আপনার এসব আবোলতাবোল কথা শুনতে আমি এখানে আসি নি। শুধু এইটুকু বলতে এসেছি যে, আজকের পর থেকে আমার বান্ধবীকে আর বিরক্ত করবেন না। যদি করেন তাহলে আমি আপনার নামে থানায় কেস করতে বাধ্য হবো।”

উনি শান্ত গলায় আমায় বললেন,

—“তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে, আমি ঐ রকম ছেলে না যে, মেয়েদের বিরক্ত করে বেড়াবো। তবে তোমার ব্যাপারটা আলাদা। আমার অগোছালো মনকে গোছানোর জন্য তোমাকে প্রয়োজন। আর তাই যত দিন না আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে, ততদিন আমি তোমাকে বিরক্ত করবো গো।”

—“দেখুন, আমার কোনো ভুল হচ্ছে না। আমি শেষবারের মতো বলছি আমার ফ্রেন্ডকে বিরক্ত করা বন্ধ করুন না হলে… …”

আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতে লাগলেন,

—“তুমি কি আমাকে শুভ ভাবছো?”

—“ভাবার কি আছে? আপনি তো শুভই আর এখানে তো আপনারই আসার কথা ছিল।”

—“হ্যাঁ, শুভর আসার কথা ছিল কিন্তু শুভ আসে নি আমি এসেছি।”

—“আপনি শুভ নন?”

—“না, আমি নীল। শুভ আমার বন্ধু।”

—“আমি কিছু বুঝতে পারছি না। উনি আসেন নি কেন?”

—“আসার মতো অবস্থায় নেই তাই।”

—“মানে?”

—“শুভর বাবা মারা গেছেন কালকে রাত ১২টায়।”

—“কিন্তু… …”

—“আমি তোমাকে সব কিছু বলছি আমাকে কিছুটা সময় দাও। রিমা যেই অফিসে কাজ করে শুভও সেখানেই কাজ করে। শুভ যেদিন প্রথম রিমাকে দেখে সেদিনই ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু কখনও রিমাকে অসম্মান করার মতো কিছু করে নি আর না কখনও বিরক্ত করেছে। শুভর কাছে রিমার ফোন নাম্বার থাকা স্বত্বেও কখনও কল বা ম্যাসেজ করে নি। এখন তুমি হয়ত ভাবতে পারো যে কল বা ম্যাসেজ না করলে একমাস ধরে রিমার ফোনে আসা কল বা ম্যাসেজগুলো কার? এগুলো শিপন পাঠিয়েছিল। শিপনও রিমাকে পছন্দ করে আর শুভ যে রিমাকে পছন্দ করে সেটা শিপন জানতো। রিমার কাছে শুভকে খারাপ বানানোর জন্যই শিপন কল বা ম্যাসেজ দিয়ে বিরক্ত করত। শুভ অনেকবার চেয়েছিল রিমাকে সব বুঝিয়ে বলতে কিন্তু রিমা সবসময় এড়িয়ে চলতো তাই কখনও বলতে পারে নি। এখানে অবশ্য রিমার কোনো দোষ নেই। ওর জায়গায় অন্য কেউ হলেও এসবই করতো। আমাকে শুভ সব খুলে বলেছিল যাতে আমি রিমাকে সব বুঝিয়ে বলি। তাই আমি এসেছি আর ওর বাবা মারা যাওয়ায় ওও আসতে পারে নি আমাকে একাই আসতে হয়েছে। আশা করি তুমি সবকিছু বুঝতে পেরেছো।”

এসব কথা শুনে অনেক সংকোচ লাগছে আমার তাও যথা সম্ভব স্বাভাবিক থেকে বলতে লাগলাম,

—“কী বলবো বুঝতে পারছি না? আসলে ম্যাসেজে অনেক বাজে বাজে কথা বলেছিল। আর রিমার রোজগারের টাকায় পুরো পরিবারটা চলে। তাই কোনো কূলকিনারা না পেয়ে আমাকে পাঠিয়েছে শুভকে বুঝাতে। অনেক রাগ লেগেছিল আমার যখন রিমা কেঁদে কেঁদে আমায় এসব বলেছিল। তাই নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে আপনাকে চড় মেরে ফেলেছি।”

কিছুটা সময় চুপ থেকে শান্ত গলায় বললাম,

—“সরি।”

—“ফর হোয়াট?”

মাথা নিচু করে বললাম,

—“সবকিছুর জন্য। না বুঝে না জেনে এতোটা রিয়েক্ট করা আমার উচিত হয় নি। তাই দয়া করে কিছু মনে করবেন না। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিবেন।”

—“সরি, ক্ষমা করতে পারবো না।”

—“দেখুন, সত্যি বলছি আমি না জেনে ভুল করে ফেলেছি। আই এম এক্সট্রেমলি সরি।”

—“আমি এতো কিছু জানি না। হুম, ক্ষমা করবো। তবে এক শর্তে।”

—“কী শর্তে?”

—“আমাকে বিয়ে করতে হবে।”

আমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে বললাম,

—“হোয়াট? আর ইউ ম্যাড?”

—“হুম, অনলি ফর ইউ নীলিমা।”

—“ওহ হ্যালো, আমার নাম কথা। আপনি আমায় নীলিমা কেন বলছেন?”

—“তুমি শুধু এই নীলের নীলিমা, বুঝলে?

—“উফ, জাস্ট অসহ্য।”

—“এতটুকুতেই বিরক্ত হয়ে গেলে। আগে আগে দেখো হোতা হে কেয়া।”

—“ধ্যাত!”

এতটুকু বলেই চলে আসলাম। দাঁড়িয়ে থাকাটাও সহ্য হচ্ছে না। আমি কথা চৌধুরী। আর একটু আগে যাকে চড় মারলাম তার কারন তো জানতেই পারলেন। ভুলবশত চড় মেরেছি। কিন্তু বুঝতে পারছি না এই ভুলের মাশুল আমাকে কিভাবে দিতে হবে?

_______________

রাত আটটা। বিকেলে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য মনটা ভীষণ খারাপ লাগছে। তাই বসে বসে টিভিতে কার্টুন দেখছি। হঠাৎ ফোনের রিংটোনের শব্দ কানে এলো।ফোন না দেখেই অনুমান করলাম হয়ত রিমা কল দিয়েছে। মনের ভাবনা মনে রেখে টিভি দেখতেই ব্যস্ত রইলাম। ঐ নীল কালার নামক মানুষের উপর উঠা রাগটা রিমার উপর দেখাতে ইচ্ছে করছে। কল আপনা থেকে কেটে গেলো। দুইমিনিট পর আবার কল আসলো। বুঝতে পারছি যতক্ষন পর্যন্ত কল না রিসিভ করবো এই পেত্নী কল দিয়ে দিয়ে আমার মাথা খাবে। ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করে বিরক্তি ভরা কন্ঠে বললাম,

—“হুম, বল।”

—“আমি বলবো না তুই বলবি?”

—“আমি কী বলবো?”

—“কী বলবি মানে? ঐ তোকে আমি কেন পাঠিয়েছিলাম রে প্রেম করতে? হুম?”

প্রেম করার কথা শুনে আমি ৪২০ ভোল্টের শক খেলাম।

—“এই পেত্নী কী করে বুঝলো আমার সাথে কী হয়েছে?”

এসব ভাবতে ভাবতে গভীর ভাবনায় ঢুব দিলাম। ভাবনার এতোটাই গভীরে গেলাম যে ভুলেই গেছি রিমা এখনও কলেই আছে। আমার নিরবতা দেখে রিমা ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’ করতে লাগলো৷ ওর ডাকে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে বললাম,

—“হুম।”

—“কী হুম হুম করছিস? প্লিজ সত্যি করে বল না কূ কথা হয়েছে?”

—“আচ্ছা শোন, বলছি সব। আসলে একটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। তোর কাছে যেসব ম্যাসেজ আর ফোন কল আসতো সেসব পাঠাতো তোর অফিসের শিপন নামক বদমাশ লোকটা।”

রিমা চমকে বললো,

—“কী বলছিস? শিপন এসব কেন করবে?”

—“কারন ঐ বদমাশ লোকটাও তোকে পছন্দ করে। আর শুভকে তোর কাছে নিচে নামানোর জন্য এইসব করেছে। আই থিংক শুভ তোকে সত্যিই ভালোবাসে। জানিস, শুভর বাবা কালকে রাতে মারা গেছেন।”

—“ইন্না-লিল্লাহ। আচ্ছা, তোকে কি এইসব শুভ বলেছেন?”

—“নাহ, বাবা মারা যাওয়ায় শুভ আসতে পারেন নি। উনার বন্ধু এসেছিলেন আর উনিই আমাকে সব বলেছেন।”

—“আমি এখন কী করবো তাহলে?”

—“আমি বলি কী তুই শুভর সাথে সরাসরি কথা বলে সবকিছু আরেকটু ভালোভাবে জেনে, নিজের মনের সন্দেহটা দূর করে নেয়।”

—“কিন্তু… …”

—“শোন, তোকে একটা কথা বলি। জীবন সঙ্গী হিসেবে এমন কাউকে বেছে নেয়, যে তোর কাছে শুধু তোকে চাইবে। আর আমাদের উচিত একটা ভালো মনের মানুষের যার বাইরের চেহারাটা কুৎসিত হলেও মনটা স্বচ্ছ কাচের মতো পরিষ্কার। এই দিক দিয়ে বিবেচনা করলে শুভ সব দিক দিয়ে পারফেক্ট তোর জন্য। দেখতে শুনতে ভালো আর বেশ ভালো বেতনের চাকরিও করে। তবে সবচেয়ে বড় কথা কি জানিস? তোকে অনেক ভালোবাসে আর অনেক সম্মান করে। এতোটা সম্মানই করে যে তোর অসম্মান হবে ভেবে আজ পর্যন্ত তোকে মনের কথাটা জানায় নি। ভালোবাসতে সবাই পারে কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে সম্মান দিতে সবাই পারে না রে। তুই অনেক ভাগ্যবতীরে, যে শুভর মতো কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পাবি যে তোকে সম্মানের সহিত ভালোবাসবে।”

একটু ভেবে রিমা বললো,

—“তাহলে কি উনার সাথে একবার সরাসরি কথা বলবো?”

—“হুম, বলে দেখ। তোর একা যেতে সংকোচ লাগলে আমাকে বলিস আমিও নাহয় তোর সাথে যাবো।”

—“ঠিক আছে তাহলে বরং পরশুদিন দেখা করি কোনো একটা রেস্টুরেন্টে।”

—“ঠিক আছে। শোন, টেনশন করিস না আর আমি তো থাকবোই তোর সাথে।”

—“আচ্ছা, তাহলে রাখছি রে। বাই।”

—“হুম, বাই।”

ফোন রাখতেই মা পাশে এসে বসলো। একটু আমতা আমতা করে বলতে লাগলো,

—“কথা মা?”

—“হুম, মা বলো। কিছু বলবে?”

—“হ্যাঁ, ঐ পাত্র পক্ষ কালকেই আংটি পড়াতে আসতে চায়। তোকে বলবো বলবো করে বলা হয় নি।”

—“মা, আমাকে বলার কী আছে?” আমি তো তোমাদের বলেই দিয়েছি, তোমরা আমাকে যার সাথে বিয়ে দিবে আমি তার সাথেই হাসি মুখে রাজি।”

মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

—“এইতো লক্ষী মেয়ে আমার।”

ছোটবেলা থেকেই মা বাবা আমার সব আবদার পূরন করেছে। আমার কাছে শুধু একটা জিনিসই চেয়েছে আমি যেন উনাদের পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করি। আমিও আমার কথা রাখতেই পাত্রকে না দেখেই রাজি হয়ে গেছি। যেখানে মা বাবার পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করবো সেখানে আর ছবি দেখে কী হবে? তাই ইচ্ছে করে ছবিটাও দেখিনি।

_______________

গুটিশুটি হয়ে মা বাবার পাশে সোফায় বসে আছি। আমার ঠিক সামনেই বসে আছেন উনি সাথে উনার মা বাবা আরো কয়েকজন। লজ্জায় মাথা তুলতেই পারছি না কোনো রকমে উনার হাটু পর্যন্ত তাকিয়ে দেখে চোখ নামিয়ে নিলাম। সবাই এটা সেটা বলতে ব্যস্ত আর আমি লজ্জায় স্ট্যাচুর মতো বসে আছি। হঠাৎ একজন ভদ্রমহিলা বলতে লাগলেন,

—“আপনাদের আপত্তি না থাকলে আংটি পড়ানোর কাজটা সেরে ফেলি?”

বাবা উনার সাথে সম্মতি দিয়ে বললেন,

—“হ্যাঁ হ্যাঁ, শুভ কাজে দেরি করা ঠিক হবে না।”

বাবার সম্মতি পেয়ে উনি আমার পাশে এসে বসলেন। একটা আংটি হাতে নিয়ে আমায় বললেন,

—“দেখি বউমা, তোমার হাতটা।”

উনার মুখে ‘বউমা’ শুনে আন্দাজ করলাম হয়ত উনিই আমার শাশুড়ী হবেন। লজ্জায় আমার মাঝে নড়নচড়ন নেই দেখে মা আমার হাতটা ধরে বাড়িয়ে দিতেই উনি হাতে আংটি পড়িয়ে দিলেন। এরপর আমি ডান হাত নিজের কাছে এনে আংটিটার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম,

—“হায়রে জীবন! আজকে থেকে একটা অচেনা অজানা মানুষের দায়িত্বে চলে গেলাম অর্ধেকটা। সামান্য একটা আংটিই আজকে আমার মাঝে অন্য আমির প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলছে। এই সামান্য একটা আংটির জোরে বাকি জীবন একটা অচেনা অজানা মানুষের হাত ধরে কাটিয়ে দিতে হবে। জানি না, মানুষটা আমাকে কতটা আপন করে নিবে? জানি না, আমায় কতটা ভালোবা… …”

আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো মায়ের কথায়। হঠাৎ মা বলে উঠলো,

—“ওরা দুজনে একটু একা কথা বললে হয়ত ভালো হবে। আপনারা কি বলেন?”

সবার সম্মতি ক্রমে আমাদের আলাদা ভাবে কথা বলার ব্যবস্থা করা হলো।

একা রুমে দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। লজ্জায় তো মাথাই উচু করতে পারছি না আর তাকিয়ে দেখা তো অনেক দূরের ব্যাপার। চারদিকে নিরবতা ছেয়ে আছে আর অস্থিরতায় হৃৎস্পন্দন বাড়ছে আমার। মনে হচ্ছে হৃদয়টা আজ আমার না হয়ে অন্য কারোর সাথে তাল মিলিয়ে স্পন্দন করছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার মাঝেও নিরবতা ছেয়ে আছে। বুঝতে পারছি না কেন চুপ হয়ে আছেন উনি? আমি না হয় লজ্জা নামক জালে জড়িয়ে আছি। উনি কেন কিছু বলছেন না? উনিও কি লজ্জা পাচ্ছেন? নাকি আমার লজ্জায় লাল হওয়া মুখটা দেখে হাসছেন? হঠাৎ শীতল কন্ঠে উনি বলে উঠলেন,

—“আপনার কি শাড়ি পড়া পছন্দ না?”

আচমকা এমন প্রশ্ন শুনে কিছুটা অবাক হলাম। লজ্জা আমার গলা চেপে ধরেছে। কোনোরকম শুকনো একটা ঢোক গিলে নিচের দিকে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলাম,

—“কে…কেন?”

—“নাহ, আমি যতদূর জানি পাত্র পক্ষ দেখতে আসলে মেয়েরা শাড়ি পড়ে আপনি পড়েন নি তাই জিজ্ঞেস করলাম।”

আমি আবারও চুপ হয়ে গেলাম। আমাকে চুপ থাকতে দেখে উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

—“কাউকে ভালোবাসো?”

একে তো ভালোবাসি কিনা জানতে চাইলেন তারউপর তুমি সম্বোধনটা যেন আমায় আর বেশি অবাক করে দিলো।

—“কে…কেন?”

—“ভালো না বাসলে অন্তত একবার আমার মতো ড্যাশিং একটা ছেলের দিকে চোখ তুলে তাকাতে।”

—“দেখুন, আমি কাউকে ভালোবাসি… …”

এতোটুকু বলে চোখ তুলে তাকাতেই এতোটাই শক খেলাম যে, এক কদম পিছিয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। আর আমি এই মূহুর্তে জ্ঞান হারাবো। আমার এমন অবাক চাহনী দেখে, আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ডেভিল হাসি দিচ্ছেন। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে রইলাম উনার দিকে। আমার মাঝে নড়ন চড়ন নেই বলে উনি আমার কাছাকাছি এসে বললেন,

—“কী হলো গো? তোমার মনটা কি আমার মতো অগোছালো হয়ে গেছে?”

—“আ…আপনি?”

—“হুম, আমি। আজকে থেকে তোমার উপর আমার অর্ধেক অধিকার আছে। আর খুব শীগ্রই পুরো অধিকারটাই হাতে চলে আসবে।”

এতোটুকু বলে আবার ডেভিল হাসি দিচ্ছেন আমি শুধু চুপচাপ দেখছি। হঠাৎ আমার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলতে লাগলেন,

—“আজকে আমার রাগিণী এতো লজ্জাবতী হয়ে গেলো কেন গো নীলিমা? জানো, ওর লজ্জা রাঙা মুখের দিকে যে আর তাকিয়ে থাকতে পারছি না। আমার বুকের বা’পাশে যে চিনচিনে ব্যথা করছে। কী করি বলো তো?”

উনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাসতে লাগলেন। আর আমি এক দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ হাসিটা থামিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন। আলতো হাতে আমার ডান হাতটা ধরলেন। উনার স্পর্শে অবাক আর লজ্জা নামক দুটো পাখি আমার ঘাড়ে চেপে বসলো। আমি অবাক হয়েও উনার দিকেই তাকিয়ে আছি। জানি না, কেন তাকিয়ে আছি? জানি না, কেন চোখ সরাতে পারছি না আর কেনোই বা কিছু বলছি না। নরম সুরে উনি বলতে লাগলেন,

—“নীলিমা, হয়ত আংটি পড়ানো হয়ে গেছে কিন্তু তোমার যদি মনে হয়, আমি তোমার জন্য পারফেক্ট না তাহলে আমাকে অনায়াসে বলে দিতে পারো। কারন মন এমন একটা জিনিস যার উপর কখনোই জোর করা যায় না। আর আমার মন অগোছালো হয়েছে তোমার তো হয়নি। তুমি সময় নাও আর তোমার মন যেটা চাইবে সেটাই হবে। যদি বলো যে আমাকে বিয়ে করবে না সেটাই হবে আর যদি বিয়ে করতে চাও তাহলে তো… …”

আর কিছু না বলেই উনি রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন। আমি উনার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম,

—“কী হলো আমার? আমি উনাকে পছন্দ না করলে তো মানা করে দিতে পারতাম। মানা কেন করলাম না? তাহলে কি আমি চাই উনার সাথেই আমার বিয়ে হোক? আমি কি চাই উনার অগোছালো মনকে গোছাতে? আমি কি চাই নীলের নীলিমা হতে? নাহ, ভাবতে পারছি না আর মাথাটা ভীষণ খারাপ লাগছে।”

_______________

রেস্টুরেন্টে সেই কখন থেকে বসে আছি। ভীষণ রাগ লাগছে আমার। আধঘন্টার উপর হবে যে বসে আছি কিন্তু শুভর আসার কোনো নাম নেই। মেয়েদের মতো কি মেকআপ করছে যে এতো দেরি হচ্ছে আসতে? হঠাৎ রেস্টুরেন্টের গেটে চোখ পড়তেই ভয়ে আর লজ্জায় আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। আমি কিছু না ভেবেই রিমাকে বললাম,

—“ঐ তুই কি শুভকে বলেছিস উনার বন্ধুকে সাথে নিয়ে আসতে?”

—“না তো আমি শুধু উনাকে বলেছি আসতে।”

—“তাহলে শুভর সাথে উনি কেন আসছেন?”

—“আসছে তো কী হয়েছে? তুইও তো আমার সাথে এসেছিস।”

—“আমি আর উনি কি এক হলো?”

—“তোর হঠাৎ কী হয়েছে রে?”

শুভ আর নীল কাছাকাছি আসতেই কথাটা ধামাচাপা পড়লো। শুভ একটু হেসে আমাদের বললেন,

—“সরি, আসলে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল তাই আসতে দেরি হলো।”

রিমা, শুভকে বলতে লাগলো,

—“ঠিক আছে সমস্যা নেই। আপনারা দাঁড়িয়ে কেন? বসুন প্লিজ।”

হঠাৎ নীল আমার দিকে তাকিয়ে ডেভিল হাসি দিয়ে বলতে লাগলো,

—“রিমা, শুভ তোরা বরং কথা বল আমি আর রিমার বান্ধবী ঐ দিকটায় গিয়ে বসি।”

আমাকে উদ্দেশ্য করে,

—“কী বলেন আপনি?”

আমি তো এমনিতেই হতবাক হয়ে গিয়েছি তারউপর আলাদা করে বসার কথা শুনে তো আমি আরো অবাক হয়ে গেলাম। আমি কিছু বলার আগেই শুভ বলতে লাগলো,

—“ঠিক আছে তোরা যাহ তাহলে।”

শুভর কথায় মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। ইচ্ছে করছে উনার মাথাটা ফাটিয়ে ফেলি। কিন্তু বললেই তো আর মাথা ফাটাতে পারবো না। তাই চুপচাপ উঠে নীলের সাথে চলে এলাম। একটা টেবিলের কাছে আসতেই চেয়ার টেনে দিয়ে আমায় বসতে চোখে ইশারা দিলেন। আমি বসতেই উনি আমার বরাবর অন্য একটা চেয়ারে বসলেন। বসে ডান হাত মুষ্টি বদ্ধ করে উনার মুখ রেখে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। আমি উনার দিকে একবার আঁড়চোখে তাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ শান্ত গলায় উনি বললেন,

—“নীলিমা?”

উনার মুখে ‘নীলিমা’ নামটা শুনলে আমার হৃৎস্পন্দন ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। জানি না, নামটা কী ভালো লাগে আমার নাকি বিরক্ত লাগে?

মুখে ক্লীন সেভ আর কপালে পড়ে আছে স্লিকি চুল। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। সুঠাম দেহের অধিকারী। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর সুন্দর হলো উনার ঘোলাটে চোখের চাহনির সাথে ডেভিল হাসি। মনে হচ্ছে এখনই আমি খুন হবো উনার ঐ হাসিতে আর ভস্ম হবো উনার ঐ ঘোলাটে চোখের চাহনীতে। অনেকক্ষন এভাবে উনাকে দেখতে দেখতে ভাবনায় ডুব দিলাম। হঠাৎ টেবিলে টোকা দিতেই আমি কেঁপে উঠলাম। নিজেকে সামলে নিতেই উনি বললেন,

—“দেখা শেষ হলে আমরা কি এবার কথা বলতে পারি?”

অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম,

—“মানে?”

—“এই যে, এতোক্ষণ ধরে আমার মতো একটা ড্যাশিং ছেলেকে স্ক্যান করলে সেটাই বললাম।”

উনার কথায় আমি রাগে ফুঁস ফুঁস করছি আর মনে ভাবছি,

—“ধ্যাত! শুরু হয়ে গেছে উনার এসব আজগুবি কথা। একটু দেখেছি বলে কী এমন মহা ভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে? আর ড্যাশিং না ছাই? হুহ। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে চাহনি আর হাসিতে একটু হেলে গেছি তাই বলে এভাবে বলতে হবে? যত্তসব!”

আমাকে ভাবনায় ঢুবে থাকতে দেখে উনি বললেন,

—“আরে বাবা, আমার প্রশংসা করার জন্য এতো ভাবতে হবে নাকি? জানি তো, আমি অনেক ড্যাশিং, হ্যান্ডসাম আর কিউট।”

নাহ আর সহ্য করা যাচ্ছে না। তাই উনার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললাম,

—“দেখুন।”

—“হুম, দেখছি তো আর কত দেখবো তোমায়?”

আঙুল নামিয়ে অন্যদিকে তাকালাম। তারপর আবার উনার দিকে তাকিয়ে রাগী ভাব নিয়ে বললাম,

—“উফ, অসহ্য। আপনার সাথে কথাও বলা যায় না এতোটাই অসহ্য আপনি।”

—“বিয়ের পর ঠিকই সহ্য হয়ে যাবে।”

বলেই ডেভিল হাসি দিলেন। হঠাৎ আবার হাসিটা থেমে গেলো উনার। শান্ত গলায় বললেন,

—“ঐ বলো না, হবে কি এই নীলের নীলিমা? জানো, যেদিন তোমায় প্রথম ছবিতে দেখেছি সেদিনই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার হাতে চড় খেয়ে সেটার প্রতিবাদ না করে তোমায় প্রপোজ করেছি। এটা শুনলে হয়ত আমায় অনেকে কাপুরুষ ভাবতে পারে। কিন্তু নীলিমা, প্রকৃত পুরুষ তো সেই যে তার ভালোবাসার মানুষকে সম্মানের সহিত আগলে রাখে। তার প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। সামান্য একটা চড়ের জন্য আমি তো আমার ভালোবাসার মানুষকে অসম্মান করতে পারি না। আর এখানে তোমারও দোষ ছিল না। তুমি হয়ত ভাবছো তোমাকে ঐদিন প্রথম দেখেছি। না নীলিমা, তোমাকে আমি আরও আগেই দেখেছি। যখন তোমার পরিবার থেকে তোমার ছবি পাঠানো হয়েছিল, তখন তোমাকে দেখে এই আমাকে তোমার প্রেমে ভাসিয়ে দিয়েছি।”

কিছুটা সময় উনি চুপ থেকে আবার বলতে লাগলেন,

—“শুভ খুব শীগ্রই রিমাকে বিয়ে করে ওর দায়িত্ব নিয়ে নিবে। আর তোমার পরিবারে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে আমার মা বাবা পরশুদিন তোমার বাসায় যাবেন। তুমি তোমার সিদ্ধান্ত আমায় জানিয়ে দিও। তুমি যা চাইবে সেটাই হবে। তোমাকে জোর করে বিয়ে করে কাপুরুষের পরিচয় দিতে চাই না বরং তোমার পূর্ন সম্মতিতে তোমায় বিয়ে করতে চাই।”

পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,

—“এখানে আমার ফোন নাম্বার লেখা আছে। কলে কথা বলতে সমস্যা হলে টেক্সট করে দিও তাহলেই হবে।”

আমি কার্ডটা নিতেই উনি উঠে চলে গেলেন। উনার চলে যাওয়াটা হয়ত আমার ভালো লাগে নি। তাইতো চলে যেতেই অভিমানে খানিকটা জল চোখের কোনায় এসে জমা হল। হাতের কার্ডটায় অনেকটা সময় তাকিয়ে এক টুকরো হাসি ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠলো। মনে মনে বললে উঠলাম,

—“নীলের নীলিমা।”

________________

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি। আকাশের চাঁদ ঝলমল করে হাসছে আমার দিকে তাকিয়ে। কানে বেজে চলেছে গান,

“বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হৃদয়
কতটা তোমায় ভালোবাসি?

চলতে গিয়ে মনে হয়
দূরত্ব কিছু নয়
তোমার ই কাছেই ফিরে আসি

তুমি তুমি তুমি
শুধু এই মনের আনাচে কানাচে
সত্যি বলো না কেউ কি প্রেমহীনা কখনও বাঁচে”

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভাবতে লাগলাম,

—“কালকে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে আসবেন কিন্তু এখনও দোটানা থেকে বের হতে পারছি না। রিমা, শুভকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেছে আর সেটা অনেকটা সম্ভব করেছেন নীল। উনি যদি অন্যের ভালোবাসার এতোটা সম্মান দিতে পারেন তাহলে তো নিজের… আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মা বাবা উনাকে পছন্দ করেছেন আর নীল রঙটা মন্দও নয়।”

ভাবতে ভাবতে হাসতে লাগলাম। রুমে এসে উনার দেওয়া কার্ডটা বের করে তাকিয়ে থাকলাম কিছুটা সময়। এরপর ফোন হাতে নিয়ে উনার নাম্বার ডায়াল করতে লাগলাম। জানি না কেন? নাম্বারগুলো ডায়াল করতে গিয়ে হাতটা কাঁপছে ভীষন। কাঁপা কাঁপা হাতে কল দিলাম। উনি রিসিভ করে বললেন,

—“হ্যালো। কে বলছেন?”

—“জ্বী আমি।”

—“ব্যস্ত আছি খুব। আপনার পরিচয়টা দিলে ভালো হয়।”

—“জ্বী আমি…আমি নীলিমা…নীলের নীলিমা।”

অবাক হয়ে উনি হাসতে হাসতে বললেন,

—“কিহ! আমি কী শুনছি এসব? হুম?”

—“আপনি কি কানে কম শুনেন? আমার কিন্তু এককথা দুইবার বলতে ভালো লাগে না।”

—“ঐ আমার তো বারবার শুনতে ভালো লাগে। আরেকবার বলো না প্লিজ।”

—“উহুম।”

—“ঠিক আছে। বাই।”

বলেই কলটা কেটে দিলেন। এতো রাগের কী আছে? আমি কি বলবো না নাকি? একটু যে লজ্জা পাচ্ছি সেটাও বুঝে না। এই জন্যই নিজের মনের কথা ছেলেদের জানাতে নেই। জানালেই ভাব বেড়ে যায়। হুহ!

ঘণ্টাখানেক পর মা রুমে এসে বললো,

—“কথা, নীল এসেছে।”

অবাক হয়ে বললাম,

—“এতো রাতে উনি কেন এলেন?”

—“হয়ত তো কোনো দরকারে এসেছে। যা দেখা করে আয়। ড্রয়িং রুমে বসে আছে।”

মনে মনে অনেক খুশি লাগছে তবে ভীষণ রাগও লাগছে কল কেটে দিয়েছিলেন বলে। মাথায় ওড়না টেনে আর নিজেকে একটু পরিপাটি করে উনার সাথে দেখা করতে চলে আসলাম। উনি ফোন স্ক্রোল করছেন বসে বসে। আমি সামনে এসে দাঁড়াতেই উনি চোখ তুলে তাকিয়ে বললেন,

—“হুম, চলো।”

আমি অবাক হয়ে বললাম,

—“কোথায়?”

—“ভয় পাবেন না আপনাকে জেলখানায় নিবো না। ছাদে চলেন কথা আছে আপনার সাথে।”

আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে উনার পিছু পিছু হাটতে লাগলাম। ছাদের এক কোনে এসে দুজন দাঁড়ালাম। হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে উনি এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন আর আমি তাকিয়ে আছি ঐ হাসোজ্জল চাঁদের দিকে। অনেকক্ষণ চুপ থাকায় আমি উনার দিকে তাকালাম। উনি তাকিয়ে আছেন গম্ভীর ভাব নিয়ে। হঠাৎ উনি শান্ত গলায় বললেন,

—“এবার বলো কী বলার জন্য কল দিয়েছিলে?”

আবার জানতে চাওয়ায় ঘাবড়ে গিয়ে বলতে লাগলাম,

—“ক…কলে তো ব…বলেছি ই আর ক…কতবার বলবো?

উনি সোজা হয় আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললেন,

—“আমার ফোন নষ্ট ছিল তাই আমি কিছু শুনি নি এখন আবার বলো। আমি তোমার মুখ থেকে সরাসরি শুনতে চাইছি।”

আমি লজ্জায় স্ট্যাচু হয়ে গেছি। লাজুক হাসি ছাড়া মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না। আমাকে নিরব থাকতে দেখে উনি বললেন,

—“ঐ বলো না নীলিমা, আমি শুনতে চাই আজকে আমার নীলিমার কথা।”

লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি ইচ্ছে করছে মাটির সাথে মিশে যেতে। কোনোরকম একটু লাজুক হাসি দিয়ে আমি ধীরে ধীরে বলতে লাগলাম,

—“আমি নীলের নীলিমা হতে চাই। আমি আপনার অগোছালো মনটা গোছানোর দায়িত্ব নিতে চাই। আমি যে আপনাকে… …”

—“হুম, বলো নীলিমা তুমি যে আমায়?”

—“ভালোবাসি, ভালোবাসি, বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে।”

আর পারলাম না নিজের লজ্জা চাপা দিতে শেষমেশ উনার বুকে মুখ লুকালাম। উনি আমার এমন কান্ড দেখে হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে বললেন,

—“নীলিমা, তোমার নীল তো পাগল হয়ে যাবে তোমার এই পাগলামি দেখে।”

আমি আর কিছু বলছি না শুধু মুখ লুকিয়ে হাসছি। উনি আবার বললেন,

—“নীলিমা?”

—“হুম।”

—“ভালোবাসি তোমায়। অনেক ভালোবাসি তোমায়। তুমি যে শুধু এই নীলের নীলিমা??

…………..সমাপ্ত………….

সামান্য প্রয়াস আমার, জানি না কেমন হয়েছে। যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি।

ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here